ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়ামের কোনো বিকল্প নেই- একথা আমরা সবাই জানি। করোনার প্রকোপ বাড়ার পর থেকেই ফুসফুস ভালো রাখতে ও মানসিক চাপ কমাতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
মানসিক চাপ কমাতে ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়ামের জুড়ি নেই। কারণ উদ্বেগ, রাগ, দুশ্চিন্তা, ভয় কাজ করলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই আমাদের পেশী শক্ত হয়ে যায় ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়।এসময় শান্ত হতে গভীরভাবে দম নেয়া ও ধীরে ধীরে দম ছাড়া জরুরি।যখন আমরা গভীরভাবে শ্বাস নিই তখন শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়।এন্ডোরফিনকে বলা হয় ভালো হরমোন যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে শরীর নিজেই তৈরি করে।একইসঙ্গে গভীরভাবে দম নেয়া ও ধীরে ধীরে দম ছাড়লে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায় ও রক্ত চলাচল বাড়ে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব জানান, ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাসের ব্যয়াম মূলত রিলাক্সেশন এক্সারসাইজের একটি অংশ।যখন আমরা গভীরভাবে শ্বাস নিই তখন শরীর গুরুত্বপূর্ণ নিউরোকেমিক্যালগুলো রিলিজ করে। ফলে উদ্বেগ কমে ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে, ফলে মানসিক চাপ কমে।
ধীরে ধীরে লম্বা দম নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়লে শরীর খুব সহজেই ডিটক্সিফাই হয় ও দ্রুত রিল্যাক্স হয়। যারা ইনসোমনিয়ায় (নিদ্রাহীনতা) ভুগছেন তাদের ঘুমানোর আগে শ্বাসের ব্যয়াম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বলেন, মানসিক চাপ কমানোর জন্য প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়াম করা যেতে পারে।মেঝেতে সোজা হয়ে বসে ডান হাতের তালু বুকের ওপর ও বাম হাতের তালু পেটের মাঝামাঝি রেখে গভীর শ্বাস নিতে নিতে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত গুনুন। এরপর মনে মনে এক থেকে তিন গুনতে যত সময় লাগে ততক্ষণ শ্বাস ধরে রেখে ১ থেকে ৬ গুণতে গুণতে শ্বাস ছাড়ুন।দম ছাড়ার সময়টা বেশি হবে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যয়াম একবার অভ্যাস হয়ে গেলে পরবর্তীতে ব্যক্তি যেকোনো স্থানে যেকোনো পরিস্থিতিতে অটোমেটিক্যালি এই ব্যয়াম করতে সক্ষম হয়ে যান। যোগ করেন তিনি।
ডিপ ব্রেথ বা গভীরভাবে দম নেয়ার ফলে ফুসফুসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবেশ করে ও নিঃশ্বাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিকর টক্সিন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে যায়।রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। রক্ত পরিষ্কার ও টক্সিনমুক্ত থাকলে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। তাছাড়া শরীর খুব ভালোভাবে খাবারের ভিটামিন ও খনিজ শুষে নিতে পারে ফলে আরোগ্য লাভে সহায়তা হয়।
এছাড়াও, ব্রিদিং এক্সারসাইজ আমাদের পাচনতন্ত্রসহ শরীরের সব অংশে প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে বলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্ত্রের ক্রিয়াও ঠিকভাবে চলতে থাকে যা হজমের জন্য সহায়ক।
মডেল: তাসফিয়া তাহসিন পৃথা
আলোকচিত্রী: মৌমিতা চেীধুরী