সম্প্রতি
বিশ্ব
পর্যটন
দিবস
উপলক্ষে
সিলেটের
লিডিং
ইউনিভার্সিটি
এক
সেমিনারের
আয়োজন
করে।
সেখানে
উপস্থাপনের
জন্য
‘পর্যটন
ও
অর্থনৈতিক
উন্নয়ন:
প্রেক্ষিত
বাংলাদেশ’
শীর্ষক
মূল
প্রবন্ধ
প্রস্তুত
করতে
গিয়ে
বেশকিছু
তাত্পর্যপূর্ণ
বিষয়
নজরে
আসে।
সেগুলো
বণিক বার্তার পাঠকদের
সঙ্গে
শেয়ার
করাই
আজকের
নিবন্ধের
উদ্দেশ্য।
বর্তমান বিশ্বে
ট্রাভেল
অ্যান্ড
ট্যুরিজম
সত্যিই
এক
কঠিন
সময়
পার
করছে।
২০২০
সালের
পুরোটা
এবং
বর্তমান
বছরের
অর্ধেকের
বেশি
সময়
ভ্রমণ
ও
বিনোদন
কার্যক্রমে
নানা
নিষেধাজ্ঞা
থাকায়
এ
খাতসংশ্লিষ্টরা
বিপন্ন
বোধ
করছেন।
পরিস্থিতি
উপলব্ধির
জন্য
দুটো
তথ্যই
যথেষ্ট।
সেগুলো
হলো,
২০১৯
সালে
বৈশ্বিক
জিডিপিতে
এ
খাতের
অবদান
ছিল
১০
দশমিক
৪
শতাংশ।
গত
বছর
তা
কমে
হয়েছে
৫
দশমিক
৫
শতাংশ।
আর
বিশ্বব্যাপী
৩৩৪
মিলিয়নের
মধ্যে
মাত্র
এক
বছরের
ব্যবধানে
চাকরি
হারিয়েছেন
৬২
মিলিয়ন
পর্যটন
কর্মী!
অন্যান্য শিল্প
সাধারণত
বিশেষ
কিছু
ভৌগোলিক
এলাকায়
সীমাবদ্ধ
থাকে।
কিন্তু
পর্যটন
খাত
গোটা
বিশ্বেই
কম-বেশি
ছড়িয়ে
রয়েছে।
এ-সংক্রান্ত
১৮৫টি
দেশের
তথ্য
সংগঠিত
আকারে
পাওয়া
যায়।
অর্থাৎ
প্রত্যক্ষ
ও
পরোক্ষভাবে
পৃথিবীর
প্রায়
সব
দেশই
পর্যটন
খাতে
বিশেষভাবে
মনোযোগী
রয়েছে।
প্রাচীনকালে
ব্যক্তি
উদ্যোগে
বিভিন্ন
স্থান
ঘুরে
দেখার
প্রথা
চালু
হলেও
আধুনিক
বাণিজ্যের
ছোঁয়ায়
এখন
রীতিমতো
‘শিল্প’-এর
পর্যায়ে
উন্নীত
হয়েছে।
মহামারীপূর্ব পৃথিবীতে
ট্রাভেল
অ্যান্ড
ট্যুরিজম
খাত
মোট
কর্মসংস্থানে
প্রায়
১০
দশমিক
৬
শতাংশ
অবদান
রাখত।
অর্থাৎ
প্রতি
দশজন
কর্মজীবীর
একজন
ছিলেন
এ
খাতে।
তাছাড়া
করোনাপূর্ব
পাঁচ
বছরে
(২০১৪-১৯)
সৃষ্ট
প্রতি
চারটি
নতুন
কাজের
মধ্যে
একটি
ছিল
পর্যটনসংশ্লিষ্ট।
কিন্তু
২০২০
সালে
এ
খাতে
নিয়োজিত
১৮
দশমিক
৫
শতাংশ
(প্রায় এক-পঞ্চমাংশ)
কর্মী
কাজ
হারিয়েছেন।
পরোক্ষ
নির্ভরশীলদের
ক্ষতিগ্রস্ত
হওয়ার
সংখ্যা
আরো
বেশি।
তাছাড়া এ
খাতে
আগামী
দশকে
আরো
১০০
মিলিয়ন
নতুন
কর্মসংস্থানের
ব্যাপারে
সংশ্লিষ্টরা
আশাবাদ
ব্যক্ত
করেছিলেন।
সেটাও
মহামারীর
ধাক্কায়
অনিশ্চয়তার
মধ্যে
