ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগ দেয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ পাশ কাটিয়ে অ-অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে জানতে চাইব দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হালচাল এবং নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনার চিত্র।
পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক মেলবন্ধনের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৯ সালের ১৬ জুন রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গ শহরে যাত্রা হয়েছিল ব্রিকসের। শুরুতে সদস্য ছিল চারটি দেশ—ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া ও চীন। দেশ চারটির নামের আদ্যক্ষর নিয়ে সংগঠনটির নাম ছিল BRIC। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের ২৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা এ জোটে যোগ দেয়ায় ‘S’ যুক্ত হয়ে সংগঠনটির নতুন নামকরণ হয় BRICS। আর্থিক সহযোগিতার অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানের জন্য সদস্যদেশগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে New Development Bank (NDB)। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিক যাত্রা করা ব্যাংকটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা আট। ব্রিকসভুক্ত পাঁচটি দেশের বাইরে বাংলাদেশই প্রথম এ ব্যাংকের সদস্যপদ লাভ করেছে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। ব্রিকসের বাইরে থেকে বাংলাদেশ ছাড়া পরবর্তী সময়েসদস্যপদ লাভ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এসব সুপ্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে এনডিবি ধীরগতিতে হলেও নিজের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে।
ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের তথ্যমতে, বিশ্বের ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ এলাকাজুড়ে অবস্থিত দেশ পাঁচটির জনসংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২৮ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদনের চার ভাগের এক ভাগ (২৬ দশমিক ৬ শতাংশ) উৎপাদন হয়ে থাকে এ পাঁচ দেশে। এসব তথ্য থেকে বৈশ্বিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের ভূমিকা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সম্ভাবনা আন্দাজ করা যায়। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির হালচাল নিয়ে আইএমএফের নিয়মিত প্রকাশনার ২ এপ্রিল ২০২৩ সংস্করণ মোতাবেক মোট দেশজ উৎপাদনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পর চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। চীনের জিডিপির আকার ১৯ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। ৩ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৮৮২ বিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে ভারত বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ। ২ হাজার ৮১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন এবং ২ হাজার ৬২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ জিডিপি নিয়ে বিশ্বে ব্রাজিল ও রাশিয়ার অবস্থান যথাক্রমে দশম ও একাদশ। পাঁচটি দেশের মাঝে জিডিপির আকারে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের পেছনে আছে। ৩৯৯ দশমিক শূন্য ১৫ বিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ৩৯তম। যেখানে ৪২০ দশমিক ৫১৬ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ৩৭তম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ। আইএমএফের তুলনামূলক চিত্র থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে ১৫ হাজার ৪৪০ ডলার মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে রাশিয়া ছিল সবার ওপরে, দ্বিতীয় চীন (১২ হাজার ৮১০ ডলার)। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে ব্রাজিল (৯ হাজার ডলার), দক্ষিণ আফ্রিকা (৬ হাজার ৬৯০ ডলার) ও ভারত (২ হাজার ৩৮০ ডলার)। মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৭৩০ ডলার নিয়ে বাংলাদেশ আছে ভারতের ওপরে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ পাঁচ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রসায়ন কতটা বিস্তৃত—এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে। ‘Flow of External Resources into Bangladesh 2021-2022’ মোতাবেক স্বাধীনতার পর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট প্রায় ১১২ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থসহায়তা পাওয়া গেছে। তার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ সংগঠন International Development Association (IDA) থেকে বাংলাদেশে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসেছে ২৬ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা (মোট সহায়তার ২৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ)। সহায়তা গ্রহণের এ তালিকায় চীন, রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও দ্বাদশ। অন্যদিকে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ৫০টি সহযোগী বহুজাতিক সংস্থা বা দেশের মাঝেই নেই। ব্রিকসের প্রভাবশালী সদস্য চীন আমাদের প্রথম সারির উন্নয়ন সহযোগী দেশ। চীনের ওপরে আছে কেবল দুটি সংস্থা, IDA (২৬ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (২০ হাজার ৬৬০ দশমিক ৭৮৯ মিলিয়ন ডলার) এবং একটি দেশ জাপান (১৮ হাজার ৫১৬ দশমিক শূন্য ৭৯ মিলিয়ন ডলার)। চীন থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৮২ দশমিক ২২৮ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণের অর্থসহায়তা। ওই সময়ে রাশিয়া থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৫ হাজার ৮৮৪ দশমিক শূন্য ৪৭ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা। প্রতিবেশী ভারত থেকে এসেছে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ দশমিক ৬৪৯ মিলিয়ন ডলার, যার মাঝে অনুদান ৪১৯ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার এবং ঋণ ১ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে রাশিয়ার ঋণপ্রবাহ সম্প্রতি আরো বেগবান হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে ছাড়কৃত মোট ৭ হাজার ৯৫৭ দশমিক ৫৫৭ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তার মাঝে রাশিয়ার অবদান ১ হাজার শূন্য ২৯ দশমিক ৫৫৬ মিলিয়ন ডলার। এর মূল কারণ ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন। অন্যদিকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশ দুটিকে দেখা হচ্ছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে।
আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সহায়তার উচ্চচাহিদার মূল কারণ এর পরিমাণ, দীর্ঘমেয়াদ, রেয়াত কাল এবং কম সুদহার। বাণিজ্যিক ঋণের তুলনায় এ ঋণের সুদ একেবারেই নগণ্য। বর্তমান দেশীয় বাণিজ্যিক ঋণের সুদহার যেখানে কমবেশি ১০ শতাংশ, সেখানে বিশ্বব্যাংকের সুদের হার মাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
আলোচ্য পাঁচটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিধি কতটা বিস্তৃত—এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যভাণ্ডারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রফতানি আয়েও বাংলাদেশ সাক্ষী হয়েছে নতুন দিগন্তের। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত প্রতিবেদন মোতাবেক ২০১০-১১ অর্থবছরে রফতানি আয় ছিল মাত্র ২২ হাজার ৯২৮ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার। পক্ষান্তরে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগের ফলে রফতানি আয় বাড়লেও অব্যাহতভাবে বেড়ে চলছে আমদানি ব্যয়। Annual Import Payments of Goods and Services 2021-22প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫২ হাজার ৮২ দশমিক ৬৫৮ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের বিপরীতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। আমদানিকারক দেশগুলোর মাঝে শীর্ষে আছে চীন, তার পরই ভারত। ব্রাজিলের অবস্থান অষ্টম। দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি করা হলেও দেশ দুটি ২০ শীর্ষ আমদানিকারক দেশের মাঝে নেই।
আমদানি-রফতানি বিবেচনায় সিংহভাগ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে চীন ও ভারত থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে চীন থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করা হয়েছে, যা সে বছর মোট আমদানির এক-চতুর্থাংশ (২৫ দশমিক ৩ শতাংশ)। অথচ সে বছর চীনে রফতানি করা হয়েছে মাত্র ৬৮৩ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, মোট রফতানির মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ভারতের অবস্থা চীনের চেয়ে কিঞ্চিৎ ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত নয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৬৯০ মিলিয়ন ডলারের আমদানির (মোট আমদানির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ) বিপরীতে ভারতে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের (মোট রফতানির ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ) পণ্য ও সেবা। চীন ও ভারত থেকে আমদানির তালিকায় কী নেই! সুই থেকে সেমাই, ট্রেন থেকে বিমান সবকিছুই আমদানি হয় দেশ দুটি থেকে। বিপরীতে কিছু গার্মেন্টস, পাট ও চামড়াজাত পণ্য নিয়ে রফতানি পণ্যের তালিকা খুবই ছোট। ব্রিকস প্লাটফর্মে বাংলাদেশের উপস্থিতি হতে পারে দেশ দুটির সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার কার্যকর হাতিয়ার।
আমদানিকারক দেশগুলোর মাঝে ব্রাজিলের অবস্থান অষ্টম। ব্রাজিলের সঙ্গেও আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১৩৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে ২ হাজার ২৪৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের তেলবীজ, দানাদার শস্য ও চিনি, তুলা, কফি, তামাকজাতীয় পণ্য ইত্যাদি আমদানি করা হয়েছে। বিপরীতে রফতানি হয়েছে মাত্র ১০৯ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টসসহ অন্যান্য পণ্য। সেই তুলনায় রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পণ্য রফতানি করা হয়েছে যথাক্রমে ৬৩৮ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ও ১৩১ দশমিক ৩৩ ডলারের। রফতানীকৃত প্রধান পণ্য নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস এবং অল্প কিছু পাট ও পাটজাত পণ্য। সে বছর রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪৩৮ দশমিক ১৯ ও ১৭২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা হিসেবে)।
বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতির বাঁক বদলে সক্ষম এমন সব সিদ্ধান্ত আসতে পারে ব্রিকসের ১৫তম শীর্ষ সম্মেলনে। বিশ্বনেতা এবং অর্থনীতিবিদরা গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবেন ২২-২৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং ‘ইউরো’র মতো একটি সাধারণ মুদ্রার প্রবর্তন হতে পারে চমক জাগানিয়া সিদ্ধান্ত। ব্রিকসের আওতা সম্প্রসারণ করার এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে BRICS Plus হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিকস সদস্যপদ লাভের বিষয়ে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এককভাবে কারো ওপর যেন নির্ভরশীল থাকতে না হয়।... অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যেন আমাদের অর্থ বিনিময়ের সুযোগটা থাকে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যেন আমরা সহজে ক্রয় করতে পারি’। প্রধানমন্ত্রীর এরূপ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানবিক বিবেচনা থেকেই বাংলাদেশ ব্রিকসে যোগ দেয়ার কথা ভাবছে। ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতার রেখে যাওয়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতির এ মূলমন্ত্রের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক রচিত হয়ে থাকে। ব্রিকসের সদস্যপদ গ্রহণসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব আর সাহসী উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের ফলে বিগত দিনগুলোয় বাংলাদেশ সাক্ষী হয়েছে দুর্দান্ত সব অর্জনের। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সব বাধা অতিক্রম করে ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’র বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ অর্জনের অদম্য অভিযাত্রায়।
ড. মনসুর আলম খান: উপসচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়