আজকের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাধারণ কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়া একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ।
তবে নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপ হলো ভোট গণনা, নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ এবং তা মেনে নেয়ার সংস্কৃতি। একজন নাগরিকের ভোটাধিকার তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার দেয়া ভোট ঠিকভাবে গণনা হয় এবং তার প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়।
ভোট গণনায় স্বচ্ছতা, নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ এবং পরাজিত পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ—এ তিন বিষয়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়াই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থাকে দুর্বল করেছে। এবারের নির্বাচন তাই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি বড় পরীক্ষা—তারা ফলাফলকে কীভাবে গ্রহণ করে, অভিযোগ থাকলে কীভাবে তা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে উত্থাপন করে।
এ নির্বাচনকে তাই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নয়, বরং একটি অত্যাবশ্যক প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে হবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিজে থেকেই সব সমস্যার সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু এটি ছাড়া একটি টেকসই রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ সম্ভব নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পেছনে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস, জবাবদিহিমূলক শাসন এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা—সেগুলো বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক বৈধতা। সেই বৈধতার একমাত্র উৎস জনগণের ভোট।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা