সাত সতেরো

বস্তু নয়, বোধের সংকট!

এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোকের চুল পড়ে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মাথাটা প্রায় স্টেডিয়াম হওয়ার দশা। এক সহকর্মী খুব আন্তরিকভাবে জিজ্ঞাসা করল—ভাই, আপনার চুল উঠে যাচ্ছে কেন? তিনি বললেন, চিন্তায়। আবারো জানতে চাইল, কিসের এত চিন্তা? তখন ভদ্রলোক মনমরা হয়ে বললেন, চুল ওঠার চিন্তায়!

এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোকের চুল পড়ে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মাথাটা প্রায় স্টেডিয়াম হওয়ার দশা। এক সহকর্মী খুব আন্তরিকভাবে জিজ্ঞাসা করল—ভাই, আপনার চুল উঠে যাচ্ছে কেন? তিনি বললেন, চিন্তায়। আবারো জানতে চাইল, কিসের এত চিন্তা? তখন ভদ্রলোক মনমরা হয়ে বললেন, চুল ওঠার চিন্তায়!

বুঝতে পারছেন, তার সমস্যার গভীরতা? শুধু অকালে চুল ওঠার চিন্তা বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু নগরজীবনে গত কয়েক দশকে একটা বড় গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে, যারা তথাকথিত সমস্যাগুলো পুষতে পছন্দ করে। মাঝেমধ্যে অনেকের সমস্যার বিবরণ শুনে মনে হয়, এটা নিতান্তই ‘দুঃখবিলাস’ বৈ কিছু নয়!

এ বিষয়ে এক স্যারের শোনা একটা গল্প মনে পড়ছে। সেটা হলো, স্বামীকে অফিসের উদ্দেশে বিদায় জানানোর সময় দরজায় দাঁড়িয়ে স্ত্রী বললেন, ফেরার সময় মনে করে অবশ্যই এন্টাসিড আনবে। স্বামী সম্মতি জানিয়ে বিদায় নিলেন। পাশের ফ্ল্যাটের ভাবি সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দরজায় কান পেতে কথোপকথন শুনছিলেন। আলোচ্য ‘এন্টাসিড’ জিনিসটা কী, সে বিষয়ে ধারণা না থাকায় মনটা দ্রুতই অস্থির হয়ে উঠল।

দুপুরে কাপড় মেলতে ছাদে গিয়ে কোনো ভনিতা না করে সেই ভাবীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা—এন্টাসিড জিনিসটা কী? ভদ্রমহিলা একটু চুপচাপ স্বভাবের। তাই শুধু বললেন, আমার গ্যাস্ট্রিক আছে তো, তাই মাঝেমধ্যে ওটা লাগে। অনুসন্ধানী ভদ্রমহিলা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। গাড়ির যেমন পেট্রল লাগে, দেয়াল ঘড়ির জন্য ব্যাটারি...তাহলে এন্টাসিড জিনিসটা কি তেমন কিছু? একা চিন্তা করে কূলকিনারা করতে পারলেন না। ফলে ফোন করে স্বামীকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বললেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে শুধু বললেন, ফোনে বলা সম্ভব নয়।

বড় বিপদের শঙ্কা মাথায় নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে স্বামী ঘরে ফিরলেন। ততক্ষণে মাশাআল্লাহ ভাবী উপসংহারে পৌঁছে গেছেন। তাই ঘরে ফেরামাত্রই স্বামীকে বললেন, আমার গ্যাস্ট্রিক চাই! স্বামী বেচারা বুঝে উঠতে পারছেন না, বউ এসব কী বলছে! কিন্তু স্ত্রীর একটাই কথা—আমার গ্যাস্ট্রিক চাই এবং সেটা আজই, এক্ষুনি।

গৃহশান্তি রক্ষার্থে স্বামী কথা দিলেন, তিনি গ্যাস্ট্রিক এনে দেবেন। তবে কোন পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী সেটার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন, তা জানতে চাইলেন। তখন বউ খুব আহ্লাদ করে বলল: বা রে, পাশের বাসার ভাবীর গ্যাস্ট্রিক থাকবে আর আমার থাকবে না, সেটা হয়! তাহলে আমি মুখ দেখাব কেমন করে?

