স্তিমিত
ভাষা
আন্দোলনকে
পুনঃসংগঠিত
করার
জন্য
রাজনৈতিক
দল
ও
ছাত্রসমাজ
আবার
উদ্যোগ
নেয়।
এরই
মধ্যে
১৯৫১
সালের
৮
সেপ্টেম্বর
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রভাষা
কর্মপরিষদ
দেশের
সব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
শাখা
গঠনের
উদ্যোগ
নেয়।
১৯৫১
সালের
১৬
অক্টোবর
আততায়ীর
গুলিতে
পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী
লিয়াকত
আলী
খান
নিহত
হন।
গভর্নর
জেনারেল
খাজা
নাজিমুদ্দিন
প্রধানমন্ত্রীর
দায়িত্বভার
গ্রহণ
করেন।
লিয়াকত
আলীর
মৃত্যুর
পর
খাজা
নাজিমুদ্দিন
ঢাকায়
সফরে
এসে
১৯৫২
সালের
২৭
জানুয়ারি
পল্টন
ময়দানের
জনসভায়
১৯৪৮
সালের
১৫
মার্চের
চুক্তি
ভঙ্গ
করেন।
তিনি
পুনরায়
উর্দুকে
পাকিস্তানের
একমাত্র
রাষ্ট্রভাষা
করার
ঘোষণা
দেন।
রাষ্ট্রভাষা
প্রসঙ্গ
ছাড়াও
খাজা
নাজিমুদ্দিন
পাকিস্তানের
সমসাময়িক
নানা
বিষয়
নিয়ে
কথা
বলেন।
তিনি
হোসেন
শহীদ
সোহরাওয়ার্দী
ও
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীর
কঠোর
সমালোচনা
করেন।
প্রতিবাদে
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
সভাপতি
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী
একটি
বিবৃতি
দেন
এবং
তাতে
উল্লেখ
করেন:
‘যেভাবে
আজ
দেশের
সমস্ত
জনসাধারণ
মুসলিম
লীগ
শাসনের
বিরুদ্ধে
বিক্ষুব্ধ
হইয়া
উঠিয়াছে
এবং
যখন
পায়ের
নিচ
হতে
ক্রমে
মাটি
সরিয়া
পড়িতেছে,
তখন
খাজা
নাজিমুদ্দিনের
পক্ষে
বে-সামাল
হইয়া
আমার
এবং
সোহরাওয়ার্দীর
বিরুদ্ধে
আবোলতাবোল
অভিযোগ
আনয়ন
করা
কিছুমাত্র
আশ্চর্যের
ব্যাপার
নহে।...
স্পষ্টতই
মনে
হয়,
খাজা
নাজিমুদ্দিন
ও
তাঁহার
অনুচরবর্গ
আওয়ামী
লীগের
ক্রমবর্ধমান
জনপ্রিয়তা
লক্ষ্য
করিয়া
রীতিমতো
ঘাবড়াইয়া
গিয়াছেন
এবং
মৃত্যুপথযাত্রীর
মত
তৃণগুচ্ছ
সম্বল
করিয়াও
নিজেদের
অস্তিত্ব
বজায়
রাখিবার
প্রাণপণ
চেষ্টা
করিতেছেন।
জনাব
খাজা
নাজিমুদ্দিনকে
আমি
নিশ্চিন্ত
নির্ভরতা
দিতেছি
যে,
আওয়ামী
লীগ
গদিপাগল
নহে।...
