ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে নিয়ে যখন চারদিকে লাল গোলাপ আর রোমান্টিক ডিনারের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিঃশব্দে ভাগ বসাতে হাজির হয়েছে আরও একটি উৎসব— গ্যালেন্টাইন’স ডে'। নামটা শুনে খটকা লাগছে? ভাবছেন গ্যালেন্টাইন’স ডে আবার কী? মূলত নারীদের মধ্যকার বন্ধুত্ব বা 'সিস্টারহুড' উদযাপনের দিনই হলো এ গ্যালেন্টাইন’স ডে।
মজার ব্যাপার হলো, এ দিবসের কোনো ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নেই। এর জন্ম হয়েছে ২০১০ সালে মার্কিন টিভি সিরিজ ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’-এর স্ক্রিপ্টে। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'লেসলি নোপ' তার নারী বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য ১৩ই ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বেছে নেন। লেসলির ভাষায় এটি হলো— "নারীদের মাধ্যমে নারীদের উদযাপন" (Ladies celebrating ladies)। ব্যাস! ছোট পর্দার সেই আইডিয়া এখন বাস্তব জীবনের এক ট্রেন্ডি উৎসবে পরিণত হয়েছে। টিকটকে ২০ লাখেরও বেশি ভিডিওতে ‘Galentine's’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের সাথে সাথে গত কয়েক বছরে এ দিনটির জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।
শুধু কি সিঙ্গেলদের জন্য?
অনেকে মনে করেন গ্যালেন্টাইন’স ডে বোধহয় শুধু সিঙ্গেল নারীদের জন্য। কিন্তু ধারণাটি একেবারেই ভুল। এটি কোনো সম্পর্কের বিকল্প নয়, বরং সম্পর্কের পরিপূরক। স্বামী বা প্রেমিকের সাথে ১৪ ফেব্রুয়ারি কাটানোর আগে, ১৩ তারিখটা রাখা হয় সেইসব বন্ধুদের জন্য যারা সারাবছর আপনার হাসি-কান্নার সঙ্গী হয়ে থাকে। তাই এর স্লোগানটাও বেশ মজার— Uteruses before Duderuses কিংবা Ovaries before brovaries.
কীভাবে করবেন উদযাপন?
গ্যালেন্টাইন’স ডে পালনের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। আপনার বন্ধুদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো কিছুই হতে পারে আপনার উদযাপনের বিষয়:
ব্রাঞ্চ বা ডিনার: প্রিয় ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় বসে পছন্দের খাবার আর প্রাণখোলা আড্ডা।
মুভি নাইট: ঘরে পপকর্ন নিয়ে পছন্দের কোনো মুভি বা সিরিজ দেখা।
উপহার বিনিময়: লেসলি নোপের মতো ৫০০০ শব্দের রচনা লিখতে না পারলেও, ছোট কোনো হ্যান্ডমেড গিফট বা কার্ড তো দেওয়াই যায়!
থিম পার্টি: ড্রেস কোড মেনে পাজামা পার্টি কিংবা বিউটি সেশন।
তারকাদের গ্যালেন্টাইন’স আড্ডা
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হলিউড সেলিব্রিটিরাও এ দিনে মেতে ওঠেন। কাইলি জেনারের আর্ট সেশন থেকে শুরু করে সেলেনা গোমেজ ও জেনিফার অ্যানিস্টনের যৌথ আয়োজন—সবই প্রমাণ করে যে বন্ধুর সাথে কাটানো সময়টাই আসল। এমনকি ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’-এর আসল কাস্টরাও এখনো প্রতি বছর এ দিনে গেট-টুগেদার করেন।
সম্পর্ক যাই হোক, জীবনের কঠিন সময়ে আপনার নারী বন্ধুরাই আপনার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। তাই আসছে ১৩ই ফেব্রুয়ারি আপনার সেই বিশেষ বন্ধুদের একটি টেক্সট পাঠিয়ে বা কফির আমন্ত্রণ জানিয়ে বলে ফেলুন— "হ্যাপি গ্যালেন্টাইন’স ডে!" দিনটি হোক বন্ধুত্বের শক্তিতে রঙিন।