একাকীত্ব দূর করতে আরশোলার সঙ্গে সখ্যতা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর!

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া সেই পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানোর পাশাপাশি তিনি সরকারি বাসভবনেও টানা কাজ করতে পছন্দ করেন। টোকিওর সেই ঐতিহাসিক বাসভবন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল ছিল প্রচুর। অনেকে জানতে চাইতেন, সেখানে ভূতের দেখা পাওয়া যায় কি না। এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভূতের দেখা না পেলেও এক রাতে তিনি অচেনা এক মেহমানের দেখা পেয়েছিলেন। আর সেটি হলো একটি আরশোলা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দীর্ঘ সময় কাজ করার জন্য ‘ওয়ার্কহোলিক’ বা কাজপাগল নামে পরিচিত। সপ্তাহান্তেও কাজ করেন তিনি, এমনকি রাত পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। দায়িত্ব নেয়ার পর এমন সময়ও গেছে, যখন দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে মজার কিন্তু অবাক করা একটি ঘটনার বর্ণনা প্রকাশ করেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধান। সরকারি বাসভবনে একা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করার সময় একটি আরশোলা দেখতে পান। এই আরশোলার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের ঘটনা পাঠকদের চমকে দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া সেই পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানোর পাশাপাশি তিনি সরকারি বাসভবনেও টানা কাজ করতে পছন্দ করেন। টোকিওর সেই ঐতিহাসিক বাসভবন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল ছিল প্রচুর। অনেকে জানতে চাইতেন, সেখানে ভূতের দেখা পাওয়া যায় কি না। এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভূতের দেখা না পেলেও এক রাতে তিনি অচেনা এক মেহমানের দেখা পেয়েছিলেন। আর সেটি হলো একটি আরশোলা।

তাকাইচি জানান, এমনিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসেন তিনি। মেঝে পরিষ্কার এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ ঢাকনা দেয়া পাত্রে রাখার পরও হঠাৎ পায়ের কাছ দিয়ে আরশোলা ছুটে যেতে দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন তিনি। তবে সচরাচর মানুষ যেভাবে ঝাড়ু বা পেস্ট কন্ট্রোল স্প্রে নিয়ে আরশোলা মারতে ছোটে, তিনি তা করেননি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো পরিষ্কার জায়গায় আরশোলা দেখতে পেয়ে শৈশবে পড়া ওসামু তেজুকার বিখ্যাত কমিক বই ‘ফায়ারবার্ড’-এর পুনর্জন্মের ধারণার কথা মনে পড়ে যায় সানায়ে তাকাইচির। প্রতিটি প্রাণীর ভেতরেই জীবনের অন্য রূপ বেঁচে থাকে এমন বিশ্বাস থেকে তিনি আর আরশোলাটিকে মারতে চাননি। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো পুনর্জন্ম চক্রের অংশ হিসেবেই প্রাণীরূপে সেটি সেখানে এসেছে। তাই ভেবেছিলেন এটি নিজ থেকেই চলে যাবে, তাই কিছুদিন চুপচাপ সহ্য করে নিয়েছিলেন।

তবে ঘটনাটি যখন তার ব্যক্তিগত সচিবরা জানতে পারেন, তখন তারা রীতিমতো হতবাক হন। প্রোটোকল ও পরিচ্ছন্নতার কথা ভেবে তারা দ্রুত সেটি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো আরশোলা দেখা যায়নি।

আর তখনই অদ্ভুত এক অনুভূতি হয় তাকাইচির। আরশোলা চলে যাওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু একই সঙ্গে তার একটু একাকীও লেগেছিল। তার ভাষায়, হয়তো কিছুটা দুঃখও হয়েছিল। যেন মাঝরাতে একাকী কাজের সময়ে একটুখানি কথা বলার বা নীরব সঙ্গী হওয়ার মতো একজনও আর রইল না।

পদ-পদবি বা ব্যস্ততা যত বড়ই হোক, আমাদের সবার ভেতরেই তো আসলে একজন রক্ত-মাংসের মানুষ বাস করে, তা সানায়ে তাকাইচির এই আরশোলার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়। বাইরে থেকে যাকে বিশাল ক্ষমতাধর আর কঠিন একজন প্রধানমন্ত্রী মনে হয়, এক ছোট্ট আরশোলা চলে যাওয়ার পর তারও যে একা একা লাগে এ ঘটনা তা-ই তুলে ধরে।

—টেলিগ্রাফ থেকে অনূদিত ও পরিমার্জিত

আরও