ভারতের অনলাইন শিক্ষা সংস্থা 'ফিজিক্সওয়ালা'র শেয়ার বাজারে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দুজন নতুন ভারতীয় বিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, ৩৩ বছর বয়সী আলাখ পান্ডে এখন ভারতের কনিষ্ঠতম বিলিয়নেয়ার। তার ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বোর্ডের পরিচালক, ৩৭ বছর বয়সী প্রতীক বুবও এ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
নয়ডাভিত্তিক এ সংস্থাটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং স্কুল কোর্স প্রদান করে থাকে। আইপিও মূল্য থেকে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রিমিয়ামে কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফিজিক্সওয়ালা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অফলাইন সেন্টারগুলোর মাধ্যমেও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের পেইড অ্যাপে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তারা ভারতের ৯৮ শতাংশ পোস্টাল কোডে পৌঁছাতে সক্ষম।
২০২৩ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়নে। কিন্তু ক্ষতিও বেড়ে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে ফিজিক্সওয়ালার শিক্ষাকেন্দ্রিক মডেল এটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করবে।
ফিজিক্সওয়ালার এই সাফল্যকে আরো তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে পান্ডের ব্যক্তিগত যাত্রা—তিনি ছিলেন একজন কলেজ ড্রপআউট। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার তৃতীয় বর্ষে কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন অর্থনৈতিক চাপে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ২০১৪ সালে ইউটিউবে বিনামূল্যে পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু করেন তিনি।
সে বছর শুরু হওয়া তার ইউটিউব চ্যানেল ‘ফিজিক্সওয়ালা-আলাখ পান্ডে’ বর্তমানে প্রায় ১৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারে পৌঁছেছে। এই চ্যানেলকে কেন্দ্র করেই ফিজিক্সওয়ালার উত্থান শুরু ২০২০ সালে। পান্ডে জানান, প্রাইভেট টিউশন দিয়ে অষ্টম শ্রেণি থেকেই তার শিক্ষকতার পথচলা শুরু। হাস্যরস, মিম এবং ট্যাটু ব্যবহার করে পড়ানো—এই অভিনব শিক্ষাশৈলী তাকে ছাত্রদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২০ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার কোচিং দেয়ার মাধ্যমে ফিজিক্সওয়ালা যাত্রা শুরু করে।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষে পড়া ছেড়ে দেয়া পান্ডে পরে প্রতীক বুবের সঙ্গে অংশীদারিত্বে যান। প্রতীক বুব তখন পেনপেন্সিল নামে একটি ই-লার্নিং অ্যাপ চালাতেন। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে তারা দুটি উদ্যোগকে একত্রিত করেন।
২০২২ এবং ২০২৪ সালে দুটি তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে সংস্থাটি ‘ওয়েস্টব্রিজ ক্যাপিটাল’ এবং ‘লাইটস্পিড ভেনচার পার্টনার্স’ এর মতো মার্কিন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ব্যর্থ এডটেক কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতার পরও ফিজিক্সওয়ালা ভিন্ন পথে হাঁটছে। ডিজিটাল পরামর্শক ৫এফ ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান গণেশ নটরাজন বলেন, ‘অনলাইন ও অফলাইন নেটওয়ার্কের সমন্বিত কৌশল তাদের মূল্যায়নকে বাস্তবসম্মত করছে।