কোরবানির চামড়ার মূল্যধসের পেছনে বড় দায় ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা

এবারো কোরবানির চামড়ার মূল্যে ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকও পাননি পশু কোরবানি করা চামড়ার মালিকরা। তাতে হতাশ হয়েছে চামড়া উৎপাদনকারী শ্রেণী।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোরবানির চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভাগিদার হতদরিদ্র মানুষ, এতিম ও মিসকিন। প্রতি বছরই কাঁচা চামড়ার সরবরাহ বাড়ে কোরবানির ঈদের সময়। তখন এর দাম কমে যায়। চামড়া পচনশীল বিধায় তা বেশিদিন সংগ্রহে রাখা যায় না। এ সময় খুব তৎপর থাকেন বড় ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ট্যানারির মালিকদের সিন্ডিকেট এবং তাদের এজেন্ট মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন অজুহাতে তারা চামড়ার দাম কমায়। এ সময় চামড়া উৎপাদনকারীদের দরকষাকষির তেমন সুযোগ থাকে না। যেটুকু মূল্য পায় তাতেই বিক্রি করে দেয় কাঁচা চামড়া। এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের মালিক দরিদ্রজন, এতিম ও মিসকিন। চামড়ার দরপতনে সমূহ ক্ষতি হয় তাদের। আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয় তারা। তাতে বিঘ্নিত হয় দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্য অর্জন।

জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চামড়া শিল্প। এ শিল্পের অধীনে ২২০টি ট্যানারি আছে। আরো আছে অসংখ্য জুতা, ব্যাগ, বেল্ট ও সুদর্শন সরঞ্জামাদি তৈরির কারখানা। তাতে সরাসরিভাবে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। স্থূল দেশজ আয়ে (জিডিপিতে) চামড়া শিল্পের শরিকানা প্রায় দশমিক ৪০ শতাংশ। মোট রফতানি আয়ে এ খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ। তৈরি পোশাক শিল্পের পর রফতানি আয় অর্জনে এ খাতের স্থান কখনো দ্বিতীয়, কখনো তৃতীয়। বছরের পর বছর এ খাতের রফতানি আয় বাড়ছে। কিন্তু চামড়া উৎপাদনকারী কৃষক, প্রান্তজন, এতিম ও মিসকিন বাড়তি রফতানি আয়ের ন্যায়সংগত হিস্যা পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ সালে দেশের চামড়া রফতানির আয় ছিল ৬৯২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ সালে তা ১ হাজার ১৪০ মিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। এ ১২ বছর চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রফতানির আয় বেড়েছে। চামড়া শিল্পে বহুমাত্রিকতা এসেছে। আমাদের চামড়ার বাজার বিদেশে সম্প্রসারণ হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাক্কলিত রফতানি আয় ১ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছর চামড়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। করোনা ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা এর প্রধান কারণ। তবে বাংলাদেশী চামড়ার রফতানি আয় গড়পড়তা বেড়েছে। কিন্তু কাঁচা চামড়ার উৎপাদনকারী এবং এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের অংশীদাররা ঠকেছেন। তাদের চামড়ার ইউনিট মূল্য মাঠ পর্যায়ে কমেছে। ১২ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার প্রকৃত সংগ্রহমূল্য।