আমরা
চাই
শিক্ষাব্যবস্থার
বৈপ্লবিক
রূপান্তর।
বৃহত্তর
গণ-সমষ্টির
সুযোগের
জন্য
বর্তমান
শিক্ষাব্যবস্থার
আমূল
পরিবর্তন
প্রয়োজন।
বাংলাকে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষারূপে
গ্রহণ
করিতে
হইবে।’
এর প্রতিক্রিয়ায়
১৯৫২
সালের
৩০
জানুয়ারি
‘ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ’
ছাত্র
ধর্মঘট
ও
প্রতিবাদ
সভা
আহ্বান
করে।
৩০
জানুয়ারি
সন্ধ্যা
৬টায়
ঢাকা
জেলা
বার
লাইব্রেরিতে
মওলানা
ভাসানীর
সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত
আরেক
সভায়
নিম্নলিখিত
‘সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ’
গঠিত
হয়।
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠনের
সভায়
সভাপতিত্ব
করেন
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
সভাপতি
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী।
বক্তব্য
দেন
আবুল
হাশিম,
শামসুল
হক,
খালেক
নেওয়াজ
খান,
অলি
আহাদ,
আবদুল
মতিন,
আবদুল
গফুর,
সৈফুদ্দীন,
হামিদুল
হক
চৌধুরী,
সৈয়দ
ইশতিয়াক
আহমদ,
সৈয়দ
আবুল
ফজল,
অধ্যাপক
খায়রুল
বাশার,
মাহবুবা
খাতুন
প্রমুখ।
বক্তারা
বাংলা
ভাষার
পক্ষে
জোরালো
বক্তব্য
তুলে
ধরেন
এবং
খাজা
নাজিমুদ্দিনের
বক্তব্যের
কড়া
সমালোচনা
করেন।
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
লীগের
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হক
তার
বক্তৃতায়
বলেন,
‘কায়েদে
আজমও
এ
কথা
স্বীকার
করিয়াছিলেন
যে
জনগণই
রাষ্ট্রভাষা
সম্পর্কে
চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
করিবে।’
আওয়ামী
লীগ
সভাপতি
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী
সাইকে
শান্তিপূর্ণভাবে
আন্দোলন
চালিয়ে
যাওয়ার
আহ্বান
জানান।
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠনে
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
ও
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগ
নেতারাই
যে
এ
মুখ্য
ভূমিকা
পালন
করেন।
সে
সম্পর্কে
মোহাম্মদ
তোয়াহা
এক
সাক্ষাত্কারে
বলেছেন,
‘আওয়ামী
লীগ
অফিস
৯৩
নবাবপুর
রোডে।
আওয়ামী
লীগের
সাথে
আমরা
যোগাযোগ
করলাম।
ঠিক
হলো
সর্বদলীয়
বাংলা
ভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠন
করা
হবে।...বার
লাইব্রেরিতে
গিয়ে
দেখি
ভর্তি
লোকজন।
যদিও
কথা
ছিল
প্রত্যেক
দলের
থেকে
দু-একজন
থাকবে।
কিন্তু
দেখা
গেল
প্রায়
৫০টা
ছোটখাটো
সংগঠনেরও
প্রতিনিধি
