বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান

পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ

বার্ষিক জিডিপির সরল হিসাবে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, এর পরিমাণ ২০২১ সালের হিসাবে প্রায় ১৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয়  হিসাবে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন ডলার। আর যদি অর্থনীতির তুলনামূলক ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে বিচার করা যায়, তাহলে দেখা যাবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে এখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। এর আকার সেই হিসেবে প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাথাপিছু আয় প্রায় ১৯ হাজার মার্কিন ডলার। এগুলো সবই চীনা সরকার আইএমএফের হিসাব।

মোট আয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকলেও মাথাপিছু আয়ে চীন প্রায় ৮০টি দেশের পেছনে, পিপিপির হিসাবে ৭২টি দেশের পেছনে। সর্বোচ্চ জনসংখ্যা এর একটি কারণ। বিশ্ববাণিজ্যে চীন এখন বৃহত্তম। এর পরিমাণ প্রায় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বাজার দখলের জন্য দুর্নীতি, নিম্নমানের পণ্য এবং দাম কমিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলার বদনাম চীনের প্রায় সব দেশেই।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে চীন এখন বৃহত্তম, ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশী বিনিয়োগ অন্তঃপ্রবাহেও চীন বৃহত্তম, ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদেশেও চীনের বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন বিদেশী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিনে ফেলার ঘটনাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে সে দেশের বৃহৎ তেল কোম্পানিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি এতদিনে চীনের মালিকানায় চলে যেত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সিকিউরিটি এখন চীনের মালিকানায়। একই সঙ্গে সমমূল্যের ট্রেজারি বন্ডের মালিকও চীন। সেই হিসেবে চীনই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতা। অবশ্য গত এক দশকে চীনের নিজের ঋণের পরিমাণও অনেক বেড়েছে।

২০১৬ সালের ২০ জুলাই ফরচুন পত্রিকা যে বৈশ্বিক বৃহত্তম ৫০০ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কোম্পানি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, ১৩৪টি। এর পরই ছিল চীনের অবস্থান, ১০৩টি। বার্ষিক আয়ের দিক থেকে একেবারে শীর্ষস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট। দ্বিতীয়, তৃতীয় চতুর্থ স্থানে ছিল চীনা কোম্পানি। এগুলো হলো যথাক্রমে বিদ্যুৎ কোম্পানি স্টেট গ্রিড তেল কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সিনোপেক। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম ১০টি ব্যাংকের তালিকায় প্রথম তিনটিই চীনের। এগুলো ছিল যথাক্রমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক এবং এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না।

পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ইত্যাদিতে তাই চীনের অবস্থান প্রভাব দ্রুত নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে যাচ্ছে। ২০০৮-এর বিশ্ব আর্থিক সংকটের পর থেকে চীনা মুদ্রা দ্রুত আন্তর্জাতিক মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ২০১০ সালে রাশিয়া চীনের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চীনা মুদ্রা ব্যবহার শুরু করে। এরপর জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য কানাডাও একই পথ অনুসরণ করে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন সাউথ আফ্রিকার আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত হয়েছে ব্রিকস জোট, বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জোটের মধ্যেই। জোট থেকে বিশ্বব্যাংকের পর্যায়ের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়, যার প্রস্তাবিত নাম ছিলনিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এসব উদ্যোগ চীনের বৈশ্বিক ভূমিকার পথ আরো প্রশস্ত করে। তবে জোট সক্রিয় থাকতে পারেনি, কয়েক বছর আগে চীনের উদ্যোগে কর্তৃত্বে যাত্রা করেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এটি এশিয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করছে এবং এশীয় অঞ্চলে বিনিয়োগে চীনের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

তবে চীনা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি গত কয়েক বছরে কমেছে। সরকারি হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সাল পর্যন্ত এক দশকেরও বেশি সময় শতকরা ১০ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি হার বজায় ছিল। ২০১২ থেকে হারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। ২০১৫ সালে হার দাঁড়ায় .৪। এরপর হার আরো কমে এখন -এর নিচে নেমে গেছে। এছাড়া বহু খাতে বিনিয়োগ আটকে গেছে, অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে। এর পরও হার আর ঊর্ধ্বমুখী হয়নি।

গত তিন দশকে চীনের সমাজের অভ্যন্তরে পরিবর্তন হয়েছে অনেক রকম। বিলিয়নেয়ার বা কোটি কোটিপতিদের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। তাদের সংখ্যার দিক থেকে চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে। মধ্যবিত্তের আকারও বেড়েছে। তার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারও বেড়েছে অনেক। প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের ভোগ্যপণ্যের বাজার এখন চীন। পাশাপাশি বৈষম্যের বিভিন্ন দিক থেকে চীনের পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দ্রুত। চীনের পূর্ব দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে দেশের বিনিয়োগের বড় অংশ গেছে, আঞ্চলিক বৈষম্য প্রকট হচ্ছে। সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে, শহরে মাথাপিছু বার্ষিক আয় যেখানে বেড়েছে শতকরা . হারে, সেখানে গ্রামে তা বেড়েছে শতকরা . হারে। আসলে ধনী গরিব বৈষম্য এখন ১৯৪৯ সালে বিপ্লব-পূর্ব চীনের বৈষম্য থেকেও বেশি। বেকারত্বের হারও বেড়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ১২ কোটি মানুষ এখন গ্রাম থেকে উপকূলীয় এলাকায় কাজের সন্ধান করছেন। এর আরেকটি দিক হলো, ১৯৯৮ থেকে ১০ বছরে চীনের বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকেই ছাঁটাই হয়েছেন প্রায় চার কোটি মানুষ। শহরাঞ্চলে এখন বেকারত্বের হার শতকরা ১০ পার হয়েছে।

