বিশ্বব্যাপী প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা নিরূপণ করা জরুরি

প্রবীণরা শুধু পরিবারের সদস্য নন; তারা পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারা নেতৃত্ব দেন, পরিচর্যা করেন এবং প্রজন্মের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের সংখ্যা ১২০ কোটি থেকে বেড়ে ২১০ কোটিতে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সে সময় বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ হবে প্রবীণ জনগোষ্ঠী।

এটি আমাদের সময়ের অন্যতম বড় অর্জন। তবে মানুষের দীর্ঘায়ু একই সঙ্গে নানা ঝুঁকি ও সম্ভাবনারও জন্ম দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও সমাজের কাঠামোতে, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন। তাই রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয়তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান রইল।

অনেক মানুষের জন্য বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তা ও সমাজের মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয় অনেককে, যা তাদের অধিকার ও জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে কর্মসংস্থান, পেনশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও আজীবন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোতে যথাযথ নীতি গ্রহণ করা হলে বয়স নির্বিশেষে মানুষকে সমাজে অর্থবহভাবে সক্রিয় রাখা সম্ভব।

প্রবীণরা শুধু পরিবারের সদস্য নন; তারা পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারা নেতৃত্ব দেন, পরিচর্যা করেন এবং প্রজন্মের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে তাই প্রজন্মগুলোর মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এমন নীতি ও ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা মানুষের দীর্ঘ জীবনকে শুধু দীর্ঘতরই করবে না, বরং সেই জীবনকে পছন্দের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ করে তুলবে।

আন্তোনিও গুতেরেস: জাতিসংঘের মহাসচিব

[আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের বার্তায়]

আরও