পড়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট
খাতে
নারী
(৫৬ শতাংশ)
ও
তরুণদের
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির
বিশেষ
প্রবণতা
রয়েছে।
ফলে
বর্তমানে
তাদের
উল্লেখযোগ্য
অংশ
কর্মহীন
হয়ে
পড়েছে।
পৃথিবীর
সব
অঞ্চলের
চিত্র
প্রায়
একই
রকম।
গোটা দুনিয়ায়
দেশের
অভ্যন্তরে
(ডোমেস্টিক) ট্রাভেল
অ্যান্ড
ট্যুরিজম
বাবদ
ব্যয়
অর্ধেকে
নেমেছে।
আন্তর্জাতিক
ক্ষেত্রে
তা
৬৯
দশমিক
৪
ভাগ
হ্রাস
পেয়েছে।
অর্থাৎ
তিন
ভাগের
এক
ভাগে
নেমেছে!
কিছু
দেশে
সরকারি
প্রণোদনা
ও
স্বল্প
কর্মঘণ্টা
বেঁধে
দিয়ে
কর্মীদের
চাকরি
টিকিয়ে
রাখার
চেষ্টা
চলছে।
তবে
স্বল্প
সময়ে
পুরো
খাত
ঘুরে
দাঁড়াতে
না
পারলে
সে
চেষ্টাও
ব্যর্থ
হওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে।
করোনার প্রকোপ
কিছুটা
কমায়
প্রত্যেক
দেশ
নিজেদের
মতো
করে
ঘুরে
দাঁড়ানোর
কার্যক্রম
হাতে
নিয়েছে।
ইউরোপের
দেশগুলোর
জিডিপির
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ
আসে
পর্যটন
খাত
থেকে।
তাই
স্পেন,
ফ্রান্স,
অস্ট্রিয়া,
জার্মানি,
ইতালি,
সুইজারল্যান্ডও
তুরস্ক
পর্যটন
খাতকে
পরিকল্পিতভাবে
পুনর্গঠনের
মাধ্যমে
মহামারীর
ধাক্কা
সামলে
পর্যটক
আকর্ষণে
তত্পর
রয়েছে।
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে
নানা
প্রয়োজনে
বিশ্ববাসীর
যাতায়াতের
প্রবণতা
এমনিতেই
বেশি।
তদুপরি
তাদের
অভ্যন্তরীণ
পর্যটন
খাত
অত্যন্ত
গতিশীল।
ফলে
স্বল্প
সময়ে
তারা
পর্যটনকে
মোটামুটি
উজ্জীবিত
করতে
সক্ষম
হয়েছে।
দক্ষিণ ও
মধ্য
আমেরিকার
দেশগুলোর
ব্যাপারে
পর্যটকদের
বিশেষ
আগ্রহ
থাকায়
বিশ্বের
নানা
প্রান্ত
থেকে
তারা
সেখানে
ছুটে
যাচ্ছে।
বেশকিছু
সভ্যতার
আঁতুড়ঘর
হিসেবে
পরিচিত
হওয়ায়
ইতিহাস-ঐতিহ্য-প্রত্নতত্ত্ব
বিষয়ে
আগ্রহী
পর্যটকরা
সেখানে
ভিড়
করছেন।
তদুপরি
ফুটবলের
জাদুকরদের
জন্মভূমি
ও
মাদক
চোরাচালানের
স্বর্গরাজ্য
হওয়ায়
নানা
কৌশলে
(বিধি-নিষেধ
এড়িয়ে)
ভিন্ন
বৈশিষ্ট্যের
পর্যটকরা
সেখানে
সমবেত
হচ্ছেন।
ফলে
তাদের
পর্যটক
সংখ্যা
ক্রমেই
বাড়ছে।
সদ্য
সমাপ্ত
গ্রীষ্মকালীন
ছুটিতে
কিছু
দেশ
বেশ
ভালো
ব্যবসা
করেছে।
আফ্রিকান দেশ
মিসরের
রয়েছে
