সাতচল্লিশের দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী
নতুন রাষ্ট্র
পাকিস্তানে বাংলা
ভাষার ওপর খড়্গহস্ত হয়। দাপ্তরিক কাজে, যেমন চাকরির
পরীক্ষা, মুদ্রা,
ডাকটিকিট প্রভৃতি
থেকে বাংলা
ভাষা বাদ দিতে থাকে।
পুরো পাকিস্তানের মানুষদের এক পতাকাতলে
সমবেত করতে তারা সাংস্কৃতিক
নানা উদ্যোগ
গ্রহণ করে, যার প্রধান
লক্ষ্য ছিল উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা। মুসলিম লীগ সরকারের এসব উদ্যোগ রুখে দিতে পূর্ববঙ্গে
বুদ্ধিজীবীদের একাংশ,
প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ
ও ছাত্রসমাজ
মাঠে নামে।
তারা লেখনীর
মাধ্যমে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার
পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ
করেন, তেমনি
বক্তৃতা-বিবৃতি
প্রদান ও মিছিল সমাবেশ
আয়োজন করে রাজপথে সক্রিয়
আন্দোলন গড়ে তোলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন
যথাযথভাবে পরিচালনার
জন্য গড়ে তোলা হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত
বেশ কয়েকবার
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ গঠিত ও পুনর্গঠিত
হয়।
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর। তমদ্দুন
মজলিসের উদ্যোগে
রশিদ বিল্ডিংয়ে
গঠিত এ সংগ্রাম পরিষদের
আহ্বায়ক নিযুক্ত
হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
এ এফ এম নূরুল
হক ভূঁইয়া।
এ সংগ্রাম
পরিষদের সদস্যরা
ছিলেন আবুল কাসেম, মোহাম্মদ
তোয়াহা, নাইমউদ্দীন
আহমদ, শওকত আলী, ফরিদ আহমদ, আখলাকুর
রহমান, আবদুল
মতিন চৌধুরী,
আজিজ আহমদ প্রমুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন
হলের ছাত্রদের
সংগঠিত করা, জনগণের মাঝে লিফলেট-পুস্তিকা
প্রচার এবং বাংলা ভাষার
প্রতি সরকারি
অবজ্ঞার প্রতিবাদে
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের পক্ষ থেকে বিবৃতি
দেয়া হয়। পাকিস্তান গণপরিষদে
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের
ভাষাবিষয়ক সংশোধনী
প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেলে সংগ্রাম পরিষদ
১৯৪৮ সালের
২৬ ফেব্রুয়ারি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট
পালন করে। শারীরিক অসুস্থতার
কথা বলে ১৯৪৮ সালের
২৮ ফেব্রুয়ারি
নূরুল হক ভূঁইয়া রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক
পদ থেকে ইস্তফা দেন।
১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল
হক হলে আয়োজিত এক সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত
হয়। বদরুদ্দীন
উমর লিখেছেন,
‘ভাষা আন্দোলনকে
সুষ্ঠু সাংগঠনিক
রূপ দেয়ার
জন্য এই সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সর্বদলীয়
পরিষদ গঠিত হয় এবং গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ,
তমদ্দুন মজলিস,
সলিমুল্লাহ মুসলিম
হল, ফজলুল
হক মুসলিম
হল ইত্যাদি
ছাত্রাবাস ও পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগ
এদের প্রত্যেকটি
থেকে দুজন করে প্রতিনিধি
তার সদস্য
হিসেবে মনোনীত
হন। সংগ্রাম
পরিষদের আহ্বায়ক
হিসেবে মনোনীত
হন শামসুল
আলম।’ এর সদস্যরা ছিলেন
কামরুদ্দীন আহমদ, শামসুল হক, তাজউদ্দীন আহমদ, আবুল কাসেম,
নূরুল হক ভূঁইয়া, আবদুল
গফুর, অলি আহাদ, মোহাম্মদ
তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব,
নাইমউদ্দীন আহমদ, লিলি খান, নূরুল আলম, শামসুল আলম, নূরুল হুদা প্রমুখ। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠনের
পর পূর্ব
পাকিস্তান মুসলিম
ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে চলে আসেন, গৌণ হতে থাকে তমদ্দুন মজলিসের
ভূমিকা। নূরুল
হক ভূঁইয়া
বলেছেন, ‘পরবর্তীকালে আরো বেশকিছু নেতা যখন ভাষা আন্দোলনে এগিয়ে
আসেন তখন থেকেই আমাদের
তমদ্দুন মজলিসের
কাজ গৌণ হতে থাকে।’
১১ মার্চ
