ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫। সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের অনেক শুভানুধ্যায়ীদেরও হতাশ করেছে। কারণ এর মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত ও বহু প্রতিশ্রুত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অর্জনের পথ আবারো রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বস্তুত এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার রাজনীতিবিদদের অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাল বলে অনেকের আশঙ্কা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তথা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার রাজনীতিবিদদের আশ্বাস ও অঙ্গীকার আমাদের জন্য নতুন নয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই রাজনীতিবিদরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আসছেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় এ সম্পর্কিত একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত ছিল যে ‘বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ হইতে পৃথক করা হইবে।’ এরই ধারাবাহিকতায় বাহাত্তরের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’ বলে অঙ্গীকার করেছে। এর কার্যকারিতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচারবিভাগীয় দায়িত্বপালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি-মঞ্জুরীসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত থাকিবে।’ পরবর্তী সময়ে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধান চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার বিধান করা হয়। এর পরেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা খর্ব করার এ বিধান অপসারণের লক্ষ্যে রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকে। যেমন নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময়ে প্রণীত তিন জোটের রূপরেখায় ‘জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত’ করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত এসব অঙ্গীকার এখনো অপূর্ণই রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছে। বিএনপি তাদের বহু আলোচিত ৩১ দফার দফা ১০-এ সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছে: ‘বাংলাদেশের সংবিধান ও মাজদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হইবে...অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হইবে। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকিবে...এই জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হইবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ড যাচাই করিয়া বিচারক নিয়োগ করা হইবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(২)(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত “বিচারপতি নিয়োগ আইন’’ প্রণয়ন করা হইবে।’ এসব অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ নেবে কিনা আমরা তা দেখার অপেক্ষায় আছি।
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি আমাদের উচ্চ আদালতও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৯৯ সালে দায়ের করা মাজদার হোসেন মামলা। এ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১২টি নির্দেশনা দেন, যদিও তা অপূর্ণই থেকে গেছে। এ বিষয়ে বিচার বিভাগের সর্বশেষ রায় এসেছে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলায়। রায়ে আদালত বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত সংবিধানের অষ্টম ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল করার করার নির্দেশ দেন। এছাড়া আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেন। সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিল করার জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালত সার্টিফিকেট ইস্যু করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রতিপালনে ধারাবাহিক অপারগতা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার লক্ষ্যে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপরিউক্ত তিনটি অধ্যাদশে জারি এবং এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর অধীনে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দেন। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় উদ্বোধন করেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের এসব সুস্পষ্ট পদক্ষেপ সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয়। সরকার এরই মধ্যে সৃষ্ট বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় ৯ এপ্রিল ২০২৬ আইন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রসঙ্গত, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও সরকারের উপরিউক্ত অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনে অপারগতা এবং বিচার বিভাগের সচিবালয় আইন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের দুটি সিদ্ধান্তই ছিল আদালত অবমাননার সমতুল্য, যা আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের ধারাবাহিক অপারগতার প্রতিফলন দৃশ্যমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনামূলক পশ্চাৎপদতা থেকে। ‘ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টে’র তথ্যানুযায়ী, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর সর্বেচ্চ ১-এর মধ্যে দশমিক ৩৯, বিশ্বের ১৪৩টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১২৫তম এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ২০টি দেশের মধ্যে আমরা একটি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সূচকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছি আমরা।
প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, কেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন? বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপকারই বা কী?
