শিক্ষা ভাবনা

কো-অপারেটিভ শিক্ষা কি উচ্চ শিক্ষা ও শ্রমবাজারের ব্যবধানের সমাধান?

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার গত দুই দশকে অভূতপূর্ব। স্বাধীনতার পর যেখানে হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, সেখানে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড় শতাধিক।

প্রতি বছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কর্মবাজারে প্রবেশ করছেন। উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের এ সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—এ শিক্ষা কি সত্যিই কর্মসংস্থানমুখী?

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বাস্তবতা বলছে, উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, উচ্চ শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার দেশের সামগ্রিকের তুলনায় বেশি। ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার স্নাতক বেকার থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া শিক্ষিত বেকারত্বের হার প্রায় ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ স্নাতক দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকেন।

অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছে, ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীর অভাব নেই; অভাব হলো দক্ষ, সমস্যা সমাধানে সক্ষম, প্রযুক্তি-সচেতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানবসম্পদের। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় যা শেখাচ্ছে এবং শিল্প খাত যা চায়—এ দুইয়ের মধ্যে একটি দৃশ্যমান ব্যবধান রয়েছে। এ বাস্তবতায় বিশ্বের বহু উন্নত দেশের মতো কো-অপারেটিভ শিক্ষা এবং ওয়ার্ক ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং (ডব্লিউআইএল) বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সমাধান হতে পারে।

কো-অপারেটিভ এমন একটি শিক্ষা পদ্ধতি, যেখানে শ্রেণীকক্ষের পাঠদান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজ—দুটিকে একই শিক্ষাক্রমের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে সংযুক্ত করা হয়। একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন, আবার নির্দিষ্ট সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করবেন। এ কাজ শুধু ইন্টার্নশিপ নয়; এটি মূল্যায়নভিত্তিক, একাডেমিক ক্রেডিট-সমৃদ্ধ এবং অনেক ক্ষেত্রে বেতনভিত্তিকও হয়ে থাকে।

কো-অপারেটিভ শিক্ষার সূচনা হয় ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে অধ্যাপক হারম্যান স্নাইডারের উদ্যোগে। তিনি লক্ষ করেছিলেন যে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করলেও বাস্তব শিল্প-কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়ছেন। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে তিনি এমন একটি শিক্ষা মডেল চালু করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং নির্দিষ্ট সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। পরবর্তী সময়ে এ ধারণা সমগ্র উত্তর আমেরিকা এবং পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। স্নাইডার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের তার ধারণাগুলো গ্রহণ করাতে পারেননি, কারণ তিনি ছিলেন কেবল একজন সহকারী অধ্যাপক। তিনি সমবায় প্রকৌশল বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যা সদ্য নিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট পড়েন। একই সময়ে স্নাইডার ড্যাবনির কাছে আসেন এবং একটি মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে চেয়েছিলেন, যাতে লোকেরা তার কথা শোনে। ড্যাবনি টেনেসি থেকে এসেছিলেন এবং কৃষি বিদ্যালয়ে প্রস্তাব করার জন্য তারও একই ধরনের একটি ধারণা ছিল। তিনি স্নাইডারের চিন্তার গভীরতায় মুগ্ধ হন এবং তাকে বলেন যে তার অতিরিক্ত ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, তাকে কেবল ডিন হতে হবে। তাই তিনি স্নাইডারকে ধৈর্য ধরতে বলেন, কারণ শিগগিরই একটি পদ খালি হবে। অল্প সময়ের মধ্যে, মূল ডিন পদত্যাগ করেন এবং স্নাইডার তার জায়গায় নিযুক্ত হন। এর সুবিধা ছিল যে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলটি, যা পরবর্তী সময়ে মিলাক্রন এবং আরো কয়েকটি টুল ও ডাই শপের সঙ্গে সহযোগিতামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল—এ লোকগুলোকে নিয়োগ দিত, তাদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শেখাত এবং তারপর আরো উন্নত যন্ত্রপাতি ডিজাইন করার চেষ্টা করত। তাদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেয়া হতো, কিন্তু স্কুলটি এখন দ্বিগুণ সংখ্যক ছাত্রকে শেখাতে পারত—তাদের প্রয়োজনীয় গণিত, অঙ্কন, পদার্থবিদ্যা ইত্যাদি শিখিয়ে দিত এবং তারপর তারা বাইরে গিয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক মাস কাজ করে তাদের ধারণাগুলো বাস্তবায়ন করত। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এটা পছন্দ করত কারণ তারা স্নাতক হওয়ার পর এমন ইঞ্জিনিয়ার পেত যারা তাদের সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে কাজ শুরু করতে পারত। উপরন্তু, তারা জানত যে এ লোকগুলো তাদের কারখানায় কাজ করার সময় সম্ভবত তাদের আবিষ্কৃত সমস্যাটির ওপর কাজ চালিয়ে যাবে, যার জন্য তাদের কোনো অর্থ প্রদান করতে হতো না—শেষের বিষয়টি বিজ্ঞাপিত না হলেও প্রকৌশলী সুলভ মানসিকতার লোক বাছাই করলে তা অনুমান করা যেত। সিনসিনাটিতে জার্মানিতে প্রশিক্ষিত বহু লোক ছিল, যারা মেশিন ডিজাইন বা উন্নত করতে সক্ষম ছিল। সিনসিনাটি সেই মেশিন তৈরির ব্যবসায় ছিল যা অন্য মেশিন তৈরি করবে।

