বিনিময়হীন
ঋণ
মূলত
একটি
সহযোগিতামূলক
লেনদেন।
এতে
যেমন
আছে
পুণ্য,
ইবাদত,
তেমনি
দরিদ্র
সহযোগিতা,
মানবতা
ও
মনুষ্যত্ব।
এর
মাধ্যমে
অন্যকে
সহযোগিতা
করা
হয়।
মানুষের
বিপদে
পাশে
দাঁড়ানো
হয়।
কেবল
মানবতা
ও
মনুষ্যত্বের
প্রেরণায়
উদ্বুদ্ধ
হয়ে
তা
করা
হয়।
তাই
ইসলাম
বিনিময়হীন
ঋণ
বা
কর্জে
হাসানা
প্রদানে
উদ্বুদ্ধ
করে।
হাদিসে
ইরশাদ
হয়েছে,
‘যে
তার
ভাইয়ের
প্রয়োজন
পূরণে
থাকে,
আল্লাহ
তাআলা
তার
প্রয়োজন
পূরণে
থাকেন।
যেকোনো
মুসলিম
থেকে
তার
কোনো
মসিবত
বা
সমস্যা
দূর
করে,
আল্লাহ
তাআলা
কেয়ামতের
দিন
তার
মসিবত
ও
সমস্যা
দূর
করে
দেবেন।
যেকোনো
মুসলিমের
দোষ
গোপন
করে,
আল্লাহ
তাআলা
কেয়ামতের
দিন
তার
দোষ
গোপন
করে
রাখবেন।’—সহিহ
বুখারি।
আরেক
হাদিসে
এসেছে,
‘যে
ব্যক্তি
কোনো
মুমিনের
দুনিয়ার
কোনো
পেরেশানি
দূর
করবে
আল্লাহ
তাআলা
কেয়ামতের
দিন
তার
কোনো
না
কোনো
পেরেশানি
দূর
করে
দেবেন।’—সহিহ
বুখারি,
হাদিস
নং
৫৬৪১
বলার
অপেক্ষা
রাখে
না,
অর্থনৈতিক
সংকটে
নিপতিত
ব্যক্তিকে
ঋণ
প্রদানের
মাধ্যমে
তাকে
বিশেষ
সহায়তা
করা
হয়।
তার
পেরেশানি
লাঘব
করা
হয়।
আরেক
হাদিসে
এসেছে,
‘কোনো
মুসলিম
যখন
অন্য
কোনো
মুসলিমকে
দুবার
ক্বরদ
প্রদান
করে,
তখন
সেটা
একটি
পূর্ণ
সাদাকার
স্থলাভিষিক্ত
হয়ে
যায়।’—সহিহ
ইবনে
হিব্বান।
আরেক
হাদিসে
এসেছে,
‘আল্লাহ
তাআলা
সেই
বান্দার
সাহায্যে
থাকেন,
যখন
সে
তার
অন্য
ভাইয়ের
সাহায্যে
থাকে।’—সহিহ
মুসলিম।
মোটকথা,
ঋণ
প্রদান
মূলত
এমন
একটি
পুণ্য
কাজ,
যার
মাধ্যমে
অন্যের
প্রয়োজন
পূরণ
করা
হয়।
অর্থনৈতিক
বিপদে
পাশে
দাঁড়ানো
হয়।
এভাবে
কারো
সংকট
দূর
করতে
সহযোগিতার
উদ্দেশ্যে
ঋণ
প্রদান
করা
মুস্তাহাব
ও
সওয়াবের
বিষয়।
আর
স্বাভাবিক
অবস্থায়
অধিক
সচ্ছলতার
জন্য
কাউকে
ঋণ
দেয়া
মুবাহ
বা
বৈধ।
অন্যদিকে
হারাম
বা
অন্যায়
কোনো
কাজে
ঋণ
ব্যয়
হবে,
এমনটি
জানা
থাকা
সত্ত্বেও
ঋণ
দেয়া
বৈধ
নয়।
ঋণী হওয়া
পছন্দনীয় নয়
ঋণ
প্রদান
করা
ভালো।
তবে
অন্যদিকে
ঋণী
হওয়া
ভালো
কিছু
নয়।
স্বাভাবিক
বিবেকবুদ্ধিও
একে
পছন্দ
করে
না।
ঋণী
হওয়ার
অর্থ
নিজের
কাঁধে
অন্যের
বোঝা
বহন
করা।
সিরাতে
নববির
দিকে
যদি
তাকাই
তাহলে
আমরা
দেখি,
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
