এই সময়ে

চিকিৎসাসামগ্রীর বৈশ্বিক বাণিজ্য

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) মরণথাবা মানুষের জীবনযাত্রাকে কার্যত রুদ্ধ করে ফেলেছে, মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। কবে এই মহামারী থেকে মানবজাতি উদ্ধার পাবে, তা কেউই বলতে পারছে না। ধনী-গরিব সব দেশের মানুষই নির্বিচারে এর শিকার হয়েছে। অবশ্য লড়াইও চলছে এখন এই মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার ও জীবনহানি কমিয়ে ফেলার। এর একটি অংশ হলো প্রতিষেধক টিকা বা ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা। আবার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসক ও সেবিকাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মজীবী মানুষও পিপিই সংগ্রহ ও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এ রকম একটা অবস্থায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসামগ্রীর বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সময়োপযোগী প্রতিবেদনটিতে মূলত কভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আলোকপাতের চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও কভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট সামগ্রীগুলো খুব স্পষ্টভাবে পৃথক করা যায়নি। তার পরও এ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) মরণথাবা মানুষের জীবনযাত্রাকে কার্যত রুদ্ধ করে ফেলেছে, মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। কবে এই মহামারী থেকে মানবজাতি উদ্ধার পাবে, তা কেউই বলতে পারছে না। ধনী-গরিব সব দেশের মানুষই নির্বিচারে এর শিকার হয়েছে। অবশ্য লড়াইও চলছে এখন এই মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার ও জীবনহানি কমিয়ে ফেলার। এর একটি অংশ হলো  প্রতিষেধক টিকা বা ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা। আবার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসক ও সেবিকাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মজীবী মানুষও পিপিই সংগ্রহ ও ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এ রকম একটা অবস্থায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসামগ্রীর বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সময়োপযোগী প্রতিবেদনটিতে মূলত কভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আলোকপাতের চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও কভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট সামগ্রীগুলো খুব স্পষ্টভাবে পৃথক করা যায়নি। তার পরও এ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।

ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাসামগ্রীর (মেডিকেল প্রডাক্টস) বাণিজ্যের প্রাক্কলিত অর্থমূল্য প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার, যা কিনা ২০১৯ সালের বৈশ্বিক পণ্যবাণিজ্যের ৫ শতাংশ। তবে চিকিৎসাসামগ্রী বলতে প্রতিবেদনে মূলত কভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট চার ধরনের পণ্যসামগ্রীকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এগুলো হলো ওষুধ, হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারে ব্যবহূত সামগ্রী (যেমন সিরিঞ্জ, গজ ইত্যাদি), চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (যেমন সাবান, স্যানিটাইজার, মাস্ক ইত্যাদি)। সব ধরনের চূড়ান্ত পণ্যই এখানে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে, কোনো মধ্যবর্তী পণ্য নয়; যা কিনা বৈশ্বিক মূল্য সম্পৃক্তির (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন বা জিভিসি) মধ্যে রয়ে গেছে এবং এগুলোর হিসাব নির্ণয় করাও দুঃসাধ্য বিষয়।

প্রতিবেদন বলছে, গত বছর মানে ২০১৯ সালে বিশ্বে চিকিৎসাসামগ্রীর মোট আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁঁড়িয়েছে ১ লাখ কোটি ডলারের সামান্য ওপরে। প্রায় সমপরিমাণ রফতানি ধরলে মোট বাণিজ্য ২ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। প্রকৃত বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভবত আরো বেশি এ কারণে যে এখানে কভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

এই আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৫৬ শতাংশই হলো ওষুধসামগ্রী (মেডিসিন)। এরপর রয়েছে হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারে ব্যবহার্য সামগ্রী, যার হিস্যা হলো ১৭ শতাংশ। এরপর আছে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি (১৪ শতাংশ)। সর্বশেষ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই, যার হিস্যা ১৩ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব চিকিৎসাসামগ্রীর কথা এখন সবচেয়ে বেশি বলা হচ্ছে, সেগুলো হলো জীবাণুনাশক সামগ্রী, ফেস মাস্ক, গ্লাভস বা দস্তানা, সাবান ও স্যানিটাইজার, সুরক্ষা চশমা, সিরিঞ্জ, থার্মোমিটার, আলট্রাসনি স্ক্যানার, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন মাস্ক, এক্স-রে যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। ডব্লিউটিও হিসাব কষে বলছে যে সমন্বিতভাবে এসব চিকিৎসাসামগ্রী মোট বিশ্ব পণ্যবাণিজ্যের ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

