দেশের অর্থনীতির চালচিত্রের কথা বাজেট ডকুমেন্টের মধ্যে থাকার কথা। সরকার কতটুকু চালচিত্রের কথা অনুধাবন করেছে এবং সে অনুসারে চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়—সেগুলো বোঝার একটি ইঙ্গিত বাজেট ডকুমেন্টের তৃতীয় অধ্যায়ে আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এ তৃতীয় অধ্যায়ই হচ্ছে বাজেটের সবচেয়ে দুর্বল দিক।
সবসময়ই আমাদের বাজেটের এক ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। তিনটি উপাদানের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক বাজেটগুলো তৈরি হয়েছে। প্রথমত, কাগজে কিছু ভালো কথা থাকে। অনেকেই সেটিকে ব্যঙ্গ করে বলেন ‘ভালোচনা’। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উদ্যোগের কিন্তু কোনো কমতি নেই। কিন্তু উদ্যোগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অসম্পূর্ণ ও এক ধরনের গা-ছাড়া ভাব আছে। তৃতীয়ত, মূলত বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল অর্থাৎ আগে যেভাবে চলছিল তা মোটামুটি বা পুরোটা সেভাবেই চলবে এবং আশপাশে কিছু পরিবর্তন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে যদি আলোচনা করা হয় তাহলে এ তিন উপাদানই দেখা যাবে। অর্থাৎ বাজেটে ভালো কথা ও উদ্যোগও আছে কিন্তু তা অসম্পূর্ণ ও গা-ছাড়া। সবকিছু ঠিকঠাক আছে এটা ধরে নিয়ে বাজেট প্রণয়নের বিষয়টি প্রবলভাবে উপস্থিত।
বাজেট বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে আমরা আরেকটি মানদণ্ড দেখতে পারি। সেটা হলো অর্থমন্ত্রী কার কথা শুনেছেন এবং কার কথা শোনেননি। এক্ষেত্রে তিনি তিনটি বড় অ্যাক্টরের (গোষ্ঠীর) কথা শুনেছেন। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কথা দুটি জায়গায় শুনেছেন। এক. সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে তাই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাজেট করা যাবে না। এ কারণে বাজেটের আকার সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। দুই. সামনে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়। সে সংক্রান্ত কিছু প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। আইএমএফের কিছু প্রত্যাশার প্রতিফলন বাজেটে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজেট প্রণয়নে অলিগার্কদের কথা শোনা হয়েছে। যারা ক্ষমতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছেন সেই অলিগার্ক গোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে। তার অনেকগুলো উদাহরণ আমরা দেখতে পাব। অলিগার্কদের কথা শুনেই অনেক প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হয়নি। যেমন প্রশাসনিক সংস্কার ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। অলিগার্ক গোষ্ঠীর কথা শুনেই প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আবার এ বিশেষ শ্রেণীর সুবিধার কথা চিন্তা করেই অর্থনৈতিক সংস্কার কিংবা ব্যাংক খাত নিয়ে তেমন আলোচনা করা হয়নি বাজেটে। তবে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা বনাম সৎ করদাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ কর—এটি একটি অত্যন্ত অনৈতিক পদক্ষেপ। অলিগার্কদের কথা যে শোনা হয়েছে এ ধরনের পলিসিতে তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।
তৃতীয়ত, বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আমলাতন্ত্রকে, যারা সবকিছু স্বাভাবিক রাখার পক্ষপাতী। তাদের সুযোগ-সুবিধায় যাতে কোনো কমতি না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে তারা পরিচালন ব্যয় কমানোর পক্ষপাতী নন। সাহসী আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। জনকল্যাণমূলক ও সংস্কারমূলক সাহসী চিন্তা বাদ দিয়ে যেভাবে চলছে সেভাবেই যেন চলতে দেয়া হয় সে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
