লরিন ও গ্রিংগোর বন্ধুত্ব

বুনো ঘোড়া থেকে বিশ্বরেকর্ড, তিন মিনিটে ৩৮ রকমের কসরত

গ্রিংগোর সঙ্গে লরিনের বোঝাপড়াটা এতটাই গভীর যে, অনেক সময় শুধু ইশারা বা কণ্ঠস্বরেই গ্রিংগো বুঝে যায় কী করতে হবে।

মাত্র ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে ৩৮টি ভিন্ন কৌশল দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছে ১৯ বছর বয়সী এ ঘোড়া। এর নাম গ্রিংগো

মঞ্চে উঠলেই যেন বদলে যায় সে। কখনো নাচে, কখনো বল ঠেলে খেলে, আবার কখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাসে। সব মিলিয়ে একেবারে পরিপূর্ণ পারফরমার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাদা মুস্তাং ঘোড়া এখন ঠিক এমনই এক বিস্ময়ের নাম।

মাত্র ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে ৩৮টি ভিন্ন কৌশল দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছে ১৯ বছর বয়সী এ ঘোড়া। এর নাম গ্রিংগো। গত ৫ মার্চ সঙ্গী ও প্রশিক্ষক লরিন জেপেদার সঙ্গে রেকর্ড গড়ে গ্রিংগো ঘোড়াটি আলোচনায় আসে।

মেলায় আগত দর্শকদের সামনে হাসিমুখে কসরত দেখাচ্ছে বুদ্ধিমান ঘোড়া গ্রিংগো

গ্রিংগোর গল্পটা শুরু হয়েছিল ভিন্নভাবে। এক সময় সে ছিল বুনো পরিবেশে বেড়ে ওঠা ঘোড়া। পরে একটি সরকারি সংস্থা থেকে তাকে দত্তক নেন লরিন। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব আর যত্ন থেকে গড়ে ওঠে তাদের সম্পর্ক।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর প্রিয় ঘোড়া গ্রিংগোকে জড়িয়ে ধরেছেন প্রশিক্ষক লরিন জেপেদা

লরিন প্রথাগত কঠোর পদ্ধতির বদলে বেছে নেন ভালোবাসা আর পুরস্কারের মাধ্যমে শেখানোর কৌশল। সাধারণত কুকুরকে যেভাবে ইশারা বা খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে শেখানো হয়, গ্রিংগোকেও সেভাবেই তৈরি করেছেন লরিন। ফলে গ্রিংগোর কাছে বিষয়টি কখনোই চাপ হয়ে ওঠেনি, বরং খেলাধুলার মতোই মনে হয়েছে।

মাটিতে শুয়ে খেলছে বুদ্ধিমান ঘোড়া গ্রিংগো

এই জুটি প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। তাদের বোঝাপড়াটা এতটাই গভীর যে, অনেক সময় শুধু ইশারা বা কণ্ঠস্বরেই গ্রিংগো বুঝে যায় কী করতে হবে।

রেকর্ড গড়ার আগে কয়েক মাস ধরে অনুশীলন চলে। ছোট ছোট ধাপে কৌশলগুলো তৈরি করে পরে একসঙ্গে সাজানো হয়। মোট ৩৬টি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল, সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত কিছু বিকল্প।

ঘাসের ওপর শুয়ে আপন মনে হাসিমুখে সময় কাটাচ্ছে গ্রিংগো

রেকর্ড গড়ার দিন গ্রিংগো যা দেখিয়েছে, তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। সে ফুটবল খেলেছে, পতাকা উড়িয়েছে, বেল বাজিয়েছে, এমনকি খেলনা পিয়ানোয় নাক ঘষে সুর তোলার চেষ্টাও করেছে। কসরতের এক পর্যায়ে লরিনের সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে পোজ দিয়েছে। ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের এই পারফরম্যান্সে ছিল নাচ, মার্চ পাস্ট ও মাথা নিচু করে দর্শকদের অভিবাদন জানানোর মতো কঠিন সব কৌশল।

প্রদর্শনীর সময় মুখে ধরে পতাকা ওড়াচ্ছে গ্রিংগো

গ্রিংগোর এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার স্বাধীন জীবনযাপনও। খামারে সে পুরো সময় খোলামেলা পরিবেশে থাকে, নিজের মতো ঘোরাফেরা, খেলাধুলা করে। কাজের বাইরে সময় কাটায় কাদায় গড়াগড়ি দিয়ে বা প্রিয় খাবার খুঁজে।

লরিনের ভাষায়, ‘ওর কাছে এটা কাজ না, বরং আনন্দ।’

বিশ্বরেকর্ড উদযাপন উপলক্ষে গ্রিংগোর জন্য বিশেষ ঘোড়া-উপযোগী কেকের আয়োজন করেছিলেন প্রশিক্ষক লরিন

রেকর্ড গড়ার পর উদযাপনটাও ছিল মনে রাখার মতো। লরিনসহ অন্যরা মেতেছিলেন কেক কাটার উৎসবে। মানুষের জন্য আলাদা কেক থাকলেও গ্রিংগোর জন্য ছিল বিশেষ এক ঘোড়া-উপযোগী কেক। যদিও ছবির জন্য পোজ দেয়ার সময় দুষ্টু গ্রিংগো কেকে একটা কামড় দিয়েই খুর দিয়ে তা মাড়িয়ে দেয়!

বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর মনের আনন্দে মুখে কেক নিয়ে দুষ্টুমি করে ছবির জন্য পোজ দিচ্ছে গ্রিংগো

লরিন মনে করেন, ঘোড়াদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের সঙ্গে তাদের সহজেই যে কোনো খেলা শিখিয়ে নেয়া যায়।

—গিনেস ওয়ার্ল্ড থেকে তথ্য ও ছবি নেয়া হয়েছে

আরও