হাজির।...আওয়ামী
লীগের
এ
কাজ
খোন্দকার
মুস্তাক
আহমদ,
কাজী
গোলাম,
মাহবুব,
খালেক
নওয়াজ
খান,
আওয়াল,
ওদুদ
এরা
organise
করেছিল।
এ
সভায়
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
আহূত
৪
ফেব্রুয়ারি
ছাত্র
ধর্মঘট
ও
সভা-সমাবেশ-মিছিলের
কর্মসূচির
প্রতি
সমর্থন
জানানো
হয়।
এছাড়া
২১
ফেব্রুয়ারি
পূর্ব
পাকিস্তান
ব্যবস্থাপক
পরিষদের
সভা
থাকায়
ওইদিনই
দেশব্যাপী
হরতাল,
বিক্ষোভ
সমাবেশ
ও
মিছিলের
কর্মসূচি
গ্রহণ
করা
হয়।
২১
ফেব্রুয়ারির
কর্মসূচি
সফল
করার
উদ্দেশ্যে
১১
ও
১৩
ফেব্রুয়ারি
ঢাকা
শহরে
পতাকা
দিবস
পালন
এবং
বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের
ছাত্রদের
সমাবেশ
ও
মিছিলের
আয়োজন
করা
হয়।
পরিস্থিতি
উত্তপ্ত
হয়ে
ওঠে।
সরকারবিরোধী
রাজনৈতিক
দল
হিসেবে
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগ
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
দাবিতে
গড়ে
ওঠা
আন্দোলনে
স্বতঃস্ফূর্তভাবে
যুক্ত
হয়।
এ
দলের
সভাপতি
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানী,
সহসভাপতি
আতাউর
রহমান
খান,
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হক,
যুগ্ম
সম্পাদক
শেখ
মুজিবুর
রহমান,
খন্দকার
মুশতাক
আহমেদ
প্রমুখ
নেতা
কেন্দ্রীয়ভাবে
ভাষা
আন্দোলনে
নীতিনির্ধারণী
ভূমিকা
পালন
করেন।
ঢাকার
বাইরে
ভাষা
আন্দোলনকে
গণআন্দোলনে
রূপদান
করার
ক্ষেত্রে
অনন্য
ভূমিকা
পালন
করেছেন
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
স্থানীয়
নেতারা।
সরকার
সভা-সমাবেশ
নিষিদ্ধ
ঘোষণা
করে
এবং
ঢাকা
শহরে
১৪৪
ধারা
জারি
করে।
সর্বদলীয়
ভাষা
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদে
১৪৪
ধারা
ভঙ্গ
করা
হবে
কি
হবে
না,
তা
নিয়ে
দ্বিধাদ্বন্দ্ব
ও
মতপার্থক্য
দেখা
দেয়।
এ
সময়
পূর্বনির্ধারিত
কর্মসূচি
অনুযায়ী
মওলানা
ভাসানী
ঢাকার
বাইরে
ছিলেন।
তার
অনুপস্থিতিতে
আবুল
হাশিমের
সভাপতিত্বে
৯৪,
নবাবপুর
রোডে
আওয়ামী
লীগ
কার্যালয়ে
২০
ফেব্রুয়ারি
রাতে
অনুষ্ঠিত
হয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
কমিটির
সভা।
সভায়
১৪৪
ধারা
ভঙ্গের
পক্ষে-বিপক্ষে
দীর্ঘ
বিতর্ক
হয়।
নিয়মতান্ত্রিক
দল
হিসেবে
আওয়ামী
লীগ
১৪৪
ধারা
ভাঙতে
পারে
না
বলে
বক্তব্য
রাখেন
আওয়ামী
লীগের
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হক।
অন্যদিকে
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
কমিটির
আহ্বায়ক
কাজী
গোলাম
মাহবুব