সার্বিকভাবে চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির শীর্ষে রয়েছে তিনটি দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও চীন। এরা সমন্বিতভাবে বিশ্বের মোট চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ৩৪ শতাংশ সম্পাদন করে। গত তিন বছরে (২০১৭-১৯) এই আমদানির শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (১৮ শতাংশ)। এরপর যথাক্রমে জার্মানি (১৪ শতাংশ) ও চীন (৬ শতাংশ)। শীর্ষ ১০ আমদানিকারকের তালিকায় আরো রয়েছে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ড। এদের মধ্যে বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডের মোট পণ্য আমদানির ১৩ শতাংশই হলো চিকিৎসাসামগ্রী। চীনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ। বাকি সাত দেশের ক্ষেত্রে গড় হার হলো ৬ শতাংশ। সার্বিকভাবে এই ১০ দেশ আবার বিশ্বের মোট চিকিৎসাসামগ্রীর ৭০ শতাংশ আমদানি করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি আবার চিকিৎসাসামগ্রীর ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অংশীদার। এরা একে অন্যের কাছ থেকে যেমন চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি করছে, তেমনি আবার পরস্পরের কাছে তা রফতানিও করছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির শীর্ষ পাঁচ উৎস দেশ হলো আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, চীন ও মেক্সিকো। অন্যদিকে চীনের আমদানির শীর্ষ পাঁচ উৎস হলো জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফ্রান্স ও ইতালি।

আমদানির বিপরীতে রফতানি না থাকলে বাণিজ্য হতে পারে না। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ড মিলে বিশ্বের মোট ৩৫ শতাংশ চিকিৎসাসামগ্রী জোগান দেয় বা রফতানি করে। শীর্ষ ১০ রফতানিকারকের তালিকায় সবার ওপরে থাকা জার্মানির হিস্যা ১৪ শতাংশ। এরপর যুক্তরাষ্ট্র (১২ শতাংশ) ও সুইজারল্যান্ড (৯ শতাংশ)। বাকি দেশগুলো হলো যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, চীন, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য। এই ১০ দেশ বিশ্বের চিকিৎসাসামগ্রীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জোগান দেয়। এদের মধ্যে আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের মোট বৈশ্বিক রফতানি আয়ের যথাক্রমে ৩৮ শতাংশ ও ২৯ শতাংশ আসে চিকিৎসাসামগ্রী রফতানি থেকে। এতেই বোঝা যায় চিকিৎসাসামগ্রী এই দুই দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে চীনের বৈশ্বিক রফতানির মাত্র ২ শতাংশ আসে এসব চিকিৎসাসামগ্রী রফতানি থেকে। 

শুল্ক পরিস্থিতি

চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন হারে শুল্কারোপ করে। এর মধ্য দিয়ে দেশগুলোর এসব সামগ্রীর ওপর বিদেশ নির্ভরতা বা স্বনির্ভরতার মাত্রার একটা ধারণা পাওয়া যায়। গড়পড়তায় চিকিৎসাসামগ্রীর বৈশ্বিক শুল্কহার ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ডব্লিউটিওর অর্ধেকের বেশি সদস্য (১৩৪ দেশের মধ্যে ৭০ দেশ) গড়ে ৫ শতাংশ বা তার কম হারে আমদানি শুল্কারোপ করে। তবে চার ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী আলাদাভাবে দেখলে এই হারের ওঠানামা অনেক বেশি। যেমন ওষুধের গড় বৈশ্বিক আমদানি শুল্কহার হলো মাত্র ২ দশমিক ১০ শতাংশ, হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারসামগ্রীতে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীতে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ।   

ওষুধ আমদানি-রফতানিতে অত্যন্ত কম হারে শুল্কারোপ করার কারণ হলো বিশ্বজুড়ে ওষুধসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। এসব দেশের বেশির ভাগই প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তাই তাদের নির্ভর করতে হয় অন্য দেশগুলোর ওপর। আবার উন্নত দেশগুলোর অনেকেই নিজেরা তেমন ওষুধ উৎপাদন করে না। বর্তমানে ডব্লিউটিওর অর্ধেকের বেশি সদস্য ওষুধ আমদানিতে কার্যত কোনো শুল্কারোপ করে না (যেমন সিঙ্গাপুর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আর বাংলাদেশসহ ৩৯টি দেশ গড়ে ৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করে। তবে কোনো দেশই ১৫ শতাংশের বেশি শুল্কারোপ করে না।

চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে বৈশ্বিক গড় শুল্কহার ওষুধের তুলনায় একটু বেশি। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে অণুবীক্ষণ যন্ত্র থেকে শুরু করে আলট্রাসনিক স্ক্যানারের মতো জটিল জিনিস রয়েছে। হালে কভিড-১৯ লড়াইয়ের এক বড় উপাদান ভেন্টিলেটরও এর মধ্যে ধরা হয়। ডব্লিউটিওর ১৯টি সদস্য দেশ এতে কোনো শুল্কারোপ করে না। অর্ধেক সদস্য দেশ গড়ে ৫ শতাংশ বা এর কম শুল্কারোপ করে। মাত্র তিনটি দেশ (কিউবা, দেজিবাউতি ও মালদ্বীপ) ১০ শতাংশের বেশি হারে শুল্কারোপ করে। বাংলাদেশ যেহেতু চিকিৎসাসামগ্রী আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই এসব আমদানিতে গড়ে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করে।

চিকিৎসাসামগ্রীতে ডব্লিউটির মাধ্যমে অনেকটাই বাণিজ্য উদারীকরণ সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসাসামগ্রী সম্প্রসারিত তথ্যপ্রযুক্তি চুক্তির আওতাভুক্ত (আইটিএ-একসপি)। এটি তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে একটি কয়েকপক্ষীয় (প্লুরিল্যাটারাল) চুক্তি, যা ২০২৩ সালের মধ্যে প্রযুক্তিনিবিড় চিকিৎসাসামগ্রীর শুল্কহার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। এ চুক্তিতে যারা আছে, তাদের এসব সামগ্রী আমদানির গড় শুল্কহার দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে বাকিদের গড় শুল্কহার ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ভেন্টিলেটরের প্রবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পণ্যটি আইটিএ-এসপির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং গড় আমদানি শুল্কহার ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে অনেক দেশ (যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ভেনিজুয়েলা) এতে ১৪ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করেছে। ভারতে এ হার ১০ শতাংশ ও চীনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ভেন্টিলেটর আমদানিতে শূন্য শুল্ক রয়েছে। ভেন্টিলেটর ও রেসপিরেটরসহ শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার সহায়ক যন্ত্রপাতি গুটিকয়েক দেশ সরবরাহ করে। সিঙ্গাপুর জোগান দেয় ১৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ১৬ শতাংশ, নেদারল্যান্ডস ১০ শতাংশ ও চীন ১০ শতাংশ। তার পরও এই সংকটকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটরও নেই।


তবে কভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই) আমদানি শুল্কহার সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক দশকে পিপিইর এত ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা কখনই অনুভূত হয়নি। সে কারণে একদিকে এগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার ছিল সীমিত, অন্যদিকে অনেক দেশই এগুলো ব্যাপকভাবে আমদানিকে নিরুৎসাহিত করত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার ওপর সর্বোচ গুরুত্বারোপ করেছে। সাবান-পানির বিকল্প হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পাশাপাশি গ্লাভস বা দস্তানা এবং ফেস মাস্ক বা মুখাবরণী ব্যবহার করার কথাও বলা হয়েছে। অথচ এ সামগ্রীগুলোর গড় বৈশ্বিক শুল্কহার সাড়ে ১১ শতাংশ, যা কিনা ওষুধের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। ডব্লিউটিওর ২৯টি সদস্য দেশ এসবের ওপর গড়ে ৫ শতাংশ বা তার কম হারে শুল্কারোপ করে। আবার অন্তত ৪৭টি সদস্য দেশ গড়ে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করে। বাংলাদেশ গড়ে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করে।

ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন দেখায় যে সাবানের গড় আমদানি শুল্কহার ১৭ শতাংশ। কোনো কোনো দেশ যেমন ডমিনিকা ৫০ শতাংশ ও মিসর ৫৬ দশমিক ৭০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করে। অন্যদিকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের গড় বৈশ্বিক শুল্কহার ৫ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ, দেজিবাউতি, টঙ্গো ও মৌরিতানিয়া গড়ে ১০ শতাংশের ওপরে শুল্কারোপ করে। মুখাবরণীর ওপর গড় শুল্কহার ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো (ব্রাজিল, বলিভিয়া, একুয়েডর, ভেনিজুয়েলা ও আর্জেন্টিনা) গড়ে ১৭ শতাংশের বেশি হারে শুল্কারোপ করে। চীন বিশ্বের ২৫ শতাংশ মুখাবরণী সরবরাহ করে। চীনের সঙ্গে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিশ্বের অর্ধেক মুখাবরণীর জোগান দেয়।

সামনের পথ

মহামারী আকারে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার এরই মধ্যে এটা প্রমাণ করেছে যে চিকিৎসাবিজ্ঞান যত উন্নত পর্যায়েই উপনীত হোক না কেন, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা উপেক্ষা করা বা একে পুরোপুরি বাজারমুখী করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে, তা প্রায় সবই মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতার আচরণবিধিনির্ভর। এর কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। নভেল করোনাভাইরাস আরো দেখাচ্ছে যে বিশ্বায়নের মাধ্যমে সম্পৃক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যের মাধ্যমে যতই পরস্পরের কাছে আসুক না কেন, পরস্পরের সঙ্গে যোগসূত্রটা আসলে বাণিজ্য স্বার্থনির্ভর। আর এ বাণিজ্যে অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার টেকসই উন্নতি। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে হয়তো বা তাই এই বাণিজ্যের ধরনও অনেকটা বদলে যাবে।

 

তানিম আসজাদ: অর্থনৈতিক সাংবাদিক

আরও