প্রাথমিকের জন্য ক্যাচমেন্টভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ২০১১ সাল থেকে এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। তার আগে এসব শ্রেণীতে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এ পদ্ধতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত একটা নতুন বা পরিবর্তিত ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এজন্য অংশীজনদের মতামত নেয়া হবে। ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সমাজের একটি অংশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো।

প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তির প্রসঙ্গ এলেও অধিকাংশ অভিভাবকের উদ্বেগ-আকাঙ্ক্ষার জায়গা হলো প্রথম বা শিশু শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে। কারণ প্রথম বা শিশু শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ যেখানে মেলে, সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী পঞ্চম, অষ্টম বা দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ পাওয়া যায়। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল হবে। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, সেটা এখনো সরকার ঘোষণা করেনি। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটা নির্ধারণ করা হবে। ফলে এ মুহূর্তে একটি সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উপযুক্ত, চাপমুক্ত ও শিশুবান্ধব ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আমাদের দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে লটারি ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার কিছু সুবিধা-অসুবিধার কথা জেনে নেয়া যাক।

প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার সুবিধা একটাই, যোগ্যতাকে সম্মান দেখানো এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষার্থীকে তার পছন্দের বা তথাকথিত ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া। কিন্তু পাঁচ-ছয় বছর বয়সী একটা শিশু কি তার যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার জন্য উপযুক্ত? জীবনের প্রথম পাঠ গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই যদি কোনো শিশুকে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়, তাহলে সেই যোগ্যতা সে অর্জন করবে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে? একটা শিশু কি ভর্তি পরীক্ষার নামে এ অমানবিক মানসিক চাপ নেয়ার উপযুক্ত? জীবনের প্রথম পাঠ নেয়ার আগেই আমরা তার কোন পাঠের যোগ্যতা নিরূপণ করব? শিক্ষিত ও ধনী অভিভাবক, যারা স্কুল শুরুর আগেই বাড়িতে বাচ্চার লেখাপড়ার ব্যক্তিগত আয়োজন করতে সক্ষম, তারাই হবেন পদ্ধতির মূল সুবিধাভোগী। কৃষক-শ্রমিক আর নিম্নবিত্তদের কাছে অধরা থেকে যাবে ভালো স্কুলের স্বপ্ন।

লটারি পদ্ধতির ভালো দিক হলো, এটা ধনী-দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত আর সুবিধাপ্রাপ্ত সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। তবে এ পদ্ধতিতেও সবাই তাদের পছন্দের, সুবিধার বা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। আবার রাজধানীর তথাকথিত অভিজাত ও ব্যয়বহুল স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য শ্রমিক, কৃষক বা নিম্নবিত্তরা কি লটারিতে অংশ নেয়ার সাহস দেখাবেন? লটারিতে সুযোগ পেলেও কি সেখানে তাদের সন্তানদের পড়ানোর সামর্থ্য তাদের আছে? তথাকথিত ভালো স্কুলগুলো সব বড় শহরগুলোতে অবস্থিত, যা কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাহলে শ্রমিক, কৃষক বা আর্থিকভাবে নাজুক মানুষের সন্তানের জন্য কি ভালো স্কুল হবে না? ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পদ্ধতি কোনোটাই গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না।

তার পরও অনেকেই ভাবছেন, লটারির বিকল্প হিসেবে আবার পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরে আসতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে এটা ভর্তি-কোচিং বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে। যাদের কোচিংয়ে পড়ানোর সামর্থ্য নেই, দৌরাত্ম্য সৃষ্টির ক্ষমতা নেই, বাড়িতে পড়ানোর জন্য শিক্ষিত-অভিভাবক বা গৃহশিক্ষক নেই, তারা কি তাদের সন্তানদের ভালো বিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পাবেন না? এভাবে চললে তো ভালো স্কুল আর খারাপ স্কুলের ধারা ও ধারণা কোনোদিন বন্ধ হবে না। অথচ এটিই বন্ধ হওয়া জরুরি। এভাবে চললে ক্ষমতাশালী আর প্রভাবশালীদের সন্তানেরা সবসময় বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট আর উন্নত স্কুলে পড়বে। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা পড়বে অনুন্নত, অপুষ্ট-সুবিধাবঞ্চিত স্কুলে। ফলে ধনী আর দরিদ্রের মাঝে বৈষম্য বিমোচনকারী মাধ্যম শিক্ষাই বৈষম্যের জাল থেকে বের হতে পারবে না।

