করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে দুটো বিষয় যুক্ত হয়েছে। প্রথমটি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর হাত পরিচ্ছন্ন রাখা ও দ্বিতীয়টি ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধান করা। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক পাওয়া যায়। কোন মাস্ক সবচেয়ে বেশি উপযোগী, কীভাবে মাস্ক পরলে নিরাপদ থাকা যাবে, কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকা স্বাস্থ্যকর তাছাড়া মাস্ক কিভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে এখানে-
ডাবল মাস্ক কি বেশি সুরক্ষা দেয়?
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। সিডিসি কর্মকর্তাদের দেয়া নতুন তথ্য থেকে জানা গেছে, টাইট ফিটের একসঙ্গে দুটি মাস্ক পরিধান করলে প্রতি দু'জনের মধ্যে সার্স-সিওভি-২ (SARS-CoV-2) সংক্রমণের হার ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। সিডিসি মাস্কের সঠিক ফিটিংয়ের দিকেও নজর দেয়ার কথা বলেছে। ডাবল মাস্কের ক্ষেত্রে কাপড়ের মাস্কের নিচে সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা একসঙ্গে দুটো সার্জিক্যাল মাস্ক পরা যেতে পারে।
শরীরচর্চার সময় কি মাস্ক ব্যবহার করা যাবে?
জগিং, বাইকিং বা জিমে শরীরচর্চা করার সময় যদি আশপাশে মানুষের আনাগোনা থাকে তাহলে মাস্ক পরা উচিৎ।তবে মাস্ক পরে শরীরচর্চায় শারীরিক কোনো অসুবিধা হলে ব্যক্তিগত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘরেই ব্যায়াম করতে পারেন।
টানা কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকা উচিৎ?
সাধারণত যারা দিনের একটা বড় সময় ঘরের বাইরে থাকেন ও অফিসে বসে কাজ করেন তাদের দীর্ঘসময় মাস্ক পরে থাকতে হয়।তবে যেসব স্থানে থাকলে অন্যদের সঙ্গে বাহ্যিক দূরত্ব রাখা সম্ভব নয় সেসব স্থানে অবশ্যই মাস্ক পরা উচিৎ। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেন যতক্ষণ মাস্ত পরে থাকবেন ততক্ষণ যেন তা পরিচ্ছন্ন থাকে। বারবার মাস্কে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি, কাশি বা পরিবেশগত কোনো কারণে যদি মাস্কটি ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে যায় তাহলে তা বদলে পরিচ্ছন্ন অন্য একটি মাস্ক পরুন। সাধারণত ঘরের বাইরে গেলেই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার প্রয়োজন হলে সঙ্গে আরও কয়েকটি মাস্ক রাখুন যাতে বদলে বদলে পরা যায়। তবে প্রতিবার নতুন মাস্ক পরার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে। যাদের শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে তারা দীর্ঘসময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন না। এন৯৫ বা উচ্চমানের মেডিকেল গ্রেডের মাস্কে (Higher medical grade) উচ্চ পরিস্রাবণ উপাদান (Higher filtration component) থাকে বলে তা এ ধরনের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তির জন্য দীর্ঘসময় পরে থাকা কষ্টসাধ্য।
কাপড়ের মাস্ক কেমন হওয়া উচিৎ?
শতভাগ সুতির মাস্কই সবচেয়ে ভালো। একটু ভারী কাপড়ের মধ্যে ডেনিম খুব ভালো।তাছাড়া গেঞ্জির কাপড়ের মাস্কগুলোও আরামদায়ক। তবে যেহেতু এ ধরনের কাপড় স্ট্রেচ করে সেহেতু বেশিদিন টেকে না।
মাস্ক কীভাবে পরিচ্ছন্ন রাখব?
পুনরায় ব্যবহার উপযোগী মাস্কই কেবল জীবাণুমুক্ত করা উচিৎ। যেসব মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না যেমন- মেডিকেল মাস্ক ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পুনরায় ব্যবহার উপযোগী মাস্ক জীবাণুমুক্ত করার জন্য চার কাপ পানিতে তিন/চার চামচ জীবাণুনাশক মিশিয়ে মাস্ক ভিজিয়ে রাখুন। পাঁচ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
কাপড়ের মাস্ক: কাপড়ের মাস্ক নিয়মিত গরম পানি দিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিলেই হবে।তবে পাতলা কাপড়ের মাস্ক গরম পানি ও সাবান দিয়ে ২০ সেক্ন্ডে ঘষে হাতেই ধুয়ে ফেলা উচিৎ।
সার্জিক্যাল মাস্ক: সার্জিক্যাল মাস্ক তৈরি হয় মূলত একবার ব্যবহারের জন্যই।কিন্তু যদি দ্বিতীয়বার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে তাহলে শুকনো কাগজের ব্যাগে ভরে রেখে দিন কয়েকদিন।এতে করে মাস্কে যদি জীবাণু লেগে থাকে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।
গুড হাউজ কিপিং অবলম্বনে