‘ইনস্টাগ্রাম দ্বীপ’ সান্তোরিনিতে তিন দিনে দুই শতাধিক ভূমিকম্প

সান্তোরিনি এমন একটি অঞ্চল যেখানে ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। দ্বীপটি হেলেনিক ভলকানিক আর্কের অংশ, যা ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ক্ষেত্র।

সান্তোরিনি দ্বীপ, সৌন্দর্যের এক মোহময় স্বর্গ, যেখানে নীল-সাদা ঘরবাড়ি আর এজিয়ান সাগরের ঢেউ একসঙ্গে মিশে যায়। 'ইনস্টাগ্রাম দ্বীপ' খ্যাত সান্তোরিনি এখন আতঙ্কে কাঁপছে। গত শুক্রবার থেকে রোববার গ্রিসের এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে ২০০টিরও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। খবর সিএনএন

ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতায় সোমবার সান্তোরিনি, আনাফি, আইওস ও অ্যামোরগোস দ্বীপে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বাসিন্দাদের শহরের ভেতর বড় ধরনের সমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং ফিরা শহরের পুরনো বন্দরসহ কিছু এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সান্তোরিনি এমন একটি অঞ্চল যেখানে ভূমিকম্প নতুন কিছু নয়। দ্বীপটি হেলেনিক ভলকানিক আর্কের অংশ, যা ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ক্ষেত্র। এখানে বিগত ৪ লাখ বছরে শতাধিক অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে, যার সবচেয়ে ভয়াবহটি ঘটেছিল প্রায় ৩৬০০ বছর আগে। সে সময়ের অগ্ন্যুৎপাতে দ্বীপের ভূপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যায়, আর সৃষ্টি হয় বিখ্যাত অর্ধচন্দ্রাকৃতির ক্যালডেরা।

১৯৫৬ সালে সান্তোরিনিতে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল, যার ফলে ২৫ মিটার উঁচু সুনামি আছড়ে পড়ে। এতে ৫৩ জন প্রাণ হারান। দ্বীপের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর স্থানীয়দের মধ্যে সে সময়ের আতঙ্কের স্মৃতি আবার ফিরে এসেছে।

এই ভূমিকম্পগুলোর কারণ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এগুলো মূলত ভূ-গাঠনিক প্লেটের নড়াচড়া থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যা আপাতত আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় না। ২০১১ ও ২০১২ সালে একইভাবে ভূমিকম্প বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেসময়ও কোনো অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি। তাই এবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সান্তোরিনি পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য। প্রতি বছর প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করেন, যেখানে স্থানীয়দের সংখ্যা মাত্র ২০ হাজার। এই ভূমিকম্পের কারণে পর্যটকদের আগ্রহ কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, অতীত অভিজ্ঞতা বলে দেয় যে পর্যটকেরা ভয় পেলেও শেষ পর্যন্ত সান্তোরিনির মোহময় দৃশ্য তাদের টেনে আনে।

আরও