এটা নিতান্তই গল্প, বাস্তবতার সঙ্গে মেলানোর দরকার নেই। তবে আজকাল অনেকেই অহরহ এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাবখানা এমন যে সবার সমস্যা থাকে অথচ আমার কোনো সমস্যা নেই, সেটা কেমন কথা? অনেকটা সেই ব্যক্তির মতো, যিনি ব্লাড প্রেসার মাপতে গিয়ে ‘প্রেসার অনেক বেশি দেখায় কিনা’, সেই টেনশনে রক্তচাপ বাড়িয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে মাথা হ্যাং হয়ে যায়। এসি-ফ্যান সব চালিয়েও শান্তি পান না। পরিচিত ডাক্তারদের ফোন করে ব্যতিব্যস্ত রাখেন!  

অর্থকষ্টে ভোগা লোকেরা ভাবে, অনেক টাকা থাকলে জীবনে বুঝি শুধু সুখ আর সুখ! অনেকে কল্পনা করে, অফিসের টপ বস কিংবা বাড়িওয়ালা লোকটা কতই না সুখী! কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি এমন সব ঝামেলা এসে হাজির হয়, যা হজম করা বেশ কঠিন। গল্পে বর্ণিত স্বামী বেচারার কথাই ভাবুন। অশান্তি এড়াতে ‘রাগ’ করতে পারছেন না। আবার অসময়ে অফিস থেকে টেনে এনে এমন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়ে আলোচনা হজম করাও মুশকিল। ফলে প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রিক এনে দেবেন, তবুও একটু শান্তি চান।

কিন্তু চাইলেই কি সব পাওয়া যায়? যারা এরই মধ্যে বিপুল বিত্ত-বৈভব অর্জন করেছেন, তাদের একটু খোঁজখবর নেন। বস্তুতই যদি সুখের নিশ্চয়তা দিত, তবে সব বিত্তবানই প্রচণ্ড সুখী হতেন। কিন্তু তাদের অনেকের অবস্থা দেখলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। এই যেমন একটা মিষ্টি খাওয়ার আগে ‘সুগার লেভেল’ মেপে দেখা! কাপ দিয়ে পরিমাপ করে ভাত খাওয়া। পেটে গ্যাসের অত্যাচারে সারা রাত ঘুমাতে না পারা— এমন হাজারো সমস্যায় তারা জর্জরিত!

অতিসচেতন লোকেরা আগে মাঝেমধ্যে ব্লাড প্রেসার মাপত। এখন নিত্যদিন শরীরের তাপমাত্রা, ওজন, চেস্ট-ওয়েস্ট, সুগার লেভেল, অক্সিজেনের লেভেল, কোলেস্টেরলের মাত্রা...আরো কত কী যে মাপে! অথচ একজন রিকশাওয়ালা কিংবা মুদি দোকানের কর্মচারী একটু বসলেই ঘুম পায়। সামনে যা আসে, তৃপ্তি সহকারে তা-ই খায়। তাতে সুগার, ফ্যাট না কোলেস্টেরল বেশি তা জানেও না, জানার দরকারও হয় না। তাই এটা সত্যিই এক আজব ধাঁধা: আসলে কারা সুখে আছে?  

এবার একটু গ্রামের দিকে নজর দেয়া যাক। মা-বাবা সকাল-সন্ধ্যা সন্তানদের অসংখ্য নসিহত করেন। তন্মধ্যে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হলে উল্লেখযোগ্য হলো: লেখাপড়া করার দরকার নাই; কাল থেকে মাঠে কৃষিকাজ (লাঙল ঠেলা, গরু চরানো ইত্যাদি) করবি। তখন বুঝবি চাষাদের জীবনের ঠেলা কেমন! অন্যদিকে মেয়েদের প্রায়ই মায়েরা বলেন: ঠিকমতো লেখাপড়া কর। নইলে আমার মতো সারা জীবন হাঁড়ি ঠেলতে হবে!

