অভিমত

তরুণদের আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধিতে ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম

বর্তমান সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠছে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সোসাইটি, আমাদের সামাজিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের একটি বৃহত্তর অংশ। সাধারণত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত বলতে ইন্টারনেট, ফোন, ডিজিটাল প্লাটফর্ম, নেটওয়ার্ক, অ্যাপস, ডাটাবেজ ও অবকাঠামোকেই বোঝানো হয়; যা আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থা, বিশেষ করে বিদ্যমান কভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমান সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠছে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সোসাইটি, আমাদের সামাজিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের একটি বৃহত্তর অংশ। সাধারণত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত বলতে ইন্টারনেট, ফোন, ডিজিটাল প্লাটফর্ম, নেটওয়ার্ক, অ্যাপস, ডাটাবেজ ও অবকাঠামোকেই বোঝানো হয়; যা আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থা, বিশেষ করে বিদ্যমান কভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।        

গত বছর বৈশ্বিক মহামারীর সংকট শুরুর পর বহু মানুষ অনলাইন মাধ্যমের শরণাপন্ন হতে শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ডিজিটাল রূপান্তরের এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অতিমারীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে; শুরু হয়েছে নতুন চর্চা—আজ ঘরে বসেই চাকরি, স্কুল, ব্যবসা। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে আনতে কার্যক্রম পরিচালনায় ডিজিটাল ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণ করে অনেক কোম্পানি। বলা যায়, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী—সবার ক্ষেত্রেই অনলাইন মাধ্যমে যাওয়ার বিষয়টি বেশ প্রভাব ফেলেছে।

আর কিছু না হোক, এ সময়টায় আমরা বুঝেছি এ রকম পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে আইসিটি খাতের ভূমিকা কতটা প্রকট। এটা আজ অনস্বীকার্য যে গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্প খাত আধুনিক অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো সেবার ভিত্তিস্বরূপ কাজ করে। প্রযুক্তির বিকাশের ফলে বর্তমান ইন্টেলিজেন্ট সমাজ গড়ে তুলতে ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ফাইভজি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও পুরো আইসিটি খাত গুরুত্বপূর্ণ টুল হয়ে উঠেছে। দ্রুত ও শক্তিশালী সংযোগ মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও মেশিনের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল সেবার ব্যবহারকে সহজ ও উপযোগী করেছে। 

বর্তমান সময়ে আইসিটি ইকোসিস্টেম একটি যুগোপযোগী ধারণা, যা একই সঙ্গে ব্যক্তিগত, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, তার পরও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এ ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তরুণ। আইসিটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এর মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত সমাজের বিকাশ ঘটবে।

অন্যদিকে মান ও সংখ্যার ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর অভাব থাকলে তা প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধিকেই বাধাগ্রস্ত করবে। আইসিটি শিল্প খাত দক্ষ ও মেধাবী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল; পাশাপাশি এ খাত ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; যা দক্ষ কর্মীদের চাহিদা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা নানা যুগান্তকারী ঘটনা ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সঠিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজ করা প্রয়োজন।

আমি লক্ষ করেছি সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে আইসিটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরির জন্য বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হুয়াওয়ে ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আয়োজিত বাংলাদেশ আইসিটি স্কিল কম্পিটিশনের কথা। প্রতিযোগিতাটি তরুণদের আইসিটি-বিষয়ক আধুনিক ও উচ্চতর কোর্সসমৃদ্ধ একটি বৈশ্বিক প্লাটফর্ম দিচ্ছে, যা তাদের জ্ঞানের পরিধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।

এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে একটা কথা না বললেই নয়। ‘ব্যবহারিক’ ও ‘তত্ত্বীয়’—এ দুইয়ের সংমিশ্রণে এটি একটি পূর্ণ এবং কার্যকরী প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিযোগীদের মৌলিক তাত্ত্বিক জ্ঞান, ব্যবহারিকের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রোগ্রাম ও অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইনের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের অংশগ্রহণকারীদের যথাক্রমে মনোনীত হুয়াওয়ে ওয়েব পোর্টাল এবং হুয়াওয়ে সার্টিফাইড আইসিটি অ্যাসোসিয়েট (এইচসিআইএ) থেকে অনলাইন কোর্স করতে হয়। চূড়ান্ত পর্বে হেডকোয়ার্টারের প্রশিক্ষকরা প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

একটু খোলা চোখে তাকালেই বোঝা যায়, বেশ কয়েক বছর থেকে একটি দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে সারা বিশ্বের তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও উন্নয়নে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার জানামতে, প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির লক্ষ্যে মৌলিক গবেষণায় এর বার্ষিক আয়ের প্রায় ১৪ শতাংশ বিনিয়োগ করে, যা বিশ্বকে সামনে এগিয়ে যেতে ভূমিকা পালন করছে।

২০১৭ সালে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ ও অন্য সহযোগী মিলে গ্রামাঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ট্রেনিং বাস প্রকল্প চালু করে, যেখানে ৬৩ হাজারেরও বেশি মেয়ে এখন পর্যন্ত সম্পৃক্ত হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে এর বার্ষিক প্রোগ্রাম ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ শুরু করে। প্রোগ্রামটি প্রাথমিকভাবে পুঁথিগত জ্ঞান এবং এ খাতের বাস্তবিক জ্ঞানের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি তাদের নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে।

হুয়াওয়ের এ রকম অনেক উদ্যোগ আমাদের তরুণদের আগামী দিনের চাহিদানুযায়ী নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশের তরুণদের বিকাশে এ প্রতিষ্ঠান এমন অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিয়েছে, যা হয়তো তারা বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি রয়েছে এর গবেষক ও প্রকৌশলীদের শ্রমলব্ধ জ্ঞান—এমনকি নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম।

এমন আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের দরকার, যারা আইসিটি ইকোসিস্টেমে নিজেদের প্রযুক্তি, সেবা, জ্ঞান দিয়েই শুধু নয়, বরং এ ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি তরুণদের উন্নয়নে সরাসরি বিভিন্নভাবে কাজ করবে। আমাদের দেশে অনেক দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান আছে, যারা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রজ্ঞা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের সঞ্চারণের মাধ্যমে তরুণদের সামনের দিকে এগিয়ে দিতে পারে।

সব শেষে বলতে চাই, আমরা যা আগে থেকেই জানি, কভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারী তা আবার আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে; আর তা হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ। সংকট এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের কাজ এবং জীবনযাত্রার ধরনে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন বয়ে আনবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই ডিজিটাল যুগে সৃষ্ট সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরে ভূমিকা পালন করা এবং একটি শক্তিশালী আইসিটি ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরিতে দেশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করা অপরিহার্য।

 

ড. হাসান মাহমুদ: সহকারী অধ্যাপক

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি

আরও