গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ইংরেজি বছর গণনা করা হয়। এ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১২ মাসে এক বছর। আর মাসগুলোর নামের পেছনে লুকিয়ে আছে আড়াই হাজার বছরের পুরনো রোমান ইতিহাস, পৌরাণিক দেবতা ও রাজাদের গল্প।
জানুয়ারি
বছরের প্রথম মাসটির নাম এসেছে রোমান দেবতা 'জানুস'-এর নাম থেকে। রোমের অধিবাসীরা জানুসকে আরম্ভের দেবতা হিসেবে পুজো দিত। কোনো কিছু শুরু করার আগে তারা এ দেবতার নাম খুবই সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করত। আর এ কারণেই ইংরেজি বছরের প্রথম মাসটির নাম ‘জানুস’ রাখা হয়। অন্য একটি তথ্য মতে, দেবতা ‘জানুস’ এর দুটি মুখ ছিল। একটি সম্মুখে, অপরটি পশ্চাতে। রোমের অধিবাসীরা বিশ্বাস করত, সামনের মুখটি তাকিয়ে আছে আগামীকালের অর্থাৎ ভবিষ্যতের দিকে, আর পেছনের মুখটি অতীতের দিকে। কেউ কেউ মনে করেন, পূর্বোক্ত মতের সঙ্গে মিল রেখে জানুয়ারিকে ইংরেজি বছরের প্রথম মাস করা হয়।
ফেব্রুয়ারি
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি। নামটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘ফেব্রুয়ালিয়া’ থেকে। এটি ছিল প্রাচীন রোমের একটি পবিত্রতা বা শুদ্ধিকরণ উৎসব। রোমানরা বিশ্বাস করত, নতুন বছর শুরুর আগে এই মাসে নিজেদের পাপমুক্ত ও শুদ্ধ করতে হয়। রোমের দ্বিতীয় রাজা নুমা পম্পিলিয়াস মাসটিকে ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন।
মার্চ
প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে মার্চ ছিল বছরের প্রথম মাস। এর নাম রাখা হয়েছে রোমান যুদ্ধের দেবতা 'মার্স'-এর নামানুসারে। শীত শেষ হওয়ার পর এ মাসেই সাধারণত রোমান সৈন্যরা নতুন উদ্যমে যুদ্ধে বের হতো, তাই মাসের নাম রাখা হয়েছিল বীরত্ব ও যুদ্ধের দেবতার নামে।
এপ্রিল
ইংরেজি বছরের চতুর্থ মাস এপ্রিল। এ মাসের নামকরণ নিয়ে মতানৈক্য আছে। কারো মতে, গ্রিক প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি থেকে 'আপ্রিলিস' নামটির উৎপত্তি। আবার অনেকের মতে, লাতিন শব্দ 'আপেরিরে' থেকে এটি এসেছে, যার অর্থ 'উন্মোচিত হওয়া' বা 'খোলা'। এপ্রিল বেসন্তের প্রবেশপথ। বসন্তকালে এ মাসেই ফুলের কুঁড়ি ফোটে আর প্রকৃতি উন্মোচিত হয় বলে এমন নাম।
মে
ইউরোপে বসবাসরত রোমান উর্বরতার দেবী ‘মায়া/ মেইয়া’-এর নামানুসারে বছরের পঞ্চম মাসের নামকরণ হয় মে। মায়াকে বসন্ত ও প্রবৃদ্ধির দেবীও বলা হয়। বসন্তের পূর্ণতায় প্রকৃতি যখন ফলে-ফুলে ভরে ওঠে, তখন এই দেবতাকে স্মরণ করা হতো। মায়া ছিলেন গ্রিকপুরাণে বর্ণিত পৃথিবী ধারণকারী ‘এটলাস’-এর আত্মজা।
জুন
জুন মাসের নামকরণ করা হয়েছে রোমানদের প্রধান দেবী 'জুনো'-এর নামে। তিনি ছিলেন দেবরাজ জুপিটারের স্ত্রী। জুনো নারী, চাঁদ, বিয়ে, শিকার ও মাতৃত্বের দেবী হিসেবে পরিচিত। রোমানরা মনে করত জুন মাসে বিয়ে করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের।
জুলাই
এই মাসটির নাম আগে ছিল 'কুইন্টিলিস', যার অর্থ ছিল 'পঞ্চম মাস' (যেহেতু বছর শুরু হতো মার্চ থেকে)। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে বিখ্যাত রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের সম্মানে এ মাসের নাম পরিবর্তন করে 'জুলাই' রাখা হয়। জুলাই জুলিয়াস সিজারের জন্মমাস।
আগস্ট
জুলাইয়ের মতো এ মাসের নামও এক সময় ছিল 'সেক্সটিলিস' বা 'ষষ্ঠ মাস'। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম অব্দে রোমান সম্রাট অগাস্টাস সিজারের কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে এই মাসের নাম বদলে 'আগস্ট' রাখা হয়।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর
মজার বিষয় হলো, শেষের চারটি মাসের নাম এসেছে স্রেফ তাদের সংখ্যার হিসেবে। যখন ক্যালেন্ডার ১০ মাসে ছিল, তখন এ মাসগুলো যে অবস্থানে ছিল, সেই সংখ্যার লাতিন নামই আজ রয়ে গেছে:
- সেপ্টেম্বর: লাতিন শব্দ 'সেপ্টেম' থেকে, যার অর্থ সাত।
- অক্টোবর: লাতিন শব্দ 'অক্টো' থেকে, যার অর্থ আট।
- নভেম্বর: লাতিন শব্দ 'নভেম' থেকে, যার অর্থ নয়।
- ডিসেম্বর: লাতিন শব্দ 'ডিসেম' থেকে, যার অর্থ দশ।