বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বিগত তিন মাসে ২০ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সামনে মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি সহসা কমছে না। দেশে দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে যে মন্দা বা মন্দার কাছাকাছি কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে গোটা বিশ্বে মেরুকরণ ঘটছে। রাশিয়া ইউরোপের কিছু কিছু দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। গোটা ইউরোপ এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বিকল্প বের করা সময়সাপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি গত জুনে বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে এবং ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর এখন গুরুদায়িত্ব পড়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আনা। একইভাবে গত মার্চে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্য মূল্যসূচক ৬০ বছরের মধ্যে রেকর্ড করে। বিশ্বব্যাংকের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদন গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস জুন ২০২২-এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে, গত শতাব্দীর সত্তর দশকের মতো অর্থনীতিতে নিশ্চলতা (স্ট্যাগফ্লেশন) দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) জুলাই ২০২২-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেটে টানা তৃতীয়বারের মতো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ হ্রাস করা হয়েছে। তাতে মন্দার দিকে ধাবিত হওয়ার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্বের অর্থনীতি এখনো টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। আমাদের অস্বস্তির কারণ হলো, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে নয়।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও লেগেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রবাসী আয় তুলনামূলক কম আসায় গত অর্থবছরে ডলারের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ফলে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ও চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। সরকারের উদ্যোগে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার মূলে রয়েছে কৃচ্ছ্র সাধন। উন্নত দেশগুলো যেখানে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেখানে আমাদের সাশ্রয়ী না হয়ে উপায় নেই। ভবিষ্যৎ সামনে খুব অনিশ্চিত। কারণ যুদ্ধ একবার শুরু হলে তা সহসা থামে না। তাছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেন সারা বিশ্বের জন্য জ্বালানি ও খাদ্যশস্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি দেশ। গোটা ইউরোপ এখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে, আসছে শীতকাল তারা কীভাবে সামাল দেবে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্ক কমানোয় সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করছে। তবে এটাও এক ধরনের বার্তা, আমাদের জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক সাশ্রয়ী হতে হবে। কেননা বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরো খারাপ হতে পারে। তখন সব দেশ তার নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা আগে বিবেচনা করবে। শুধু জ্বালানি তেল নয়, আমাদের আমদানি পণ্যের মধ্যে খাদ্যপণ্য যেমন ভোজ্যতেল, চিনি, শস্যের খরচ বেড়ে গেছে। সে কারণে আমাদের রিজার্ভের ওপর টান পড়ছে। তবে সরকার প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য অর্থাৎ বৈধ উপায়ে ডলার আনার জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, যা আগে ছিল ২ শতাংশ। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে। আগস্টে রফতানি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ, যা মাসিক ভিত্তিতে গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ। গত আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছে ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। আগস্ট ২০২১-এ এসেছিল ১ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। আমাদের এখনো যে রিজার্ভ আছে (৩৯ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন, ৩১ আগস্ট) তাতে অনায়াসে পাঁচ মাসের আমদানি বিল মেটানো যাবে। মূলত সরকার আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। সে কারণে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাইকার কাছ থেকে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চাওয়া হচ্ছে। এখানে ঋণ চাওয়ার অর্থ হচ্ছে সরকার একদিকে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে যাতে কোনো ধরনের সংকটে পতিত হতে না হয়। ঋণ চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণ গ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেরই সবচেয়ে কম।
২০২১ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ। ২০১০ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণায় কোন দেশে ঋণের নিরাপদ সীমা কী রকম হবে সে সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে জিডিপির ৭৭ শতাংশ এবং উদীয়মান অর্থনীতির ক্ষেত্রে তা ৬৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ঋণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও বৈদেশিক এবং মোট ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি নিম্ন ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি বড় কারণ হচ্ছে এর ভৌগোলিক অবস্থান (সমুদ্রসংলগ্নতা) এবং এর কর্মমুখর জনসংখ্যা। বাংলাদেশ এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং আগামী বছর তা ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমাদের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গিয়ে শিল্প খাত ও উচ্চ সেবা খাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী মোট জনগোষ্ঠীর ৬৬ শতাংশ। জনসংখ্যার নির্ভরতার হারও দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা বর্তমানে মাত্র ৫১ শতাংশ। আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলার, যা ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ঋণ চেয়েছে কারণ আমাদের অর্থনীতির সে ঋণ পরিশোধে এখনো যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ ঋণ নিলেও তা দক্ষিণ এশিয়ার সবার নিচেই থাকবে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করার ইতিহাস আছে বলেই উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ঋণ দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আমরা আমাদের মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও সুফলভোগ করা শুরু করেছি। পদ্মা সেতুর প্রথম ৬০ দিনের টোল থেকেই প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মেট্রোরেল চালু হবে। তাছাড়া কর্ণফুলী টানেলের উদ্বোধন করা হবে। সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলোকে যে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তাতে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তিমত্তা আরো বাড়বে। দক্ষিণাঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধিশালী অঞ্চল এবং সম্ভাবনা বিশাল। সেখানে দ্রুত শিল্পাঞ্চল হচ্ছে এবং সেখানকার জীবনযাত্রার দ্রুত রূপান্তর ঘটছে। কাজেই আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক শক্তি যা আছে তা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তি জোগাবে।
এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এ দুই মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলারের বিপরীতে পদক্ষেপের ফলে বৈধ উপায়ে ডলার পাঠানো সহজ ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখায় এ ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। টাকার মান ১০ শতাংশের মতো কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের দেশে আয় পাঠানো উৎসাহিত হবে। তবে এক্ষেত্রে ডলারের ব্যাংক রেট ও কার্ব মার্কেটের ব্যবধান অবশ্যই কমিয়ে রাখতে হবে। রফতানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অতি সম্প্রতি বৈশ্বিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর বাংলাদেশের সভরেন ক্রেডিট রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে। দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবি’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘বি’ অর্থাৎ স্থিতিশীল। এর মানে বাংলাদেশে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া অব্যাহত থাকবে।
সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক সাফল্য দেখালেও অনেক অর্থনীতিবিদগণ তা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তুলতে পছন্দ করেন। বিগত দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ বিগত দশকে দ্রুত বর্ধনশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মূল কারণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। আমরা দেখেছি, শ্রীলংকার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উচ্চ ধাপে থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে কীভাবে অর্থনীতি ধসে পড়েছে। সত্য, এই পৃথিবীর যেসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করেছে, সেখানে অর্থনৈতিক সূচকগুলো নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দা, ২০১১ সালের জ্বালানি তেলের সংকট (তখন বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ), কভিড-১৯-এর সময় মহা লকডাউনেও বাংলাদেশের উন্নয়ন গতি থেমে যায়নি। তাই তো কোনো বৈশ্বিক অভিঘাতই বাংলাদেশকে টলাতে পারেনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সংস্কারের ফসল। এ ভিত্তি অন্তত গত দুই দশকের, জনগণের অদম্য চেষ্টা ও টিকে থাকার মানসিকতা এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি সরকারের বিভিন্ন সহায়ক নীতির ফসল। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলো ধাপে ধাপে আরো শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। ভারত এবং পাকিস্তানের জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে তাদের দেশের সরকারগুলোর সমালোচনা করে। পাকিস্তানি পত্রিকা ডেইলি নিউজে ‘শ্রীলংকা ও পাকিস্তান: লেসন ফ্রম বাংলাদেশ মডেল’ নামক নিবন্ধে অর্থনৈতিক সংকট এড়িয়ে চলার জন্য শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক মিরাকল’ মডেল অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের ভঙ্গুর রাজনীতি এবং অর্থনীতি এখন দিশেহারা হয়ে তাদের দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রজ্ঞার দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে। তাই তো গত মাসে প্রকাশিত পাকিস্তানের আরো একটি পত্রিকা দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর নিবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতি বিগত দশকে কিছুটা রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করলেও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে প্রশংসাসূচক মূল্যায়ন করে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য মডেল বলে অভিহিত করা হয়েছে। এসবই অতি সাম্প্রতিককালের বিগত এক-দুই মাসের খবর, যখন বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছিল। পৃথিবীর উন্নত দেশসহ অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে এখনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না, একমাত্র সরকারের অর্থনৈতিক দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির এ চাপ মোকাবেলা করতে পুরো সক্ষম। তবে এজন্য অবশ্যই দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ দেয়া যাবে না। বন্দর-সড়ক, জনপথ, পণ্য চলাচল সব পরিবহন ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যতদ্রুত সম্ভব বিরতিহীন বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরে আসতে হবে। কৃষিসহ সব উৎপাদন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ সরকারি সহযোগিতা দিয়ে যেতে হবে।
ড. শামসুল আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