পরে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু এটিকে বিশ্বের অন্যতম সফল মডেলে রূপ দেয়। বর্তমানে সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শত শত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের মাধ্যমে বাস্তব দক্ষতা অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করে। একইভাবে জার্মানির ডুয়াল এডুকেশন সিস্টেম, সুইজারল্যান্ডের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ মডেল, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প-সংযুক্ত উচ্চ শিক্ষা বিশ্বব্যাপী কর্মমুখী শিক্ষার সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমানে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর কো-অপারেটিভ এডুকেশন (ডব্লিউএসিই) এবং কানাডার কো-অপারেটিভ এডুকেশন অ্যান্ড ওয়ার্ক ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং বিশ্বব্যাপী কো-অপারেটিভ শিক্ষার প্রসার, মানোন্নয়ন এবং গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ডব্লিউএসিইর সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ কর্ম বাজারের জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এ মডেলের পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমাদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষাদান মূলত তাত্ত্বিক, পরীক্ষাকেন্দ্রিক এবং সিজিপিএ-নির্ভর। শিক্ষার্থীরা চার বছর ধরে অসংখ্য কোর্স সম্পন্ন করলেও বাস্তব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, দলগত সমস্যা সমাধান, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। ফলে স্নাতক শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশের সময় তারা নতুন করে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অনুভব করে।

অন্যদিকে কো-অপারেটিভ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী বুঝতে পারে তার শেখা জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ কোথায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখা তত্ত্ব পরবর্তী কর্মপর্বে ব্যবহার করে, আবার কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে শ্রেণীকক্ষে ফিরে আসে। ফলে শেখা হয় আরো গভীর, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘস্থায়ী। এ চক্র শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি গড়ে তোলে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, বিগ ডেটা, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সবুজ প্রযুক্তির যুগে কর্মক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়; আন্তঃবিষয়ক দক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা, সৃজনশীলতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতা অপরিহার্য। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সংযোগ, ইন্টার্নশিপ, কেস স্টাডি, শিল্প ভ্রমণ এবং ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বাংলাদেশে কো-অপারেটিভ শিক্ষা চালু হলে এর সুফল বহুমাত্রিক হবে। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়বে। চাকরিদাতারা সাধারণত এমন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেন, যার বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মী তৈরি করতে পারবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হবে। বর্তমানে অনেক গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ পেলেও তার শিল্প ও সমাজে প্রত্যক্ষ প্রভাব সীমিত। শিল্প-সংযুক্ত গবেষণা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

বিশেষ করে স্থাপত্য, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা, নগর পরিকল্পনা এবং ডিজাইন শিক্ষায় কো-অপারেটিভ শিক্ষা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্থাপত্যের একজন শিক্ষার্থী যদি একটি আর্কিটেকচার ফার্ম, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ছয় মাস কাজ করেন, তাহলে নকশা, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্লায়েন্ট পরিচালনা এবং বিল্ডিং কোড সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, তা কোনো পাঠ্যবই একা দিতে পারে না।

অবশ্য এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে কিছু কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কো-অপারেটিভ এডুকেশন অফিস প্রতিষ্ঠা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা, যৌথ কারিকুলাম উন্নয়ন, একাডেমিক সুপারভিশন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কো-অপ অভিজ্ঞতাকে একাডেমিক ক্রেডিট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এ উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট সিটি, ব্লু ইকোনমি এবং ডিজিটাল সেবার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাতে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হচ্ছে, কারণ দেশীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। কো-অপারেটিভ শিক্ষা এ দক্ষতার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও এটি একটি বড় সুযোগ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উদ্ভাবনী ল্যাব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; বরং জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে তরুণ জনগোষ্ঠী আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, অন্যদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; শিক্ষার গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা এমন হতে হবে, যা শ্রেণীকক্ষের দেয়াল পেরিয়ে শিল্প, সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হবে।

কো-অপারেটিভ শিক্ষা সেই পরিবর্তনের একটি বাস্তবসম্মত পথ। এটি শুধু একটি নতুন শিক্ষা পদ্ধতি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প এবং রাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি। এ মডেল বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও সনদনির্ভর কাঠামো থেকে বেরিয়ে দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতাভিত্তিক নতুন ধারায় প্রবেশ করবে। উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের এ সেতুবন্ধ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশের জন্য এখন সময় এসেছে সেই সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার। উচ্চ শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে পারলেই আগামী দিনের বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

ড. সজল চৌধুরী: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, স্থাপত্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং ভবন পরিবেশ, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক

আরও