ও
যুবলীগ
নেতা
মোহাম্মদ
তোয়াহাসহ
অনেকেই
১৪৪
ধারা
ভাঙার
পক্ষে
বক্তব্য
রাখেন।
দীর্ঘ
সভায়
কোনো
ঐকমত্য
না
হওয়ায়
রাত
১টা
৩০
মিনিটে
আওয়ামী
লীগ
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হক
একুশে
ফেব্রুয়ারির
কর্মসূচি
প্রত্যাহারের
প্রস্তাব
উত্থাপন
করেন।
এ
নিয়ে
তীব্র
বাদানুবাদ
হয়।
সভার
সভাপতি
আবুল
হাশিম
১৪৪
ধারা
ভঙ্গের
পক্ষে
থাকলেও
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
কমিটির
সংখ্যাগরিষ্ঠ
সদস্য
১৪৪
ধারা
ভঙ্গের
বিরুদ্ধে
ভোট
দেন।
ভাষা
আন্দোলনে
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
যুগ্ম
সম্পাদক
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
থেকে
আন্দোলনের
কর্মপন্থা
নির্ধারণে
ভূমিকা
রাখেন।
ওই
সময়
চিকিৎসার
জন্য
তাকে
ঢাকা
সেন্ট্রাল
জেল
থেকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
ভর্তি
করা
হয়।
এ
সময়
তিনি
‘ছাত্রলীগ
ও
আন্দোলনের
অন্য
কর্মীদের’
এবং
ফরিদপুর
কারাগারে
স্থানান্তরের
সময়
নারায়ণগঞ্জের
নেতাকর্মীদের
ভাষা
আন্দোলনে
করণীয়
সম্পর্কে
‘নির্দেশনা
দেন।’
সে
সময়
কারাবন্দি
হিসেবে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
১৫
ফেব্রুয়ারি
পর্যন্ত
চিকিৎসাধীন
থাকা
অবস্থায়
শেখ
মুজিবুর
রহমান,
যুবলীগ
নেতা
অলি
আহাদ
ও
মোহাম্মদ
তোয়াহা
এবং
ছাত্রলীগ
নেতা
কাজী
গোলাম
মাহবুব
ও
খালেক
নেওয়াজ
প্রমুখের
সঙ্গে
ভাষা
আন্দোলন
সম্পর্কে
গোপনে
মিলিত
হন
এবং
ভাষা
আন্দোলনের
পাশাপাশি
তিনি
তার
কারামুক্তির
দাবিতে
১৬
ফেব্রুয়ারি
থেকে
অনশন
পালনের
কথা
জানান।
তিনি
ভাষা
আন্দোলনের
ব্যাপারে
ছাত্রনেতাদের
সঙ্গে
নিয়মিত
যোগাযোগ
রাখতেন।
পরামর্শ
দিতেন।
প্রয়াত
রাষ্ট্রপতি
জিল্লুর
রহমান
লিখেছেন,
‘শেখ
মুজিব
কারাগারে
থেকেও
আন্দোলনের
ব্যাপারে
তাদের
কাছে
“চিরকুট”
পাঠাতেন
এবং
তিনি
প্রয়োজনে
১৪৪
ধারা
ভঙ্গ
করে
হলেও
আন্দোলন
এগিয়ে
নেওয়ার
পক্ষে
ছিলেন।
ছাত্রনেতাদের
সাথে
যোগাযোগ
ও
আন্দোলনে
তার
এই
ভূমিকার
কথা
জানতে
পেরে
একুশে
ফেব্রুয়ারির
আগেই
তাকে
ও
মহিউদ্দিন
আহমেদকে
ফরিদপুর
জেলে
স্থানান্তর
করা
হয়।’
কারাবন্দি
অবস্থায়
তিনি
কখনো
বিশ্বস্ত
গোয়েন্দা
কর্মকর্তাদের
মাধ্যমে,
কখনো
গোপনে
সাক্ষাত্কারী
নেতাকর্মীদের
মাধ্যমে
এবং
কখনো
কখনো
চিরকুট/চিঠির
মাধ্যমে
ভাষা
আন্দোলনে
নির্দেশনা
প্রদান
করতেন।
এতে
আন্দোলন
যেমন
বেগবান
হয়
তেমনি
বাড়ে
জনসম্পৃক্ততা।
হারুন-অর-রশিদ
লিখেছেন:
