হরমুজ প্রণালি দিয়ে ঠিক কী পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রতিদিন পরিবাহিত হচ্ছে তা নিয়ে মার্কিন সরকার এবং বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ নজরদারি করা স্বাধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে এক বড় ধরনের পরিসংখ্যানগত বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আর কেপলার ও এলএসইজির মতো স্বাধীন জাহাজ নজরদারি সংস্থাগুলোর তেল সরবরাহের পরিমাণের তথ্যে বড় ফারাক রয়েছে। ৩০-৫০ লাখ ব্যারেলের এ তফাত ব্যাখ্যা করতে বিশ্লেষকরা তিনটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। প্রথমত, ট্র্যাকিং সংস্থাগুলো হয়তো কিছু গোপন বা অগোচরে কিছু চালান গোনেনি। দ্বিতীয়ত, মার্কিন নৌবাহিনী এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের হিসাব দুবার করছে। আর তৃতীয়ত, যুদ্ধকালে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল প্রমাণের রাজনৈতিক প্রয়াসের জন্য তথ্যের এ তারতম্য। পরিসংখ্যানের এ অসংগতি আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দার ঝুঁকি তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রফতানি করা তেলের প্রধান গন্তব্য এশিয়া। সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ছে। তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকায় বহুজাতিক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হরমুজ প্রণালির এ উপাত্ত সংকট বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পথে এক বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
[রয়টার্স থেকে সংক্ষেপিত]
ক্লাইড রাসেল: রয়টার্সের এশিয়ার পণ্যবাজার ও জ্বালানিবিষয়ক কলামিস্ট