অফিসে কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া বা বার্নআউট শব্দটি অনেকেরই পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কর্মী আসলে বার্নআউটে নয়, ভুগছেন এক ভিন্ন সমস্যায় — নাম ‘বোরআউট সিনড্রোম’ বা একঘেয়েমি।
বার্নআউট সাধারণত অতিরিক্ত চাপ ও দায়িত্বে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ফল, কিন্তু বোরআউট এর ঠিক উল্টো। বোরআউট সিনড্রোমে কর্মীরা কাজের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েন, আগ্রহ হারান, এক পর্যায়ে মানসিকভাবে অফিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দায়িত্ব দীর্ঘদিন পালন করা, কাজের মধ্যে বৈচিত্র্যের অভাব, উন্নতির কোনো সুযোগ না থাকা কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সম্পর্কের অভাবে কর্মীরা কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন।
স্প্রিং হেলথের চিফ পিপল অফিসার করিশমা প্যাটেল বাফোর্ড বলেন, যেখানে কাজের পরিবেশ উদ্দীপনাহীন, সেখানে কর্মীরা খুব সহজেই ‘বোরআউটে’ ভুগতে শুরু করেন। এ অবস্থাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘গ্রেট ডিসএনগেজমেন্ট’ বা ‘গ্রেট ডিটাচমেন্ট’—অর্থাৎ কর্মীরা ধীরে ধীরে কাজের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ‘কোয়ায়েট কুইটিং’-এর দিকে ঠেলে দেয়।
বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত গবেষণা সংগঠনের গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেশন-জেড ও তরুণ মিলেনিয়ালদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ৫ শতাংশ কমেছে, আর বয়স্ক মিলেনিয়ালদের মধ্যে এই হার ৭ শতাংশ। বৈশ্বিকভাবে এভাবে কর্মীদের অমনোযোগীতার কারণে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি।
এল.ই.কে কনসাল্টিং-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইলিয়া ট্রাখটেনবার্গ বলেন, বোরআউট কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আবার উদ্ভাবনের ঘাটতি থাকাও কর্মীদের বোরআউট বাড়ায়।
সমাধানে কর্মী ও নিয়োগকর্তা দু’পক্ষের দায়িত্ব
হাইববের পরিচালক অ্যানি রোজেনক্র্যান্স বলেন, প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে একটি স্বাস্থ্যকর কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার। তবে একই সঙ্গে কর্মীদেরও নিজের কাজের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে হবে।
নিয়োগ কর্তার করণীয়
- নতুন প্রকল্প বা দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে কর্মীদের কাজে বৈচিত্র্য আনা
- মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন করা
- অফিসে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা
কর্মীর করণীয়
- নিজে থেকে নতুন দায়িত্ব বা দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করা
- ম্যানেজারের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে ক্যারিয়ার গ্রোথ নিয়ে আলোচনা করা
- সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কাজের বাইরে যোগাযোগ বাড়ানো
- অফিসে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখে টিমওয়ার্কে অংশ নেয়া