নতুন বিড়াল ঘরে আনা আনন্দের হলেও শুরুতেই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ নতুন পরিবেশে এসে যেকোনো বিড়াল কিছুটা ভয় বা মানসিক চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই ঘরে অন্য বিড়াল থাকলে নতুন বিড়ালকে সরাসরি তাদের সঙ্গে না মিশিয়ে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতে হয়। এতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও যেমন কমে, তেমন আবার বিড়ালের চাপও কমে।
প্রথমে আলাদা ঘর
বাড়িতে আনার আগে বিড়ালের থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও শান্ত জায়গা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুরুতেই তাকে পুরো ঘরে ঘুরে বেড়াতে না দিয়ে একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। সেই ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, খাবার ও পানির পাত্র, লিটার বক্স এবং ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক বিছানার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
নতুন বিড়ালটি কোথা থেকে এসেছে এবং তার আগের চিকিৎসার ইতিহাস কী, তা জানা থাকলে ভালো। সম্ভব হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করান। বয়স ও ওজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক (ডিওয়ার্মিং), টিকা (ভ্যাকসিন) ও পরজীবী (ফ্লি/টিক) নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্য বিড়াল থেকে কিছুদিন আলাদা
বাসায় আগে থেকেই বিড়াল থাকলে নতুন বিড়ালটিকে প্রথমেই পশু চিকিৎসককে দেখাতে হবে। এরপর তাকে আলাদা একটি ঘরে অন্তত ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। এই সময় পার হওয়ার পরই কেবল তাকে ঘরের অন্য বিড়ালদের সাথে মিশতে দেয়া উচিত।
এছাড়া তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খাবারের বাটি, পানির পাত্র ও লিটার বক্স অবশ্যই আলাদা রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শে সংক্রামক রোগের পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
ধীরে ধীরে পরিচয় করান
বাসায় আগে থেকে অন্য কোনো পোষা প্রাণী থাকলে শুরুতেই তাদের মুখোমুখি করা উচিত নয়। প্রথমে আলাদা ঘরে রেখে একে অপরের গন্ধের সাথে পরিচিত করতে হবে। কয়েকদিন পর নজরদারির মধ্যে রেখে তাদের একসঙ্গে মেলামেশা করতে দেয়া যেতে পারে।
নতুন বিড়ালকে সময় দিন
নতুন পরিবেশে এসে বিড়াল লুকিয়ে থাকতে পারে, কম খেতে পারে বা অস্বস্তি দেখাতে পারে। তাকে জোর করে কোলে নেয়া বা বের করে আনার চেষ্টা না করে নিজের মতো মানিয়ে নেয়ার সময় দিন। তবে দীর্ঘ সময় না খাওয়া, বমি, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নতুন ক্যাট প্যারেন্টদের সহজ নিয়ম
আলাদা ঘর → স্বাস্থ্য পরীক্ষা → প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক ও টিকা → পর্যবেক্ষণ → গন্ধের মাধ্যমে পরিচয় → ধীরে ধীরে একসঙ্গে থাকা (এক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৪ দিনের একটি কোর্স মেনে চলা উচিৎ)।
নতুন বিড়ালকে ঘরে আনার ক্ষেত্রে মূল কথা হলো, তাড়াহুড়া নয়। নিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ধীরে ধীরে পরিচয় করিয়ে দেয়াই নতুন বিড়ালকে পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়।