দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থাকছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এজন্য মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বাংলাদেশের জন্য নানা কারণেই এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের ব্যবধানে এবারই প্রথম সংঘবদ্ধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
এবারের নির্বাচনে সরকারি ও বিরোধী দল—দুই পক্ষ থেকেই প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এজন্য এ নির্বাচনকে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। কারণ ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চম জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। অন্যদিকে, বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। এবার বিএনপির পক্ষে প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর বিরোধী দলীয় জোট থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এটি ছিল দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও প্রকাশ। বিশেষত এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির শক্তি, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এসব বিষয়ও যে আগামী দিনে গুরুত্ব পেতে পারে তার ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি।
দেশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর তিনটি ভিন্ন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। প্রাথমিক পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক সামরিক শাসন এবং পরবর্তীতে সংশোধিত পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা। প্রথম পর্যায়ে (১৯৭৩-৭৬) রাষ্ট্রপতি সংসদীয় প্রণালী অনুযায়ী একটি সম্মানজনক জায়গায় অবস্থান করলেও তার ভূমিকা ছিল সীমিত। তবে ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম চালু হলে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নির্বাচিত হন এবং শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতা পান। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ পুনরায় পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় ফিরে আসে এবং রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানান্তরিত হয়। ওই বছর অক্টোবরে প্রথম সংঘবদ্ধ পার্লামেন্টারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর আসে স্থবির এক সময়, যা গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্যও শোভন ছিল না। ১৯৯৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রধানত রূপকীয় এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উলটোপথে যাত্রা করেছে বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি এমন হয়ে গিয়েছিল যে অনেক সময় যারা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পেতেন তারা শুধু সম্মানটুকুর জন্যই দায়িত্বে আসতেন। ওই সময় হাস্যরস করেও অনেককে বলতে শোনা গেছে, ‘রাষ্ট্রপতির কাজ বাংলাদেশে বিশিষ্ট দিনে কবর জিয়ারত করা আর নাহয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে চটুল বক্তব্য দেয়া।’ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও গুরুত্ব যে কতটা তা আমরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যক্ষ করেছি। রাষ্ট্রপতি শুধু একজন ব্যক্তি নন। পদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ও রাষ্ট্রের প্রতীক। তবে বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য গড়ার দিকে মনোযোগ কমই এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতায়িত করার আলোচনা ব্যাপক গুরুত্ব পায়। এখনো এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলে আলোচনা চলছে। আর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য গড়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে, এমনটাই রাজনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।
এখনো বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি আইনগতভাবে সীমিত নির্বাহী ভূমিকা পালন করছেন। তবে তার সাংবিধানিক অবস্থানটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রজাতন্ত্রের প্রধান ও সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি সংসদ সদস্য নিয়োগ, বিচারকদের অনুমোদন, সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ, রাষ্ট্রপক্ষীয় চুক্তি অনুমোদন এবং ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা রাখেন। এগুলো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নয়। তবে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল বেশি। কিন্তু রাজনৈতিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই, কোন দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেটিও রাষ্ট্রপতিই নির্ধারণ করেন। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে মনোনীত প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই নির্বাচিত হন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদটির ক্ষমতায়নে ভারসাম্যের এখনো অভাব রয়েছে। সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। কারণ দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের মনে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তা নিয়ে আগ্রহ তেমন ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তন ঘটেছে। এখন সংসদ অধিবেশন এমনকি রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতুহল ও প্রত্যাশার খবর সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
এরই মধ্যে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর বিরোধী দলীয় জোট থেকে শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। বিএনপির থেকে মনোনয়ন পান তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোটপর্ব শেষে তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এমনটা আগেই অনুমেয় ছিল কিন্তু ভোটপর্বের গণতান্ত্রিক উচ্ছ্বাস তাতে একটুও ম্লান হয়নি।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার সংসদীয় আসন (ঠাকুরগাঁও-১) ছেড়ে দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থীই রাজনৈতিকভাবে যোগ্য। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান রাজনৈতিক কারণে দেশে অবস্থান করতে পারেননি। ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলকে সংগঠিত ও চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় সংকট ও সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে তার এ অভিজ্ঞতা অনেক কাজে আসবে। বিশেষত এমন অভিজ্ঞ কেউ রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও নীতিপরামর্শের ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
কিন্তু আমাদের মূল মনোযোগ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপালনের দিকে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় অবধারিতভাবেই দলটির পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সহজ ছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রক্রিয়ার মধ্যে মূল্যবোধের চর্চা যে জরুরি তারই প্রমাণ এবার সংসদে থাকা দলের প্রতিনিধিরা দিয়েছেন। বিরোধী দলীয় জোট মূলত এ চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্যই রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাউকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এটি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজস্ব দায় প্রকাশের দিক দিয়ে বিবেচনা করা দরকার। এমনটি আমাদের গণতন্ত্রের জন্যও ইতিবাচক। আগামীতে তরুণ প্রজন্ম এ ধরনের সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে দেশকে নেতৃত্ব দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন। উপযুক্ত বিচারক নিয়োগ, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগসহ নানা রাষ্ট্রীয় চুক্তি অনুমোদনে তার বিচক্ষণতা প্রয়োজন হবে। তবে শুরুতেই যেমনটি বলেছি, রাষ্ট্রপতি পদটিতে ভারসাম্য গড়া জরুরি। এক্ষেত্রে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের উদাহরণ বেশি প্রাসঙ্গিক। এটি একটি অনন্য আধা-রাষ্ট্রপতিকেন্দ্রিক এবং আধা-পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত একমাত্র তিনিই নিতে পারেন। তিনি সরাসরি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারকে জাতীয় পরিষদের আস্থা অর্জন করতে হয়। ফ্রান্সের সাংবিধানিক আইন সীমিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে জরুরি ক্ষমতা দেয়, কিন্তু এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে হয় সাংবিধানিক পরিষদের অনুমোদনের সাথে এবং পার্লামেন্টারি নিয়ন্ত্রণের অধীন থেকে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে জরুরি অবস্থাতেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্রধান। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার এবং বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি কঠোর শক্তি ভারসাম্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে যা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির অনেক সিদ্ধান্ত অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। কর পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ এবং সামরিক ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভেটো দিতে পারেন, কিন্তু কংগ্রেস দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই ভেটো অতিক্রম করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে এবং সংবিধানবিরোধী বলে ঘোষণা করতে পারে। এই সর্বব্যাপী চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে যদিও রাষ্ট্রপতি শক্তিশালী, তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন নন।
বাংলাদেশ, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র তিনটি সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা অনুসরণ করে। তবে একটি মূল সমান্তরাল হলো যে প্রতিটিই ক্ষমতা বণ্টন এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়। ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা তৈরি করে যা রাষ্ট্রপতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে, যদিও আইনিভাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত, অনুশীলনে এই সীমাবদ্ধতাগুলি কতটা কার্যকর তা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের জন্য এই তুলনার শিক্ষা হলো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতে গুরুত্ব দেয়া এবং শক্তির নিয়ন্ত্রণের আবশ্যকতা। সংঘবদ্ধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থীদের উপস্থিতি এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার একটি প্রতীক। এটি প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানগুলি ব্যক্তি-নির্ভর নয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হতে পারে। তবে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য আরও অনেক কাজ রয়েছে। পার্লামেন্টারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করতে হবে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সততা। আমরা সেটিই প্রত্যাশা করি।
ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ: রাজনৈতিক বিশ্লেষক; সাবেক উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়