মোটা দাগে তিনটি প্রভাবশালী অংশের কথা শুনতে গিয়ে বাজেটে শোনা হয়নি পরিশ্রমী উদ্যোক্তা এবং পরিশ্রমী অর্থনৈতিক কর্মীর (এক অর্থে সাধারণ মানুষ) কথা। তাদের প্রয়োজনগুলোর দিকে কোনো নজর দেয়া হয়নি। প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা রাখা ও মধ্যম আয়ের দেশের পথে যাত্রাসহ বিভিন্ন কথা বলা হচ্ছে কিন্তু প্রবৃদ্ধির কৌশলকে পুনঃচিন্তা করার চ্যালেঞ্জ নেয়ার কথা, তার কোনো প্রতিফলন নেই। পরিশ্রমী উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক কর্মীরা চান যেন নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ভালো আলোচনাও আছে। প্রত্যাশিত (প্রসপেক্টিভ) করের একটি পদক্ষেপ আছে। কিন্তু কর প্রশাসনের সংস্কার পরিশ্রমী উদ্যোক্তাদের অন্যতম একটি চাহিদা। সেখানে নতুন কোনো ঘোষণা নেই। তাদের আরেকটি চাহিদা ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়ন। এ দুটো বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে জোরালো তেমন কিছু দেখা যায়নি। বাংলাদেশের কোনো মানুষ অলস বসে থাকে না। প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের প্রয়োজনে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
বর্তমানে মোবাইলের টকটাইম ও ইন্টারনেট সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা আছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এর সঙ্গে আরো ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তা কার্যকর হলে মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়বে। আমি মনে করি, ৫ শতাংশ কর বাড়ানোর দরকার ছিল না। করমুক্ত আয়সীমা একটু বাড়ানো হলে ভালো হতো। এসব বিষয় পরিশ্রমী অর্থনৈতিক কর্মীর চাহিদা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেটটি দেখা দরকার।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশে পাঁচটি সংকট দেখতে পাচ্ছি আমরা। এর মধ্যে একটি হলো সামষ্টিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতা। সে আলোকে বাজেটের আকার কমানো হয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে বড় ধরনের সমাধান সেখানে হয়নি। সামষ্টিক অর্থনীতির সংকটকেই মাথায় রেখে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আরো চারটি সংকট প্রবলভাবে বিদ্যমান। এর অন্যতম একটি মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত, জীবনযাপন ব্যয় বৃদ্ধি। এতে যে শুধু নিম্নবিত্ত ভুগছে এমন নয়, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত সবাই চাপে আছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, যা কাগুজে নির্ধারণ ছাড়া কিছুই না। যারা এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারাও হয়তো এতে বিশ্বাস রাখেন না। কারণ মূল্যস্ফীতিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হলে তো সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশলের প্রয়োজন। বাজেটে সেই বিষয়ে কোনো প্রতিফলন নেই। কাজেই জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের একটি প্রবল সমস্যা সামনে আছে। তৃতীয়ত, বর্তমানে যুবকদের কর্মসংস্থান সংকট প্রবল। এ সংকটের বিষয়ে বাজেটে জোরালোভাবে বলা দরকার ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্বাসযোগ্য কর্মকৌশল কোথায়? বর্তমানে এ দেশের যুবকরা হতাশাগ্রস্ত। তারা দেশে কোনো তাদের ভবিষ্যৎ দেখছেন না। এ ধরনের যুবক সম্প্রদায় প্রায় ৫০ শতাংশের ওপরে। বাজেটে এ সংকটের স্বীকারোক্তি কোথায়? এ সংকট নিরাময়ে কী করা হবে তার চেষ্টা কোথায়? বাজেটে শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিক একটি প্রবৃদ্ধির কৌশল চিন্তার মধ্যে না আনা হলে এটাকে বড় করে ফলপ্রসূ করা যাবে না। চতুর্থত, ব্যবসায় পরিবেশ সংকট, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিশ্রমী উদ্যোক্তার কথা ভাবা হয়নি। তাদের বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। তারা কর প্রশাসন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাশিত (প্রসপেক্টিভ) করহার ২ শতাংশের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশে সামনে কোনো বন্যা বা সংকট তৈরি হলে তখন বিভিন্ন ধরনের এসআরও (স্ট্যাটিউটরি রুলস অ্যান্ড অর্ডার) দিয়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হয়। আমরা লক্ষ করছি, এ কারণে ব্যবসায় পরিবেশ সূচকগুলো কিছুতেই উন্নত হচ্ছে না।
চলতি অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান ২৩ শতাংশের ঘরে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৭ শতাংশের বেশি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে অর্জিত হবে? এটা আসলে কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে। এ দেশের বিনিয়োগকারীরা পরিশ্রম করতে রাজি আছেন। কিন্তু আস্থার অভাব আছে। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও অর্থনীতির পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের সিদ্ধান্তকে দেশের বিনিয়োগকারীরা আস্থায় নিতে পারছেন না। সে কারণেই বিনিয়োগে স্থবিরতা। যদি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে দেশের বিনিয়োগকারীরা ২৭ শতাংশ কেন, ৩০ শতাংশ কিংবা ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
