কমলা রঙের বিড়াল দেখলেই চোখে পড়ে অন্য রকম এক আনন্দ। এদের কাণ্ডকারখানাও যেন একটু আলাদা—কখনো গা এলিয়ে আদর নিতে চায়, কখনো আবার খুনসুটি করে মন জয় করে নেয়। অনেকেই বলেন, কমলা বিড়াল বেশি মিশুক ও আদুরে হয়। কিন্তু এই আলাদা রকম আচরণের পেছনে কি আসলেই কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে?
সম্প্রতি কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কমলা বিড়ালের রঙের পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ও বিরল জিনগত পরিবর্তন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্যালিন ও তার গবেষক দল দীর্ঘ এক দশক ধরে বিভিন্ন বিড়ালের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে এ রহস্য উদঘাটন করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, একটি ৫,০৭৬ বেস-পেয়ার ‘ডিলিশন’ বা মিউটেশন ঘটেছে এক্স ক্রোমোজোমের এমন এক অংশে, যা সরাসরি কোনো জিন কোড করে না। তবে এটি ঘটেছে আরএইচজিএপি৩৬ নামের একটি জিনের আশপাশে, যা সচরাচর রঙ নিয়ন্ত্রণ করে না। এ মিউটেশনের ফলে ত্বকে কালো রঙের কোষ বন্ধ হয়ে কমলা রঙ প্রকাশ পায়।
পুরুষ বিড়ালের একটি মাত্র এক্স ক্রোমোজোম থাকায়, এই মিউটেশন থাকলে সে পুরোপুরি কমলা রঙের হয়। কিন্তু মেয়ে বিড়ালের ক্ষেত্রে দুটি এক্স ক্রোমোজোমেই এ জিন থাকতে হয়—ফলে মেয়ে বিড়ালরা সাধারণত ক্যালিকো বা টরটয়েসশেল ধরনের ছোপ ছোপ কমলা রঙের হয়।
গবেষকদের মতে, এই জিনগত পরিবর্তন সম্ভবত বহু শতাব্দী আগে একবারই ঘটেছিল। এরপর প্রজননের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। এমনকি ১২শ শতকের চীনা শিল্পকর্মেও ক্যালিকো বিড়ালের চিত্র পাওয়া গেছে, যা এ জিনের প্রাচীন অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই জিনগত বৈশিষ্ট্য বিড়ালের আচরণে প্রভাব ফেলে কিনা, সে বিষয়ে এখনো প্রমাণ মেলেনি। গবেষক ক্যালিন মজা করে বলেন, কমলা রঙের বিড়ালরা তাদের মালিকদের বোঝাতে পেরেছে তারা আলাদা। কিন্তু গবেষকদের এখনো ঠিক বোঝাতে পারেনি।—সিএনএন