অতি
প্রাচীন
ও
সমৃদ্ধ
পর্যটন
পণ্যের
সমাহার।
পিরামিড
ও
মমির
আকর্ষণে
গোটা
দুনিয়ার
পর্যটকরা
সেখানে
ছুটে
যান।
এ
অঞ্চলের
আরো
কিছু
দেশের
প্রতি
আগ্রহ
থাকলেও
‘আরব
বসন্ত’-পরবর্তী
রাজনৈতিক
অস্থিরতায়
সেগুলোয়
ভ্রমণের
গতি
শ্লথ
হয়েছে।
তবে
দক্ষিণ
আফ্রিকা
ফিফা
বিশ্বকাপে
(২০১০ সালে)
আয়োজক
হওয়ার
পর
থেকে
পরিকল্পিতভাবে
নিজেদের
পর্যটন
সম্পদগুলো
বিশ্ববাসীর
কাছে
তুলে
ধরছে।
করোনা
সংকট
কাটাতে
এরই
মধ্যে
তারা
বেশকিছু
লক্ষণীয়
উদ্যোগ
গ্রহণ
করেছে।
অন্যদিকে মালয়েশিয়া,
থাইল্যান্ড,
ইন্দোনেশিয়া,
ভারত
ও
নেপাল
বিশেষ
বৈশিষ্ট্যের
পর্যটকদের
আকর্ষণ
করতে
সচেষ্ট
রয়েছে।
মহামারী
আঘাত
হানার
আগে
তারা
নিজস্ব
ছন্দে
এগিয়ে
যাচ্ছিল।
২০০৮
সালের
বৈশ্বিক
মন্দার
পরে
শিল্পোন্নত
দেশের
পর্যটকদের
এশিয়াসহ
তুলনামূলক
কম
খরচের
দেশগুলো
ভ্রমণের
ব্যাপারে
আগ্রহ
বৃদ্ধি
পেয়েছিল।
এ
দেশগুলো
বেশ
দক্ষতার
সঙ্গে
সেই
সুযোগ
কাজে
লাগিয়েছে।
বর্তমানে
তারা
নিজ
দেশের
অধিবাসীদের
দর্শনীয়
স্থানগুলো
ভ্রমণে
ব্যাপক
উৎসাহ
দিচ্ছে।
এতে
পর্যটনসংশ্লিষ্ট
উদ্যোগগুলো
অন্তত
আরো
কিছুদিন
টিকে
থাকার
রসদ
পাবে।
একেবারে স্বতন্ত্র
প্রাকৃতিক
উপাদান
দিয়ে
একসময়
বিশ্ব
পর্যটকদের
নজর
কেড়েছিল
শ্রীলংকা।
গত
এক
দশকে
তারা
বেশ
ভালো
অবস্থানে
পৌঁছেছিল।
তবে
নানা
অস্থিরতা
ও
আর্থিক
মন্দায়
তাতে
ভাটা
পড়েছে।
সাম্প্রতিককালে
এ খাতে
মালদ্বীপের
উত্থান
অংশীজনদের
বিশেষভাবে
নজর
কেড়েছে।
বিশেষত
করোনাকালে
দূরবর্তী
ফ্লাইটগুলো
অনিয়মিত
হওয়ায়
দক্ষিণ
এশীয়
পর্যটকদের
আকর্ষণীয়
গন্তব্যে
পরিণত
হয়েছে
ভারত
সাগরে
ভাসমান
দ্বীপরাষ্ট্রটি।
২০১৯ সালে
আমাদের
এশিয়া-প্যাসিফিক
অঞ্চল
পর্যটন
খাতে
দ্রুত
উন্নয়ন
করে
বিশ্ববাসীর
নজর
কেড়েছিল।
কিন্তু
পরের
বছর
করোনার
আঘাতে
এ
অঞ্চল
আন্তর্জাতিক
পর্যটনে
খুব
বাজে
পারফর্ম
করেছে।
তবে
অভ্যন্তরীণ
ভ্রমণ
প্রবণতা
বিশ্বের
অন্যান্য
অঞ্চলের
তুলনায়
এখানে
বেশ
গতিশীল
ছিল।
ফলে
এখনো
বিশ্ব
পর্যটন
সংশ্লিষ্ট
৫৫
শতাংশ
কর্মসংস্থান
হচ্ছে
এ
অঞ্চলে।
এশিয়া-প্যাসিফিকে
দুবাই
ও
সিঙ্গাপুর
বৈচিত্র্যময়
পর্যটকগোষ্ঠীকে
আকৃষ্ট
করতে
সক্ষম
হয়েছে।
