বিশ্বব্যাপী যখন বিমান ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে, তখন পরিবেশ রক্ষার তাগিদও বাড়ছে সমান তালে। এমন পরিস্থিতিতে বৈমানিক প্রকৌশলীরা এখন পুরনো নকশা ছেড়ে ‘ব্লেন্ডেড উইং বডি’ নামের এক বিপ্লবী ডিজাইনের দিকে ঝুঁকছেন। এ নকশায় বিমানের ডানা ও মূল কাঠামো মিলেমিশে এক অভূতপূর্ব আকার ধারণ করে।
এই নতুন ভাবনা থেকেই সান ডিয়েগোর কোম্পানি ন্যাটিলাস নিয়ে এসেছে ‘হরাইজন’ নামের বিমান। এটি প্রায় ২০০ যাত্রী বহন করতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় কথা, এটি প্রচলিত বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করবে। বিমানটি উড্ডয়নকালে যাত্রী প্রতি কার্বন নির্গমন অর্ধেক পর্যন্ত কমিয়ে আনবে।
ন্যাটিলাস হরাইজন যাত্রীবাহী বিমানটি কার্বন নিঃসরণ ৫০ শত্রাংশ কমানো এবং বহনক্ষমতা ৪০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। ছবি- ন্যাটিলাস
ন্যাটিলাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্সি মাতিউশেভ জানিয়েছেন, আগামী ২০ বছরে ন্যারো বডি মার্কেট সবচেয়ে বড় হবে, যেখানে হরাইজন পুরোপুরি মানানসই। তার মতে, শিল্পখাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনা করলে এবারই প্রথম বোয়িং বা এয়ারবাসের সমতুল্য কিছু তৈরির সুযোগ এসেছে।
ব্লেন্ডেড উইং বডি নকশার ধারণাটি প্রথম আসে ১৯৯০ এর দশকে ম্যাকডোনেল ডগলাস থেকে। যদিও পরে বোয়িং এটির প্রোটোটাইপ তৈরি করলেও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। ন্যাটিলাস, যারা ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তখন থেকেই তারা এ নকশাটি নিয়েই কাজ করছে। এর আগে তারা পণ্যবাহী, পাইলটবিহীন ‘কোনা’ নামের একটি বিমান ঘোষণা করে, যার জন্য এরই মধ্যেই ৪০০টি অর্ডার এসেছে।
বিমানটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি বিদ্যমান বিমানবন্দর অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ফিট হয়। ছবি- ন্যাটিলাস
মাতিউশেভ আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে হরাইজন আকাশে উড়তে শুরু করবে। যদিও এটি একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। কারণ নতুন ডিজাইনের কোনো বিমানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুমোদন পেতে সাধারণত লম্বা সময় লাগে।
নতুন ডিজাইনে স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এবার আগের মতো জটিল ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি বলে মাতিউশেভ জানিয়েছেন। বরং তারা বিমানের পৃষ্ঠতলের ডিজাইন ও আকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই তারা প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছেন।
ন্যাটিলাস জানিয়েছে, বৃহত্তর কেবিন স্পেসের কারণে বিমানটি যাত্রীদের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক হবে। ছবি- ন্যাটিলাস
মাতিউশেভ আরো জানিয়েছেন, নতুন আকারের কারণে বিমানগুলো ৩০ শতাংশ কম টান সৃষ্টি করে। এছাড়া বিমানের ভেতরের জায়গা ৩০ শতাংশ বেশি হওয়ায়, এয়ারলাইনসগুলো এতে লাউঞ্জ বা অন্যান্য বিলাসবহুল স্থান তৈরি করতে পারবে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ ফ্লাইট আরো আরামদায়ক হবে।
তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে, হরাইজন বিমান বিদ্যমান ইঞ্জিন প্রযুক্তিই ব্যবহার করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটিকে বোয়িং ৭৩৭ বা এয়ারবাস এ৩২০ এর মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে করে হরাইজন বিমানগুলো বর্তমান বিমানবন্দরগুলোয় সহজে ফিট হতে পারবে আর অবকাঠামো পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
তবে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইন এবং অনুমোদন (সার্টিফিকেশন) নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নতুন ধরনের বিমান চালানোর জন্য ফ্লাইট ও কেবিন ক্রুদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতেও সময় লাগবে।
—সিএনএন