একদিনে শেখ হাসিনার পতন হয়নি

ক্ষমতায় থাকাকালে গণমাধ্যমের ওপর আওয়ামী লীগের দখল বা কর্তৃত্ব ছিল বলে দেশের মানুষ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছে তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। অত্যন্ত সচেতনভাবে তারা নিজেদের ‘উন্নয়ন’, ‘প্রগতিশীল’সহ নানা পক্ষের একমাত্র দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই জনগণের অর্থ সংগ্রহ করে কয়েক গুণ বেশি খরচ করে মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু নির্মাণ করলেও তার জবাবদিহি দিতে হয়নি। বরং এগুলোকে অনেকে ‘শেখের বেটির উপহার’ বলে অভিহিত করেছেন। ফলাফল কী? এখনো অনেকে মনে করেন, অনেক মানুষের গুম-খুনের পেছনে শেখ হাসিনার হাত আছে, কিন্তু সে অন্তত পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো জনবান্ধব প্রকল্প করে গেছে। অতীতে উন্নয়ন এবং শেখ হাসিনা অনেকটাই সমার্থক শব্দ হয়ে গিয়েছিল।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধীরে ধীরে প্রায় প্রত্যেকটি বিষয়েই বেশির ভাগ অভিজ্ঞ, মেধাবী এবং প্রথিতযশা ব্যক্তিদের কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগ হাত করে ফেলায় তাদের পক্ষে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ সহজ হয়ে গিয়েছিল। সোজা ভাষায় বলতে গেলে আওয়ামী লীগ শুধু দলীয় লোকদের নিয়ে দেশ লুটেপুটে খায়নি, দলটি সংগঠনের বাইরেও যাদেরকে প্রয়োজন মনে করেছে তাদেরও এর অংশ বানিয়ে ফেলেছিল। এটা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ একদিকে দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান দখলে পেলেও পাল্টা আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরতদের জন্য তখন দুর্নীতি করাটা স্বাভাবিক এবং নিয়মসিদ্ধ হয়ে যায়। যেই বাঘ একবার মানুষের রক্তের স্বাদ পায়, সে কষ্ট করে হরিণ শিকার করা ছেড়ে দেয়।

রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। রাষ্ট্র বলতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে বোঝায়, সরকার বলতে বোঝায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের, যাদের হাতে রাষ্ট্র কীভাবে চলবে তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি আনাচে-কানাচে যখন দলীয়করণ হয়ে যায়, যখন একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা/কর্মচারীর স্বাভাবিক বদলি/পদোন্নতি রাজনৈতিক দলের দালালির ওপর নির্ভর করে এবং এ দালালির বিনিময়ে দুর্নীতি করার সুযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। অথচ পাঁচ বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাই পাঁচ বছর পরে যাতে অন্য কোনো দল ক্ষমতায় না আসে তা নিশ্চিত করতে সরকারের জন্য রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করা সহজ হয়ে যায়।

কিন্তু এই একই সমীকরণে সরকারকে তখন রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতেই দুর্নীতি মেনে নিতে হয়, দুর্নীতির পুরো ভাগ তার নিজের পকেটে না এলেও। কারণ আওয়ামী লীগের মাঠের কর্মীরাই শুধু দলীয় কর্মী না। প্রত্যেকটি অফিসের কর্তারাও তখন হয় আওয়ামী লীগের, না হয় আওয়ামী লীগের দালালি করা লোককেই কর্তা বানানো হয়েছে। রাষ্ট্রের চাকরদের মনিব যেখানে জনগণ হওয়ার কথা, সেই মনিব যদি রাজনৈতিক দল হয়ে দাঁড়ায়, সেই চাকরদের তখন জনগণের ভালো-মন্দ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণই থাকে না।

এসবের প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যেই দুর্ভোগ, সেই দুর্ভোগের কারণে ক্ষোভ দেশের সরকারের ওপরেই গিয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। এলাকার রাজনৈতিক গুন্ডা হোক বা পুলিশ, তাদের অত্যাচার, চাঁদাবাজির কারণে মানুষ মোটা দাগে সরকারের ওপরেই ক্ষুব্ধ হয়। যেহেতু প্রায় প্রত্যেকটি খাতেই দুর্নীতির স্বাভাবিকীকরণ ঘটে গিয়েছিল, ক্ষমতার চূড়ান্তে থাকা মানুষগুলো বাদে সবাইকেই প্রতিদিনের জীবনে কোথাও না কোথাও দুর্ভোগের শিকার হতে হতো। এ ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে একসময় না একসময় বিস্ফোরণ ঘটতই।