তাছাড়া
চীন,
জাপান
ও
দক্ষিণ
কোরিয়ায়
নানা
প্রয়োজনে
ভ্রমণকারীর
সংখ্যা
ক্রমেই
বাড়ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার
দেশগুলোর
জিডিপিতে
আগের
তুলনায়
এ
খাতের
অবদান
কমেছে
৩৬
দশমিক
৫
শতাংশ।
যদিও
তা
বৈশ্বিক
গড়ের
(৪৯.১%)
চেয়ে
কিছুটা
কম।
এ
অঞ্চলের
দেশগুলোর
পর্যটনসংশ্লিষ্ট
ক্ষুদ্র
ও
মাঝারি
শিল্প
খাতে
বড়
ধাক্কা
লেগেছে।
কারণ
দর্শনীয়
স্থানগুলোয়
প্রত্যাশামাফিক
পর্যটক
না
আসায়
ক্ষুদ্র
ও
কুটির
শিল্পের
অসংখ্য
পণ্য
উৎপাদন
ও
বিক্রি
উল্লেখযোগ্য
মাত্রায়
হ্রাস
পেয়েছে।
অনেক
ক্ষুদ্র
ব্যবসায়ী
এরই
মধ্যে
পুঁজি
হারিয়েছে।
ফলে
স্পটগুলো
নতুন
করে
খুললেও
তারা
আগের
ন্যায়
ব্যবসায়
ফিরতে
পারছে
না।
স্বভাবতই
মনে
প্রশ্ন
জাগে,
এমন
পরিপ্রেক্ষিতে
আমাদের
অবস্থান
ঠিক
কোথায়?
সদ্য
স্বাধীন
বাংলাদেশে
তত্কালীন
নীতিনির্ধারকরা
পর্যটনের
গুরুত্ব
যথাযথভাবে
উপলব্ধি
করতে
সক্ষম
হয়েছিলেন।
স্বল্প
সময়ে
পর্যটন
সংস্থা
(পরে করপোরেশন)
গঠন
করা
হয়।
তারপর
গঠিত
হয়
বেসরকারি
বিমান
ও
পর্যটন
মন্ত্রণালয়।
পরবর্তীকালে
প্রমোশনসংক্রান্ত
কার্যক্রমে
গতি
আনতে
২০১০
সালে
গঠিত
হয়
বাংলাদেশ
ট্যুরিজম
বোর্ড।
তাছাড়া
সংশ্লিষ্ট
খাতে
সেবাদানকারীদের
রয়েছে
নানা
সমিতি
ও
সংগঠন।
সেগুলোও
পরোক্ষভাবে
এসব
খাতের
নীতিনির্ধারণ
ও
সহায়ক
কার্যক্রম
পরিচালনা
করছে।
২০১০ সালে
আমাদের
জাতীয়
পর্যটন
নীতিমালা
প্রণয়ন
করা
হয়।
গত
এক
দশকে
দেশের
হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট,
পরিবহন,
রেস্টুরেন্ট,
বিনোদনসহ
পর্যটনসংশ্লিষ্ট
নানা
শিল্পে
দৃশ্যমান
অগ্রগতি
হয়েছে।
বিশেষত
রাস্তাঘাটের
প্রসার
ও
(আকাশ-স্থল-নৌ)
বন্দরের
পর্যাপ্ততাকে
বাংলাদেশের
সবচেয়ে
বড়
স্ট্রেন্থ
বলে
সর্বশেষ
(২০১৯ সালের)
কম্পিটিভনেস
রিপোর্টে
উল্লেখ
করা
হয়েছে।
তাছাড়া
পদ্মা
সেতু,
বঙ্গবন্ধু
টানেল,
কক্সবাজারে
রেল
যোগাযোগ
ও
বিমানবন্দর
সম্প্রসারণ,
মেট্রোরেল,
দেশব্যাপী
অসংখ্য
সেতু
ও
রাস্তাঘাটের
উন্নয়ন
পর্যটন
বিকাশে
বিশেষভাবে
সহায়ক
হবে।
এখন প্রশ্ন
হলো,
এসব
আয়োজন
কি
আমাদের
প্রত্যাশামাফিক
পর্যটন
খাতকে
এগিয়ে
নিতে
পেরেছে?
