পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির শক্তি ও দুর্বলতা, সাফল্য ও ব্যর্থতা এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
গ্রাম-শহরের
উৎপাদন সংস্থা
বিপ্লবের পর
বিভিন্ন পর্যায়ে
এ শহর
ও গ্রামের
সংস্থা (township and village enterprises)
নামের উৎপাদনী
প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে
উঠেছিল। কমিউন
যতদিন চীনের
রাজনীতি ও
অর্থনীতির কেন্দ্রে
ছিল, ততদিন
এ প্রতিষ্ঠানগুলো
কমিউনের অংশ
হিসেবেই পরিচালিত
হতো। ১৯৭৮
সালের সংস্কার
প্রক্রিয়া শুরু
হওয়ার পর
থেকে এগুলো
ক্রমে ভিন্ন
ব্যবস্থাপনায় নিয়ে
যাওয়া হয়।
বহুদিন পর্যন্ত
মালিকানার ধরন
প্রধানত যৌথই
ছিল, তবে
এর ব্যবস্থাপনার
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
আগের চেয়ে
ভিন্ন ছিল।
ব্যবস্থাপনা ধরনের
পরিবর্তনের পর
এসব সংস্থার
সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে
আগের তুলনায়
দ্রুত হারে।
১৯৭৮ নাগাদ
এসব প্রতিষ্ঠানে
কর্মসংস্থান ছিল
প্রায় তিন
কোটি, ১৯৯৬
সালের মধ্যে
এ সংখ্যা
পৌঁছে যায়
১৪ কোটিতে।
উৎপাদনের আর্থিক
মূল্য আগে
ছিল ৪৯
বিলিয়ন ইউয়ান,
তা বেড়ে
দাঁড়ায় প্রায়
২ ট্রিলিয়নে।
৮০ দশকেই
বেশির ভাগ
প্রতিষ্ঠান জন্ম
নেয় এবং
এগুলোর শতকরা
৫০ ভাগই
প্রতিষ্ঠিত হয়
প্রশান্ত মহাসাগরের
উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে।
এ প্রদেশগুলো
হলো গুয়াংডন,
ফুজিয়ান, ঝেজিয়াং,
জিয়াংসু ও
শানডং। জিয়াংহারেসু
ও শানডংয়ের
প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল
বৃহত্তর।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো
আইনত যৌথ
মালিকানাধীন রাখা
হলেও বিভিন্ন
ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন
কার্যত এগুলোকে
ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান
হিসেবে পরিচালনার
একটা ধরন
তৈরি করে।
কাগজপত্রে যৌথ
মালিকানা ছিল
ঠিকই কিন্তু
কর্তৃত্ব, সিদ্ধান্ত
গ্রহণ ও
পরিকল্পনায় কমিউনের
মতো সবার
অংশগ্রহণের কোনো
সুযোগ ছিল
না। এর
সবটাই প্রতিষ্ঠানের
ম্যানেজারসহ আমলাতন্ত্রের
হাতেই কেন্দ্রীভূত
ছিল, যা
কার্যত ব্যক্তিমালিকানার
একটা ধরনই
প্রতিষ্ঠা করেছে।
মুনাফা অর্জনকে
মূল লক্ষ্য
হিসেবে ধরে
পরিচালিত এসব
প্রতিষ্ঠান তাই
ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের
মতোই কাজ
করেছে।
এ প্রতিষ্ঠানগুলো ৯০ দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত বিকাশের পথে ছিল কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় সংকোচন ও পতন। যেহেতু প্রথমদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নানারকম বিধিনিষেধ ছিল এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে এ প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সমর্থন পেত, সেহেতু তার বিকাশ ছিল অবধারিত। তাছাড়া স্থানীয় নেতা ও আমলাতন্ত্রের জন্যও বিত্ত এবং ক্ষমতা অর্জনে এসব প্রতিষ্ঠান ছিল খুবই অনুকূল। ১৯৯৫ সালের পর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা কমে যায়। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রীয় বৈরিতারও মুখে পড়ে এসব প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সেসময় শুরু হয় ব্যাপক মাত্রায় প্রাইভেটাইজেশন। এ সময় থেকে ব্যক্তি ও বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত এবং যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের কারণে এগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এক হিসাবে দেখা যায়, শতকরা প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি দেউলিয়া হয়ে যায়। তার পরও বাজারমুখিতা বাড়ানোর জন্য এগুলোর পুনর্গঠন করা হয় নানাভাবে। একে একে যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান লুপ্ত হয় বা ব্যক্তি মালিকানায় চলে যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারাই এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর মালিক হয়ে বসে।
চীন সরকারের
অনুমোদিত প্রকাশনাও
এ বিষয়ে
বিস্তারিত জানিয়েছে।
১৯৭৮-৭৯
সালে চীনে
গ্রামীণ সংস্থা
ছিল প্রায়
১৫ লাখ,
১৯৯৫ সালে
এ সংখ্যা
কমে দাঁড়ায়
২ কোটি
২০ লাখ।
১৯৭৯ সালে
শহর ও
গ্রামের এসব
প্রতিষ্ঠানে শতকরা
২১.৬৫
শহরে এবং
শতকরা ৭৮.৩৫
ভাগ গ্রামে
যৌথ মালিকানা
বা প্রতিষ্ঠানের
মালিকানায় কাজ
করত। ১৯৯৫
সাল নাগাদ
এ যৌথ
মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের
শতকরা হার
দাঁড়ায় যথাক্রমে
১.৯১
ও ৫.৪৫।
অন্যদিকে একই
সময়ে গ্রাম-শহরে
ব্যক্তি মালিকানাধীন
প্রতিষ্ঠানের শতকরা
হার অনেক
বেড়ে ৮৮.২৯-এ
পৌঁছে যায়।
তার মানে
মালিকানার পুরো
চিত্রটিই এ
কয়বছরে ব্যাপকভাবে
বদলে যায়।
১৯৮৪ সালে
এ পরিবর্তন
ধারা নিয়ে
আমার পর্যবেক্ষণ
ছিল এ
রকম:
‘কমিউন
ব্যবস্থার মাধ্যমে
কৃষি অর্থনীতি
শিল্পজ-কৃষি
অর্থনীতিতে পরিণত
হয়েছিল। অগ্রসর
ব্যবস্থা হিসেবে
বৃহদায়তন সমষ্টিগত
উৎপাদন প্রচলনের
ফলে অবকাঠামোর
উন্নয়নও অনেক
সহজ হয়েছিল।
বাঁধ নির্মাণ,
খালখনন, ঘরবাড়ি
নির্মাণ, জমির
উন্নয়ন, দেশীয়
প্রযুক্তির উন্নয়নে
উদ্ভাবনী শক্তির
বিকাশ ইত্যাদি
তখন সম্ভব
হয়েছিল সমাজতান্ত্রিক
উদ্দীপনা ও
কাঠামোর উপস্থিতির
ফলেই। বর্তমানে
ব্যক্তিগত ভিত্তিতে
উৎপাদন কিছুটা
বাড়লেও তা
একটি পর্যায়ে
নতুন দ্বন্দ্ব
সংকটে পড়তে
বাধ্য। অবকাঠামো
কিংবা ম্যাক্রো
পর্যায়ে বিভিন্ন
কর্মসূচি বাস্তবায়নে
এখন জনগণের
কোনো মাথাব্যথা
থাকবে না।
মুনাফা যেখানে
প্রধান লক্ষ্য
সেখানে দুর্নীতি,
ফটকাবাজারি, কালোবাজারি
ইত্যাদি প্রবণতারও
বিকাশ ঘটবে।
তাছাড়া সমষ্টিগত
থেকে ব্যক্তিগত
এবং বৃহদায়তন
থেকে ক্ষুদ্রায়তন
চাষাবাদের প্রবর্তন
নিঃসন্দেহে একটি
পশ্চাদপসরণ, প্রায়
২৫ বছরে
কৃষকদের মধ্যে
গড়ে ওঠা
বিপ্লবী ও
সমষ্টিগত চেতনাকে