বেকারত্ব আর বৈষম্য ছাড়াও চীনের উন্নয়ন ধারায় পরিবেশ দূষণ এখন বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অর্থকরী খাতের পুনর্বিন্যাস

চীনের পুঁজিমুখী অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য অর্থকরী খাতের খোলনলচে পাল্টানো বা এর আমূল সংস্কার ছিল অপরিহার্য। সংস্কারের ধারায় তাই পুরনো ব্যাংকসহ নানা অর্থকরী প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। চীনা ধরনে পুঁজিবাদের বিকাশে সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৯৭৮ সাল পর্যন্ত চীনে শুধু একটি ব্যাংক ছিল, ‘পিপলস ব্যাংক অব চায়না পরের ১০ বছরে ২০টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠান, ৭৪৫টি ট্রাস্ট বিনিয়োগ কোম্পানি এবং ৩৪টি সিকিউরিটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। চীনের বর্তমান অর্থকরী খাতের উল্লেখযোগ্য সংস্কার শুরু হয় ১৯৯০ দশকের একেবারে শুরু থেকে। সাংহাই শেনজেন দুটো বৃহৎ স্টক এক্সচেঞ্জই খোলা হয় ১৯৯০ সালের শেষ কয়দিনে। ১৯৯৪ সালে অনেকগুলো আইন তৈরি করা হয় বৃহৎ বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা পরিচালনার জন্য। সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ব্যাংক অব চায়না’, ‘চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক’, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়নাএবংএগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না অর্থকরী খাতে এগুলোই প্রধান প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ প্রাপ্ত হিসাবে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি মার্কিন ডলার, ওপরের চারটি ব্যাংকের সম্পদ এর শতকরা ৬০ ভাগ।

চীনে ব্যাংকসহ মোট হাজার ৭৬৯টি অর্থকরী প্রতিষ্ঠান আছে, যার শাখা সংখ্যা লাখ ৯৬ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এগুলোর মধ্যে আছে পাঁচটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি নীতিনির্ধারণী ব্যাংক, ১২টি মাঝারি আকারের অংশীদারি ব্যাংক, একটি ডাক সঞ্চয়ী ব্যাংক, ১৪৭টি নগর বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৮৫টি গ্রামীণ বাণিজ্যিক ব্যাংক, ২২৩টি গ্রামীণ সমবায়ী ব্যাংক, ৬৩টি ট্রাস্ট বিনিয়োগ কোম্পানি, বহুসংখ্যক অর্থকরী লিজিং অর্থ ব্রোকারি প্রতিষ্ঠান, ৪০টি বিদেশী ব্যাংকের চীনা শাখা। এতগুলো ব্যাংক থাকলেও মাত্র পাঁচটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকই পুরো অর্থকরী খাত নিয়ন্ত্রণ করে। পাঁচটি ব্যাংক সরকারের শতকরা ৫৯ ভাগ বন্ড, শতকরা ৮৫ ভাগ রাষ্ট্রীয় বিল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৪৪ ভাগ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ব্যাংকের আয়ের মধ্যে নাগরিকদের অর্থ জমার শতকরা ৫৮ ভাগ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৫০ ভাগ জমা এদের হাতেই। চীনে বিদেশী ব্যাংকগুলোর সংখ্যা ক্রমে বাড়লেও এখনো অর্থকরী খাতে তাদের অবস্থান শতকরা ভাগের কম।

১৯৯৭ সালে আর্থিক খাতে ব্যাপক সংকট পূর্ব এশীয় দেশগুলোর বেশির ভাগ অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় তৈরি করে। সংকট চীনের জন্য বিরাট শিক্ষণীয় ছিল। সে সময় মন্দঋণ দূর করার জন্য চারটি বৃহৎ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্তভাবে চারটি ব্যাংক খোলা হয়। নতুন ব্যাংকগুলোতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মন্দঋণের হিসাব স্থানান্তর করা হয়। এরপর ব্যাংকগুলোতে পুঁজির জোগান দেয়া হয় এবং বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। ২০০৫ ২০০৬ সালে হংকং সাংহাইয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তোলা হয়। চীনের বৃহৎ ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে প্রবেশ একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব, যার মধ্য দিয়ে এগুলো বিশ্বের বৃহৎ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একতালে অবস্থান গ্রহণ করে। হংকংসহ চীনের পুঁজিবাজার এখন বিশ্বের পুঁজি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম মনোযোগ ক্ষেত্র। এর পুঁজি প্রবাহের পরিমাণ এখন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। এটি এখন নিউইয়র্কের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার। চীনের রাষ্ট্রীয় অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানও শেয়ারবাজারের মাধ্যমে পুঁজি সঞ্চয় করেছে। সাংহাই শেনজেনের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১৮০০। ১৯৯৩ সালে হংকং পুঁজিবাজারে চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশ শুরু হয়।এখন হংকংয়ের পুঁজিবাজারে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কোম্পানিই চীনের।

১৫ বছরের অনেক কঠিন দরকষাকষির পর নানা শর্ত পূরণ করে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে ২০০১ সালে। নব্বইয়ের দশকে চীনের বিভিন্ন প্রদেশে বহুসংখ্যক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠে। বিদেশী বিনিয়োগও ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে বিদেশী বিনিয়োগের কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ২০০৯ সালের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ বিদেশী বিনিয়োগ আসে শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে। বিদেশী বিনিয়োগের কেন্দ্রীভবন ঘটেছে প্রধানত দুটো এলাকায়। এগুলো হলো গুয়াংদং ইয়াংসি নদী অববাহিকা বা সাংহাই দক্ষিণ জিয়াংসু প্রদেশ। দুটি অঞ্চল মোট বিদেশী বিনিয়োগের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা চীনের মোট রফতানির শতকরা ৭০ ভাগ গঠন করেছে।

আরও