বাংলাদেশে
স্টার্টআপের
অভিযাত্রা
বেশি
দিনের
নয়।
বড়জোর
এক
দশকের।
এরই
মধ্যে
একটি
ইউনিকর্ন
মিলে
গিয়েছে।
ইউনিকর্ন
মানে
যে
স্টার্টআপের
বাজারমূল্য
১
বিলিয়ন
বা
১০০
কোটি
ডলার।
দেশীয়
মুদ্রায়
যা
প্রায়
১০
হাজার
কোটি
টাকা
(১ ডলারের
বিনিময়
মূল্য
১০০
টাকা
হিসাবে)।
একমাত্র
ইউনিকর্ন
বিকাশের
বাজারমূল্য
সফট
ব্যাংক
থেকে
বিনিয়োগ
পাওয়ার
কালে
নির্ধারিত
হয়েছে।
এখানে
উল্লেখ্য,
স্টার্টআপরা
ভেঞ্চার
ক্যাপিটাল
থেকে
পুঁজি
গ্রহণ
করে।
ওই
পুঁজি
গ্রহণকালে
তাদের
বাজারমূল্য
নির্ধারণ
করা
হয়।
কারণ
বিনিয়োগকারী
কত
টাকা
বিনিয়োগ
করে
কতগুলো
শেয়ার
পাবে,
সে
অংকটা
কষতে
হয়।
বিনিয়োগকালে
ভ্যালুয়েশন
বা
মূল্য
নির্ধারণ
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
কাজ।
বাংলাদেশ
সরকারের
লক্ষ্য
২০২৫
সালের
মধ্যে
পাঁচটি
স্টার্টআপের
ইউনিকর্নে
উত্তরণ।
লক্ষটি
কঠিন
ও
উচ্চাভিলাষী।
এ
লক্ষ
হাসিলে
সরকার
বিভিন্ন
কাজ
করছে।
যেমন
তথ্য
ও
প্রযুক্তি
বা
আইসিটি
মন্ত্রণালয়ের
অধীনে
ইনফরমেশন
ডিজাইন
অ্যান্ড
এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ
একাডেমি
বা
আইডিয়া
প্রজেক্ট,
সিড
বা
আইডিয়া
স্টেজে
১০
লাখ
টাকা
পর্যন্ত
অনুদান
দিচ্ছে।
২০১৫
সালে
বাংলাদেশ
সিকিউরিটিজ
অ্যান্ড
এক্সচেঞ্জ
কমিশন
অল্টারনেটিভ
ইনভেস্টমেন্ট
রুল
জারি
করেছে,
যে
আইনের
আওতায়
ভেঞ্চার
ক্যাপিটাল,
ইমপ্যাক্ট
ফান্ড
বা
তহবিল
ব্যবস্থাপক
প্রতিষ্ঠিত
হতে
পারছে।
তহবিল
ব্যবস্থাপকরা
দেশ-বিদেশ
থেকে
তহবিল
সংগ্রহ
করতে
পারছে।
স্টার্টআপ
বাংলাদেশ
নামে
একটি
সরকারি
মালিকানাধীন
ভেঞ্চার
ক্যাপিটাল
কোম্পানি
প্রতিষ্ঠা
করেছে।
সরকার
গত
বছর
বাজেটে
স্টার্টআপের
জন্য
৫০০
কোটি
টাকা
বরাদ্দ
রেখেছে।
এছাড়া
বাংলাদেশ
ব্যাংক
এ
ব্যাপারে
একটি
নীতিমালা
জারি
করেছে।
ব্যাংকারদের
তাদের
নিট
লাভের
১
শতাংশ
স্টার্টআপ
ফান্ডের
জন্য
বরাদ্দ
দেয়ার
নির্দেশনা
জারি
করা
হয়েছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের
নীতিমালা
অনুযায়ী
ব্যাংকাররা
এ
টাকা
স্টার্টআপদের
ঋণ
আকারে
প্রদান
করবে।
সরকারের এসব
উদ্যোগ
কি
তার
‘২০২৫
সালের
মধ্যে
পাঁচটি
ইউনিকর্ন’
লক্ষ্য
অর্জনের
জন্য
যথেষ্ট?