বিনষ্ট করার
একটি প্রক্রিয়া।’
উৎপাদন কিছুটা
নয়, উল্লেখযোগ্য
মাত্রাতেই বেড়েছিল,
তবে এর
ভিত্তি যে
আগেই তৈরি
হয়েছিল, তা
মনে রাখা
দরকার। ১৯৭৯
থেকে শুরু
হয়ে ১৯৯৫
নাগাদ শুধু
উৎপাদন বৃদ্ধি
নয় মালিকানাসহ
অর্থনীতির বিভিন্ন
খাতের কাঠামোগত
পরিবর্তনও বেশ
স্পষ্ট আকার
নেয়।
কিসিঞ্জারের স্মৃতিকথা: মার্কিন-সোভিয়েত বলয়ের ভেতরে
ও বাইরে
চীন সম্পর্কে
হেনরি কিসিঞ্জারের
বিশাল স্মৃতিকথা,
অন
চায়না-তে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে
সম্পর্ক উন্নয়নে
চীনের আগ্রহের
নানা দিক
প্রকাশিত হয়েছে।
এর বাইরেও
মাও সে
তুংয়ের সময়
থেকেই চীন
যে নিজের
অবস্থান থেকে
বিশ্বে একটি
ক্ষমতার কেন্দ্রে
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার
জন্য একই
সঙ্গে নানামুখী
কৌশলগত সম্পর্ক
তৈরির চেষ্টা
করেছে, তারও
কিছু চিত্র
এ গ্রন্থে
পাওয়া যায়।
বিভিন্ন চিঠিপত্র,
চীন-মার্কিন
নেতাদের আনুষ্ঠানিক
অনানুষ্ঠানিক সংলাপ
ইত্যাদি থেকে
পরিষ্কার হয়
যে, ‘জাতীয়
নিরাপত্তা’র
প্রশ্ন তুলে
৭০ দশকের
প্রথম থেকেই
চীন যুক্তরাষ্ট্রের
দিকে ঝুঁকছিল।
চীন সীমান্তে
সোভিয়েত সৈন্য
সমাবেশ, কম্বোডিয়ায়
ভিয়েতনামের আক্রমণ,
ভিয়েতনামকে সোভিয়েত
সমর্থন, চীন-ভিয়েতনাম
যুদ্ধ ইত্যাদি
ঘটনায় স্পষ্ট
হয় যে
সোভিয়েত ইউনিয়নকে
ঠেকানোই চীনের
তখন অন্যতম
অগ্রাধিকার। এ
পরিস্থিতির পুরো
সুযোগই গ্রহণ
করে যুক্তরাষ্ট্র।
আফগানিস্তানে সোভিয়েত
সৈন্য সমাবেশের
বিরুদ্ধে মুজাহিদীনদের
দিয়ে মার্কিন
যুদ্ধ একভাবে
সমর্থন পায়
চীনের। আফগানিস্তান
থেকে সোভিয়েত
সৈন্য প্রত্যাহার
চীনেরও অন্যতম
দাবি ছিল।
মার্কিন-চীনের
সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ
করার ক্ষেত্রে
শীর্ষ পর্যায়ে
প্রধান ভূমিকা
পালন করেছিলেন
তত্কালীন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নিক্সন।
সম্পর্ক স্থাপনের
১০ বছর
পর ১৯৮২
সালে তত্কালীন
প্রেসিডেন্ট রিগ্যানকে
দেয়া চীন
সম্পর্কিত এক
নোটে তিনি
বলেন,
‘আমি
বিশ্বাস করি
যে নিজস্ব
স্বার্থেই আমাদের
তৃতীয় বিশ্বে
আরো বৃহৎ
ভূমিকা পালনের
জন্য চীনকে
উৎসাহিত করা
দরকার। তারা
যত সফল
হবে, সোভিয়েত
ইউনিয়ন ততই
কম সফল
হবে।... ১৯৭২
সালে আমরা
পরস্পর ঘনিষ্ঠ
হয়েছিলাম সোভিয়েত
আগ্রাসন বিষয়ে
আমাদের অভিন্ন
উদ্বেগের কারণে।
১৯৭২ সালের
তুলনায় সেই
বিপদ এখন
আরো অনেক
বেশি হলেও
যা ভবিষ্যতে
আমাদের আরো
ঘনিষ্ঠ করবে,
তা দুই
দেশের অর্থনৈতিক
পরস্পর নির্ভরশীলতা।’
মার্কিন-সোভিয়েত
বলয়ের বাইরে
তৃতীয় বিশ্বের
মধ্যে নিজের
অবস্থানও শক্তিশালী
করার চেষ্টা
করছিল চীন।
১৯৮৪ সালে
প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের
কাছে দেয়া
নথিতে স্টেট
ডিপার্টমেন্ট জানায়,
চীন এমনভাবে
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে
বিভিন্ন সম্পর্ক
তৈরি করছে
যাতে একই
সঙ্গে—
‘একদিকে
সোভিয়েত সম্প্রসারণবাদের
বিরুদ্ধে মার্কিন
