সাত সতেরো

প্রযুক্তি কি তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পথ রুদ্ধ করছে?

আগে একটা টিভি বিজ্ঞাপনের দৈর্ঘ্য কেমন হতো? সাধারণত ত্রিশ সেকেন্ড, তাই না? তবে ভালো কনটেন্ট হলে এক মিনিট। মাঝেমধ্যে বাংলালিংকের মতো স্টোরিনির্ভর অ্যাডগুলো দেড়-দুই মিনিটও দেখা যেত। তবে আমাকে মুগ্ধ করা সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড (ইউটিউবে দেখুন: Fortune-Ghar Ka Khana)!

আগে একটা টিভি বিজ্ঞাপনের দৈর্ঘ্য কেমন হতো? সাধারণত ত্রিশ সেকেন্ড, তাই না? তবে ভালো কনটেন্ট হলে এক মিনিট। মাঝেমধ্যে বাংলালিংকের মতো স্টোরিনির্ভর অ্যাডগুলো দেড়-দুই মিনিটও দেখা যেত। তবে আমাকে মুগ্ধ করা সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড (ইউটিউবে দেখুন: Fortune-Ghar Ka Khana)!

কেন এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলাম? এখন ইউটিউবে যেকোনো ভিডিও প্রদর্শনের আগে বিজ্ঞাপনের জন্য সময় মেলে মাত্র ৫ সেকেন্ড! তার চেয়ে লম্বা হলেই অটো ‘স্কিপ অ্যাড’ অপশনে আঙুল চলে যায়। কারণ গবেষণা বলছে, মানুষের কোনো বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার ক্ষমতা কমতে কমতে এখন তা ৮ সেকেন্ডে নেমেছে! ফলে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখার সময় থাকলেও ধৈর্য নেই!

এটা যে শুধু বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে হয়েছে—ব্যাপারটা তেমন নয়। পাঁচদিনের টেস্ট ক্রিকেটকে প্রথমে কাটছাঁট করে একদিনে আনা হলো। তারপর ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে টি-টোয়েন্টি, টি-টেন ও একশ বলের খেলা! ঠিক তেমনিভাবে বিশাল মাঠের ফুটবল এখন ছোট্ট মাঠ ও সীমিত সংখ্যক প্লেয়ারের ফুটসালে পরিণত হয়েছে। সিক্স-এ-সাইড পপুলার হচ্ছে ফুটবল-ক্রিকেট উভয় ক্ষেত্রেই।

একসময় সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পরও নিকটস্থ হলে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ঝক্কি-ঝামেলা সয়ে সশরীরে প্রেক্ষাগৃহে বসে সেটা দেখা লাগত। টেলিভিশন সেই বাধা বহুলাংশে দূর করল। ঘরে বসেই তা দেখার সুযোগ বাড়ল। হালে নেটফ্লিক্স-অ্যামাজন প্রাইম-হইচই-ইউটিউব তো যখন-যেখানে খুশি, পছন্দের মুভি দেখার সুযোগ এনে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। তবে কল্পনাতীত এসব সুবিধা কি চলচ্চিত্র নির্মাণসংশ্লিষ্টদের জন্য আদৌ কল্যাণ বয়ে আনছে?

আগে একটা সফল মুভি বছরের পর বছর ব্যবসা করত। এখন মাস খানেকের মধ্যে নতুন অসংখ্য মুভি সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দর্শকের মনোযোগ পাওয়া। এখন তিন ঘণ্টার সিনেমা দেখার ধৈর্য অধিকাংশ মানুষেরই নেই। ফলে টেলিফিল্ম, আর্টফিল্ম ইত্যাদি ফরম্যাটে কমতে কমতে এখন তা ১০-১২ মিনিটের শর্টফিল্মে ঠেকেছে। অনেকেই ৫-৬ মিনিটে গল্প বলার চেষ্টা করছেন। কারণ দীর্ঘ সময় কোনো বিষয়ে আটকে থাকার আগ্রহ ও রুচি দুটোই কমছে। সেদিন পুরস্কারপ্রাপ্ত ইরানি এক শর্টফিল্ম (মাদার) দেখলাম ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের!

বিটিভি আমলে এক ঘণ্টার নাটক ছিল বহুল জনপ্রিয়। এখন তা ঠেকেছে ৩৫-৪০ মিনিটে। তার পরও দর্শকের টাইম নেই। ফলে বেছে বেছে চুম্বক অংশগুলো ৩-৪ মিনেটের ভিডিও আকারে ছাড়া হচ্ছে। নাটকের ভিউ দশ হাজার পার না হতেই ওসব কাটপিস লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে! আবার আগে টিভিতে যা দেখানো হতো, দর্শকদের তাই দেখতে হতো। কিন্তু এখন দর্শক বহু চ্যানেলে ৩-৫ সেকেন্ড স্টপেজ দিয়েই অন্যটাতে চলে যাচ্ছে! ফলে শতাধিক চ্যানেল মুঠোয় থেকেও সত্যিকারের বিনোদন ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে!

আগের দিনে শুধু গানের বদৌলতে বহু সিনেমা হিট হতো। আশিকী মুভির মূল উপকরণ ছিল এগারোটা গান। এ-বিষয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কুমার শানু বলেন: ওই গানগুলো নিয়ে একটি অডিও ক্যাসেট বের করার কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ মহেশ ভাট বললেন, এমন গান শুধু অডিওতে যাওয়া ঠিক হবে না। এটার ভিজ্যুয়াল ফরম্যাট আসা উচিত। তখনই গানগুলোর ভিত্তিতে স্টোরি লেখা হয়। নির্মাণ হয় সুপারহিট এক মুভি। পরে তার সিকুয়ালও হয়।

অথচ আজকাল দর্শকের গান শোনার টাইম নেই। মুভি দেখার সময় অনেকেই গানগুলো স্কিপ করে। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশে এখনো সিনেমা নির্মাণে সবচেয়ে বেশি বাজেট, শ্রম ও মনোযোগ দেয়া হয় গান মেকিংয়ে! সেটাই দর্শক দেখছে না! তাহলে গীতিকার, সুরকার, নৃত্য পরিচালক ও সর্বোপরি পরিচালকের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর সুযোগ কোথায়? তবে হ্যাঁ, কোন গান ‘অগ্নি পরীক্ষা’য় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে আবার অনায়াসে মিলিয়ন ভিউ হচ্ছে! কিন্তু তার আগেই হাজারো সৃষ্টি মনোযোগের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রবণতা কি সৃজনশীল কাজের জন্য সহায়ক?

পৃথিবীর দীর্ঘতম উপন্যাস লেখা হয়েছিল আড়াই মিলিয়ন শব্দে, প্রায় তিন হাজার পৃষ্ঠা। এমনকি টলস্টয়ের বহুল পঠিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ উপন্যাসে রয়েছে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৭ শব্দ! এখন তা কমতে কমতে (খুব সম্ভবত) কয়েক হাজারে ঠেকেছে। এখন নাকি কোনো বই একশ পৃষ্ঠার বেশি হলে সাধারণ পাঠক পড়তে আগ্রহ দেখায় না। সেজন্যই প্রকাশকদের ডিমান্ড থাকে—সাইজ যেন বড় না হয়!

তার চেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো টি-টোয়েন্টির আদলে এখন মাত্র ২০ শব্দে গল্প লেখার চল শুরু হয়েছে। সেদিন শ্রদ্ধেয় একজনের ফেসবুক ওয়ালে দেখলাম তিনি ২০ শব্দে আত্মজীবনী লেখারও চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন! বোঝা গেল ব্যাপারটা? বিস্তারিত বলে বা লিখে মত প্রকাশে অভ্যস্তদের কপালে যে দুর্গতি আছে তা বলা বাহুল্য। তবে ভাবনার বিষয় হলো—এমন আচরণের প্রভাব কি শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

খুব সম্ভবত, না। যেমন আগে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনতে হাটবারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। সপ্তাহে সাধারণত দুদিন হাট বসত। এরপর প্রতিদিন সেগুলো কেনার সুযোগ এল। এখন তো একটা কল দিলেই যেকোনো সময় তা বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি রান্না করতে ইচ্ছে না হলে, রেডি মিল দরজায় হাজির হচ্ছে। এভাবে সবকিছুতে ‘কুইক সার্ভিস’ পাওয়ার চর্চা আমাদের বড্ড অস্থির করে তুলছে না তো?

আগে চিঠি লিখে তার জবাব পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করা যেত। কিন্তু এখন মেসেঞ্জারে রিপ্লাই পেতে ১০ মিনিট দেরি হলে অস্থিরতা বাড়ে! আগে ঠিকানা লেখা কাগজ হাতে নিয়ে শহরে আত্মীয়ের বাসায় ঠিক পৌঁছে যেত। অথচ এখন কাঙ্ক্ষিত বাসার দরজায় দাঁড়িয়েও কল দেয় (ঠিক বাসায় পৌঁছেছে কিনা) নিশ্চিত হওয়ার জন্য! এভাবে তথ্যে ব্যাপক প্রবেশাধিকার মানুষের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে অভিভাবক কিংবা বসের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, নিজেদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা হ্রাস করছে। নতুন প্রজন্মের অধিকাংশের পরনির্ভরশীলতা ক্রমেই বাড়ছে।

টুইটারে গড়ে ৩৩ ক্যারেক্টারে মানুষ তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে! ফোনে এসএমএস লিখতে হয় ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে। ফেসবুক ইদানীং লম্বা পোস্টের রিচ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে অনেক কষ্ট করে বড় বিশ্লেষণ লেখা অনেকেই হতাশা প্রকাশ করছেন। ভাবছেন মানুষ ওসব পড়ে না! আসলে ফেসবুক আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা এক পার্সেন্ট মানুষের কাছেও সেগুলো পাঠাচ্ছে না। প্রথমে কিছু মানুষ সেটাতে খুব সক্রিয়ভাবে রিঅ্যাক্ট করলে ক্রমশ তার রিচ বাড়তে থাকে। নইলে দ্রুতই সেটা হারিয়ে যায়। অর্থাৎ তারা ছোট এবং ঘন ঘন পোস্টকে উৎসাহিত করছে!