ধর্মঘট পালন, খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন,
জিন্নাহর সঙ্গে
বৈঠক ছাড়াও
বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তারা বাংলা ভাষাকে
রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার
থাকেন। ঢাকার
মতো ১৯৪৮ সালে ঢাকার
বাইরের বিভিন্ন
জেলা ও মহকুমায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। বিভিন্ন সূৎরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিৎতিতে ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন জেলায় গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের যেসব নেতার নাম-পরিচয় পাওয়া
যায় তারা হলেন টাঙ্গাইল
জেলায় আহ্বায়ক
হন নূরুল
হুদা, নারায়ণগঞ্জে সভাপতি শামসুজ্জোহা, আহ্বায়ক
মফিজউদ্দিন আহমদ, ফরিদপুরে প্রথমে
আহ্বায়ক ছিলেন
মহিউদ্দিন আহমদ, পরে হন খান বাহাদুর
মোহাম্মদ ইসমাইল,
পাবনায় যুগ্ম
আহ্বায়ক ছিলেন
এএলএম মাহবুবুর
রহমান খান ও আমিনুল
ইসলাম বাদশা,
বগুড়ায় আহ্বায়ক
আতাউর রহমান,
সিরাজগঞ্জে আহ্বায়ক
হন সাইফুল
ইসলাম, যুগ্ম
আহ্বায়ক মীর আবুল হোসেন
ও নজরুল
ইসলাম, যশোরে
আহ্বায়ক ছিলেন
কংগ্রেস নেতা জীবন রতন ধর, যুগ্ম
আহ্বায়ক ছিলেন
পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগ
নেতা আলমগীর
সিদ্দিকী এবং ছাত্র ফেডারেশন
নেতা রণজিৎ
মিত্র, বরিশালে
আহ্বায়ক হন পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগের
নেতা শামসুল
হক চৌধুরী।
পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল
জিন্নাহর ঢাকা সফর এবং সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের
ফলে প্রথম
পর্বের ভাষা আন্দোলন স্তিমিত
হয়ে গেলেও
আরবি হরফে বাংলা প্রচলনের
বিরুদ্ধে ছাত্ররা
সীমিত পরিসরে
প্রতিবাদী কর্মসূচি
পালন করে। এমন বাস্তবতায়
১৯৫১ সালের
মার্চ মাসের
প্রথম সপ্তাহে
পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগের
সাধারণ সম্পাদক
খালেক নেওয়াজ
খানের সভাপতিত্বে
আয়োজিত এক সভায় গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। আহ্বায়ক
হন আবদুল
মতিন। সদস্যরা
ছিলেন মোখলেসুর
রহমান, মুহাম্মদ
হাবিবুর রহমান
শেলী, বদিউর
রহমান, মাকসুদ
আহমদ, তাজউদ্দীন
আহমদ, আনোয়ারুল
হক, মোশারফ
হোসেন, এমএ ওয়াদুদ, নূরুল
আলম, সালাহউদ্দীন, রুহুল আমিন চৌধুরী
এবং সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। ভাষা আন্দোলনের
তহবিল গঠন, পতাকা দিবস পালন, স্মারকলিপি
প্রদান, জেলায়
জেলায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন প্রভৃতি কার্যক্রমের দ্বারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
কার্যক্রম পরিচালনা
করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাৎর রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা
দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে
প্রতিবাদী মিছিল
ও ছাত্রসভা
আয়োজন করা হয়। ৩০ জানুয়ারি পালন করা হয় ধর্মঘট কর্মসূচি।
২১ ফেব্রুয়ারি
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা ছাড়াও পরবর্তী
কর্মসূচি পালনে
বিশেষ অবদান
রাখে। ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আবদুল
মতিনসহ শীর্ষ
নেতাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা
জারি করা হয় এবং ৭ মার্চ
শান্তিনগর থেকে তাকেসহ কয়েকজন
নেতাকে গ্রেফতার
করা হয়। আবদুল মতিনকে
গ্রেফতারের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
পুনর্গঠিত হয়, যার আহ্বায়ক
নিযুক্ত হন পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগের
নেতা আবদুল
মমিন তালুকদার।
ভাষা আন্দোলনে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের
অবদান অতি উজ্জ্বল। আন্দোলনের
কর্মসূচি প্রণয়ন
এবং বাস্তবায়নে
এর নেতারা
সাহসী ভূমিকা
পালন করেছেন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