‘পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাকালে
শেখ
মুজিব
ছিলেন
বাঙালিদের
মধ্যে
সবচেয়ে
প্রতিশ্রুতিশীল
যুবনেতা।
আপসহীন
ও
দৃঢ়চেতা
মনোভাবের
কারণে
শুরু
থেকে
পাকিস্তানি
শাসকগোষ্ঠীর
খড়্গহস্ত
তাঁর
ওপর
নেমে
আসে।
ভাষা
আন্দোলনের
চূড়ান্ত
পর্ব
শুরুর
বেশ
পূর্ব
থেকেই
তিনি
কারাবন্দী
অবস্থায়
ছিলেন।
ঢাকার
কেন্দ্রীয়
কারাগারে
বন্দি
থাকা
এবং
পরবর্তীকালে
স্বাস্থ্যগত
কারণে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
স্থানান্তরিত
করা
হলে
সেখান
থেকে
তিনি
বাইরের
নেতৃবৃন্দের
সঙ্গে
যোগাযোগ
রক্ষা
করে
চলেন।
২১শে
ফেব্রুয়ারি
রাষ্ট্রভাষা
দিবস
পালন
ও
ওইদিন
১৪৪
ধারা
ভঙ্গেরও
নির্দেশনা
দেন।
খাজা নাজিমুদ্দিনের
পল্টন
ময়দানে
বক্তৃতার
পর
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
থেকে
শেখ
মুজিব
পরিকল্পনা
করেন
কীভাবে
ভাষা
আন্দোলনে
ভূমিকা
রাখা
যায়।
ঐ
সময়
নেতাকর্মীরা
বারবার
তাঁর
সঙ্গে
যোগাযোগ
করেন
এবং
ভাষা
আন্দোলনসহ
রাজনীতির
নানা
বিষয়ে
তাঁর
দিকনির্দেশনা
গ্রহণ
করেন।
১৯৫২
সালের
১লা
জানুয়ারি
পাকিস্তানি
গোয়েন্দা
সংস্থার
এক
গোপন
প্রতিবেদনে
বলা
হয়:
It has been reported that the Security Prisoner, Mujibur Rahman
who, on the orders of H.P.M., was brought to Dacca for treatment is taking
undue advantage of his coming to Dacca in furthererance of his political
activity.
বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী
খাজা
নাজিমুদ্দিনের
পল্টন
ময়দানে
উর্দুকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
ঘোষণার
প্রতিবাদে
তখন
ঢাকাসহ
সারা
দেশে
ভাষা
আন্দোলনের
চূড়ান্ত
পর্বের
মহড়া
শুরু
হলে
ভাষা
আন্দোলনের
অনেক
নেতার
সঙ্গে
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
যোগাযোগ
স্থাপিত
হয়
এবং
আন্দোলনের
বিষয়ে
তিনি
তাদের
নানা
নির্দেশনা
দেন।
তার
কারাসঙ্গী
মহিউদ্দিন
আহমেদ
লিখেছেন:
এ সময়
থেকেই
মাঝে
মাঝে
মিছিলের
স্লোগান
কারাপ্রাচীর
ভেদ
করে
৫
নং
খাতায়
আমাদের
কানে
পৌঁছতে
লাগল।
এ
বিষয়ে
আমরা
কামরার
ভেতর
থেকে
বাইরে
এসে
আলোচনা
করতাম।
এ
আলোচনার
প্রধান
বিষয়বস্তু
ছিল
এই
বন্দি
অবস্থা
থেকে
কীভাবে
আমরা
আন্দোলনে
অবদান
রাখতে
পারি,
কীভাবে
এ
আন্দোলনকে
পরিচালিত
করতে
পারি,
কীভাবে
বাস্তব
রূপ
দিতে
পারি।...ঠিক
হলো,
মুজিব
অসুস্থতার
ভান
করে
মেডিকেল
কলেজে
ভর্তি
হবেন।
সেভাবেই
মুজিবকে
ডাক্তারের
সাহায্যে
মেডিকেল
কলেজে
ভর্তি
করাতে
সক্ষম
হলাম।...