সামরিক আয়োজনের
প্রতি তার
সমর্থন থাকছে,
অন্যদিকে বিশ্বে
উত্তেজনা সৃষ্টির
অন্যতম কারণ
হিসেবে অভিহিত
করে দুই
পরাশক্তির বিরোধকে
আক্রমণ করছে।
এর ফলে
চীনের পক্ষে
সমান্তরাল দুটো
লক্ষ্য অর্জন
সম্ভব হচ্ছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে কৌশলগত
সম্পর্কের উন্নয়ন,
অন্যদিকে তৃতীয়
বিশ্ব ব্লকের
প্রতিনিধি হয়ে
ওঠা।’
চীনের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠতা বা
চীনের ভূমিকার
ওপর যুক্তরাষ্ট্রের
অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার
বিষয়ে মার্কিন
প্রশাসনের ভেতরে
মতভেদ ছিল।
প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের
পররাষ্ট্র সচিব
জর্জ শুলজের
ভাষ্যে এর
প্রতিফলন আছে।
তিনি বলেছেন,
‘সোভিয়েত
হুমকি মোকাবেলায়
চীনের অপরিহার্যতার
ওপর অতিরিক্ত
গুরুত্ব প্রদানের
ফলে দরকষাকষিতে
চীন অনেক
বেশি সুবিধাজনক
অবস্থায় আছে।
এ সম্পর্ক
অবশ্যই হতে
হবে সুনির্দিষ্টভাবে
পরস্পরের স্বার্থে।
এ কূটনীতিতে
চীন তার
জাতীয় স্বার্থে
ভূমিকা পালন
করবে। ... অভিন্ন
স্বার্থেই আমাদের
চীনা নীতি
গ্রহণ করতে
হবে। পাশাপাশি
যুক্তরাষ্ট্রকে জাপানের
সাথে জোট
আরও জোরদার
করতে হবে।’
১৯৮০ দশকের
প্রথম দিক
থেকেই চীন
আবার সোভিয়েত
ইউনিয়নের সঙ্গে
সম্পর্ক স্বাভাবিক
করার চেষ্টা
শুরু করে।
সম্পর্কের যে
মাত্রায় অবনতি
হয়েছিল এবং
যেভাবে সোভিয়েত
বিরোধিতা বা
সোভিয়েত আক্রমণের
হুমকি সামনে
রেখে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের
সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ
হচ্ছিল, তাতে
এ মোড়
পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের
গোয়েন্দা সংস্থার
নজর এড়ায়নি।
১৯৮৫ সালে
সিআইএ রিপোর্টে
দুই পরাশক্তির
সঙ্গে চীনের
নিজস্ব উপায়ে
সম্পর্ক নাড়াচাড়া
করার বিষয়ে
উদ্বেগ প্রকাশ
করা হয়।
হেনরি কিসিঞ্জার
তার অন চায়নাতে এ
নোট সম্পর্কে
লিখেছেন। এ
নোটে বলা
হয়েছে,
‘উচ্চ
পর্যায়ের বিভিন্ন
সভা, আন্তঃপার্টি
যোগাযোগের মাধ্যমে
চীন যেভাবে
সোভিয়েত ইউনিয়নের
সঙ্গে সম্পর্ক
উন্নয়নের চেষ্টা
করছে, তা
চীন-সোভিয়েত
সংঘাত শুরুর
পর থেকে
আর কখনো
দেখা যায়নি।’
নোটে আরো
বলা হয়েছে,
‘চীনা
নেতারা আবারো
সোভিয়েত নেতাদের
কমরেড সম্বোধন
করা শুরু
করেছেন, সোভিয়েত
ইউনিয়নকে আবারো
সমাজতান্ত্রিক হিসেবে
অভিহিত করছেন।
চীন ও
সোভিয়েত নেতারা
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ
নিয়েও কার্যকর
আলোচনা করছেন।
এ বছরেই
মস্কোতে চীনা
উপপ্রধানমন্ত্রীর সপ্তাহব্যাপী
সফরকালে দ্বিপক্ষীয়
বাণিজ্য ও
অর্থনৈতিক সহযোগিতার
ঐতিহাসিক চুক্তি
স্বাক্ষর করা
হয়েছে।’ (পৃ.
৩৯২-৯৩)
কিন্তু ততদিনে
সোভিয়েত ইউনিয়নের
বহুমুখী সংকট
আরো ঘন
হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভাবনীয়
বিজয় তখন
আসন্ন।
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়