বড়দিন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান
উৎসব হলেও এর কিছু অনুষঙ্গ বৈশ্বিক আইকনে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম লাল-সাদা পোশাকের
চিরবুড়ো সান্তা ক্লজ, যার ঝুলিতে থাকে মজার মজার চকোলেট ও উপহার।
দিনটির সঙ্গে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক
যিশুর সম্পর্ক সবার জানা। অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে এ দিনে কুমারী
মেরির কোল আলো করে আসেন যিশু। সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের
পথে পরিচালিত করতেই পৃথিবীতে তার আগমন। আর ২৫ ডিসেম্বরে আনন্দ ও মুক্তির স্মারক হিসেবে
পালিত দিনটিকে ৪৪০ সালে পোপ স্বীকৃতি দেন। মধ্যযুগেই নাম দেয়া হয় ‘ক্রিসমাস ডে’।
হাল আমলে বিশ্বব্যাপী বড়দিনের সাধারণ আয়োজনে থাকে ক্রিসমাস ট্রি, গুডিজ হাউস ও কিডস কার্নিভ্যাল। থাকে স্পেশাল মেন্যু বুফে লাঞ্চ ও ডিনার। তবে সবকিছুর ফাঁকে বিশেষভাবে নজর কাড়ে সান্তা ক্লজ। ছেলে তো অবশ্যই, বুড়োরাও এ সান্তার ভক্ত!
ছবি: রয়টার্স
ধারণা করা হয়, সেন্ট নিকোলাসের গল্প
থেকেই সান্তার আবির্ভাব, যিনি ছিলেন আধুনিক তুরস্কের চতুর্থ শতাব্দীর একজন পাদ্রী।
বাস করতেন ভূমধ্যসাগরের বন্দর শহর মাইরাতে। কথিত আছে যে সেন্ট নিকোলাস দরিদ্র ও অসুস্থ
মানুষদের জন্য নিজের সব সম্পদ দান করেছিলেন। পরবর্তীকালের ইউরোপ ও আমেরিকা তাকে শিশু
ও নাবিকদের রক্ষক হিসেবে চিনেছিল। তিনি শিশুদের উপহার দিতে আনন্দ পেতেন। ১৮ শতকে ডাচ
অভিবাসীরা সেন্ট নিকোলাসের এ গল্প এবং উপহার দেবার ঐতিহ্য নিউইয়র্ক শহরে নিয়ে আসেন।
ডাচদের গল্পে"সিন্টারক্লস হলেও ইংরেজ উচ্চারণে সান্তা ক্লজ শোনাত। সে থেকেই নামটি সান্তা ক্লাজ। এরপর শতাব্দির থেকে শতাব্দি পেরিয়ে আজব বুড়োর গল্প দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবি: রয়টার্স
মনে করা হয়, যে শিশুটি বছরের সবচেয়ে
ভালো কাজটি করেছে তাদের উপহার দিতেন সান্তা। খ্রিস্টিয় সমাজে এটা একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখনো মা-বাবারা সন্তানদের ভালো কাজে উৎসাহ দিতে সান্তার উপহার আসবে বলে স্মরণ করিয়ে
দেন।
তবে সান্তার এ পোশাক কেন? এর পেছনেও রয়েছে আরেক আখ্যান। যার উদ্ভাবক জার্মানিতে জন্ম নেয়া আমেরিকান চিত্রশিল্পী থমাস ন্যাস্ট। ছোটবেলায় যে সান্টাকে তিনি দেখেছেন- খাটো করে পেটমোটা এক বৃদ্ধ, গালের লম্বা সাদা দাঁড়ি এবং ছিলেন বেশ হাসিখুশি ও পরনে লাল জামা। ন্যাস্ট তার চিত্রে এভাবেই সান্তাকে একেঁছেন। ১৮৬২ সালে ন্যাস্টের এ পেন্টিং জনপ্রিয়তা পায়। তা এত বেশি যে সান্তা বলতে এখন এরকম একজনই আমাদের চিন্তায় আসেন। বিশেষ করে কার্টুন ও কমিকস এ অবয়বকে নিয়ে গেছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।
ছবি: রয়টার্স
আমেরিকায় ক্রিসমাসের কিছুদিন আগেই শিশুরা
সান্তাকে নিয়ে চিঠি লেখে। ভালো উপহার পেতে তার জন্য কুকিজ ও দুধ রেখে দেয়। অবশ্য ক্রিসমাসের
আগের সপ্তাহ জুড়ে সবাই প্রিয়জন, বন্ধু ও আত্মীয়দের নিমন্ত্রণ জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা
পাঠায়। বর্তমান ই-কার্ডের যুগে এটি টিকে আছে। যার শুরু হয়েছিল ১৮৪৩ সালের দিকে যখন
লন্ডনে স্যার হেনরির দ্বারা প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কার্ড উৎপাদন শুরু হলো। কার্ডে থাকত
যিশুর ছবি বা সাদা ঘুঘুর মতো খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীকী কোন চিত্র। তুষারপাতের দৃশ্যও
থাকে। আর সান্তা? সে আর বলতে- সান্তা ছাড়া খুব কমই কার্ড পূর্ণতা পায়।