সংবিধানের শিরোনামে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে: ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।’ সংবিধান একটি মূর্ত দলিল। এটি আপনা থেকে কার্যকর হয় না। তাই সংবিধানের অধীনে এবং কর্তৃত্বে ক্ষমতার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একটি কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যে প্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। আর বিচার বিভাগই সেই পরিপূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যা সৃষ্টির ধারণা এসেছে ফরাসি দার্শনিক মন্টিস্কোর মতো পণ্ডিতদের চিন্তা থেকে। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে তিন ভাগে বিভক্ত করে সমক্ষমতাসম্পন্ন অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের ধারণা উদ্ভব করেছেন। এভাবেই কালের বিবর্তনে বিচার বিভাগ পরিণত হয়েছে সংবিধানের অভিভাবকে এবং বিচারক নিয়োগে নিরপেক্ষতা ও বিচারকদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা হয়ে পড়েছে সুশাসন তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অতি আবশ্যকীয় অনুষঙ্গে।
বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যাত্রা শুরু হয় বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইনসভা থেকে পৃথক করার মাধ্যমে। এ পৃথক বিচার বিভাগে নিয়োগ দিতে হয় নিরপেক্ষ বিচারকদের। একই সঙ্গে সর্বস্তরের বিচারকরা যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রমের তদারকি এবং তত্ত্বাবধানের তথা নিয়োগ, বেতন-ভাতা নির্ধারণ, সুপারভিশন, অপসারণ ইত্যাদির দায়িত্ব থাকতে হবে ঊর্ধ্বতন বিচার বিভাগীয় বিচারকদের ওপর। এ কর্তৃত্ব নির্বাহী বিভাগের ওপর অর্পিত হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হতে বাধ্য, ফলে আমরা অতীতের মতো বিচারকের নামে ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ পেতে পারি। ঊর্ধ্বতন বিচারকদের তাদের এ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্যই আবশ্যক বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয়। এভাবে বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হলেই আইনের সঠিক প্রয়োগ হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিকের অধিকার সমুন্নত থাকবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের সুফল যে কেমন হতে পারে তা ‘সিটি স্টেট’ সিঙ্গাপুরের দিকে তাকালে সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়। এক সময়ের মশা অধ্যুষিত জেলেপল্লী হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতি এবং এ অসাধারণ উন্নয়নের পেছনে রয়েছে আইনের শাসনের অতুলনীয় ভূমিকা। স্বাধীনতার পর থেকেই লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর সরকার একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে দুর্নীতির কোনো স্থান ছিল না। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা হয়, চুক্তি সম্পর্কিত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষিত করা হয়। ফলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত হতে পারেন তাদের বিনিয়াগ সুরক্ষিত থাকবে এবং যেকোনো বিরোধ আইনের মাধ্যমে ন্যায়সংগতভাবে নিষ্পত্তি হবে। এ আস্থার অনুকূল পরিবেশেই সিঙ্গাপুরকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য পছন্দের গন্তব্য স্থানে পরিণত করেছে।
আইনের শাসন শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি সিঙ্গাপুরের সামগ্রিক ব্যবস্থাকেই পরিশুদ্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা কেপিআইবি অত্যন্ত ক্ষমতাশালী করা হয়েছে এবং মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা কেউই সেখানে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ জবাবদিহিতার সংস্কৃতি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার খরচ কমিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘সহজ ব্যবসার সুযোগ’ সূচকে সিঙ্গাপুর ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এর মূল ভিত্তি হল ‘প্রেডিক্টেবল’ বা পূর্বানুমানযোগ্য, স্বচ্ছ ও ‘রুল বেইজড সিস্টেম’ তথা কার্যকর আইনি ব্যবস্থা। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের আইনের শাসনের সূচকে সিঙ্গাপুরের বর্তমান অবস্থান দশমিক ৭৮, যা পৃথিবীতে ১৬তম। এর বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান দশমিক ৩৯। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইনের শাসন সিঙ্গাপুরের অর্থনেতিক সাফল্যেরও কেন্দ্রবিন্দু; এটি কেবল একটি আইনি কাঠামোই নয়, বরং দেশটির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্বের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয় এবং জন্মলগ্নে মুক্তিকামী জনগণের জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতাই অনতিক্রম্য ছিল না। তবু বাংলাদেশ তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে, বিশেষত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ দেশটির আত্মঘাতী রাজনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও আইনের শাসনের অপ্রতুলতা তথা সুশাসনের অভাব, যা আজও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পথে একটি পর্বতপ্রমাণ বাধারূপে আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এ বাধা দূর করতে আমাদের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। সচেতন ও সক্রিয় নাগরিক সমাজ এবং সুশাসন অর্জনের লক্ষ্যে তাদের অব্যাহত সোচ্চার ভূমিকা ছাড়া যা ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে আমাদের আশঙ্কা।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)