ঋণের
বোঝা
থেকে
আল্লাহর
কাছে
পানাহ
চাইতেন।
ঋণী
হতে
নিরুৎসাহিত
করেছেন।
এ-সংক্রান্ত
কিছু
হাদিস
নিম্নে
তুলে
ধরা
হলো—
ঋণগ্রস্ততা দুশ্চিন্তার কারণ
ঋণগ্রস্ততা
অনেক
সময়
দুশ্চিন্তা
ও
অশান্তির
কারণ
হয়।
তাই
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
ঋণগ্রহণকে
শঙ্কা
ও
দুশ্চিন্তার
কারণ
আখ্যা
দিয়েছেন।
ঋণের
মাধ্যমে
জীবনকে
সংকটাপন্ন
করতে
নিরুৎসাহিত
করেছেন।
হজরত
উকবা
বিন
আমের
রা.
থেকে
বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ
করেন,
‘তোমরা
নিজেদের
শঙ্কামুক্ত
জীবনকে
শঙ্কায়
ফেলে
দিও
না।
তারা
(সাহাবিগণ) বললেন,
সেটা
কীভাবে
হে
আল্লাহর
রাসূল?
তিনি
বললেন,
ঋণ
(গ্রহণ)।’(মুসনাদে
আহমাদ,
হাদিস
নং-১৭৩২০)
ঋণ থেকে পানাহ
ও আশ্রয়
চাওয়া
ঋণ
গ্রহণ
থেকে
মুক্ত
থাকতে
হাদিসে
বিভিন্ন
দোয়া
শেখানো
হয়েছে।
ঋণ
গ্রহণের
পরিস্থিতির
শিকার
হওয়া
থেকে
আল্লাহর
কাছে
আশ্রয়
চাইতে
শেখানো
হয়েছে।
হজরত
আবু
সাঈদ
খুদরি
রা.
থেকে
বর্ণিত,
তিনি
বলেন,
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
একদিন
মসজিদে
প্রবেশ
করলেন।
মসজিদে
তখন
এক
আনসারী
সাহাবি
ছিলেন।
তার
নাম
আবু
উমামা।
চিন্তামগ্ন
হয়ে
বসে
আছেন।
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
বললেন,
আবু
উমামা,
কী
ব্যাপার!
তোমাকে
নামাজের
সময়
ছাড়া
অসময়ে
মসজিদে
বসা
দেখতে
পাচ্ছি।
জবাবে
আবু
উমামা
রা.
বললেন,
কিছু
চিন্তা
পেরেশানি
আছে।
আর
আছে
কিছু
ঋণ
হে
রাসূলুল্লাহ।
সব
শুনে
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
বললেন,
আমি
কি
তোমাকে
একটি
দোয়া
শিখাতে
পারি,
দোয়াটি
যখন
করবে
তখন
আল্লাহ
তোমার
চিন্তা
পেরেশানি
দূর
করে
দেবেন।
আর
ঋণও
আদায়ের
ব্যবস্থা
করে
দেবেন।
আবু
উমামা
রা.
বললেন,
অবশ্যই
বলুন
হে
আল্লাহর
রাসূল।
নবীজি
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
বললেন,
সকাল-বিকাল
এ
দোয়া
তুমি
পড়বে
(দোয়ার অর্থ)
‘হে
আল্লাহ,
তোমার
কাছে
দুঃখ-দুশ্চিন্তা
থেকে
পানাহ
চাই।
অক্ষমতা
ও
অলসতা
থেকে
মুক্তি
চাই।
ভীরুতা
ও
কৃপণতা
থেকে
আশ্রয়
চাই।
ঋণগ্রস্ততা
ও
লোকজনের
বলপ্রয়োগের
শিকার
হওয়া
থেকে
রেহাই
চাই।’
আবু
উমামা
রা.