এই উপমা দুটো আমার কাছে ভয়ংকর ঠেকে। কারণ প্রথমত, সেই মা-বাবা অহরহ সন্তানদের বোঝান যে সমাজে তারা মোটেই শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো জায়গায় নেই। এ জীবনে তারা বড়ই অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত! হয়তো সে কারণেই সন্তানরাও এক পর্যায়ে তাদের আর শ্রদ্ধা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না! কারণ তারা নিজেরাই বারবার এটা স্বীকার করছেন যে তাদের কর্ম ও জীবন শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো নয়!

তাছাড়া এ কথাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব খুবই নেতিবাচক। বাবা বোঝাচ্ছেন যে তার নিজের (কৃষি) কাজ থেকে বাঁচতে হলে ভালো লেখাপড়া করে বড় চাকরি নিতে হবে। এটাই মুক্তির পথ। ফলে এইট পাস ছেলেটাও সাহেব হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়। পরবর্তীকালে পড়ালেখায় পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও সে কিন্তু আর কৃষিতে বা পিতার পেশায় ফিরতে পারে না। কারণ পরিবারই তাকে হাজারবার বলেছে, ওটা সম্মানজনক নয়! ফলে সে বেকার থাকবে, তবুও পৈতৃক পেশার কথা বিবেচনা করবে না।  

আবার মেয়েরা শিখছে হাঁড়ি ঠেলা মানে রান্নাবান্না করা দুনিয়ার সবচেয়ে অমর্যাদাকর কাজ! জীবনে উচ্চশিক্ষিত হয়ে চাকরি করা হলো একমাত্র সম্মানের কাজ।

রান্নাঘরে গেলেই মায়ের সেই অমিয় বাণী কানে বাজে। ভাবে আমি লেখাপড়া শিখেও ‘বুয়া’র কাজ করব কেন? অর্থাৎ পরিবারে সে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে! তাই প্রতিবাদস্বরূপ উঠতে বসতে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে রান্নাবান্না মোটেই তার কাজ নয়। অবশ্য কুকিং চ্যানেল খুললে সেটা ভিন্ন কথা।

অথচ ইউরোপ-আমেরিকায় অতিসফল মানুষেরাও সুযোগ পেলেই নিজের খাবার রান্না করে খায়। এতে কখনই নিজেকে পরাজিত বা ব্যর্থ বলে মনে করে না! তাছাড়া সেসব স্বপ্নের দেশে ‘কাজের বুয়া’র কথা কল্পনাও করা যায় না। আসলে আমরা কখনো তাদের পুরোটা অনুসরণ করতে চাই না। এই যেমন বাঙালি ইংরেজদের ভাষাটা শেখার জন্য ক্রেজি কিন্তু তাদের মতো বিনয়ী, পরিশ্রমী, সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ হতে চায় না! 

অনেকের মানসিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তার বুঝি জন্মই হয়েছে চাকরি করার জন্য। সে লেখাপড়া করেছে, হাতে কিছু সনদ আছে। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তার জন্য উন্নত চাকরির ব্যবস্থা করা! নইলে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন কোনো একটা ‘সিস্টেম করে’ তাকে একটা বড় চেয়ারে বসিয়ে দিক। তারপর নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে!

অথচ পৃথিবীর শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোও সব নাগরিকের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না; বরং সেখানে রাষ্ট্রের মূল ভূমিকা থাকে কর্মসংস্থানের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু প্রত্যেক নাগরিককেই নিজের কাজ খুঁজে নিতে হয়। আর ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে নিজেই কাজ সৃষ্টি করে নেয়।

তাছাড়া সেসব দেশে অধিকাংশ মানুষ ‘কাজ’ করে, চাকরি নয়। আর যারা চাকরি করে, তাদেরও কোনে নিশ্চয়তা থাকে না। স্থায়ী চাকরির কনসেপ্ট নেই বললেই চলে। খুব দক্ষ, সৎ, নিয়মানুবর্তী হওয়ার পরেও আকস্মিক চাকরি চলে যেতে পারে। সেটা বুঝেই তারা প্রতিনিয়ত নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকে। সারা জীবন নতুন নতুন বিষয় শেখে। অথচ আমরা কয়েকটা কাগজ বগলদাবা করেই নিজেকে অতিশয় যোগ্য ভেবে চাকরির আশায় জীবন-যৌবন সব শেষ করে দিই!  

আরেকটা বড় সংকট হলো, অসংখ্য কাজকে ‘ছোট’ বলে শুরুতেই খারিজ করে দেয়া। এমনকি কৃষিও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অথচ একবার ভাবি না যে মানুষের যত টাকাই হোক না কেন, তারা তো সরাসরি সেটা চিবিয়ে খেতে পারবে না। ফলে সন্তানদের পৈতৃক পেশাগুলো ঘৃণা করতে শিখিয়ে আমরা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছি। সমাজের অতি উচ্চ ও অতি নিম্নশ্রেণীর এ সংকট নেই বললেই চলে। তারা অনায়াসে মা-বাবার কাজে যুক্ত হয়। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না?

দেখবেন, সুইপার-মেথর-মুচি-বেদে-সাপুড়ে-কামার-কুমার-নাপিতের সন্তানরা তাদের পৈতৃক পেশায় যেতে সাধারণত সংকোচ বোধ করে না; বরং ছোটবেলা থেকে মা-বাবার কাজে সাহায্য করে এবং একসময় খুব সহজেই তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। ঠিক তেমনিভাবে ময়রা, দর্জি, সাইকেল বা ঘড়ির মেকার, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রিদের মধ্যে যারা সন্তানদের নিজকর্মে আগ্রহী করে তুলছে, একসময় সন্তানরা অনায়াসে সেই জায়গাগুলো পূরণ করছে। 

কিন্তু যারা নিজের পেশাকে ছোট মনে করে, সেখান থেকে মুক্তির লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষায় পাঠিয়েছে, তাদের অধিকাংশই ভালো করেনি। এক পর্যায়ে অনুভব করলেও তারা আর পৈতৃক পেশায় ফিরতে পারছে না। কারণ তাদের মা-বাবা শিখিয়েছে: ওই কাজ মানুষে করে না! ফলে তারা হয় বেকার নইলে নানা প্রতিষ্ঠানের খপ্পরে পড়ে নাভিশ্বাস অবস্থা। অথচ বাপ-দাদার পেশায় থাকলে শতভাগ কর্মসংস্থান হতো। পরিবারের সঙ্গে ভালো মানের জীবনযাপন করতে পারত। তাছাড়া সব স্তরের মানুষের সেবা নিয়েই তো একটা সমাজ চলে। সবাইকে ‘সাহেব’ বানাতে গেলে বড় অংশ কর্মহীন থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।

ওপরের উদাহরণগুলো খুব নিম্নমানের হয়ে গেল, তাই তো? আপনার সন্তানকে তেমন জায়গায় কল্পনা করতে পারছেন না? ঠিক আছে, তাহলে একেবারে ওপরের দিকে তাকান। কোনো শিল্পপতি বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সন্তান কি সরকারি চাকরির পেছনে ছোটে? না, তারা সাধারণত সেটা করে না। কারণ তাদের মা-বাবা নিজেদের অবস্থানকে সন্তানদের সামনে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করেন। তাই তারা সেখান থেকে আরো ওপরের দিকে তাকায়। সেটা অর্জনে ব্যর্থ হলেও সমস্যা নেই, দ্রুত মা-বাবার কাজে যুক্ত হয়। তাদের মধ্যে কোনো প্রকার গ্লানি কাজ করে না।  

তাই মনে হয়, অসংখ্য মানসিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে গিয়ে আমাদের সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের বেকার অবস্থা থেকে উত্তরণে ঠিক কোন পথে হাঁটবেন, তা কেউ জানে না। কিন্তু দিন শেষে জীবনটা যার যার। ফলে কষ্টগুলোও একান্তই নিজের...।

 

মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক

‘মস্তিষ্কের মালিকানা’ বইয়ের লেখক

আরও