কলম্বিয়ায় ৬ হাজার বছরের পুরনো কঙ্কালকে ঘিরে নতুন রহস্য

ধারণা করা হচ্ছে, এই মানুষেরা ছিলেন যাযাবর শিকারি-সংগ্রাহক। বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবিকা চলত। হয়তো বনের পাশে বসে ছোট ছোট আগুন জ্বেলে রান্না করত, নদীর তীরে বসে শিকার ভাগ করত আর আকাশের তারা দেখে পথ ঠিক করত। এখন প্রশ্ন, তারা কোথায় হারিয়ে গেল? পরিবেশ বদলে গেল বলে? নাকি অন্য কোনো জনগোষ্ঠী এসে তাদের প্রতিস্থাপন করল?

ছয় হাজার বছরের পুরনো কঙ্কাল যেন নীরবে কথা বলছে কলম্বিয়ার বোগোটা আলতিপ্লানোর ইতিহাস নিয়ে। পাহাড়-উপত্যকার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ায় আজও হয়তো ভেসে আসে সেই মানুষের নিঃশ্বাস, যাদের গল্প এত দিন অজানা ছিল। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ছয় হাজার বছরের পুরনো কিছু কঙ্কাল বিশ্লেষণ করে এক অজানা মানব বংশের খোঁজ পেয়েছেন, যাদের কোনো পরিচিত পূর্বপুরুষ বা বংশধর নেই।

এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন আন্দ্রেয়া কাসাস ভারগাস। তিনি জানিয়েছেন, কঙ্কালগুলোর ডিএনএ কোনো বিদ্যমান মানব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলেনি। বিস্ময় ভরা কণ্ঠে তিনি জানান, ‘আমরা ভাবতেই পারিনি এমন অজানা বংশের খোঁজ পাব, যাদের ছায়াও পৃথিবীর বুকে কোথাও নেই!’

তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই মানুষেরা ছিলেন যাযাবর শিকারি-সংগ্রাহক। বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবিকা চলত। হয়তো বনের পাশে বসে ছোট ছোট আগুন জ্বেলে রান্না করত, নদীর তীরে বসে শিকার ভাগ করত আর আকাশের তারা দেখে পথ ঠিক করত। এখন প্রশ্ন, তারা কোথায় হারিয়ে গেল? পরিবেশ বদলে গেল বলে? নাকি অন্য কোনো জনগোষ্ঠী এসে তাদের প্রতিস্থাপন করল?

এই রহস্য আরো গভীর হয়েছে কারণ দক্ষিণ আমেরিকায় আগে যে দুই বড় বংশের কথা জানা ছিল— উত্তরের ও দক্ষিণের আদিবাসী জনগোষ্ঠী, এরা তাদের কোনোটিই নয়।

এ বিষয়ে গবেষকরা এখন আরো নতুন নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা বিশ্লেষণ করতে চান। তারা চাচ্ছেন সেই অজানা মানুষের গল্প উঠে আসুক, যাদের জীবন, সংস্কৃতি আর স্বপ্ন একসময় বোগোটা উপত্যকায় বেঁচে ছিল। হয়তো কোনো পাথরের চিহ্ন বা মাটির পাত্রে লেগে থাকা আঁচড়েই লুকিয়ে আছে সে গল্পের শেষ সূত্র। হয়তো এভাবেই খুঁজতে খুঁজতে মিলবে ছয় হাজার বছরের পুরনো এই মানুষের হারিয়ে যাওয়া গল্পের কাহিনি...

—সিএনএন

আরও