বলেন,
এরপর
আমি
ওই
দোয়া
নিয়মিত
করলাম।
এর
ফলে
আমার
সব
দুশ্চিন্তা
আল্লাহ
তাআলা
দূর
করে
দিলেন।
আমার
ঋণ
আদায়েরও
ব্যবস্থা
করে
দিলেন।—সুনানে
আবু
দাউদ,
১৫৫৫)
আম্মাজান
আয়েশা
রা.
থেকে
বর্ণিত
আরেক
হাদিসে
এসেছে,
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
যে
দোয়াগুলো
পড়তেন,
তার
মধ্যে
অন্যতম
হলো—
‘হে
আল্লাহ,
আমি
তোমার
কাছে
অলসতা,
চরম
বার্ধক্য
থেকে
গুনাহ
ও
ঋণগ্রস্ত
হওয়া
থেকে
পানাহ
চাচ্ছি।’
অন্য
বর্ণনায়
এসেছে,
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে
জনৈক
ব্যক্তি
জিজ্ঞাসা
করল,
ঋণগ্রস্ত
হওয়া
থেকে
এত
বেশি
কেন
আশ্রয়
চান?
নবীজি
জবাবে
বললেন,
এর
কারণ
হলো
কেউ
যখন
ঋণী
হয়
তখন
কথা
বললে
মিথ্যা
বলে।
ওয়াদা
দিলে
তা
ভঙ্গ
করে।—সহিহ
বুখারি,
হাদিস
২৩৯৭,
সহিহ
মুসলিম,
হাদিস
৬৮২৫
উপরোক্ত
হাদিসগুলো
থেকে
প্রতীয়মান
হয়,
ঋণী
হওয়া
ভালো
কিছু
নয়।
ঋণী
হওয়া
থেকে
আল্লাহর
কাছে
আশ্রয়
চাইতে
শেখানো
হয়েছে।
তাই
স্বাভাবিক
অবস্থায়
ঠেকায়
না
পড়লে
ঋণ
গ্রহণ
না
করাই
উচিত।
দুঃখজনক
হলো
বর্তমান
কনভেনশনাল
ব্যাংক
ব্যবস্থাই
এমন,
যেখানে
ঋণ
গ্রহণ
করা
ছাড়া
বিনিয়োগের
দ্বিতীয়
কোনো
পন্থা
নেই।
এর
থেকে
উত্তরণের
একমাত্র
পন্থা
ইসলামী
বিনিয়োগভিত্তিক
ব্যাংক
ব্যবস্থা
গড়ে
তোলা।
অবশ্য
কিছু
সাহাবা
থেকে
বর্ণিত
আছে
যে
তারা
ঋণী
থাকতে
পছন্দ
করতেন।
যেমন
আম্মাজান
আয়েশা
রা.
থেকে
বর্ণিত
আছে,
তিনি
ঋণগ্রস্ত
হয়ে
থাকতে
পসন্দ
করতেন।
আর
বলতেন,
আমি
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে
বলতে
শুনেছি,
তিনি
বলেছেন,
যার
ঋণ
আদায়ের
নিয়ত
থাকে,
আল্লাহ
তাকে
সাহায্য
করেন।
সুতরাং
আমি
ঋণী
হয়ে
আল্লাহর
সাহায্য
তালাশ
করতে
পছন্দ
করি।—সুনানে
কুবরা,
বায়হাকি,
খ.৫,
পৃ.
৩৫৪
বাহ্যত
প্রথমোক্ত
হাদিসগুলোর
সঙ্গে
এর
বৈপরীত্ব
মনে
হয়।
তবে
ইমাম
ত্বহাবি
রহ.
এ
বিষয়ে
দীর্ঘ
আলোচনার
পর
সব
ধরনের
বর্ণনাকে
সামনে
রেখে
যে
সমাধান
দিয়েছেন
তা
হলো
‘নিন্দিত
ও
ঘৃণিত
ঋণ
হলো
সেটা,
যা
আদায়ের
ইচ্ছা
থাকে
না।
ঋণ
আদায়ে
গাফেল
থাকে।
পক্ষান্তরে
যে
ঋণ
আদায়ে
দৃঢ়
ইচ্ছা
থাকে
সেটা
নিন্দিত
নয়।
মূলত
কতক
সাহাবা
যারা
ঋণী
থাকতে
পসন্দ
করতেন,
তারা
দ্বিতীয়
প্রকার
ঋণীর
অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম
প্রকারের
নয়।’
আমাদের
বর্তমান
সমাজ
ব্যবস্থায়
নিজেকে
আম্মাজান
আয়েশা
রা.-এর
মতো
মনে
না
করাই
নিরাপদ।
এজন্য
ফকিহরা
কেবল
প্রয়োজনীয়
ক্ষেত্রেই
ঋণী
হওয়ার
কথা
বলেছেন।
পাশাপাশি
ঋণ
গ্রহণের
ক্ষেত্রে
নিম্নোক্ত
শর্তারোপও
করেছেন।
যথা—
—ঋণ
গ্রহণের
সময়
তা
যথাযথ
সময়ে
পরিশোধের
পূর্ণ
ইচ্ছা
থাকতে
হবে।
যদি
তা
পরিশোধের
ইচ্ছা
না
থাকে
তাহলে
সেক্ষেত্রে
করজ
গ্রহণ
করা
হারাম।
—যথাসময়ে
ঋণ
পরিশোধের
সম্ভাব্য
ব্যবস্থা
থাকতে
হবে।
—কোনো
প্রয়োজনে
পরিশোধের
নিয়তে
ঋণ
নেয়া
হলে
কিন্তু
ঋণ
পরিশোধের
কোনো
ব্যবস্থা
না
থাকলে
সাধারণ
অবস্থায়
এমন
ঋণ
গ্রহণ
মাকরুহ।
অবশ্য
প্রয়োজনের
চেয়ে
জরুরতের
পর্যায়ে
চলে
গেলে
এমন
ঋণ
নেয়া
যাবে।
—ঋণ
গ্রহণের
যদি
দ্বীন
দুনিয়ার
কোনো
বাস্তব
প্রয়োজন
না
থাকে
তাহলে
তা
পরিশোধের
নিয়ত
থাকলেও,
ঋণ
আদায়ের
ব্যবস্থা
থাকলেও
এমন
ঋণ
গ্রহণ
মাকরুহ
বলে
বিবেচিত
হবে।
ঋণ আদায়ের গুরুত্ব ও ঋণ
খেলাপীকরণের ভয়াবহতা
ঋণ
একটি
আর্থিক
দায়,
যা
ব্যক্তির
ওপর
আদায়
করে
দেয়া
আবশ্যক।
এটি
হক্কুল
ইবাদ
বা
বান্দার
অধিকারগুলোর
মাঝে
অন্যতম।
স্বাভাবিক
অবস্থায়
ঋণী
হওয়াকে
ইসলাম
অনুৎসাহিত
করে।
কখনো
ঋণী
হয়ে
গেলে
যথাসম্ভব
দ্রুত
ঋণ
বা
দায়
থেকে
মুক্ত
হতে
বলা
হয়েছে।
কোনো
কারণে
ঋণ
খেলাপি
অবস্থায়
মারা
গেলে
পরিত্যক্ত
সম্পদ
বণ্টনের
আগেই
ঋণ
আদায়
করে
দিতে
হয়।
সুতরাং
ঋণ
আদায়
না
করার
কোনো
সুযোগ
নেই।
ঋণ
আদায়
না
করা
কবিরা
গুনাহ।
মারাত্মক
অন্যায়
ও
জুলুম।
ঋণখেলাপি
বড়
জালেম।
ঋণ খেলাপি করা
জুলুম
কোরআনে
কারিমে
মূলধনের
অতিরিক্ত
সুদ
গ্রহণকে
যেভাবে
জুলুম
ও
অন্যায়
বলা
হয়েছে,
তেমনিভাবে
ঋণ
পরিশোধে
টালবাহানা
করাকেও
জুলুম
ও
অন্যায়
বলে
আখ্যায়িত
করা
হয়েছে।
আল্লাহ
তাআলা
বলেন,
‘আর
তোমরা
যদি
(সুদ থেকে)
তাওবা
করো,
তবে
তোমাদের
আসল
মূলধন
তোমাদের
প্রাপ্য।
তোমরাও
কারো
প্রতি
জুলুম
করবে
না
এবং
তোমাদের
প্রতিও
জুলুম
করা
হবে
না।’
সূরা
বাকারা,
আয়াত
নং-২৭৯
ওই
আয়াতের
ব্যাখ্যায়
ইমাম
কুরতুবি
রহ.
