কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এটি বিশ্বব্যাংক ব্যবস্থার মূল কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্যাংক খাতে একদম শুরু থেকেই সব শিখতে হয়। তাই শিক্ষানবিশ পর্যায়ের পদগুলো প্রযুক্তিনির্ভর হলে ভবিষ্যতে এআইয়ের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ কিংবা তার ভুলভ্রান্তি বের করার মতো দক্ষ মানবসম্পদের আকাল দেখা দেবে। উচ্চমাত্রার মানবিক প্রয়াস হওয়ায় বড় অংকের করপোরেট অর্থায়ন, ঋণঝুঁকি মূল্যায়ন কিংবা জটিল বাণিজ্য সমঝোতার মতো জায়গায় কেবল অ্যালগরিদমের ওপর ভরসা করা অসম্ভব।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে নীতিনির্ধারকরা কেবল প্রযুক্তি ও গাণিতিক বিষয়ভিত্তিক (স্টেম) শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। অবহেলিত হচ্ছে সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির মতো মানবিক বিভাগগুলো। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা প্রমাণ করেছে, শুধু উচ্চ আইকিউ বা গাণিতিক দক্ষতা দিয়ে সংকট এড়ানো যায় না; সেখানে প্রয়োজন ছিল বহুমুখী চিন্তাধারা ও উচ্চ মানসিক বুদ্ধিমত্তা। নির্দিষ্ট কাঠামোর মানসিকতা পরিহার করতে হলে ব্যাংক খাতে লিবারেল আর্টস ও মানবিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, বরং বিজ্ঞান ও গণিতের বিশ্লেষণী ক্ষমতার সঙ্গে মানবিক এবং ভাষাগত দক্ষতার একটি বলিষ্ঠ মেলবন্ধন ঘটানোর মাধ্যমেই বৈশ্বিক ব্যাংক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
[দ্য ব্যাংকার থেকে সংক্ষেপিত]
টিম স্কিট: যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এনপিএল মার্কেটের উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