২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা ও খাসির চামড়ার দাম ছিল ৫০-৫৫ টাকা। ২০১৫ সালে এর ইউনিট মূল্য কমে গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুট মূল্য ৫০-৫৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-২২ টাকায় এসে দাঁড়ায়। ২০২০ সালে তা আরো কমে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা এবং খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় নেমে আসে। ২০২২ সালে তা কিছুটা বাড়িয়ে গরুর চামড়ার প্রতি বর্গফুট মূল্য ঢাকায় ৪৭-৫২ টাকায় এবং খাসির চামড়ার মূল্য ১৮-২০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালে তা আরো কিছুটা বাড়িয়ে ঢাকায় ৫৫-৬০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৫০-৫৫ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় ৬০-৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫-৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। খাসির চামড়ার ক্রয়মূল্য প্রতি বর্গফুট ২২-২৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২০-২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঢাকায় প্রতি পিস গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৫০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে সর্বনিম্ন ১ হাজার ১৫০ টাকা। ২০২৬ সালে প্রতি বর্গফুট মূল্য ২ টাকা বাড়িয়ে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬২-৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা। ছাগলের চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫-৩০ টাকা এবং ভেড়ার চামড়ার দাম ২২-২৫ টাকা। এ মূল্যবৃদ্ধি সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এবারের কোরবানির দিনে এবং তার পরে তৃণমূল পর্যায়ের চামড়া উৎপাদনকারীরা নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামও পাননি। বর্গফুটের পরিমাপে চামড়া বিক্রি হয়নি কোথাও। প্রতি পিস হিসেবে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ঢাকার বাইরে ২০০-৪০০ টাকায় এবং ঢাকায় ৫০০-৮০০ টাকায়। খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০-২০ টাকায়। চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, চামড়ার উপযুক্ত দাম না পেয়ে অনেকে রাস্তার পাশে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে অথবা পুঁতে ফেলেছে। কোথাও নিম্নমূল্যে বিক্রি করা গরুর চামড়ার সঙ্গে খাসির চামড়া দেয়া হয়েছে ফ্রি।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে গত ২৮ ও ২৯ মে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সনে এবং টিভি চ্যানেলে চামড়ার দরপতনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। গ্রামে বা মফস্বলে কোরবানিদাতারা পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছে কোরবানির চামড়া। কোনো কোনো এলাকায় ২০০-৪০০ টাকা দরেও গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। অনেক এলাকায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের তেমন দেখা না পেয়ে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চামড়া দিয়ে দিয়েছে গ্রাম ও নগরবাসী। অনেকে দিনশেষে চামড়া পুঁতে ফেলেছে। ট্যানারি ও আড়ত মালিকদের কারসাজিতে সরকারের বেঁধে দেয়া কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কোথাও কার্যকর হয়নি।

বাংলাদেশে যে পরিমাণ চামড়া উৎপাদন হয় তার প্রায় অর্ধেক পাওয়া যায় কোরবানির ঈদে। এর মোট আকার প্রায় ২৫ কোটি বর্গফুট। এতে গরুর চামড়া রয়েছে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ছাগলের ৩১ দশমিক ৮, মহিষের ২ দশমিক ২, ভেড়ার ১ দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমান বাজারদরে এর ক্রয়মূল্য হবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। মোট উৎপাদিত চামড়ার ক্রয়মূল্য ও তার প্রক্রিয়াকরণ খরচ মিলে দাঁড়াবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তা রফতানি করে বিক্রয়লব্ধ আয় হচ্ছে প্রায় ১২-১৬ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য এবং রফতানি ও প্রক্রিয়াজাত খরচ বাদ দিলেও প্রচুর লাভ হওয়ার কথা চামড়া ব্যবসায়ীদের। তার ওপর রফতানি সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় চামড়া ক্রয়ে ট্যানারি মালিকদের অনীহা ও কাঁচা চামড়ার ক্রয়মূল্যে লাগাতার ধস নামার কারণ ভালোভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

এক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাতের পর ট্যানারির মালিকরা ২৫-৩০ টাকা লাভ করে থাকেন। বিদেশে ফিনিশড লেদার বিক্রি ও চামড়াজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এ লাভের মাত্রা আরো বেশি হতে পারে। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ সমীক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত চামড়ার ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণ করা দরকার।

অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক স্থবিরতার কারণে এবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দারুণভাবে কমেছে। সে কারণে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে কম ছিল। এবার প্রায় ৯০ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। এবার পশুর জোগান ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে ছিল ৫৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৮টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রাণী। ফলে এবার কোরবানিযোগ্য পশু সরবরাহে উদ্বৃত্ত ছিল বড় অংকের। তবু মূল্য কিছুটা বেড়েছে কোরবানির পশুর। তবে ঈদের আগের দিন পশুর দাম অনেকটা পড়ে যায়। পশুখাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবার পশুর গড় মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক স্থবিরতার কারণে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল কম। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল মোট ৭৫-৮০ লাখ চামড়া এবার সংগ্রহ করা যাবে। এখন জানা যাচ্ছে সংগৃহীত চামড়ার সংখ্যা দাঁড়াবে ৭০ লাখেরও কম।

সম্প্রতি দেশে গরুর দাম বাড়ছে। চামড়ার দাম মাঠ পর্যায়ে কমছে। বিশেষ করে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা এবং তার উপযুক্ত দাম পাওয়া একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর ধরে চামড়ার মূল্যে বড় ধরনের ধস আমরা লক্ষ করছি। সেক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বড় কারণ। এর প্রতিকার দরকার। আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের চামড়ার মূল্যনির্ধারণ করা উচিত। নির্ধারিত মূল্যে যাতে কৃষকদের কাছ থেকে চামড়া ক্রয় করা হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে। কোরবানির চামড়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থের মালিক দরিদ্রজন—এতিম ও মিসকিন। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সরকারের দায় বেশি। ২৯ মে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিটি ছোট আকারের (১৬-২০ বর্গফুট) চামড়ার বিক্রি হয়েছে ২৫০-৪০০ টাকায়, মাঝারি আকারের (২১-৩০ বর্গফুট) চামড়া বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায় ও বড় আকারের (৩১-৪০ বর্গফুট) চামড়া বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতিটি ছোট চামড়া বিক্রি হওয়ার কথা ছিল ৯৯০-১২০০ টাকায়, মাঝারি ১৩০০-১৮৫০ টাকায় ও বড় ১৯০০-২৬০০ টাকায়। এর অর্থ হলো চামড়া বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মূল্য হাতে পেয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চামড়ায় কাটা-ছেঁড়া বা দাগ ধরা পড়লে তার দাম হয়েছে ২০০ টাকা। সরকার বলেছে, এবার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে মাদরাসা ও এতিমখানায় দেয়া হয়েছে চামড়া সংরক্ষণে। পর্যাপ্ত গাইড লাইনও দেয়া হয়েছে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্তৃক প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার কার্যকারিতা কম। প্রয়োজনীয় হিমাগার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে এবং ব্যবসায়ীদের অসাধু আতাত ভাঙতে না পারলে প্রান্তিক পর্যায়ে কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য পাওয়া হবে কঠিন।

বাংলাদেশের চামড়া রফতানি হয় প্রধানত চীনে, অপেক্ষাকৃত কম দামে। ইউরোপে বাংলাদেশের চামড়ার উপযুক্ত বাজার না পাওয়ার একটা বড় কারণ এলডব্লিউজি (লেদার ওয়াকিং গ্রুপ) সনদ না থাকা। এক্ষেত্রে সাভার চামড়া শিল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেনট প্লান্ট (সিইটিপি) পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাতে খরচ হতে পারে ৫০০-৬০০ কোটি টাকা। চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এবং সরকার যৌথভাবে এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন। বাংলাদেশে মোট কার্যক্ষম প্রায় ১৫০ ট্যানারির মধ্যে মাত্র আটটি কোম্পানি এখন এলডব্লিউজি সনদপ্রাপ্ত। তার বিপরীতে ভারতে এলডব্লিউজি সনদপ্রাপ্ত কোম্পানির সংখ্যা ২৪৮, পাকিস্তানে ৪১ ও থাইল্যান্ডে ২২। বাংলাদেশে শতাধিক কোম্পানি ওই সনদ নিতে পারে। সম্প্রতি ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির কথা বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু তা কার্যকর হচ্ছে না। তাতে একটি সিন্ডিকেট চাপ দিয়ে যাচ্ছে। কারণ কাঁচা চামড়া রফতানি হলে দেশে চামড়ার দাম বেড়ে যাবে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে পানির দামে কোরবানির চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। চামড়া শিল্পের কথিত এ সিন্ডিকেট অকার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের আকার ৫৬৬ বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শরিকানা মাত্র দশমিক ২০ শতাংশ। এ হিস্যা ন্যূনপক্ষে ১ শতাংশে উন্নীত করতে হলে চামড়ার উৎপাদন ও মূল্য স্থিতিশীল করতে হবে।

ড. জাহাঙ্গীর আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি); সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)

আরও