বলেন,
‘অর্থাৎ
মূলধনের
অতিরিক্ত
বা
সুদ
গ্রহণ
করে
যেমন
তোমরা
কারো
ওপর
জুলুম
করবে
না,
তেমনিভাবে
মূলধন
হ্রাস
করে
কিংবা
পরিশোধে
বিলম্ব
করে
তোমাদের
ওপরও
কেউ
জুলুম
করতে
পারবে
না।’
ঋণমুক্ত থাকা
জান্নাতে প্রবেশে সহায়ক
অনেক
সময়
এমন
হয়,
ঋণখেলাপি
ঋণ
আদায়
না
করেই
মারা
গেছে।
মৃত্যুর
পর
কোনো
কারণে
তা
আদায়
করা
হয়নি।
তাহলে
সেটি
তার
পরকালীন
সফলতার
জন্য
প্রতিবন্ধক
হয়ে
দাঁড়ায়।
এমনকি
আল্লাহর
রাস্তায়
শহীদ
হলেও
ঋণ
অনাদায়ী
থাকলে
তা
জান্নাতে
প্রবেশে
প্রতিবন্ধক
হবে
বলে
উলামায়ে
কেরাম
বলেছেন।
অন্যদিকে
ঋণমুক্ত
থাকা
জান্নাতে
প্রবেশে
সহায়ক
হয়।
হযরত
ছাওবান
রা.
থেকে
বর্ণিত,
নবী
করিম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি
ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ
করেছেন,
‘যার
রুহ
তার
শরীর
থেকে
বের
হয়ে
যায়
তথা
ইন্তেকাল
করে,
আর
তখন
সে
তিনটি
বিষয়
থেকে
মুক্ত
থাকে
তথা
অহংকার,
সম্পদ
আত্মসাৎ
ও
ঋণ
তাহলে
সে
জান্নাতে
প্রবেশ
করবে।’—জামে
তিরমিযি,
১৫৭৩
ঋণ ও ঝুঁকি
ব্যবস্থাপনা
ঋণ
একটি
সহযোগিতামূলক
চুক্তি।
তবে
অনেক
সময়
দেখা
যায়,
ইচ্ছা
বা
অনিচ্ছায়
ঋণগ্রহীতা
ঋণ
আদায়
করে
না।
সেক্ষেত্রে
ঋণদাতা
ক্ষতির
সম্মুখীন
হয়।
সেই
ক্ষতি
ও
সম্ভাব্য
ঝুঁকি
দূর
করার
জন্য
ঋণদাতা
শুরুতেই
গ্রহীতা
থেকে
প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা
নিয়ে
রাখতে
পারে।
ইসলামী
অর্থনীতিতে
ঋণ
ঝুঁকি
ব্যবস্থাপনা
বিষয়ে
বেশ
কিছু
নীতিমালা
ও
পদ্ধতি
বাতলে
দেয়া
হয়েছে।
সংক্ষেপে
এখানে
আলোকপাত
করা
হলো:
ইসলামী
অর্থনীতির
দৃষ্টিকোণ
থেকে
ঋণ
ঝুঁকি
হ্রাসের
জন্য
নিম্নোক্ত
পদ্ধতিগুলো
অবলম্বন
করা
যেতে
পারে।
যথা—
বন্ধক
গ্রহণ
করা:
ঋণগ্রহীতা
থেকে
শুরুতেই
ঋণ
সমপরিমাণ
মূল্যবান
কোনো
সম্পদ
বন্ধক
হিসেবে
রাখা
যায়।
তবে
সেটি
ঋণদাতা
নিজ
কাজে
ব্যবহার
করতে
পারবে
না।
সম্পদ
হিসেবে
সরাসরি
সম্পদ
রাখা
যাবে,
তেমনি
সম্পদের
দলীল
বা
ডকুমেন্টসও
রাখা
যাবে
এক্ষেত্রে
বস্তুর
ব্যবহার
ঋণগ্রহীতার
কাছে
থাকলেও
নথিপত্র
সংরক্ষণের
মাধ্যমে
ঋণকে
গ্যারান্টেড
করা
যাবে।
(অ্যাওফি শরিয়াহ
স্ট্যান্ডার্ড
৩৯,
ধারা-৪/১)
গ্রহীতা
পরবর্তী
সময়ে
ঋণ
পরিশোধে
ব্যর্থ
হলে
তা
ওই
বন্ধকি
বস্তু
থেকে
আদায়
করে
নিতে
পারবে।
গ্যারান্টর
গ্রহণ
করা:
ঋণ
প্রদানের
জন্য
এরূপ
শর্ত
করা
যাবে
যে
ঋণ
পরিশোধের
পক্ষে
একজন
গ্যারান্টর
পেশ
করতে।
গ্রহীতা
ঋণ
পরিশোধে
ব্যর্থ
হলে
সেই
গ্যারান্টর
ঋণ
শোধ
করবে
।
বাধ্যতামূলক
অনুদান:
শুরুতেই
এভাবে
হলফনামা
নেয়া
যেতে
পারে,
যথাসময়ে
ঋণগ্রহীতা
ঋণ
পরিশোধে
ব্যর্থ
হলে
নির্ধারিত
পরিমাণ
টাকা
ঋণদাতা
প্রতিষ্ঠানের
চ্যারিটি
ফান্ডে
ডোনেট
করতে
বাধ্য
থাকবে।
ওই
ডোনেশন
ঋণদাতার
ইনকাম
বা
প্রফিট
বলে
বিবেচিত
হবে
না।
সেটি
দান
করে
দিতে
হবে।
তবে
এটি
অনিবার্য
করার
কারণে
ঋণগ্রহীতা
যথাসময়ে
ঋণ
পরিশোধে
যত্নশীল
থাকবে।
কিস্তি
সুবিধা
রহিতকরণ:
কোনো
কিস্তি
ফেল
করলে
অথবা
একাধিক
কিস্তি
ফেল
করলে
অবশিষ্ট
কিস্তি
সুবিধা
বাতিল
করার
অধিকার
সংরক্ষণ
করবে
ব্যাংক।
এক্ষেত্রে
চুক্তির
সময়
অথবা
নোটিসের
মাধ্যমে
ক্লায়েন্টকে
জানাতে
হবে।
তবে
হ্যাঁ,
কোনো
প্রাকৃতিক
কারণ
যদি
বাধা
না
হয়
সেক্ষেত্রে
এ
শাস্তি
প্রয়োগ
করবে।
কিন্তু
কভিড-১৯-এর
মতো
কোনো
বৈশ্বিক
দুর্যোগ
হলে
এমনটি
করা
যাবে
না।
(অ্যাওফি শরিয়াহ
স্ট্যান্ডার্ড
০৫,
ধারা-৫/১)
ড. এম কবির হাসান: অধ্যাপক, নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম: সিএসএএ, অ্যাওফি, স্কলার