যখন তুঙ্গে
তখন তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার
জন্য ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ঢাকার
বার লাইব্রেরি
হলে আয়োজিত
এক সভায় গঠিত এ সংগ্রাম পরিষদ
গঠন সম্পর্কে
আবুল হাশিম
লিখেছেন: ‘সভায় আমি উপস্থিত
ছিলাম।...বাংলা
ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য একটি সংগ্রাম পরিষদ
গঠন করা হয় এবং আমাকে এই পরিষদের সভ্য করা হয়। জনাব আতাউর
রহমান খান, কামরুদ্দীন আহমদ, মীর্জা গোলাম
হাফিজ, শামসুল
হক, তোয়াহা,
অলি আহাদসহ
অনেকেই এ পরিষদের সদস্য
হন। বলা বাহুল্য এ পরিষদের সভাপতি
হয়েছিলেন মওলানা
আবদুল হামিদ
খান ভাসানী।’
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক
হন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাৎরলীগের সহসভাপতি কাজী গোলাম মাহবুব।
ঢাকার বাইরের
বিভিন্ন জেলায়ও
এভাবে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের কমিটিতে
একই সঙ্গে
সভাপতি ও আহ্বায়ক পদে নেতাদের নিযুক্ত
করতে দেখা যায়। যা হোক, চল্লিশ
সদস্যবিশিষ্ট সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ গঠনের
পর একাধিক
বৈঠক করে আন্দোলনের কর্মসূচি
প্রণয়ন এবং প্রদেশব্যাপী তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ
গ্রহণ করা হয়। নেতারা
ঢাকা শহরের
বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যেমন বক্তৃতা করেন, তেমনি জেলায়
জেলায় সফর করে আন্দোলনের
পক্ষে জনমত গঠন করেন।
আন্দোলন দমনে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ নেতারা
কৌশলী ভূমিকায়
অবতীর্ণ হন। আসন্ন জাতীয়
ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কায় তারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের
বিপক্ষে অবস্থান
গ্রহণ করেন।
তবে ছাত্ররা
১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে
নামলে সে আন্দোলনে তারা শামিল হন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মওলানা ভাসানী,
আতাউর রহমান
খান প্রমুখ
নেতা ঢাকার
বাইরে থাকায়
২১ ফেব্রুয়ারি
গুলিবর্ষণের পর ডা. গোলাম
মাওলাকে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী
আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয়। ভাষা আন্দোলনে
নেতৃত্ব দানের
কারণে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের শীর্ষ
নেতা মওলানা
আবদুল হামিদ
খান ভাসানী,
আবুল হাশিম,
শামসুল হক, খয়রাত হোসেন,
অলি আহাদ, কাজী গোলাম
মাহবুব, আবদুল
মতিনসহ অনেককে
গ্রেফতার ও দীর্ঘ সময় বন্দি রেখে কারানির্যাতন করা হয়। অধিকাংশ
শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ার
পর পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী
মুসলিম লীগের
সহসভাপতি আতাউর
রহমান খানকে
আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন
করা হয়। এ পুনর্গঠিত
সংগ্রাম পরিষদের
উদ্যোগে বিভিন্ন
কর্মসূচি পালন ছাড়াও ২৭ এপ্রিল ঢাকা বার লাইব্রেরি
হলে আয়োজন
করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা প্রতিনিধিদের সম্মেলন।
আন্দোলনের তুঙ্গ
মুহূর্তে কৌশলী
ভূমিকায় অবতীর্ণ
হলেও সামগ্রিকভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ ভাষা আন্দোলনে যে অবদান রেখেছে
তা বিশেষভাবে
গৌরবের।
১৯৫২ সালে ঢাকার
মতোই জেলায়
জেলায় গঠিত হয় সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদ। গোপালগঞ্জে
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক
হন সাইদ আলী খান, যুগ্ম আহ্বায়ক
হন হেলেনা
খান; ফরিদপুরে
সভাপতি হন পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগ
নেতা ইমামউদ্দিন,
সহসভাপতি হন মনোয়ার হোসেন,
সাধারণ সম্পাদক
লিয়াকত হোসেন।
একইভাবে মাদারীপুরের আহ্বায়ক হন এটিএম
নূরুল হক; কুমিল্লায় আহ্বায়ক
আওয়ামী মুসলিম
লীগ নেতা আবদুর রহমান