বিশেষত
অর্থনৈতিক
সমৃদ্ধিতে
এ
খাতের
অবদান
কি
সন্তোষজনক?
এককথায় বলা
মুশকিল।
তবে
স্বভাবতই
মহামারীর
ধাক্কা
এখানেও
খুব
শক্তভাবে
লেগেছে।
২০১৯
সালে
জিডিপিতে
প্রত্যক্ষ
অবদান
ছিল
২
দশমিক
৭
শতাংশ।
পরের
বছর
তা
কমে
হয়েছে
১
দশমিক
৭
শতাংশ।
অর্থাৎ
৩২
দশমিক
৯
শতাংশ
হ্রাস
পেয়েছে।
অন্যদিকে
এক
বছরে
পাঁচ
লাখ
কমে
বর্তমানে
কর্মসংস্থান
হচ্ছে
১৪
লাখ
কর্মীর।
আগে
বিদেশী
পর্যটকদের
কাছ
থেকে
বছরে
প্রায়
৩০
বিলিয়ন
টাকা
আয়
হতো।
করোনাকালে
তা
কমে
দাঁড়িয়েছে
মাত্র
১২
বিলিয়নে!
অভ্যন্তরীণ
পর্যটকদের
ব্যয়
(৬৮৬.৫
বিলিয়ন)
এক-তৃতীয়াংশ
কমে
হয়েছে
৪৫৩
দশমিক
৮
বিলিয়ন
টাকা।
আপাতত এ
তথ্যগুলো
হতাশাজনক
হলেও
বাংলাদেশের
ট্রাভেল
অ্যান্ড
ট্যুরিজম
খাতে
আশাবাদী
হওয়ার
মতো
অসংখ্য
উপাদান
রয়েছে।
করোনা
বাংলাদেশের
পর্যটনের
জন্য
অভিশাপ
নয়,
বরং
তা
আশীর্বাদ
হতে
পারে
যদি
সুযোগগুলো
যথাযথভাবে
কাজে
লাগানো
যায়।
প্রথমত, বাংলাদেশ
কখনো
উল্লেখযোগ্য
মাত্রায়
বিদেশী
পর্যটক
পায়নি।
তথ্যের
ভিন্নতা
থাকলেও
মোটের
ওপর
তা
৩
শতাংশের
বেশি
নয়।
অর্থাৎ
আমাদের
মার্কেট
মূলত
অভ্যন্তরীণ
পর্যটকনির্ভর।
ফলে
আন্তর্জাতিক
ফ্লাইট
বন্ধ
থাকা
কিংবা
বিদেশ
ভ্রমণে
নিষেধাজ্ঞা
দ্বারা
আমাদের
পর্যটন
খাত
খুব
একটা
ক্ষতিগ্রস্ত
হবে
না;
বরং
সেই
নিষেধাজ্ঞাগুলো
আমাদের
জন্য
‘শাপে
বর’
হতে
পারে।
কীভাবে?
আমাদের দেশের
অতি
ধনীগোষ্ঠী
সাধারণত
দেশের
অভ্যন্তরে
ফ্যামিলি
ট্যুর
করত
না।
সুযোগ
পেলেই
তারা
দেশের
বাইরে
ঘুরতে
যেত
এবং
বিপুল
পরিমাণ
অর্থ
ব্যয়
করত।
দীর্ঘদিন
তারা
তেমন
ট্যুর
করতে
না
পেরে
হাঁপিয়ে
উঠেছিল।
ফলে
অনেকটা
বাধ্য
হয়েই
তারা
দেশের
বিভিন্ন
দর্শনীয়
স্থান
ঘুরতে
যাচ্ছে।
বিশেষত
বিলাসবহুল
হোটেল
ও
রিসোর্টগুলোয়
সাম্প্রতিককালের
অকুপ্যান্সি
রেট
বেশ
ভালো।
সাপ্তাহিক
ছুটির
দিনে
বহু
রিসোর্টে
স্থান
সংকুলান
হচ্ছে
না।
প্রত্যাশিত
মানের
সেবা
দিয়ে
এ
গোষ্ঠীকে
একবার
সন্তুষ্ট
করতে
পারলে
দীর্ঘমেয়াদে
আমাদের
পর্যটন
খাত
বিশেষভাবে
উপকৃত
হবে।
দ্বিতীয়ত, এ
সেক্টরে
সেবাদাতাদের
অনেকেরই
আগে
পেশাদারি
মনোভাবে
ঘাটতি
ছিল।
মাঝেমধ্যে
পর্যটকদের
সঙ্গে
অসদাচরণ
ও
অসহযোগিতামূলক
আচরণের
অভিযোগ
ছিল।
কিন্তু
দীর্ঘ
এ
বিরতিতে
তারা
পর্যটকদের
গুরুত্ব
যথাযথভাবে
উপলব্ধি
করতে
সক্ষম
হয়েছে।
পর্যটক
না
গেলে
যে
কী
পরিণতি
হতে
পারে,
সেটা
তারা
গভীরভাবে
উপলব্ধি
করতে
পেরেছে।
ফলে
তাদের
ব্যবসায়
ও
পর্যটক
সম্পর্কে
দৃষ্টিভঙ্গিতে
বড়
পরিবর্তন
এসেছে।
এ
মনোভাব
বজায়
রেখে
সেবা
প্রদানে
আন্তরিক
ও
পেশাদার
হলে
দীর্ঘমেয়াদে
আমাদের
এ
খাতের
জন্য
তা
বিশেষ
কল্যাণ
বয়ে
আনবে।
তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ
পর্যটকরাই
আমাদের
এ
শিল্পের
প্রাণ।
ফলে
তাদের
সন্তুষ্ট
রেখে
ব্যবসায়
সমৃদ্ধি
আনতে
হবে—অংশীজনদের
মাঝে
এ
বোধটা
জাগ্রত
হওয়া
জরুরি।
এ
বছরের
পর্যটন
মৌসুম
(অক্টোবর-মার্চ)
শিগগিরই
শুরু
হচ্ছে।
তাই
অভ্যন্তরীণ
পর্যটক
লক্ষ
করে
পণ্য
অফার,
মূল্য
নির্ধারণ
ও
প্রমোশন
কার্যক্রম
হাতে
নিলে
স্বল্প
সময়ের
মধ্যেই
ঘুরে
দাঁড়ানো
সম্ভব।
তবে
সংশ্লিষ্ট
কর্মীদের
সেবার
মনোভাব
নিয়ে
কাজ
করার
ব্যাপারে
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
তত্পর
হতে
হবে।
সেক্ষেত্রে
প্রয়োজনীয়
প্রশিক্ষণ
ও
উন্নয়ন
কর্মসূচি
হাতে
নিতে
হবে।
তাছাড়া আমাদের
দেশের
জনগণ
অত্যন্ত
সাহসী।
করোনার
প্রকোপ
কিছুটা
কমতেই
তারা
ভ্রমণে
বেরিয়েছে।
বর্তমানে
ফ্যামিলি
ট্যুর
ব্যাপকভাবে
চলছে।
তবে
সবচেয়ে
বড়
মার্কেট
সেগমেন্ট
হলো