রাষ্ট্রকে জনগণ কর দেয় এবং তার কর্তৃত্ব মেনে নেয় কিছু নাগরিক সুবিধার বিনিময়ে। সেই সুবিধাগুলোর মধ্যে মৌলিক অধিকারগুলোর পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের অধিকারই থাকে। একজন নাগরিকের দরকার, সেগুলোর অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে নাগরিকের একটা অলিখিত চুক্তি থাকে। আওয়ামী লীগের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে এ অলিখিত চুক্তির প্রত্যেকটি ধারার বরখেলাপ হয়েছিল। এত সর্বগ্রাসী দুর্নীতির পরও কেন দেশে আরো আগেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেনি তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। এ প্রশ্নের প্রথম উত্তর হয়তো আমাদের প্রবাসী শ্রমিকরা, যাদের পরিশ্রমের বিনিময়ে সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য হয়ে যাওয়া ঠেকাতে পেরেছিল।

আর দ্বিতীয় উত্তর হচ্ছে, সরকার তার নিজের টাকা খরচ করেনি, খরচ করেছে ভবিষ্যতের সরকারের টাকা। অনেকটা সোনার ডিম পাড়া হাঁসের পেট কেটে সব ডিম বের করার চাইতে হাঁসের ভবিষ্যতের সব ডিমকে কোলাটেরাল হিসেবে রেখে ঋণ নিয়ে সেই ঋণের টাকায় দুর্নীতি করার মতো। তাই আওয়ামী লীগ শুধু দুর্নীতি করেনি, সে দেশকে ঋণের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে। যার ঘানি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও টানতে হয়েছে, বিএনপিকেও টানতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকেও টানতে হবে। ব্যবসা-বিনিয়োগের নিরাপত্তা না থাকা, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নতুন ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান তৈরি না করে বরং ব্যাংক থেকে অর্থ লোপাট ও ঋণখেলাপিতে মজে যাওয়ার কারণে দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কমে গিয়েছিল। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে যত শিক্ষার্থী বের হচ্ছেন, সেই পরিমাণ চাকরি নেই। সঠিক শিক্ষানীতির অভাবে সরকার অপ্রয়োজনে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছিল। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট তৈরি না করে। সরকারি চাকরিতে ছিল প্রচণ্ড কোটাবৈষম্য। বেসরকারি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ তেমন তৈরিই হয়নি, হলেও সেই চাকরিতে হয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের রেগুলেশনের অভাবে মাত্রাতিরিক্ত শোষণ করে, না হয় মামা-চাচার কানেকশন বাদে চাকরি পাওয়াই দুরূহ হয়ে যায়। ব্যাংকগুলো যোগসাজশে ঋণখেলাপিদের ঋণ দিতে আগ্রহী হলেও তরুণদের ছোট ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দিতে নারাজ ছিল, যার ফলে চাকরি না পেলে কোনো সদ্য স্নাতক তরুণ নিজের একটা ছোট ব্যবসা দাঁড় করাবে, সেই সুযোগও ছিল না।

এত দুর্ভোগ ও শোষণের মধ্যে থাকলে সংবাদমাধ্যম সরকারের হাতে থাকলেও জনগণ তখন উন্নয়নের গল্পে সাবস্ক্রাইব করা বন্ধ করে দেয়। মিডিয়ায় শেখ হাসিনাকে দেশের ত্রাণকর্তা এবং সব ‘ভালো কাজ’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হচ্ছে—এ বয়ান ছড়ানো হলেও মানুষ তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বয়ান কতটা ঠুনকো তা টের পেয়ে যায়। টিভিতে ও পত্রিকায় দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে দেখলেও সে জানে আসল সড়কে বের হলে বাসের চাকায় বা ছিনতাইকারীর ছুরিতে তার জীবন চলে যেতে পারে, পুলিশ বা র‍্যাব তাকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ না পেলে গুম করে ফেলতে পারে। ব্যাংকে টাকা রাখলে সেই টাকা ফেরত পাওয়া নাও যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্ষমতাসীনের সমালোচনা করার অপরাধে খুন হয়ে গিয়ে লাশ হিসেবে ফেরত আসতে পারে। বেতন-আয় না বাড়লেও প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রতি বছর দ্বিগুণ-তিন গুণ হয়ে যাবে। কোনো সরকারি পরিষেবা নিতে গেলে বা চাকরি পেতে হলে ঘুস দিতে হবে। তাকে হয় টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়াতে হয়, নইলে ‘ভদ্র’ পোশাকে টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়াতে বিব্রত বোধ করে লাইন কত বড় তা দেখতে দেখতে হেঁটে চলে যেতে হয়। চিকিৎসা পেতে সরকারি হাসপাতালে গেলে সে সিট পায় না, আর জমি বিক্রি করে দিয়ে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে ফেলে নিজের বা স্বজনের জীবন বাঁচাতে বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও সে দেখে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে সে টের পায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ফ্রিতে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়ে হলে থাকতে গেলেও তাকে দুজনের রুমে আটজন হিসেবে থাকতে হবে। পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে লাখ কোটি টাকা গায়েব করে দেয়ার সংবাদ দেখলেও নিজে ব্যাংকে গেলে ঋণ পায় না। রাস্তায় হাঁটাচলার সময় ডানে-বায়ে তাকানোর পাশাপাশি ওপরে-নিচেও তাকাতে হয়। কারণ ওপর থেকে ফ্লাইওভার বা মেট্রোরেলের ইট খসে পড়তে পারে। আর নিচে না তাকালে কোনো ম্যানহোল কিংবা রাস্তার গর্তে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

ঠিক এ কারণেই গত ৮-১০ বছরে যতগুলো ছাত্র আন্দোলন হয়েছে, তার বেশির ভাগ আন্দোলনেই রাস্তায় ব্লকেড এবং মোটাদাগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হলেও সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী/জনতার পাশে এসেই দাঁড়িয়েছে প্রত্যেকবার। করোনার আগেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাই শিক্ষার্থীরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিল সাধারণ জনগণের কাছ থেকে, যার ক্লাইম্যাক্স ঘটেছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সরকার ইন্টারনেট আর ফেসবুক বন্ধ করে দিলেও প্রত্যেকটি মানুষ গুলির আওয়াজ শুনেছে, তরুণ ছেলেমেয়ে এবং বাসার ছাদে/বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা শিশুর মৃত্যুর খবর শুনেছে। ইন্টারনেট ফিরে আসার পর টিভিতে সরকারি বয়ান প্রচার করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে মানুষ আরো ভালোভাবে জানতে পেরেছে কত জায়গায় কত মানুষ খুন হয়ে গেছে, প্রত্যেকের হাতেই মোবাইল থাকার কারণে সে সরাসরি দেখতে পেয়েছে কীভাবে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরেছে, মেরে ফেলার পর লাশ টেনেহিঁচড়ে গাড়ির ওপর থেকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে, পুড়িয়ে দিয়েছে বা গণকবর দিয়েছে। পত্রিকার সংবাদে কতজন খুন হয়েছে সেটা শুধু একটা সংখ্যা, কিন্তু যখন ফেসবুকে ভিডিওতে একটা ছেলেকে গুলি খেতে দেখা যায়, গুলি খেয়ে বুকে হাত চেপে ধরে রক্তপাত থামানোর চেষ্টা করতে করতে দিগভ্রান্তের মতো এদিক-সেদিক কয়েক পা ফেলে ছেলেটা লুটিয়ে পড়ে, যখন ভিডিওতে দেখা যায় ভাই খুন হওয়ার পর বোনরা তাদের ভাইয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছে, তখন ওই খুনগুলো আর একটা সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন খুন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষ আমাদের ভাই, বোন, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধবী, প্রেমিক/প্রেমিকা, স্বামী/স্ত্রী, ছেলেমেয়ে হয়ে যায়।

ঐতিহাসিকভাবে বাঙালির অনেক অত্যাচার এবং কষ্ট সয়ে নেয়ার অভ্যাস আছে, কিন্তু একই সঙ্গে এ দেশের মানুষের হাড় জিরজিরে বুক নিয়ে অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে জালিমের পতন ঘটানোর ইতিহাসও আছে। তাই রাস্তায় শুধু ছাত্ররা নামেনি, যেই রিকশাওয়ালা এবং কুলির হয়তো সরকার পরিবর্তন হলেও ভাগ্য পরিবর্তন হবে না সেও নেমে এসেছে, নিজের সন্তানের বয়সী শিশুদের পিতা-মাতারাও নেমে এসেছে। সবাই পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে ঢিল না ছুড়লেও কেউ পানির বোতল কিনে বিলিয়েছে, যে মায়ের ছেলে আন্দোলন করছে সেই মা হয়তো বাসা থেকে জগে জগে শরবত বানিয়ে ছেলে আর ছেলের বন্ধুদের খাওয়াচ্ছে।

এত বছরের দুর্নীতি ও শোষণের কারণে সবারই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। জুলাইয়ে নিরস্ত্র ছাত্রদের বুকে গুলি চালিয়ে শেখ হাসিনা জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষের প্রত্যেকটি মানুষ টের পেয়েছে যে সে একা না, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষের প্রত্যেকটি মানুষ টের পেয়েছে যে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শেখ হাসিনার পতনের আগেই তাই তার দলের অনেক নেতাকর্মীই সময় থাকতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ‘শেখের বেটি পালায় না’ দাবি করা শেখ হাসিনাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।

যখন মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে মুক্তির দাম মেটাতে রাজি হয়ে যায়, তখন কোনো সরকারের কাছেই জনগণকে দমানোর জন্য যথেষ্ট বন্দুকের গুলি থাকে না।

মো. আজাহার উদ্দিন অনিক: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যানালিস্ট

আরও