ইংরেজিতে
একটি
প্রবাদ
আছে,
‘ইউ
নিড
এ
ভিলেজ
টু
গ্রো
এ
চাইল্ড’।
যার
মানে
‘একটি
শিশু
পরিপালনের
জন্য
প্রয়োজন
পুরো
একটি
গ্রামের
অংশগ্রহণ।’
স্টার্টআপের
ক্ষেত্রে
প্রবাদটি
সমভাবে
প্রযোজ্য।
পার্থক্য
এটুকু
শিশুর
ক্ষেত্রে
যেটি
গ্রাম,
স্টার্টআপের
ক্ষেত্রে
সেটি
দেশ।
অর্থাৎ
একটি
স্টার্টআপকে
লালন-পালন
করে
বড়
করার
জন্য
প্রয়োজন
পুরো
দেশের
সহযোগিতা,
সমন্বয়
ও
অংশগ্রহণ।
আমাদের
পাশের
দেশ
ভারত
স্টার্টআপ
অভিযাত্রায়
অনেক
এগিয়ে।
গত
বছর
ভারতে
২০টি
ইউনিকর্ন
উত্পন্ন
হয়েছে।
অবশ্য
ভারতে
স্টার্টআপের
যাত্রা
প্রায়
৩০
বছর
আগে,
যা
বাংলাদেশে
শুরু
হয়েছে
বছর
দশেক
আগে।
ভারতে
ভেঞ্চার
ক্যাপিটালের
আইন
জারি
হয়েছে
১৯৮৬
সালে,
যা
বাংলাদেশে
জারি
হয়েছে
২০১৫
সালে।
ভারতে
‘স্টার্টআপ
ফার্স্ট’
নীতি
খুবই
কার্যকর।
আমাদের
দেশে
অনেক
কিছু
এখনো
‘লিপ
সার্ভিসে’
সীমাবদ্ধ।
নীতিনির্ধারক
পর্যায়ে
অনেকের
কাছে
স্টার্টআপের
ধারণা
এখনো
স্পষ্ট
নয়।
নেই
স্পষ্ট
সংজ্ঞা।
তাই
সদিচ্ছা
থাকা
সত্ত্বেও
তৈরি
হচ্ছে
ভুল
বা
ত্রুটিপূর্ণ
নীতিমালা।
নীতিমালা তৈরিতেও
হচ্ছে
দীর্ঘসূত্রতা।
এরই
মধ্যে
ঘটে
যাচ্ছে
অঘটন।
যেমন
ঘটেছে
ই-কমার্সের
ক্ষেত্রে।
যেমনটি
বলেছিলাম,
স্টার্টআপের
লালন-পালনের
(একটি স্টার্টআপ
প্রাথমিক
অবস্থায়
একটি
শিশুর
চেয়েও
নাজুক।
তাই
লালন-পালন
শব্দবন্ধটি
খুব
জুতসই)
জন্য,
সরকার
ছাড়াও
আরো
অনেক
অংশীজনের
সম্পৃক্ততা
প্রয়োজন।
যেমন
দক্ষ
জনবল
(কর্মী হিসাবে),
সাধারণ
জনগণ
(গ্রাহক বা
ক্রেতা
হিসাবে),
মিডিয়া,
করপোরেট,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,
আইনপ্রণেতা,
নিয়ন্ত্রক
সংস্থা
ইত্যাদি।
অনেকে বলেন
করপোরেটরা,
তাদের
সামাজিক
দায়বদ্ধতা
বা
সিএসআরের
অংশ
হিসেবে
স্টার্টআপদের
সহযোগিতায়
এগিয়ে
আসা
উচিত,
কিন্তু
সেটি
কখনো
সাসটেইনেবল
বা
টেকসই
সমাধান
হতে
পারে
না।
সেক্ষেত্রে
খুঁজে
পেতে
হবে,
উভয়
পক্ষের
জন্য
উইন
উইন
বা
লাভজনক
কোনো
সমাধান।
কীভাবে
হতে
পারে
সেটি?
অথবা
ঘুরিয়ে
প্রশ্ন
করা
যায়,
স্টার্টআপে
কি
করপোরেটদের
কোনো
স্বার্থ
বা
সম্ভাবনা
আছে?
যদি
থাকে
সেটি
কী?
এবং
কীভাবে?
উদ্ভাবন: স্টার্টআপে করপোরেটদের
স্বার্থ
বা
সম্ভাবনার
মধ্যে
উদ্ভাবন
একটি
অন্যতম
দিক।
করপোরেট
মানে
হলো,
একটি
বিশাল
প্রতিষ্ঠান।
নিয়ম-নীতির
ঘেরাটোপ।
এটা
করা
যাবে
না,
সেটা
করা
যাবে
না।
এটা
করতে
হলে
এভাবে
করতে
হবে।
কর্মীদের
স্তর
বিন্যাস।
সিদ্ধান্তগ্রহণে
দীর্ঘসূত্রতা।
প্রতিষ্ঠান
বা
কর্মীদের
মধ্যে
আত্মতৃপ্তি
ও
অহমিকা।
স্বভাবতই
নতুন
কোনো
ধারণা
বা
আইডিয়ার
প্রতি
বিমাতাসুলভ
আচরণ।
এ
রকম
পরিবেশে
উদ্ভাবন
হয়
না।
অথচ
একটি
প্রতিষ্ঠান,
ছোট
বা
বড়
হোক,
সময়ের
সঙ্গে
তাল
মিলিয়ে
চলতে
হলে
প্রয়োজন
উদ্ভাবন।
অন্যদিকে
স্টার্টআপের
মূল
জীবনী
শক্তি
উদ্ভাবন।
স্টার্টআপরা
ছোট।
নিয়মকানুনের
শেকল
বাঁধা
নেই।
কর্মী
কম।
স্তরের
সিঁড়ি
নেই।
চট
করে
সিদ্ধান্ত
নেয়া
যায়।
ভুল
হলে
মুহূর্তেই
পাল্টে
ফেলা
যায়।
উদ্ভাবন
কোনো
শিউর
শট
গেম
নয়।
কিক
মারলেন
আর
বল
জালে
ঢুকে
গেল,
তা
নয়।
হাজারটা
ব্যর্থতার
পর
একটি
সাফল্য
আসতে
পারে
কিংবা
নাও
আসতে
পারে।
কিন্তু
প্রতিটি
ভুল
বা
ব্যর্থতা
ব্যয়সাপেক্ষ।
করপোরেটের
তুলনায়
স্টার্টআপে
সেই
ভুলের
ব্যয়
নগণ্য।
তাই
করপোরেট
তার
ব্যবসাসংশ্লিষ্ট
উদ্ভাবনের
জন্য
স্টার্টআপদের
ওপর
নজর
রাখতে
পারে।
সুযোগ
বুঝে
স্টার্টআপটিকে
কিনে
নিতে
পারে,
উদ্ভাবনটি
হাতে
পাওয়ার
জন্য।
কৌশলী মৈত্রী: নৌ-পরিবহনে
বিভিন্ন
ধরনের
নৌ-যান
কাজ
করে।
যেমন
সমুদ্রগামী
জাহাজ,
লাইটারেজ
জাহাজ
এবং
নদী
বা
খালে
বিচরণকারী
নৌকা।
এরা
সবাই
একই
ধরনের
কাজ
করলেও
একজন
আরেকজনের
প্রতিদ্বন্দ্বী
নয়,
বরং
পরিপূরক।
সমুদ্রগামী
জাহাজ
পণ্য
বহির্নোঙর
পর্যন্ত
নিয়ে
আসে।
লাইটারেজ
জাহাজ
সেই
পণ্য
খালাস
করে
বন্দরে
নিয়ে
যায়।
ছোট
ছোট
লঞ্চ
সেই
পণ্য
নিয়ে
যায়
নদী-বন্দর
বা
গঞ্জে।
একইভাবে
বড়
করপোরেট
অনেক
ক্ষেত্রে
প্রান্তিক
গ্রাহকের
কাছে
পৌঁছতে
পারে
না।
স্টার্টআপরা
অনেক
নমনীয়
(ফ্লেক্সিবল) ও
ব্যয়সাশ্রয়ী।
তারা
বড়
করপোরেটদের
পণ্য
বা
সেবা
স্বল্পব্যয়ে
পৌঁছে
দিতে
পারে
দেশের
আনাচে-কানাচে
বা
হার্ড
টু
রিচ
গ্রুপের
কাছে।
বাজার সম্প্রসারণ: ভারতের
টাইমস
অব
ইন্ডিয়া
গ্রুপের
অনেক
মিডিয়া
প্রতিষ্ঠান
আছে,
যেমন
পত্রিকা,
টিভি
ও
অনলাইন।
মিডিয়ার
প্রধান
আয়ের
উত্স্য
বিজ্ঞাপন।
তাদের
একটি
ভেঞ্চার
ক্যাপিটাল
(ভিসি) ফার্ম
আছে।
ওই
ভিসি
ফার্ম
বিভিন্ন
স্টার্টআপ,
যাদের
প্রচারণা
দরকার,
তাদের
যাচাই-বাছাই
করে।
স্টার্টআপটির
মূল্যায়ন
বা
ভ্যালুয়েশন
করে।
সে
ভিত্তিতে
বিনিয়োগের
পরিমাণ
এবং
তার
বিনিময়ে
কত
শেয়ার
পাবে,
তা
নির্ধারিত
হয়।
স্টার্টআপের
কোন
চ্যানেলে
(প্রিন্ট বা
ইলেকট্রনিক)
কতটুকু
সময়
বা
স্থান
দরকার
তা
বিবেচনা
করে।
দুই
পক্ষের
মতের
মিল
হলে
ভিসি
বিনিয়োগ
করে।
তবে
মুদ্রাটি
অর্থ
নয়—
(টিভির ক্ষেত্রে)
সময়
বা
(সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে)
স্পেস।
স্টার্টআপকে
তার
ব্যবহূত
সময়
বা
স্পেসের
মূল্যের
২০
শতাংশ
নগদে
ও
৮০
শতাংশ
ভিসির
বরাদ্দকৃত
বিনিয়োগ
থেকে
মেটাতে
হয়।
টাইমস
অব
ইন্ডিয়ার
কি
লাভ?