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট
ট্যুরগুলো।
পিকনিক,
শিক্ষা
সফর,
স্টাডি
ট্যুর,
এক্সকারশন
নানা
উপলক্ষে
আয়োজিত
শিক্ষার্থীদের
ট্যুরগুলো
দীর্ঘদিন
বন্ধ
রয়েছে।
বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের
ইনসেনটিভ
ট্যুরগুলো
ক্রমান্বয়ে
শুরু
হচ্ছে।
সমাবেশ
ও
মিটিংগুলো
এরই
মধ্যে
অফলাইনে
হওয়া
শুরু
হয়েছে।
এ
ধারা
চলমান
থাকলে
এ
খাত
শিগগিরই
ঘুরে
দাঁড়াবে
বলে
আশা
করা
যায়।
কারণ
সেবা
পণ্য
বৈশিষ্ট্যগতভাবেই
পরিবর্তিত
পরিস্থিতির
সঙ্গে
দ্রুত
খাপ
খাওয়াতে
সক্ষম।
সর্বোপরি কথা
হলো,
করোনা
সহসা
আমাদের
পিছু
ছাড়বে
না।
নিউ
নরমাল
পরিস্থিতির
সঙ্গে
খাপ
খাইয়ে
আমাদের
জীবনে
ছন্দ
ফিরিয়ে
আনতে
হবে।
তাছাড়া
লকডাউন
দূরবর্তী
স্থানে
ভাইরাসের
বিস্তার
রোধে
কার্যকর
হয়।
কিন্তু
এখন
দেশের
সব
অঞ্চলেই
ভাইরাস
ছড়িয়ে
পড়েছে।
তাই
সম্পূর্ণ
লকডাউন
আর
করোনা
বিস্তার
রোধে
খুব
একটা
সাহায্য
করতে
পারবে
না।
অথচ
সেটা
অর্থনীতির
মারাত্মক
ক্ষতি
করে।
তাই সংশ্লিষ্টদের
মাঝে
সচেতনতা
বৃদ্ধি,
নিয়ম-নীতি
কঠোরভাবে
মেনে
চলতে
বাধ্য
করা,
বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানকে
স্ব-উদ্যোগে
স্বাস্থ্যবিধি
মেনে
চলার
নির্দেশ
দেয়া
জরুরি।
পাশাপাশি
ট্রাভেল
অ্যান্ড
ট্যুরিজমের
মতো
সব
অর্থনৈতিক
কার্যক্রম
চালু
রাখতে
হবে।
নইলে
দীর্ঘমেয়াদে
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়বে
এবং
আমাদের
মতো
ছোট
অর্থনীতির
জন্য
তা
সামাল
দেয়া
মুশকিল
হবে।
বিশ্ব পর্যটন
দিবসের
এবারের
প্রতিপাদ্য
বিষয়—Tourism
for inclusive growth। অর্থাৎ
সবাইকে
নিয়ে,
সবার
জন্য
পর্যটনের
সমৃদ্ধি
নিশ্চিত
করতে
হবে।
করোনাকালে
পিছিয়ে
পড়াদের
অবজ্ঞা
করে
নয়,
বরং
তাদের
সঙ্গে
নিয়ে
সামনে
এগোতে
হবে।
সেটা
সম্ভব
হলে
বাংলাদেশের
পর্যটন
খাত
শিগগিরই
আপন
গতিতে
ফিরবে
বলে
আশা
করা
যায়।
এ
ব্যাপারে
সংশ্লিষ্ট
সবাই
আন্তরিকভাবে
সচেষ্ট
হবে,
সেটাই
প্রত্যাশা।
মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও ‘বিশ্ব-প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পর্যটন’ বইয়ের লেখক