আপনি কি অজান্তেই সন্তানকে দুর্বল করে তুলছেন

অতিরিক্ত আদর-আহ্লাদই নষ্ট করে দিচ্ছে সন্তানের ভবিষ্যৎ। অতিরিক্ত আদরে বড় হওয়া বাচ্চারা মনে করে, সবকিছু তাদের প্রাপ্য। এ ‘এনটাইটেলমেন্ট’ বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভ্যাস তাদের চরিত্রে অহংকার সৃষ্টি করে

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে ভালোবাসি। তাদের প্রতিটি চাওয়া পূরণ করে ফেলি। সবসময় সচেষ্ট থাকি, যেন কোনো কষ্ট তাদের ছুঁয়ে না যায়। কিন্তু কখনো ভেবে কি দেখেছেন, এ অতিরিক্ত ভালোবাসাই সন্তানকে দুর্বল করে তুলছে?

ভারতীয় ডায়াগনস্টিক ও প্রিভেন্টিভ প্রতিষ্ঠান থাইরোকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. এ. ভেলুমনি বলেন, অতিরিক্ত আদর-আহ্লাদই নষ্ট করে দিচ্ছে সন্তানের ভবিষ্যৎ। তার মতে, অভিভাবকদের অনেকেই অজান্তে এমন সব কাজ করেন যা সন্তানকে আত্মনির্ভর নয়, বরং নির্ভরশীল ও দুর্বল করে তোলে।

অতিরিক্ত স্নেহ সন্তানকে যে সমস্যায় ফেলে

  • অতিরিক্ত আদরে বড় হওয়া বাচ্চারা মনে করে, সবকিছু তাদের প্রাপ্য। এ ‘এনটাইটেলমেন্ট’ বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভ্যাস তাদের চরিত্রে অহংকার সৃষ্টি করে। তারা ভাবে— পরিশ্রম ছাড়াই সবকিছু পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে যখন বাধা বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়, তখনই তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

  • অতিরিক্ত স্নেহ শেখার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। যখন বাবা-মা সন্তানকে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে দেন না। বরং নিজেরাই সব সমাধান করে দেন তখন সন্তান সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা হারায়। ড. ভেলুমণি বলেন, যে শিশু নিজের সমস্যার সমাধান করতে শেখে, সে আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় ও সাহসী হয়ে ওঠে। কিন্তু যাকে সবসময় ‘বাঁচিয়ে’ রাখা হয়, সে হয় বিভ্রান্ত, নির্ভরশীল ও দুর্বল।
  • অনেকে মনে করেন, ‘প্যাম্পারিং’ মানেই বেশি খেলনা, দামি জামাকাপড় বা বিলাসিতা। কিন্তু বিষয়টা কেবল অর্থনৈতিক নয়। এমনকি অল্প আয়ের পরিবারেও অতিরিক্ত স্নেহে সন্তানের ভবিষ্যত নষ্ট হওয়ার নজির আছে।
  • যে শিশু কখনো নিজের কাজ করে না, বা ভুল করার সুযোগ পায় না। সে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সন্তানকে ঘরের ছোটখাটো দায়িত্ব দিন। ভুল করতে দিন। তবেই তারা সাহসী ও মানসিকভাবে শক্ত হয়ে উঠবে।
  • আদর থেকে আসে উদ্বেগ। অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় মানসিক চাপ। যে শিশু সবসময় সহজ জীবন পায়, তার বাস্তবের কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকে না। ফলে সামান্য চাপে সে বিভ্রান্ত, উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়ে।

কীভাবে বদল আনবেন

ড. ভেলুমনির পরামর্শ—

  • সন্তানকে নিজের সমস্যার মুখোমুখি হতে দিন। সাহায্য নয়, দিকনির্দেশ দিন।
  • সন্তানকে ভুল করতে দিন, তারপর বুঝিয়ে দিন কোথায় ভুল হয়েছে।
  • প্রতিটি চাহিদা পূরণের আগে তাকে শেখান ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা।
  • টেবিল গোছানো বা কাপড় ভাঁজ করার মতো ছোট ছোট কাজে সন্তানকে সম্পৃক্ত করুন।
  • সাফল্যের চেয়ে চেষ্টা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করুন।
  • কোনো কারণে শাস্তি দিতে চাইলে সেটা দিন। অতিরিক্ত প্রশংসা ও প্রশ্রয়ে সন্তানের ভবিষ্যত নষ্ট হয়।

সন্তানকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ থেকে রক্ষা না করে, বরং তাকে তার মধ্য দিয়েই বড় হতে দিন। জীবনের আসল পাঠ সেখানেই।

আরও