একদিন
মুজিব
আবার
ফিরে
আসলেন;
ফিরে
আসলেন
সাফল্যের
বার্তা
নিয়ে।
বাইরে
নেতৃবর্গের
সাথে
আলোচনা
হয়েছে
এবং
’৫২
সালের
প্রথম
দিক
থেকে
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনকে
তীব্রতর
করে
মিছিল
ও
জনসভায়
দেশকে
কাঁপিয়ে
তুলতে
হবে।
অ্যাসেম্বলির
বৈঠককালীন
১৯,
২০,
২১
ফেব্রুয়ারিতে
গণজোয়ার
সৃষ্টি
করতে
হবে।
শেখ মুজিবুর
রহমান
নিজেই
বলেছেন:
অনেকে ভুল
করে
থাকেন।
১৯৫২
সালের
আন্দোলনে
তথা
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলনের
সঠিক
ইতিহাস
আপনাদের
জানা
দরকার।
আমি
তখন
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
বন্দী
অবস্থায়
চিকিৎসাধীন।
সেখানেই
আমরা
স্থির
করি
যে,
রাষ্ট্রভাষার
ওপর
ও
আমার
দেশের
ওপর
যে
আঘাত
হয়েছে
২১শে
ফেব্রুয়ারি
তারিখে
তার
মোকাবেলা
করতে
হবে।
সেখানেই
গোপন
বৈঠকে
সব
স্থির
হয়।...কথা
হয়,
১৬ই
ফেব্রুয়ারি
আমি
জেলের
মধ্যে
অনশন
ধর্মঘট
করব,
আর
২১শে
ফেব্রুয়ারি
আন্দোলন
শুরু
হবে।
জেলে
দেখা
হয়
বরিশালের
মহিউদ্দিন
সাহেবের
সঙ্গে।
তাঁকে
বললাম,
আমরা
এই
প্রোগ্রাম
নিয়েছি।
তিনি
বললেন,
আমিও
অনশন
ধর্মঘট
করব।
১৬ই
ফেব্রুয়ারি
আমরা
অনশন
ধর্মঘট
করলাম।
এর
দরুন
আমাদের
ট্রান্সফার
করা
হলো
ফরিদপুর
জেলে।
সূচনা
হয়
১৯৫২
সালের
ভাষা
আন্দোলন।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা
সংস্থার
গোপন
প্রতিবেদনসমূহে
দেখা
যায়,
নিরাপত্তাবন্দি
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
১৯৫১
সালের
৩০শে
আগস্ট
থেকে
১৯৫২
সালের
১৫ই
ফেব্রুয়ারি
পর্যন্ত
বেশ
কয়েকবার
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
চিকিৎসার
জন্য
আনা
হয়
এবং
ভর্তি
করা
হয়।
হাসপাতালে
প্রতিদিনই
কেউ
না
কেউ
তাঁর
সঙ্গে
দেখা
করতে
আসতেন।
ওই
সময়
আইনজীবী,
রাজনীতিবিদ,
ছাত্রনেতা,
চিকিৎসক,
গোয়েন্দা
সংস্থার
লোকজন,
আত্মীয়স্বজন
অনেকেই
তাঁর
সঙ্গে
সাক্ষাৎ
করেন।
১৯৫১
সালের
১৩ই
নভেম্বরের
গোয়েন্দা
প্রতিবেদন
থেকে
জানা
যায়,
ওইদিন
সকাল
৯টায়
তাঁকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
আনা
হলে
তাঁর
কয়েকজন
পুরনো
বন্ধু,
আনোয়ারা
বেগম
এম.
এন.
এ,
খয়রাত
হোসেন
এম.
এন.
এ,
মানিক
মিয়া,
আহমদ
হোসাইন
এবং
প্রায়
৩০
জন
মেডিকেল
ছাত্র
তাঁর
সঙ্গে
দেখা
করেন।
কর্তৃপক্ষের
অনুমতি
ছাড়াই
৩০শে
নভেম্বর
১৯৫১
তারিখ
সকাল
৯.
১৫টায়
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সঙ্গে
দেখা
করেন
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগের
সাধারণ
সম্পাদক
খালেক
নেওয়াজ
খান
ও
ছাত্রনেতা
নূরুল
ইসলাম।
তাঁরা
৯.
১৫টা
থেকে
৯.
