গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রক্রিয়া নয়, এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থারও প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা আজও কার্যকর হয়নি। এ কারণে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পরই অনিয়ম, কারচুপি এবং পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়। কাজেই প্রশ্ন জাগে, কেন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয় না? এর পেছনের মূল কারণ কি?
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর অন্যটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। এর একটি ছাড়া অন্যটি কার্যকর হতে পারে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার তুলনামূলক অনেক কম সময়সাপেক্ষ একটি বিষয়। এ প্রবন্ধে নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত ত্রুটিগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করা হবে এবং একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের রূপরেখা দেয়া হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদে এর কাঠামো ও দায়িত্ব নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া অস্পষ্ট হওয়ায় ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থে এটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ২০২২ সালের আইনে বাছাই কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনের বিধান জারি হলেও বাস্তবে কমিটির সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের মনোনয়নেই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। ফলে এই কমিটির মাধ্যমে যে কমিশন গঠন হয়, তাতে নিশ্চিত করেই ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। বিগত সরকারের সর্বশেষ নির্বাচন কমিশন তথাকথিত ‘বাছাই কমিটি’র মাধ্যমেই গঠন হয়েছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় যে চূড়ান্ত দলীয়করণ হতে পারে তার নজির হলো, এদের নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ কমিশন গঠনের আরেকটি প্রস্তাব দেয়া হয়। সেখানে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা ও প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয় এবং এতে পাঁচ সদস্য দ্বারা সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এ প্রস্তাবনা কিছুটা ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘সর্বসম্মত’ ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া জুলাই সনদে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘ইচ্ছাপত্র’ ও ‘জীবনবৃত্তান্ত’ চাওয়ার প্রস্তাবও বাস্তবে যোগ্য ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ফলে কমিশন কাঠামোগতভাবে দুর্বলই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া জুলাই সনদে বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নেই। অথচ নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত দুর্বলতাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এর ওপর রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ। নির্বাহী বিভাগ প্রধানত তিনভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত, মাঠ পর্যায়ের রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে ও তৃতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে।
নির্বাচন কমিশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রধান মাধ্যম হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা হলেও এর কোনো কার্যকর নিজস্ব সচিবালয় নেই, যা আছে তা মূলত প্রশাসনেরই একটি শাখা মাত্র। নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের প্রধান ব্যক্তি হলেন সচিব। সচিব পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। নির্বাচন অফিসারদের বদলি পদোন্নতি ও শাস্তির বিষয়গুলোসহ নির্বাচন পরিচালনায়ও সচিবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নির্বাহী বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে, প্রধানত প্রশাসন ক্যাডার থেকে, নিয়োগ দেয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হলো, প্রশাসন ক্যাডার পরিচালিত একটি মন্ত্রণালয় যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। কাজেই নির্বাহী বিভাগের একজন কর্মকর্তার পক্ষে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব এড়িয়ে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করা প্রায় অসম্ভব।
প্রয়াত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তার ‘নির্বাচননামা’ গ্রন্থে লিখেছেন—‘নির্বাচন কমিশনের সচিবের দ্বৈত স্বত্বা রয়েছে। একদিকে তিনি সরকারের সচিব, অন্যদিকে কমিশনের সচিব। সরকারের সচিব হিসেবে তিনি সরকারের স্বার্থ রক্ষায় দায়বদ্ধ, আর কমিশনের সচিব হিসেবে কমিশনের স্বার্থ রক্ষাই তার কাজ। এ দুইয়ের ভারসাম্য রাখা কঠিন’। বাস্তবে দেখা গেছে, সচিবরা প্রায়ই সরকারের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন এবং অনেকে অবসরের পর সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের মোট ছয়টি অনুবিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারটির উচ্চপর্যায়ে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচন কমিশনের অর্গানোগ্রাম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী বিভাগের পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখা হয়েছে। ফলস্বরূপ কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবর্তে কার্যত প্রশাসন ক্যাডারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে পড়েছে।
