কনটেন্ট ক্রিয়েটর অর্থনীতি ও আধুনিক বিপণন

একসময় জনমত গঠনে গণমাধ্যম যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মতো মাধ্যমগুলো এখন আর তরুণদের আকৃষ্ট করে না। মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও এখন তরুণরা সেদিকে আগ্রহ পাচ্ছে না। তাদের অনেকেই ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো কমন প্লাটফর্মে মজা পায় না

হিরো আলম, রাকিব হাসান ও প্রিন্স মামুনরা আসলে কী বিক্রি করে তা ভেবে দেখেছেন কী? ভার্চুয়াল শিক্ষক মুনজেরিন শহীদ, ট্রাভেল ও ফিল্মমেকার নাদির নিবরাস এবং নিত্যদিন ল্যাবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা গণমানুষের কাছে হাজির করা সাব্বির আহমেদরা দৈনন্দিন শত ব্যস্ততার মাঝেও কেন নতুন ভিডিও আপলোড করেন? এগুলোর বিনিময়ে আমরা তাদের কী দিই? বিনা খরচে সব কনটেন্ট দেখা হয়। তাহলে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তারা ওই সব কনটেন্ট আমাদের সামনে হাজির করতে উদগ্রীব থাকেন কেন? অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সময়ের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। এখন গোটা পৃথিবীতে নিজের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, ক্রীড়া বা শৈল্পিক নৈপুণ্য অনলাইনে দেখিয়ে মানুষ আয় করেন। যে যত বেশি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেন তার সফলতাও তত বেশি। এজন্যই সবাই মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়। এ কাজে শুধু নিরক্ষর এবং অনেকাংশে বখে যাওয়া কিশোররাই আকৃষ্ট হচ্ছে এমন নয়। সব বয়সের মানুষই ট্রেন্ডের স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন। আর এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে অনেকে হাসির খোরাক হয়ে উঠছেন।

প্রশ্ন হলো, সবাই কনটেন্ট ক্রিয়েট করে সফল হওয়ার প্রেরণা বা সাহস কোথায় পাচ্ছে? খুব সম্ভবত তাদের সাহসের মূল ভিত্তি হচ্ছে অপরিচিত অনেকের রাতারাতি পাওয়া ব্যাপক সফলতা। এটা সত্য যে টার্গেট অডিয়েন্সের মনোযোগ আকর্ষণ বা সেটা ধরে রাখার জন্য সবসময় বিদ্যা-বুদ্ধি, দক্ষতা-অভিজ্ঞতা কিংবা বিনিয়োগের দরকার হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া না থাকা, কনটেন্ট নির্মাণে বিশেষ প্রশিক্ষণ না নেয়া কিংবা রাজধানী থেকে দূরে থাকাও অনেকের সফলতার পথে বাধা হচ্ছে না। তাই পাবলিক অ্যাটেনশন পেতে হুজুগে অনেকেই সক্রিয় হচ্ছেন। শর্টস ও রিলসের যুগে মিনিট খানেকের ভিডিও আপলোড করে শুধু পেঁয়াজ কাটা দেখিয়ে ২৩ মিলিয়ন কিংবা কাঁচা ফলমূল খেয়ে ৩১ মিলিয়ন ভিউ পাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বলা হয়, দুনিয়াতে সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তির অধিকারী হলো গোল্ডফিশ। কোনো বিষয় তারা ৯ সেকেন্ডের মধ্যেই ভুলে যায়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বর্তমান বিশ্বে মানুষের মনোযোগের সময়সীমা তারচেয়েও কম! মানুষ আজকাল কোনো বিষয়ে গভীরভাবে মনোযোগী হতে পারছে না। গবেষণা বলছে এর পরিমাণ ৮ সেকেন্ড; ভবিষ্যতে আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ২০০ পৃষ্ঠার একটা বই পড়া কিংবা ২০ মিনিটের একটা অতি দরকারি ভিডিও দেখা অনেকের কাছেই অসম্ভব বলে মনে হয়। এভাবে আমাদের চারপাশে ‘মনোযোগের দুর্ভিক্ষ’ প্রবল হচ্ছে। এ গতিতে চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব কেমন হবে তা অনুমান করাও কঠিন।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী তরুণ এক প্রজন্ম গড়ে উঠেছে যাদের জীবনযাপনের ধরন পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলো থেকে ভিন্ন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব পণ্যে এ প্রজন্মের তরুণদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এদিকে তাদের খাদ্যাভ্যাস, বিনোদন, জীবনযাপন প্রণালি এমনকি পড়ালেখার কিছুই মা-বাবার প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না। তারা নিজেদের অজান্তেই বড় এক কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা চারপাশকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে। এমনকি কোনো পণ্য গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে তারা ব্র্যান্ডগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। এ প্রজন্ম সংখ্যায় পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি। তাই তাদের রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি বা কেনার অভ্যাসকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ প্রজন্ম ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে। নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জীবনবোধের চেয়ে তারা বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এমন চর্চায় অতি সফল অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। কোডাক, কমপ্যাক, নকিয়া, ব্লকবাস্টার ও রিডার্স ডাইজেস্টের মতো ব্র্যান্ড বিলুপ্ত হয়েছে।