৪৫টা
পর্যন্ত
তাঁর
সঙ্গে
কথা
বলেন।
এ
সময়
আব্দুস
সালাম
খান
নামক
এক
গোয়েন্দা
সদস্য
একটু
দূরে
দরজার
পাশে
দাঁড়িয়ে
থাকলেও
তাঁরা
কী
বিষয়ে
আলাপ
করেন
তা
শুনতে
পাননি
বলে
৩০শে
নভেম্বর,
১৯৫১
তারিখের
রিপোর্টে
উল্লেখ
করেছেন।
১৯৫২
সালের
২৫শে
জানুয়ারি
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালের
কেবিনে
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সঙ্গে
সাক্ষাৎ
করেন
পূর্ব
পাকিস্তান
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
সহসভাপতি
আতাউর
রহমান
খান,
আজিজ
আহমদ;
পূর্ব
পাকিস্তান
যুবলীগের
সাধারণ
সম্পাদক
অলি
আহাদ;
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগের
ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি
শামসুল
হক
চৌধুরী
ও
সহসভাপতি
কাজী
গোলাম
মাহবুুব।
তাঁরা
সমসাময়িক
রাজনৈতিক
বিষয়ে
নানা
আলাপ
করেন।
পাকিস্তানি
গোয়েন্দা
সংস্থার
একাধিক
গোপন
প্রতিবেদন
থেকে
জানা
যায়,
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
থেকে
চিকিৎসার
জন্য
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
ভর্তি
করা
হলে,
সেখানে
বসেই
তিনি
রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ড
পরিচালনা
করেন।
এ
সময়
হাসপাতালের
কেবিন
থেকে
শেখ
মুজিবুর
রহমান
পুলিশের
নজরকে
ফাঁকি
দিয়ে
তার
রাজনৈতিক
সহকর্মীদের
সঙ্গে
দেশের
সমকালীন
রাজনৈতিক
পরিস্থিতি
আলোচনা
এবং
ভাষা
আন্দোলন
প্রসঙ্গে
পরামর্শ
প্রদান
করেন।’
আগেই
উল্লেখ
করা
হয়েছে
যে
পাকিস্তানের
নবনিযুক্ত
প্রধানমন্ত্রী
খাজা
নাজিমুদ্দিন
১৯৫২
সালের
২৭
জানুয়ারি
ঢাকার
পল্টন
ময়দানে
এ
জনসভায়
মোহাম্মদ
আলী
জিন্নাহর
উক্তি
পুনর্ব্যক্ত
করে
উর্দুকে
পাকিস্তানের
একমাত্র
রাষ্ট্রভাষা
করার
ঘোষণা
দিলে
পূর্ববঙ্গের
ছাত্র-জনতা
বিক্ষুব্ধ
হয়ে
ওঠে।
এ
সময়
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সঙ্গে
ছাত্রনেতারা
বারবার
সাক্ষাৎ
করেন।
সাক্ষাতে
তারা
আন্দোলনের
নানা
দিক
নিয়ে
আলোচনা
করেন
এবং
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠন
এবং
একুশে
ফেব্রুয়ারি
‘রাষ্ট্রভাষা
দিবস’
পালনের
বিষয়ে
কথা
বলেন।
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
আহ্বায়ক
যাতে
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগ
থেকেই
করা
হয়,
সে
বিষয়ে
শেখ
মুজিবুর
রহমান
নির্দেশনা
দেন।
এ
প্রসঙ্গে
অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং
বিভিন্ন
ভাষণে
তিনি
বিস্তারিত
বলেছেন।
অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি
লিখেছেন:
‘আমি
হাসপাতালে
আছি।
সন্ধ্যায়
মোহাম্মদ
তোয়াহা
ও
অলি
আহাদ