নির্বাহী বিভাগের এ নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় করা হয় রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকরা সরাসরি রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অধীন কর্মচারী। প্রশাসনের রুটিন কার্যক্রম অনেক বিস্তৃত থাকায় এদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক থাকে। এ সম্পর্ক ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। এ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে মনোনয়ন, নির্বাচন এবং নির্বাচনের ফলাফল অনেকাংশে প্রভাবিত হয়। এমনকি প্রশাসনের অপছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দৃষ্টান্তও কম নয়। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত এমনই সম্পর্কের প্রভাব। ২০২৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় তার দ্বৈত নাগরিকত্ব। অথচ এর আগের নির্বাচনে একই প্রার্থী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও ‘বৈধ’ প্রার্থী হন এবং নির্বাচিত হন। অনেকে মনে করেন, প্রশাসনের এক স্থানীয় কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধের কারণেই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে প্রশাসনের কাছে নির্বাচন নয়, বরং প্রশাসনের স্বার্থই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
বিদ্যমান রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ পদ্ধতির ত্রুটি আরো গভীর এবং সুদূরপ্রসারী। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারদের স্বল্প মেয়াদের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় থেকে ফলাফল গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত তাদের মেয়াদকাল নির্ধারিত হয়। স্বল্প সময়ের জন্য নিয়োগকৃত হওয়ায় নির্বাচনের মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতার প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। উপরন্তু তারা সরকারের প্রভাবে কাজ করতেই পছন্দ করে। ফলে খুব সহজেই তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে পারে এবং এর জন্য তাদের শাস্তি পেতে হয় না। বরং অবৈধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে তাদের কখনো পুরস্কৃতও করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর তাদের পদোন্নতি বা বদলিজনিত কারণে তারা খুব সহজেই জনগণের ক্ষোভ থেকে নিরাপদে পরিত্রাণ পেয়ে যায়। বহুল সমালোচিত মাগুরা নির্বাচন, ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় নির্বাচন কিংবা সাম্প্রতিক ‘নিশিরাতের’ ও ‘ডামি’ নির্বাচন—কোনো ক্ষেত্রেই রিটার্নিং অফিসারদের দায় নিতে হয়নি, তাদের শাস্তি পেতে হয়নি।
নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এমনকি নির্বাচন চলাকালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও রিটার্নিং অফিসারের অধীনে থেকে কাজ করতে হয়। আর রিটার্নিং অফিসার পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে খুব সহজেই রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে ওঠে।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে’। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারাই নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করেন আর নির্বাচন কমিশন তার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন কোনো মতেই স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না এবং এ কাঠামোগত ত্রুটি বজায় রেখে কোনো অবস্থাতেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। ফলে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত কিছু সংস্কার অপরিহার্য।
প্রথমত, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনের সাম্প্রতিক প্রবণতা সম্পূর্ণরূপেই আমলাতন্ত্রমুখী। সর্বশেষ সাতজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে চারজনই সাবেক আমলা। বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং এদের প্রায় প্রত্যেকেই বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত। কাজেই নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে বিচার বিভাগ, পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ থেকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একটি পেশা থেকে একাধিক নিয়োগ এড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংস্কার করতে হবে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি নিজস্ব সার্ভিস কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে সচিব পর্যায়ে পৌঁছতে পারবেন এমন ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, জেলা প্রশাসকদের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দিতে হবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের প্রায় ছয় শতাধিক স্থায়ী নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নির্বাচন কমিশন অফিসও রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান লোকবল দিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব সম্পাদন করা সম্ভব। যদি লোকবল যথেষ্ট না হয়ে থাকে তাহলে রাষ্ট্রের অন্য পেশা থেকে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি ডেপুটেশনে এনে কমিশনের আওতায় যুক্ত করা যেতে পারে।
চতুর্থত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পঞ্চমত, প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর প্রিজাইডিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারদের মূল্যায়ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভবিষ্যৎ পদোন্নতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আনতে হবে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহির মধ্যে রাখতে হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হলে জনগণ তাদের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। এতে রাজনৈতিক সংকট হ্রাস পাবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র কেবল একটি নিয়ম নয়; এটি একটি সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির গুণগত মানোন্নয়নের দায়িত্ব সবার।
সফিক ইসলাম: শিক্ষক ও লেখক