অন্যদিকে নিত্যনতুন বৈশিষ্ট্যের পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বের সেরা ১০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে সাতটিই প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা দ্রব্যাদির দাপট কমে তরুণদের প্রত্যাশামাফিক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এও লক্ষ করা দরকার, প্রযুক্তিপণ্যের জীবনচক্র অত্যন্ত ছোট হয়ে গেছে। আগের দিনে গবেষণার মাধ্যমে একটা পণ্য উদ্ভাবন করলে তা থেকে বহুদিন ব্যবসা করা যেত। কিন্তু এখন দ্রুতই সেগুলোতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তরুণদের মধ্যে চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে বলে এমনটা হচ্ছে। এতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাপন ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। গত দুই দশকে প্রচলিত বিজনেস মডেলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে উৎপাদনকারী নিজ চেষ্টায় মূলধন সংগ্রহ, কাঁচামাল মজুদ, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির মাধ্যমে একটা ফিনিশড প্রডাক্ট তৈরি করত। তারপর মার্কেটিং টিম সেগুলোর প্রমোশন ও বণ্টন করত। পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অসংখ্য ঝুঁকি জড়িত থাকত। বর্তমানে সেই ধারার বাইরে ব্যতিক্রমধর্মী এক বিজনেস মডেল ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকটা ‘কইয়ের তেলে কই ভাজা’র মতো। যেমন গুগল-ফেসবুক-ইউটিউব নিজে কোনো কনটেন্ট তৈরি করে না। বরং তারা একটা ব্যবহারকারীবান্ধব প্লাটফর্ম তৈরি করে সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন সেগুলোতে ইনপুট দিচ্ছে। এতে তাদের কালেকশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ভোক্তারা নিজেদের চাহিদামতো সেগুলো থেকে সেবা নিচ্ছে। মাঝখানে কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ বানাচ্ছে।

একইভাবে অ্যামাজন, দারাজ কিংবা রকমারি ডটকম নিজেরা সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো উৎপাদন করে না। কিন্তু তাদের কাছে বৈচিত্র্যময় সব পণ্য পাওয়া যায়। আবার ফুডপান্ডার নিজস্ব কোনো রেস্টুরেন্ট নেই, উবার-পাঠাওয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন গাড়ি নেই, নেটফ্লিক্স নিজে মুভি বানায় না। অথচ তারা প্রতিদিন অতি দক্ষতায় কোটি কোটি সেবাগ্রহীতার চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। এভাবে উৎপাদনকারী ও ভোক্তার যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার মধ্যস্থকারবারিরা এখন নিজেরাই অতি প্রভাবশালী ব্র্যান্ড হয়ে উঠছে। এতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা উভয় গোষ্ঠী তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো অনেক বেশি মুনাফা করছে।

এভাবেই বিশ্বের সিংহভাগ সম্পদ হাতে গোনা কিছু টেকজায়ান্টের হাতে চলে গেছে। তারা গোটা দুনিয়ার নিয়ম-কানুন ঠিক করছে। কোন দেশে কারা ক্ষমতায় আসবে বা থাকবে সেটাও তারা সেট করছে। সেক্ষেত্রে তরুণদের মেধা ও শক্তি দক্ষতার সঙ্গে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করছে। ফলে ব্যবসা শুধু মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। আমাদের তরুণরা বিশ্বব্যাপী এমন অসংখ্য সাইট, অ্যাপস বা কমিউনিটির সান্নিধ্যে গিয়ে নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। অন্যদের নির্দেশিত পন্থায় নিজেদের চাইতে অন্যদের স্বার্থরক্ষায় বেশি মনোযোগী হচ্ছে। এমন প্রবণতায় মা-বাবা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হচ্ছে; পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের যুগে কেউ তাতে লাগাম টানার সাহস পায় না। ক্রমেই তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের চাহিদা, আনন্দ প্রকাশের ধরন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ পদ্ধতি... সব কিছুতে বড় একটা পার্থক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। বাবা-মায়ের শেখানো পন্থায় চলতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। বহু পণ্য কেনার ক্ষেত্রে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। পণ্যের এমন পরিবর্তিত ভোগ প্রবণতা তাদের সামগ্রিক লাইফস্টাইলকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে। বহু পরিবারে তাদের আচরণ ও কাজকর্ম গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না; ঘরে অশান্তি বাড়ছে। বহুক্ষেত্রে তারা বিপথগামী হচ্ছে। সর্বোপরি ওই জাতীয় পণ্যের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে।

একসময় জনমত গঠনে গণমাধ্যম যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মতো মাধ্যমগুলো এখন আর তরুণদের আকৃষ্ট করে না। মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও এখন তরুণরা সেদিকে আগ্রহ পাচ্ছে না। তাদের অনেকেই ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো কমন প্লাটফর্মে মজা পায় না। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সর্বজনবিদিত মাধ্যম এড়িয়ে চলে। তারা যোগাযোগ ও বিনোদনের জন্য এমন কিছু মাধ্যম বা উৎসের ওপর নির্ভর করে যা সম্পর্কে অভিভাবকদের জানা সম্ভব হয় না। বহুক্ষেত্রে মা-বাবা সন্তানদের ভার্চুয়াল বিচরণ ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকেন। এতে সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ডার্কওয়েবে তাদের সরব উপস্থিতি এবং অগ্রহণযোগ্য পণ্যদ্রব্যের বেচাকেনা বাড়ছে; অজ্ঞাতসারে অস্ত্র ও নেশাজাতীয় বস্তুর প্রসার ঘটছে।

বাহ্যিকভাবে তরুণ প্রজন্ম লেটেস্ট মডেলের আইফোন, দামি মোটরবাইক, খ্যাতিমান ব্র্যান্ডের ফাস্টফুড, অতি উচ্চ দামের ফ্যাশন পণ্য কিনতে মরিয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে। নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিবর্তে তারা ওই সব ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজেদের মর্যাদা বাড়াতে চাইছে। বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো দক্ষতার সঙ্গে কার্ল মার্ক্স বর্ণিত ‘কমোডিটি ফেটিশিজম’-এ তাদের অভ্যস্ত করে তুলছে। আজকাল বহু মানুষ তাদের ব্যবহৃত পণ্যের মূল্য দিয়ে নিজেদের সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ করছে। আর সে কারণেই শুধু লেটেস্ট মডেলের আইফোন কিনতে সিঙ্গাপুর চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেকে অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছেন। যেভাবেই হোক পণ্য বা সেবা পেতেই হবে—এমন এক ধরনের মানসিকতা গড়ে উঠেছে। এমন ভাবনার বিস্তার ভীষণভাবে সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

বিষয়টি ভাবতে গিয়ে শেখ সাদীর বিখ্যাত ‘পোশাকের মর্যাদা’ গল্পটি মনে পড়ে। মূল কথা ছিল: তিনি একবার রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। পথিমধ্যে রাত হলে এক বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। বাড়ির মালিক তাকে অতি সাধারণ মানুষ ভেবে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করলেন। কিছুদিন পর তিনি রাজার কাছ পাওয়া মূল্যবান পোশাক পরে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাক্রমে রাতে আবার সেই বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। এবার বাড়ির কর্তা তাকে ধনী ভেবে দামি সব খাবার পরিবেশন করলেন। খেতে বসে তিনি সবাইকে বিস্মিত করে খাবারগুলো না খেয়ে পকেটে ঢোকাতে শুরু করলেন। বাড়ির মালিক তখন সবিস্ময়ে এমনটা করার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, ‘এ খাবারগুলো তো আমার পোশাকেরই প্রাপ্য। কারণ সেই রাতে মলিন পোশাকের কারণে আপনি আমাকে এমন ভালো খাবার দেননি! পোশাককে মর্যাদা না দিয়ে মানুষকে মূল্যায়ন করলে তো আপনি তখনো একই মানের খাবার দিতেন... গল্পের মতো আমরাও প্রাত্যহিক জীবনে মানুষের চেয়ে পোশাককে বেশি মর্যাদা দিতে গিয়ে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না তো? বিষয়টা ভাবার সময় এরই মধ্যে অনেকটা পেরিয়ে গেছে।

ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক

আরও