বিবিসি

চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকিতে ফিফা বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ১৬টি স্বাগতিক শহরের মধ্যে ১৪টি চরম গরমের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অনেক স্টেডিয়াম খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে শুধুমাত্র খেলোয়াড় নয়, মাঠে উপস্থিত ৪৫ থেকে ৮৫ হাজার দর্শক, হাজারো নিরাপত্তা কর্মী ও সাংবাদিকদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে নথিভুক্ত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে অংশ নেবে ৪৮টি দল আর ম্যাচ হবে ১০৪টি। আগের আসরের তুলনায় এবার ম্যাচের সংখ্যা ৪০টি বেশি। তবে আয়োজন ঘিরে আনন্দের মাঝে পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সেন্ডস ডেঞ্জারাস মেসেজ অন ক্লাইমেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে কার্বন নির্গমনকারী টুর্নামেন্ট। গবেষণা সংস্থা সায়েন্টিস্টস ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি (এসজিআর) অনুযায়ী, এ আয়োজনে ৯০ লাখ টনেরও বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হবে। এর ফলে এটি ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম পরিবেশ বিপর্যয়কারী আয়োজন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাদেলিন অর এর মতে, ফিফা যে কার্বন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আয়োজক দেশগুলো জানিয়েছিল, টুর্নামেন্টটি হবে পরিবেশবান্ধব। কিন্তু বাস্তবে এখন তা সম্ভব নয়।

বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ১৬টি স্বাগতিক শহরের মধ্যে ১৪টি চরম গরমের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অনেক স্টেডিয়াম খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে শুধুমাত্র খেলোয়াড় নয়, মাঠে উপস্থিত ৪৫ থেকে ৮৫ হাজার দর্শক, হাজারো নিরাপত্তা কর্মী ও সাংবাদিকদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।

আবহাওয়াবিদ সাইমন কিং বলেছেন, গত বছর টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও মেক্সিকোয় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এবছরও একই ধরনের পরিস্থিতি ঘটতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ম্যাচের উপকরণ ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

আয়োজন সর্ম্পকিত এখনো পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি ফিফা। তবে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ভবিষ্যতে ফুটবলের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপেও যদি পরিবেশ সর্ম্পকিত পরিকল্পনা করা না হয়, তাহলে তা ক্রীড়াজগতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আয়োজন হিসেবে রেকর্ড হতে পারে। স্টেডিয়ামগুলোর ছাদ, শেড, কুলিং সিস্টেম ও পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বৃদ্ধি ছাড়াও চরম গরম মোকাবেলার জন্য টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা ও দূষণ কমানোর কার্যক্রম অপরিহার্য।

আরও