দেখা
করতে
আসে।
আমার
কেবিনের
একটা
জানালা
ছিল
ওয়ার্ডের
দিকে।
আমি
ওদের
রাত
একটার
পরে
আসতে
বললাম।
আরও
বললাম,
খালেক
নেওয়াজ,
কাজী
গোলাম
মাহবুব
আরও
কয়েকজন
ছাত্রলীগ
নেতাকে
খবর
দিতে।
দরজার
বাইরে
আইবিরা
পাহারা
দিত।
রাতে
অনেকে
ঘুমিয়ে
পড়েছে।
তখন
পিছনের
বারান্দায়
ওরা
পাঁচ-সাতজন
এসেছে।...বারান্দায়
বসে
আলাপ
হল
এবং
আমি
বললাম,
সর্বদলীয়
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠন
করতে।
আওয়ামী
লীগ
নেতাদেরও
খবর
দিয়েছি।
ছাত্রলীগই
তখন
ছাত্রদের
মধ্যে
একমাত্র
জনপ্রিয়
প্রতিষ্ঠান।
ছাত্রলীগ
নেতারা
রাজি
হল।
অলি
আহাদ
ও
তোয়াহা
বলল,
যুবলীগও
রাজি
হবে।...সেখানেই
ঠিক
হল,
আগামী
একুশে
ফেব্রুয়ারি
রাষ্ট্রভাষা
দিবস
পালন
করা
হবে
এবং
সভা
করে
সংগ্রাম
পরিষদ
গঠন
করতে
হবে।
ছাত্রলীগের
পক্ষ
থেকেই
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
কনভেনর
করতে
হবে।
ফেব্রুয়ারি
থেকেই
জনমত
গঠন
করতে
হবে।’
কারাগারের রোজনামচায় তিনি
আরো
স্পষ্ট
করে
বলেছেন:
‘জানুয়ারি
মাসে
আমাকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজে
চিকিৎসার
জন্য
ভর্তি
করা
হয়।...আমি
তখন
বন্দি
অবস্থায়
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে।
রাত্রের
অন্ধকারে
মেডিকেল
কলেজের
ছাত্রদের
সহায়তায়
নেতৃবৃন্দের
সাথে
পরামর্শ
করে
২১শে
ফেব্রুয়ারি
প্রতিবাদের
দিন
স্থির
করা
হয়।
আমি
১৬ই
ফেব্রুয়ারি
থেকে
অনশন
শুরু
করব
মুক্তির
জন্য।
কাজী
গোলাম
মাহবুব,
অলি
আহাদ,
মোল্লা
জালালউদ্দিন,
মোহাম্মদ
তোয়াহা,
নঈমুদ্দীন,
খালেক
নেওয়াজ,
আজিজ
আহম্মদ,
আবদুল
ওয়াদুদ
ও
আরো
অনেকে
গোপনে
গভীর
রাতে
আমার
সঙ্গে
দেখা
করত।’
ভাষা আন্দোলনের
নেতারা
নানাভাবে
আন্দোলনের
কর্মপন্থা
নির্ধারণ
করেন।
নিজেদের
মধ্যে
পরামর্শ
করে
এবং
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
চিকিৎসারত
নিরাপত্তাবন্দি
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
সঙ্গে
দেখা
করে
খাজা
নাজিমুদ্দিনের
বক্তব্যের
পরবর্তী
পরিস্থিতি
পর্যালোচনা
এবং
কর্মপন্থা
নির্ধারণের
জন্য
গঠন
করা
হয়
৪০
সদস্যের
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ।
কর্মপরিষদ
গঠনের
সভায়
অনেকগুলো
প্রস্তাব
গৃহীত
হয়।
সভায়
গৃহীত
এক
প্রস্তাবে
অবিলম্বে
নিরাপত্তা
বন্দি
শেখ
মুজিবর
রহমান
ও
অন্যান্য
আটক
বন্দির
মুক্তি
এবং
জননিরাপত্তা
আইন
প্রত্যাহারের
দাবি
জানানো
হয়।
সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
কর্মপরিষদ
গঠিত
হওয়ার
পর
ভাষা
আন্দোলনের
কর্মসূচিতে
নতুন
গতি
সঞ্চারিত
হয়।
(চলবে)
নূহ-উল-আলম লেনিন: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য