শৈবালের আলোয় ঝলমলে সেন্ট কিলডা সৈকত

গত রোববার স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা আর্থকেয়ারের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী রিচার্ড পেনসাক প্রথম এই উজ্জ্বল আলো দেখেন। আর তখনই তিনি বুঝতে পারেন এটি বায়োলুমিনেসেন্ট শৈবাল। তিনি বলেন, 'দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর। সন্ধ্যায় সৈকতে শত শত মানুষ এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমিয়েছিল।'

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের সেন্ট কিলডা সৈকতে সম্প্রতি বায়োলুমিনেসেন্ট শৈবালের উজ্জ্বল আলো দেখতে পেয়েছেন স্থানীয়রা। সৈকতের পানিতে গোলাপী ও নীলাভ আলো মিশে প্রাকৃতিকভাবে এ জাদুকরী দৃশ্য সৃষ্টি করেছে।

গত রোববার স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা আর্থকেয়ারের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী রিচার্ড পেনসাক প্রথম এ উজ্জ্বল আলো দেখেন। আর তখনই তিনি বুঝতে পারেন, এটি বায়োলুমিনেসেন্ট শৈবাল। তিনি বলেন, 'দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর। সন্ধ্যায় সৈকতে শত শত মানুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমিয়েছিল।'

পোর্ট ফিলিপ উপসাগরে এ ধরনের শৈবাল বিরল হলেও এর আগেও এদের দেখা গেছে। এই প্রাকৃতিক ঘটনা ‘সি স্পার্কলস’ বা ‘রেড টাইড’ নামে পরিচিত। এটি মূলত ‘নক্টিলুকা সিন্টিলানস’ শৈবালের কারণে ঘটে। তবে সুন্দর দেখালেও এ শৈবালগুলো একদিকে যেমন পানিতে অ্যামোনিয়া বাড়ায়, অন্যদিকে আবার অক্সিজেন কমায়। আর তা মাছ বা অন্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পেনসাক বলেন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ শৈবালের বিস্তার বাড়ছে।

স্থানীয় লেখক ও চিত্রশিল্পী রায়ান আব্রামোভিচ শৈবালগুলোর নীল আভা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সৈকতের ওপর দিয়ে যেন গ্যালাক্সি ভেসে বেড়াচ্ছে।’ এর আগে, তিনি সিডনি ও বালিতে শৈবাল দেখেছেন, কিন্তু মেলবোর্নেই প্রথম এমনটা দেখলেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই রাতে সাঁতার কাটি, কিন্তু এটি ছিল সবচেয়ে অনন্য অভিজ্ঞতা।’

ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির শৈবাল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শনা মারে জানান, শৈবালে ‘লুসিফেরেস’ নামক প্রোটিন থাকে, যা রাতের বেলায় উজ্জ্বল দেখায়। ১৯৯০ এর দশক থেকে অস্ট্রেলিয়ার জলসীমায় এ শৈবাল আরো সহজলভ্য হয়েছে। পানির উষ্ণতার কারণে এটি পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার স্রোতের মধ্য দিয়ে তাসমানিয়ার দক্ষিণেও ছড়িয়ে পড়ছে।

—দ্য গার্ডিয়ান

আরও