প্রশ্ন হচ্ছে দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ভালো পদ্ধতি কী? আমরা এমন একটা ভর্তি পদ্ধতি চাই যা হবে সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সর্বজনগ্রহণযোগ্য, উপযুক্ত, চাপমুক্ত ও শিশুবান্ধব। এ সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা উন্নত বিশ্বের ভর্তি পদ্ধতি পর্যালোচনা করে দেখতে পারি। জাপান, ফিনল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রধানত ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশে কি আমরা এটা অনুসরণ করে দেখতে পারি? সে সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে, এ পদ্ধতি কী এবং তার সুবিধাগুলো আগে একটু আলোচনা করা যাক। কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের ওই এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির অগ্রাধিকার দেয়া বা বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থাকে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি’ বলা হয়। যেমন এক বা একাধিক গ্রাম, ওয়ার্ড বা ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ক্ষেত্রে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়া ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে শুধু অগ্রাধিকার নয়, বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য ভিত্তি না থাকলে কোনো কোনো দেশে এক ক্যাচমেন্ট এরিয়ার অধিবাসীদের অন্য ক্যাচমেন্ট এরিয়ার স্কুলে ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয় না। বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, শিক্ষায় বৈষম্য, শিক্ষা ব্যয়, নগরকেন্দ্রিক চাপ এবং যাতায়াত সমস্যার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বিশেষভাবে কার্যকর ও সুবিধাজনক হতে পারে।

এ পদ্ধতি কার্যকর হলে সব শিক্ষার্থী যার যার স্থানীয় সংশ্লিষ্ট স্কুলে ভর্তি হতে পারবে। প্রভাবশালী আর দুর্বল সব অভিভাবকের সন্তানেরা একই স্কুলে পড়তে বাধ্য হবে। ফলে দেশের সব অঞ্চলের স্কুলের মানোন্নয়নের তাগাদা তৈরি হবে। ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে স্কুলকেন্দ্রিক যে অতিরিক্ত জনচাপ তৈরি হয়, সেটা যেমন কমবে, তেমনি কমবে শিক্ষা সুযোগের বৈষম্য। ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে, সকালের দিকে যত যানজট হয়, তার অন্যতম বড় কারণ হলো স্কুলকেন্দ্রিক যানবাহন। ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি না থাকায়, সারা দেশ থেকে অবস্থাপন্ন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঢাকাসহ বড় শহরের পছন্দের স্কুলে ভর্তি করিয়ে থাকেন। ফলে শহরগুলোতে জনচাপ ও যানজট বাড়ে। ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু হলে বড় শহরগুলোতে জনচাপ ও যানজট হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যানজটের বড় শহরগুলোতে ছোট শিশুদের অনেক সময় দূরের স্কুলে যেতে হয়। এটা শিশুদের সময়ের অপচয় ঘটায়, রাস্তার দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ে, স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পড়াশোনার ক্ষতি করে। ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু করা গেলে শিশুদের নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নিশ্চয়তা বাড়বে। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থী বণ্টন নিশ্চিত করার ফলে যানজটপ্রবণ অঞ্চলে যানজট কমবে এবং শিশুদের এসব অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