খান, কলেজ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের আহ্বায়ক
সিরাজুল ইসলাম;
চট্টগ্রামে আহ্বায়ক
মাহবুব-উল আলম চৌধুরী,
সাধারণ সম্পাদক
আওয়ামী মুসলিম
লীগ নেতা এমএ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক
চৌধুরী হারুণ
অর রশীদ; চাঁদপুরে সভাপতি
আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক
মোল্লা সিদ্দিকুর
রহমান; ফেনীতে
আহ্বায়ক ফেনী কলেজের জিএস জিয়াউদ্দিন আহমদ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহ্বায়ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের
জিএস মতিউর
রহমান, যুগ্ম
আহ্বায়ক মহিউদ্দিন
আহম্মদ ও সামিউল আহাম্মদ
খান ফটিক; নওগাঁয় আহ্বায়ক
মোজাহারুল হক পোনা; নাটোরে
সভাপতি কাঁচু
উদ্দিন সরকার,
সম্পাদক মাইদুল
ইসলাম; পাবনায়
আহ্বায়ক আবদুল
মমিন তালুকদার;
বগুড়ায় সভাপতি
মজিরউদ্দিন আহমেদ,
সম্পাদক গোলাম
মহিউদ্দিন; রাজশাহীতে
ছাত্র সংগ্রাম
পরিষদের সভাপতি
এসএম গাফফার,
যুগ্ম সম্পাদক
হাবিবুর রহমান
ও গোলাম
আরিফ টিপু; সিরাজগঞ্জে আহ্বায়ক
সাইফুল ইসলাম,
যুগ্ম আহ্বায়ক
আজিজ মেহের
ওরফে মশিউর
রহমান টংকু; কুষ্টিয়ায় সভাপতি
আবদুল হক, সম্পাদক জুলফিকার
হায়দার; খুলনায়
আহ্বায়ক এমএ গফুর; ঝিনাইদহে
সভাপতি এনামুল
হক কোটান,
সম্পাদক আনোয়ার
জাহিদ টিপু; নড়াইলে আহ্বায়ক
আওয়ামী মুসলিম
লীগের নেতা আফসার উদ্দিন;
বাগেরহাটে আহ্বায়ক
জহুরুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক
শেখ আশরাফ
হোসেন; মেহেরপুরে
আহ্বায়ক মুন্সী
সাখাওয়াত হোসেন,
সম্পাদক কাওছার
আলী; ঝালকাঠিতে
সভাপতি জহুরুল
আমিন, সহসভাপতি
আমির হোসেন,
সম্পাদক মোহাম্মদ
আলী খান; পটুয়াখালীতে আহ্বায়ক
পূর্ব পাকিস্তান
যুবলীগ নেতা খোন্দকার আবদুল
খালেক; বরিশালে
সভাপতি পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী
মুসলিম লীগের
নেতা আবদুল
মালেক খান, আহ্বায়ক পূর্ব
পাকিস্তান যুবলীগের
নেতা আবুল হাশেম; ভোলায়
নেজামুল হক; সিলেটে আহ্বায়ক
পীর হাবিবুর
রহমান; সুনামগঞ্জে
আহ্বায়ক আবদুল
হাই; হবিগঞ্জে
আহ্বায়ক সৈয়দ আফসার আহমেদ,
যুগ্ম আহ্বায়ক
এনামুল হক মোস্তফা শহীদ; জামালপুরে সভাপতি
আওয়ামী মুসলিম
লীগ নেতা তৈয়ব আলী আহমেদ, সম্পাদক
কলেজ শিক্ষক
জহুরুল ইসলাম,
যুগ্ম সম্পাদক
পূর্ব পাকিস্তান
মুসলিম ছাত্রলীগ
নেতা আখতারুজ্জামান মতি ও আশেক মাহমুদ কলেজের
জিএস সৈয়দ আবদুস সোবহান;
নেত্রকোনায় আহ্বায়ক
কলেজ শিক্ষক
আমীরুল্লাহ বাহার
চৌধুরী; ময়মনসিংহে
সভাপতি কলেজ শিক্ষক সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন,
আওয়ামী মুসলিম
লীগ নেতা রফিক উদ্দিন
ভূঁইয়া; শেরপুরে
আহ্বায়ক আওয়ামী
মুসলিম লীগ নেতা নূর মোহাম্মদ উকিল; গাইবান্ধায় সভাপতি
মতিউর রহমান,
সম্পাদক হাসান
ইমাম টুলু; ঠাকুরগাঁওয়ে আহ্বায়ক
ফজলুল করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক
মোহাম্মদ হোসেন;
রংপুরে আহ্বায়ক
হন আবুল হোসেন; লালমনিরহাটে সভাপতি হন জহির উদ্দিন আহমদ, সহসভাপতি ছিলেন
মহসিন আলী ও সম্পাদক
আব্দুল কাদের
ভাসানী।
ভাষা আন্দোলন সুসংগঠিত
ও যথাযথভাবে
পরিচালনা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের অবদান
বিশেষভাবে স্মরণীয়।
রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী,
ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীর
সমন্বয়ে গঠিত সংগ্রাম পরিষদ
ভাষা আন্দোলন
সফল করতে ব্যাপক ভূমিকা
পালন করে। এর সঙ্গে
সম্পৃক্তদের সবার নাম ইতিহাসে
স্থান না পেলেও তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার
দাবি আদায় ও মর্যাদা
প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
যে অবদান
রেখে গেছেন,
তা ইতিহাসে
চিরসমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
ড. এম আবদুল আলীম: গবেষক-প্রাবন্ধিক
অধ্যাপক, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়