সর্বশেষ সংকট হলো নৈতিকতার সংকট, যা অত্যন্ত গুরুতর। এক্ষেত্রে দুটি উদাহরণ পাওয়া গেল। সৎ করদাতাকে ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে এবং অসৎ করদাতা ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করতে পারবেন। এটি একটি প্রণোদনার ইস্যু। কিন্তু কাকে উৎসাহ দিচ্ছেন? কালো টাকা তৈরি করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন? আর সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করছেন। অন্যদিকে মোটরসাইকেলে কর বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু ইউএনওদের বিলাসবহুল গাড়িতে সুবিধা কমানো হয়নি। একটি অর্থনীতিতে যদি প্রণোদনার কাঠামো সঠিকভাবে ঠিক না হয় তাহলে যা ঘটার তাই ঘটবে। অর্থনীতি আরো সংকটে পড়বে।
আমাদের অর্থনীতি যে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে তার স্বীকারোক্তি রয়েছে এবারের বাজেটে, এটা একটি ভালো দিক বটে। এর সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ। রাজনীতিবিদদের কথাবার্তাতেও সংকটের স্বীকারোক্তি রয়েছে। এমনকি গত অর্থবছরের বাজেটের সময়ও পুরোপুরি অস্বীকার করার (ডিনায়াল) মধ্যে ছিল সরকার। সবকিছু ঠিক চলছে, কোনো সমস্যা নেই—এমন মনোভাব ছিল তাদের। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সমস্যা যে কিছু আছে তা স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু সেসব সমস্যা কীভাবে তৈরি হলো সে ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়নি। তিন বছর ধরে সুদের হার ৬-৯ এর মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটার ফলে কী অর্জিত হলো? এটা সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে কিনা? এ ধরনের কোনো প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি পরিচালনায় যদি চারটি প্রবণতার মোড় ঘোরানো না যায় তাহলে যেসব সংকট আলোচনা করেছি তা আরো গভীর হবে। প্রথম প্রবণতা হচ্ছে অদক্ষ ঋণ। আমরা ঋণনির্ভর একটি অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর বসে আছি। ঋণ নিয়ে আমরা যে প্রকল্প নিচ্ছি তা সঠিক কিনা সে মূল্যায়ন নেই। অদক্ষ ব্যয় আমাদের আরেকটি নেতিবাচক প্রবণতা। তৃতীয় প্রবণতা হলো দুর্নীতি যা প্রাতিষ্ঠানিক একটি চরিত্রে রূপ নিয়েছে। অনেক সমাজে দুর্নীতি হয় কিন্তু সেখানে দুর্নীতিকে ব্যত্যয় হিসেবে দেখা হয়। চতুর্থ প্রবণতা হলো কর্মসংস্থানের ঘাটতি। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে যুবকরা দেশের বাইরে চলে যেতে চাওয়া ও আত্মহত্যা করতে চাওয়া, একটি মারাত্মক বিষয়।
যেসব পরিশ্রমী উদ্যোক্তা দেশে বিনিয়োগ করার ভরসা পান না সেসব জায়গায় নৈতিকতার বিষয়টিকে একটি হালকা বিষয় হিসেবে নেয়ার কোনো অবকাশ নেই। আজকে সার্বিক নৈতিক পুনর্জাগরণ, নৈতিক রাজনৈতিক গুণাবলি ও অর্থনৈতিক পরিচালনার ক্ষেত্রে নৈতিকতার বিষয়টি ফিরিয়ে না এলে এ সংকট থেকে উত্তরণের কোনো আশা দেখছি না।
প্রস্তাবিত বাজেট পাস করার আগে কিছু পরিবর্তন হয়তো হবে। কিন্তু বাজেট শেষ হয়ে গেলেও তিনটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, প্রশাসনিক সংস্কার, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের আমলাতন্ত্র ঔপনিবেশিকতার পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অর্থাৎ মন-মানসিকতার দৃষ্টিকোণ আমলাদের সঙ্গে জনগণের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা ঔপনিবেশিক আমলের। দ্বিতীয়ত, রাজস্ব সম্পর্কিত একটি ব্যাংকিং কমিশন দরকার। তৃতীয়ত, দেশের প্রবৃদ্ধি কৌশলের একটি সার্বিক পুনর্মূল্যায়ন ও পরিবর্তন দরকার। এবারের বাজেটে কৃষিকে প্রায় অবজ্ঞা করা হয়েছে, মোট বাজেটের মাত্র ৪ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীতে দেশের বৃদ্ধির চালক কোন খাতগুলো হবে—সে বিষয়ে কোনো উদ্ভাবনী চিন্তা নেই। এদিকে নজর দিয়ে যদি কিছু করা যায় তাহলে ভালো হতো। তবে বেশি আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু করণীয়গুলো সম্পর্কে সজাগ থাকাটাও কিন্তু পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
[নিউজপেপার ওনারস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৪-২৫ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায়]
শ্রুতলিখন: দিদারুল হক