আগে আসবাবপত্র বানানোর সময় গুরুত্ব দেয়া হতো তা যেন টেকসই হয়। কয়েক প্রজন্ম টিকবে, এমন খাট বানানোতে অগ্রাধিকার থাকত। এখন ডিজাইন মুখ্য হয়েছে, স্থায়িত্ব নয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আসবাবের মতো নগর জীবনে সংসারগুলোও বড় ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছু থাকার পরেও শুধু সুখ পাখিটাকে ধরা যাচ্ছে না। চারপাশের অস্থিরতা ক্রমেই আমাদের গ্রাস করছে, হুঁশ ফিরছে না।

কোনো বিষয়ে গভীর মনোনিবেশ কিংবা গৃহীত পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি অনুভব করার চর্চা উঠে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ইনস্ট্যান্ট সবকিছু পাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি কমিটমেন্ট বা ত্যাগবিমুখ করছে। বিপদ বা দুঃসময়ে ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। হতাশা ও একাকিত্ব গ্রাস করছে। সবকিছুর মাঝে থেকেও নিজেকে ‘হতভাগা’ ভাবার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে ‘অসুখী’ ভাবা লোকের সংখ্যা বেশ দ্রুত বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের স্থিরতা কমছে। বড় বাক্য তো দূরের কথা, বড় শব্দ লিখতেও বিরক্ত বোধ করে। আগামীতে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেয়া অনেকের জন্যই কঠিন হবে। তাই সময় কমানোর পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের ধরন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা দরকার। গরুর রচনা লেখার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই—নীতিনির্ধারকদের প্রথমে তা উপলব্ধি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে চিন্তা করবে বেশি, লিখবে কম—এমন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। তাছাড়া লেখার পাশাপাশি বলার যোগ্যতাকেও আমলে নিতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে প্রেজেন্টেশন ও কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

মাত্রাতিরিক্ত প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার বহুবিধ নেতিবাচক ফল বয়ে আনছে। শারীরিক পরিবর্তন দেখা গেলেও মানসিক পরিবর্তন রয়ে যাচ্ছে অগোচরে। আমরা অ্যানালগ ও ডিজিটাল উভয় যুগই পেলাম। কিন্তু যাদের জন্মই হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিবেষ্টিত পরিবেশে তাদের মানসিক বৈকল্য খুব সাধারণ ঘটনায় পরিণত হবে। মানসিক অস্থিরতার পাশাপাশি আগামীতে মানসিক অসুস্থতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো হার্ডওয়্যারকেন্দ্রিক, যে সফটওয়্যার দ্বারা চলছি—সেটা নিয়ে ভাবছি কম। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অবিলম্বে গবেষণা ও সাপোর্ট সার্ভিস বাড়ানো দরকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাউন্সেলিংয়ের মাত্রা ও গভীরতা বাড়ানো দরকার। শিক্ষার্থীদের মানসিক ভঙ্গুরতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের পড়ালেখার শিডিউল ও উপকরণ তৈরি করা দরকার। পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের শারীরিক শ্রমে যুক্ত করা জরুরি। নগরজীবনে অহমিকায় ভোগা অভিভাবকদের (সন্তানের কল্যাণের কথা ভেবে হলেও) প্রতিবেশী ও স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় সন্তানদের যে কল্যাণ হয় তা দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল পার্ক বা রিসোর্টে নিয়েও হয় না—এ বোধ স্পষ্ট হওয়া দরকার। কারণ মানুষ সামাজিক জীব। দিন শেষে তাকে সমাজের সঙ্গেই চলতে হবে।

শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ, পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রের সংখ্যা ও গুণগতমান বাড়ানো দরকার। খেলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। সামাজিক নানা কার্যক্রমে তাদের নিবিড়ভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। তাদের হাতে ফোন বা ট্যাব দিয়ে বড়রাই সব করবে—এমন চর্চা ক্ষতিকর। বরং সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশেষ কিছু কাজে তাদের দায়িত্ব দিয়ে সেগুলো ঠিকঠাক করছে কিনা তা তদারক করা উচিত।

সন্তানদের ব্যালান্সড ডেভেলপমেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রোবট বা তোতা পাখির মতো কিছু বিষয় রি-প্রডিউস করতে পারলেই আহ্লাদিত হওয়ার কারণ নেই। তারা সমবয়সীদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করে কিনা, প্রযুক্তিপণ্যের চেয়ে বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গ তাদের বেশি তৃপ্ত করে কিনা—খুব গুরুত্বসহকারে সেগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। তাছাড়া কোনো প্রকার মানসিক জটিলতা বা সীমাবদ্ধতা দেখা দিলে ‘লোকে কী বলবে’ ভেবে গুটিয়ে না থেকে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেয়া দরকার। বড় প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর-তরুণদের অস্থিরতা কমাতে বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প আছে কি?

 

মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও  ‘মস্তিষ্কের মালিকানা’ বইয়ের লেখক

আরও