ধোঁয়া দিয়ে মানব মমি সংরক্ষণ করত প্রাচীন এশীয়রা

এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন ও ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপির মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ হাড়ে নিম্ন তাপে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তাপের প্রভাব রয়েছে। সবচেয়ে পুরনো উদাহরণ পাওয়া গেছে ভিয়েতনামের এক প্রত্নস্থল থেকে, যার বয়স প্রায় ১৪ হাজার বছর।

প্রায় ১৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন এশিয়ার শিকারি-সংগ্রাহক সমাজের মানুষরা মৃতদের দাফনের আগে ধোঁয়া দিয়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করত। নতুন এক গবেষণায় এমন প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মানব মমি সংরক্ষণের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। খবর সিএনএন।

বিশ্বজুড়ে বহু সভ্যতা মমি তৈরির বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তাপ, ধোঁয়া, লবণ, বরফে জমাটবদ্ধ করা বা রাসায়নিক প্রলেপ দিয়ে মৃতদেহের আর্দ্রতা দূর করে পচন রোধ করা হতো। তবে চীন, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া কঙ্কালগুলো দেখতে সাধারণ হাড়ের মতো হলেও গবেষণায় এতে পোড়াভাব ও ধোঁয়ার দাগ পাওয়া গেছে। মরদেহগুলোর গুটিয়ে রাখা ভাঁজ করা ভঙ্গিও সন্দেহ জাগিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মৃতদেহগুলোকে নিম্ন তাপে ধোঁয়া দিয়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। এরপর সমাহিত করা হতো কুঁড়েঘরে খননকৃত গর্তে।

এই পদ্ধতির সঙ্গে মিলে যায় আধুনিক পাপুয়া নিউগিনির কিছু জনগোষ্ঠীর ধোঁয়া দিয়ে মমি করার প্রথা। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. হসিয়াও-চুন হাং বলেন, আমরা মনে করি এটি মানুষের এক চিরন্তন আবেগের প্রতিফলন—প্রিয়জনেরা যেন মৃত্যুর পরও একসঙ্গে থাকতে পারে তাই এ পদ্ধতি।

গবেষকরা ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১১টি প্রত্নস্থল থেকে ৫৪টি কঙ্কাল পরীক্ষা করেছেন। এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন ও ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপির মাধ্যমে দেখা গেছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ হাড়ে নিম্ন তাপে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তাপের প্রভাব রয়েছে। সবচেয়ে পুরনো উদাহরণ পাওয়া গেছে ভিয়েতনামের এক প্রত্নস্থল থেকে, যার বয়স প্রায় ১৪ হাজার বছর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্দ্র আবহাওয়ায় মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ধোঁয়া দিয়ে শুকানো সম্ভবত সবচেয়ে কার্যকর ছিল। পরিবার বা সমাজের সদস্যরা টানা কয়েক মাস ধরে মৃতদেহের পাশে থেকে যত্ন নিত—যা ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের গভীর প্রকাশ বলে মনে করেন গবেষকরা।

বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. এমা বায়সাল এই আবিষ্কারকে অভূতপূর্ব বলে মনে করেন। তার মতে, শিকারি-সংগ্রাহক সমাজের মধ্যেও জটিল মৃত্যুরীতি ও বিশ্বাস ছিল, যা আমাদের ধারণার বাইরে।

আরও