পত্রিকার
স্পেস
বা
টিভির
সময়ক্ষয়িষ্ণু।
অন্যদিকে
স্টার্টআপরা
বিজ্ঞাপনের
জন্য
সম্পূর্ণ
নতুন
ও
আকর্ষিত
বাজার।
তারা
সফল
হলে
ভবিষ্যতে
আরো
বিজ্ঞাপন
দেবে।
অন্যদিকে
সফল
স্টার্টআপের
শেয়ার
বিক্রয়
করে
মিডিয়া
গ্রুপ
আয়
অর্জন
করতে
পারে।
বিনিয়োগ বৈচিত্র্য: অনেক
করপোরেট
হাউজের
ভিসি
ফার্ম
আছে
যেমন
জিএম
যারা
তাদের
ব্যবসাসংশ্লিষ্ট
স্টার্টআপে
বিনিয়োগ
করে
থাকে।
তার
মাধ্যমে
টেকনোলজির
ভবিষ্যৎ
গতিপথ,
বাজারের
নাড়ির
খবর
সম্পর্কে
ওয়াকিবহাল
থাকতে
পারে।
এছাড়া
করপোরেটরা
তাদের
নতুন
কোনো
আইডিয়াও
স্টার্টআপদের
দিয়ে
যাচাইবাছাই
করে
নিতে
পারে।
বাজার
অথবা
টেকনোলজিতে
মিল
থাকার
কারণে
স্টার্টআপ
আর
করপোরেটের
মধ্যে
তথ্য
বা
জ্ঞানের
আদানপ্রদান
হতে
পারে।
উপরন্তু
সম্পদ
শ্রেণী
(এসেট ক্লাস)
হিসেবে
স্টার্টআপ
অনেক
সময়
আকর্ষণীয়।
বৈচিত্র্যের
জন্য
করপোরেটরা
এ
শ্রেণীতে
বিনিয়োগ
করে
থাকে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি: করপোরেটদের
মধ্যে
আমলাতন্ত্র,
কর্মীস্তর
বিন্যাস
ইত্যাদি
বিদ্যমান।
বড়
প্রতিষ্ঠান
চালানোর
জন্য
যা
অপরিহার্য।
করপোরেটে
সম্মুখসারির
কর্মকর্তা
কোনো
দিন
হয়তো
প্রধান
নির্বাহী
বা
সি
লেভেল
নির্বাহীদের
সংস্পর্শে
আসতে
পারে
না।
প্রতিষ্ঠানের
মূল
সিদ্ধান্তগুলো
তারাই
নেন
যাদের
হয়তো
গ্রাহকের
সঙ্গে
কদাচিৎ
দেখা
হয়।
পক্ষান্তরে
স্টার্টআপরা
গতিশীল,
স্তরহীন,
নমনীয়
ও
ন্যূনতম
নিয়মনীতির
প্রতিষ্ঠান।
স্টার্টআপে
অনেক
দ্রুত
সিদ্ধান্ত
নেয়া
যায়।
অধিকাংশ
কর্মী
তরুণ।
তাই
প্রাণচাঞ্চল্যে
ভরপুর।
করপোরেটরা
স্টার্টআপকে
যেমন
শেখাতে
পারে,
তেমনি
(উদার হলে)
তাদের
কাছ
থেকে
সংস্কৃতি
ধার
করে
উজ্জীবিত
হতে
পারে।
শওকত হোসেন: ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিশেষজ্ঞ