দেশে ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহর ছাড়া, অন্য কোথাও উন্নতমানের স্কুল নেই বললেই চলে। সারা দেশে সমতাভিত্তিক উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি না থাকায়, সারা দেশের মাঠ প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাদের সন্তানেরা ঢাকায় পড়াশোনা করে। কর্মকর্তারা থাকেন মফস্বলে আর তাদের পরিবার থাকে ঢাকায়। এতে ঢাকা-মফস্বল করতে করতে মাঠ প্রশাসনের কাজে কর্মকর্তাদের মনোযোগও হ্রাস পায়। মাঠ পর্যায়ের স্কুলের মানোন্নয়নে তাদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিকতা ও তাগাদা কাজ করে না। ঢাকার বাইরের অবস্থাপন্ন অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের বড় শহরের স্কুলে পড়াতে চান। ফলে গ্রামাঞ্চল বা মফস্বলের স্কুলগুলো হয়ে পড়ে আমজনতার স্কুল, যা নীতিনির্ধারক ও কর্তাব্যক্তিদের আগ্রহ ও নজরের বাইরে পড়ে যায়; সেগুলোর আর মানোন্নয়ন ঘটে না। আবার এসব স্কুলের মান ভালো না বলে বড় কর্মকর্তা আর অবস্থাপন্ন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সেখানে পড়াতে চান না। এভাবে তৈরি হয় খারাপ স্কুলের দুষ্টচক্র। এ চক্র ভাঙতে হলে ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালুর কোনো বিকল্প নেই। বড় কর্মকর্তা আর অবস্থাপন্ন অভিভাবকদের সন্তানেরাও যখন মফস্বলের বা গ্রামের স্কুলে পড়তে বাধ্য হবে, তখন মফস্বলের বা গ্রামের স্কুলেরও মানোন্নয়নে সরকারের মনোযোগ বাড়বে, সেগুলোর উন্নয়ন ঘটবে।

অনেক সময় দেখা যায় মফস্বল বা গ্রামে, বিশেষ করে সরকারি স্কুলে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। অনেক সময় আসনও খালি থাকে। আবার বড় শহরের নামি স্কুলে অনেক চাপ থাকে। সেখানে অনেক সেকশন ও শাখা খুলতে হয়। দেশের সব স্কুলে একই মানের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এবং ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু করা গেলে, বড় শহরের নামি স্কুলগুলোর ওপর এ বাড়তি চাপ কমে আসবে। প্রচলিত ভর্তি পদ্ধতিতে অনেক সময় দূরের শিক্ষার্থীরাও নামকরা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায়, কিন্তু সেসব স্কুলের আশপাশের শিক্ষার্থীরা হয়তো সে সুযোগ পায় না। তারা বঞ্চিত হয়। ফলে এ পদ্ধতি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না। সব শিশু যদি তার বাড়ির নিকটবর্তী স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়, তাহলে আর সন্তানকে দূরের স্কুলে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের বাড়তি পরিবহন খরচ গুনতে হবে না।

জাপানে সরকারি স্কুলের সব শিশুকে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। সাইকেলও ব্যবহার করা যায় না। জাপানে পড়াশোনা করা আমার এক সহকর্মীর কাছে শুনেছি, সেখানে রাজপরিবারের শিশুদেরও হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। ফলে শৈশবেই শিশুদের মনে সমতার ধারণা প্রোথিত হয়, মন বড় হয় আর পরিশ্রম করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। জাপানে ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক স্কুলে ভর্তি বাধ্যতামূলক বলে এটা সম্ভব হয়। অবশ্য সম্প্রতি দেশে শিশুদের একা যাতায়াত করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব শিশু যদি তার বাড়ির নিকটবর্তী স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়, তাহলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। এছাড়া একই এলাকার শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়লে তাদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য, সামাজিক বন্ধন ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের মানসিকতা গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও অসম শিক্ষা ব্যবস্থার দেশে ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতির সফলতা নির্ভর করবে সব অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন এবং দুর্নীতি বা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণের ওপর।

আমরা একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও সমতাভিত্তিক দেশের স্বপ্ন দেখি। এরূপ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের দক্ষ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করতে পারে একটি সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সর্বজনগ্রহণযোগ্য, উপযুক্ত, সুষম, উন্নত ও শিশুবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা। এজন্য প্রয়োজন একটি ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি।

ড. মো. মুনিবুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও