নিজের শিক্ষক রবার্ট উইলসনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘নিলামতত্ত্ব সমৃদ্ধ করেছেন এবং নিলামের নতুন ফরম্যাট আবিষ্কার করেছেন’ নোবেল সাইটেশনে এ কথাই বলা হয়েছে। তারা দুজন ২০২০ সালের অর্থনীতির নোবেলজয়ী।
ছাত্র যে শিক্ষককে সাফল্যের সঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন বব উইলসন বারবার এ কথা বলেছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তার কাজের যে পরিধি ও বৈচিত্র্য এ কথা সত্য বলেই মানতে হবে। পুরস্কার ঘোষণার সময়ও তার নামই প্রথমে বলা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা তাদের বিষয়টি বিজ্ঞান বলতে পছন্দ করেন— ইকোনমিক সায়েন্স; সমালোচকরা একে সামাজিক বিজ্ঞান আখ্যা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে প্রায় ফিকশনে নিয়ে আসেন—অর্থনীতি ও ফিকশন দুটোই কল্পকথা। যারা পল মিলগ্রমের কাজগুলো নিবিড়ভাবে দেখার চেষ্টা করবেন, তারা বলবেন অর্থনীতিকে ভিন্নভাবে দেখার সময় এসেছে। পল মিলগ্রম মূলত গণিতের মেধাবী ছাত্র এবং তার অর্থনৈতিক গবেষণার একটি বড় অংশ জুড়ে আছে আধুনিক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তিনি প্রায় সব অর্থনৈতিক সমস্যা এবং অর্থনীতির সমস্যাকে গাণিতিক মডেলে দেখতে চেয়েছেন, দেখেছেন এবং বিশ্লেষণ করেছেন। গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিজেকে তত্ত্বকথার এবং মডেল তৈরির অর্থনীতিবিদ মনে করলেও সরে এসেছেন ফলিত জ্ঞানে, প্রায়োগিক দিকটিতে। তার ও তার সঙ্গে জোট বাঁধা সঙ্গীদের (উইলসন-মিলগ্রম, মিলগ্রম-রবার্টস প্রমুখ) সব আবিষ্কার মাঠে প্রয়োগ করে তাত্ত্বিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রেই, অন্তত রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনে ন্যূনতম সততা রক্ষা না করলে উইলসন-মিলগ্রম নিলামতত্ত্বের খুঁত বেশি ধরা সম্ভব হবে।
পল মিলগ্রমের জন্ম ২০ এপ্রিল ১৯৪৮ মিশিগানের ডেট্রয়টে ইহুদি পরিবারে, চার পুত্রের দ্বিতীয় তিনি; তার পরিবার মিশিগানের ওক পার্কে বসতি স্থাপন করলে সেখানকার ডেউই স্কুল এবং ওক পার্ক হাইস্কুলের পাঠ শেষ করে ১৯৭০ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি সানফ্রান্সিসকো এবং ওহাইওতে বেশ কয়েক বছর বীমা গণনাকারী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৮ সালে স্ট্যানফোর্ড ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল থেকে পরিসংখ্যানে এমএস এবং ১৯৭৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার থিসিস অ্যাডভাইজার রবার্ট উইলসন ২০২০ সালে তার সঙ্গে সহনোবেলজয়ী।
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে ১৯৭৯-৮৩ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। গেম থিওরি ও তথ্য অর্থনীতির আলোকে যারা আধুনিক অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রায়োগিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, এমন একটি অধ্যাপক সংঘের সঙ্গে মিলগ্রম কাজ করেছেন। অন্য অধ্যাপকদের মধ্যে রয়েছেন পরবর্তীকালের নোবেল বিজয়ী রিচার্ড স্টোন (১৯৮৪), রোজার মেয়ারসন (২০০৭), বেঙ্গট হোমস্ট্রম (২০১৬) এবং অধ্যাপক ন্যান্সি স্টোকি, রবার্ট ওয়েবার, জন রবার্টস ও মার্ক সেটার্থওয়েট। আর তার নিজের পিএইচডি সুপারভাইজার রবার্ট উইলসন (২০২০) তো রয়েছেনই। তারা যে বিষয়গুলোর ওপর কাজ করেছেন সেগুলো হচ্ছে মূল্যনির্ধারণ, অর্থনৈতিক বাজার, নিলাম ও শিল্প সংগঠন।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বাজার অর্থনীতির সনাতন দর্শনে যারা আঘাত করেন, তাদের অন্যতম পল মিলগ্রম। চাহিদা জোগানের সনাতন তত্ত্বই বাজারের সব সমস্যা মেটানোর ধন্বন্তরি মহৌষধ তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। মিলগ্রম ও তার সহকর্মী বন্ধুরা দেখেন অনেক অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার দিতে পারে না, সেখানে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়ে। এসব সমস্যা এককভাবে সংশোধন, মেটানোর দক্ষতা ও জ্ঞান রাষ্ট্রেরও নেই। এসব ক্ষেত্রে মিলগ্রম ও উইলসনের মতো অর্থনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হয়—যাতে বাজারের কোনো স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
পল মিলগ্রম বব উইলসনের সঙ্গে নিলামতত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তার কাজের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি উইলসনের চেয়ে বেশ বড়। তিনি বিতরণগত কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন রবার্ট জে ওয়েবারের সঙ্গে; এজেন্সি থিওরিতে তার সহকর্মী ২০১৬-এর নোবেল বিজয়ী বেঙ্গট হোমস্ট্রম। ইনফরমেশন ইকোনমিকসের অন্যতম প্রবক্তা তিনি। তথ্যসমৃদ্ধ হলেই কোনো বিক্রেতা একিট নির্দিষ্ট পণ্য নিয়ে ‘পার্চুয়েশন গেম’ খেলার সুযোগ পায়। এখানেও জন রবার্টস হলেন তার সহগবেষক। তিনি সংগঠন অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। যাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন জন রবার্টস, বেঙ্গট হোমস্ট্রম ও মার্গারেট মেয়ার। শিল্প সংগঠন মূলত জর্জ একারলফ, জোসেফ স্টিগলিজ এবং মাইকেল স্পেন্সের হাত ধরে ১৯৭০-এর দশকে গড়ে ওঠা একটি বিষয়। অপূর্ণ তথ্যের বেলায় গেম থিওরিতে এগিয়ে নিয়ে তাত্ত্বিক শক্তি প্রদানে কাজ করেছেন মিলগ্রম, উইলসন রবার্টস ও ক্রেপস।
তার আরেকটি গবেষণার ক্ষেত্র হচ্ছে আইন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক ইতিহাস। আশির দশকের শেষে তিনি শ্রমবাজার নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং শ্যারন ওস্টার পরবর্তীকালে বব হলের সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা চালান। যেসব পরিস্থিতিতে শ্রমিক দরকষাকষির শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ে, তিনি তার ওপর আলোকপাত করেন।
বব উইলসনের সঙ্গে নিলাম নিয়ে তার তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তীকালে ব্যবহারিক প্রয়োগ নিলাম সংস্কৃতি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে! বিশ্বব্যাপী তা এখন ব্যবহূত, যেমন বিটিআরসির ফ্রিকোয়েন্সি বণ্টন নিলাম।
শিক্ষক বব উইলসন ও ছাত্র পল মিলগ্রমের মধ্যে বড় ধরনের তফাতটি হচ্ছে উইলসন মূলত দার্শনিক, অর্থনীতির কল্যাণকর দর্শন তার অন্বিষ্ট, আর পল মিলগ্রম প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রায়োগিক। বব উইলসন নিলামের তত্ত্বগুরু হলেও নিজে কোনোদিন স্টেকহোল্ডার হিসেবে নিলামে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকেই পল মিলগ্রম পরামর্শদাতা কোম্পানি খুলে বসেন।
ভারতীয় অর্থনীতিবিদ মনে করেন টেলিকম সেক্টরে মিলগ্রম-উইলসন সমাধান ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবত বাংলাদেশেও। যদি তাই হয়ে থাকে, তার প্রধান কারণ দুর্নীতি।
তাহলে কি তাদের জটিল নিলাম প্যাকেজে দুর্নীতির জন্যও পরিসর সৃষ্টি করতে হবে?
ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে পল মিলগ্রম
পল মিলগ্রম ১৯৬৫-৭২ পর্যন্ত মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন। তার মূল পাঠ্য ছিল গণিত। তিনি কেমন করে যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িয়ে গেলেন, সে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বললেন:
গল্প বলি শুনন। আমি ছিলাম যুদ্ধিবিরোধী শোভাযাত্রা সংগঠন কমিটিতে। একজন প্রস্তাব করল ‘ফুটবল খেলা শেষ হওয়ার পর পরই আমরা শোভাযাত্রা করব, তখন অনেক লোক থাকব।’ অন্য একজন বলল, ‘যুদ্ধবিরোধীরা ফুটবল খেলায় যায় না।’ আমি বললাম, ‘আমি ফুটবল খেলা দেখতে যাই? আর কে কে যায়?’ অনেক হাত উঠল।
সে সময় ছাত্রছাত্রীদের প্রায় সবাই ছিল যুদ্ধবিরোধী। গণিত, ইতিহাস, শিল্পকলা, ইঞ্জিনিয়ারিং সব বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে, আবার যখন বো শেমবেখলার আমাদের কোচ হয়ে এলেন, তারা ফুটবলেও যোগ দিয়েছে। বাধ্যতামূলক যোগদানের বিরোধিতা করেন, যুদ্ধবিরোধী লিফলেট-পোস্টার বিতরণ করেন। তার কক্ষে মাইলাই হত্যাকাণ্ডের পোস্টার টাঙানো ছিল। একটি সিট-ইন বিক্ষোভের সময় তিনি গ্রেফতার হন। তাকে ১০ দিন সমাজকর্ম করার সাজা দেয়া হয়। তখন ছিল ভয়ংকর শীত। যারা আমাদের দিয়ে কাজ করাবে শীতে জমে যাওয়ার ভয়ে তারাই ট্রাকের কেবিনে বসে থাকত। পরবর্তী সময়ে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।
অ্যাডাম স্মিথ-পল মিলগ্রম: মধ্যরাতের কথোপকথন
অ্যাডাম স্মিথ যখন পল মিলগ্রমকে ফোনে পেলেন জিজ্ঞেস করলেন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটা কেমন করে পেলেন?
পল মিলগ্রম: আমার দরজার বেল বাজছিল, আমার সামনের দরজায় টোকা দিচ্ছিলেন বব উইলসন, বুঝতে পারছি তিনি আমার সঙ্গে সহবিজয়ী। কেউই আমাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। কাজে তিনি জানালেন ২০ মিনিট বা তার কিছু আগে।
অ্যাডাম স্মিথ: আমার মনে হয় এই প্রথম একজন নোবেল লরিয়েট অন্য লরিয়েটের দরজায় টোকা দিয়ে খবর জানিয়েছেন। আপনারা দুজন কি খুব কাছাকাছি থাকেন?
পল মিলগ্রম: আমরা দুজন রাস্তার এপার আর ওপার। তিনি ও তার স্ত্রী এসে দরজার বেল বাজালেন, ঘরে ভিডিও ডোরবেল আছে; আমি জবাব দিলাম তিনিই এসেছেন।
অ্যাডাম স্মিথ: ঘুম থেকে জেগে ওঠার বেশ পদ্ধতি! আপনি তো বললেনই আপনি রবার্ট উইলসনের বিস্ময়কর রকম কাজের মানুষ। আপনি তার ছাত্র ছিলেন। একসঙ্গে দুজনের নোবেল পাওয়া একটি অসাধারণ ব্যাপার বটে।
পল মিলগ্রম: বিস্ময়কর বটে। তিনি আমার পিএইচডি গবেষণায় উপদেষ্টা ছিলেন। আমি যে কারণে নিলামের মতো একটি বিষয়কে আমার পিএইচডির জন্য নির্বাচিত করেছিলাম, তা হচ্ছে বব উইলসনকে আমার পিএইচডি অ্যাডভাইজার হতে আগ্রহী করা। তাকেই যেন অ্যাডভাইজার (ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সুপারভাইজার) হিসেবে নিই—এ সুপারিশ সবাই করেছেন। আমি তাদের বললাম, ঠিক আছে। তাহলে তো তিনি আগ্রহী হতে পারেন, এমন একটি বিষয়ই আমাকে বেছে নিতে হবে। তিনি আমার পছন্দে সত্যিই উদ্দীপিত হলেন—এখন তো দেখতেই পাচ্ছেন, এর মধ্যে কত কিছু ঘটে গেছে।
অ্যাডাম স্মিথ: আপনারা দুজন এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন ম্যাজিকটা কী?
পল মিলগ্রম: ভালো প্রশ্ন—আমরা দুজনই একটু অসামাজিক ধরনের, বইপত্র নিয়ে থাকি। আমাদের ভেতরের জাদুটা কী, বলতে পারব না। তবে আমরা কিন্তু যৌথভাবে খুব বেশি প্রজেক্ট করিনি। নোবেল ফাউন্ডেশনের সাইটেশনে কী বলা হয়েছে আমি জানি না...।
অ্যাডাম স্মিথ: নিলামতত্ত্ব সমৃদ্ধ করা এবং নিলামের নতুন ফরম্যাট আবিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে।
পল মিলগ্রম: ১৯৯৩ সালে আমি মোটেও বাস্তব বিষয় নিয়ে কাজ করছিলাম না। আমি আর বব অর্থনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিলাম। তখন যুক্তরাষ্ট্রে রেডিও-স্পেকট্রাম নিলাম করা জরুরি হয়ে পড়েছিল—এখন তো সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে। তখন কংগ্রেস কেবল নিলাম অনুমোদন করেছে। এর সঙ্গে অনেক জটিলতা জড়িয়ে, এক্ষেত্রে কেমন করে নিলাম ডাকতে হবে কেউ জানেন না। তারা যখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করল, রেডিও-স্পেকট্রাম কেমন করে নিলামে তুলবে, সে সম্পর্কে আমিও কিছু জানি না। তারা তাদের একটি প্রস্তাব আমাকে দেখালে বললাম, কোনটা সবচেয়ে ভালো প্রস্তাব হবে আমি বলতে পারব না, তবে এর চেয়ে ভালো প্রস্তাব আমি তৈরি করে দিতে পারব। আমি বব উইলসনের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলাম। কারো কাছে কোনো ক্লু নেই—কেমন করে এগোবে তাও জানা নেই; কিন্তু তার পরও আমরা একত্রে মিলে এই নিলামের একটি প্রায়োগিক পরিকল্পনা দাখিল করলাম—এটা সারা পৃথিবী এখন ব্যবহার করছে।
অ্যাডাম স্মিথ: কিন্তু এখন তো অনেকের জন্যই ব্যাপারটা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির চেয়ে বড় কিছু—অর্থনীতিতে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাধির প্রভাব। আপনারা দুজন মিলে নীতিপ্রণেতাদের জন্য যেমন নিলাম পরিকল্পনা করেছেন, তা ব্যক্তি পর্যায়ে কেমন করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রদান করবে?
পল মিলগ্রম: এখনকার বিশেষ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সম্পদ/সামগ্রী বরাদ্দের সমস্যা সমাধান এবং কেমন করে সেই বাজার সৃষ্টি করা যাবে, যা দক্ষতার সঙ্গে বণ্টন করতে পারবে। তবে এ সময়ের জন্য এগুলোর চেয়ে বড় সমস্যা ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও তৈরি—মেডিকেল চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ সম্পদসহ সব ধরনের সম্পদ বণ্টনে দক্ষ পরিকল্পনা আবশ্যক।
সবশেষে অ্যাডাম স্মিথ তাকে একটি রোমান্টিক স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন—স্টকহোমে এক নোবেল ব্যাঙ্কুয়েটেই তার স্ত্রী ইভা মেয়ারসনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। পল বলেন, তা ঠিক ১৯৯৬ সালে। ইভা মেয়ারসন মিলগ্রম আমেরিকান-সুইডিশ সমাজবিজ্ঞানী এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক। সেবার তার উপস্থিতির কারণটিও স্মরণীয়। ১৯৯৬ সালে বিকৃত তথ্যের বাজারে প্রণোদনার অর্থনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে কাজ করা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম ভিকরি ৮২ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পান। পুরস্কার পাওয়ার ঠিক তিনদিন পর নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেমিনার থেকে ফিরছিলেন। তাকে পাওয়া যায় স্টিয়ারিং হুইলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়—বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। ডিসেম্বরে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তার হয়ে নোবেল ভাষণ দেন পল মিলগ্রম। ২৪ বছর পর পল মিলগ্রম নিজের ভাষণই দেবেন কিন্তু স্টকহোমে গিয়ে নয়, স্ট্যানফোর্ড থেকেই প্রযুক্তির সহায়তায়। বিশ্বব্যাধি করোনাভাইরাসের কারণে এবার সুইডিশ রাজার উপস্থিতিতে প্রেজেন্টেশন সেরিমনি এবং ব্যাঙ্কুয়েট অনুষ্ঠিত হবে না।
ড. এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা