প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে শুরুতে মালয়েশিয়া ও পরে চীনে গিয়েছেন। এ দুই দেশই আমাদের কৌশলগত অংশীদার বলে পরিচিত। সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে নানা মহলে কৌতূহলও ছিল। আপনি এ সফরকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আসলে প্রতিটি সফরেরই আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক, বিশেষত বাণিজ্যিক আঙ্গিক বিবেচনায়ও এ সফরের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। প্রথমত, মালয়েশিয়া আমাদের অনেক বড় শ্রমবাজার। এছাড়া আরো অনেক বিষয় রয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নসহ নানা বিষয় এখানে রয়েছে। অন্যদিকে চীন আমাদের অনেক বড় বাণিজ্য অংশীদার। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণেও চীনের সঙ্গে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এ সফরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দেবেন। বাংলাদেশ-চীন উন্নয়ন সহযোগিতা, দ্বিতীয় মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, মুক্তবাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতাসহ আরো অনেক বিষয় সেখানে আলোচনা হবে। একটা নতুন প্রেক্ষাপটে এ সফর আলাদা গুরুত্ব পাবেই। বিশেষত চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখেছি, রাষ্ট্র আসলে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল না। নির্বাচিত একটি সরকার আসার পর কূটনৈতিক অঙ্গনে কেমন ভূমিকা রাখবে সেটি দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে এ সফরে যেকোনো সমঝোতাই হোক না কেন, সেখানে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। কারণ যদি বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারের দিকে তাকানো যায় সেখানে দেখা যাবে, সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক কিছু আলোচনা আসছে। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কিনা। কিন্তু আমরা বরাবরই বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখি। এর মধ্যে কিছু ভূরাজনৈতিক বিষয় যুক্ত হয়ে পড়ে। সেটুকু তো এড়ানোর অবকাশ নেই। চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন। আবার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনেও চীনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও চীন থেকে শুল্কমুক্ত পণ্যের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কতটা এগোতে পেরেছি তা সফর শেষেই জানা যাবে।
চীন সফরের ক্ষেত্রে মানবিক সুরক্ষা, সুস্থ কর্মপরিবেশ ও জলবায়ু অভিঘাতের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তবে আমাদের জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি নিয়ে আলোচনাও অনেক জরুরি। কারণ মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আলোচনার টেবিলে আনার অনুঘটক হিসেবে চীন ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে এ সফরে এটিকে অনানুষ্ঠানিক পরিসরে হলেও আলোচনায় তোলা হতে পারে।
বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চলমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। সফরে দুই দেশই মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর বিষয়টিতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে না বলে জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। আপনি এটিকে কীভাবে দেখছেন?
মালয়েশিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির শ্রমবাজার খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, এ আলোচনাকে ইতিবাচক বলেই মনে করতে হবে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় লক্ষ করা জরুরি। শিগগিরই মালয়েশিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সচরাচর নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো দেশেরই সরকার বড় কোনো ধরনের সমঝোতা করতে রাজি হয় না। এর পেছনে নানা প্রশাসনিক জটিলতা থাকে। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও এ দিকটি বিবেচনা করতে হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতাটি পর্যালোচনা ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুনভাবে প্রণয়নের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। এও জানা গেছে, আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি এক বিবৃতিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, বৈষম্যমুক্ত করার কথা বলেছেন। এ দিকগুলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ শ্রমবাজারে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা দূর করতে হবে। তাছাড়া আমরা সচরাচর মালয়েশিয়ায় অদক্ষ শ্রম রফতানি করে থাকি। কিন্তু মালয়েশিয়ার অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটি এখন আইটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমনকি সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির দিকে ঝুঁকেছে। ফলে আমাদের শ্রমশক্তির উপযোগিতা ওই দেশের শ্রমবাজারের জন্য পর্যাপ্তও নয়, এ দিকটি আমাদের ভেবে দেখা দরকার। এ মুহূর্তে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরির কাজটিও করতে হবে। যখন মালয়েশিয়া নিজেই দেখতে পাবে এখানকার শ্রমিক তাদের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তখন সেখানকার শ্রমবাজার আমাদের জন্য উন্মুক্ত হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অনেক দিন বন্ধ থাকার পেছনে ভুয়া এজেন্সি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথা পাওয়া যায়। এসব বন্ধ করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর এ উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে আশ্বস্ত করতে হবে। এটি শুধু মালয়েশিয়াই নয়, সব শ্রমবাজারের ক্ষেত্রেই। আমরা আশ্বস্ত করতে পারলে শ্রমবাজারের অনেকগুলো পথ উন্মুক্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ভারতও নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি এ সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে না থাকলেও এটি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে চীনা বিনিয়োগ আছে। এক্ষেত্রে কি ভূরাজনৈতিক কিছু টানাপড়েন তৈরি হতে পারে?
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা এ জাতীয় সংবেদনশীল প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার প্রস্তাবকে ভারত কীভাবে দেখছে, তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংকট এড়াতে হবে। আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা বহুদিনের। তবে তাদের প্রতিযোগিতার টানাপড়েনে যেন বাংলাদেশ না পড়ে তার জন্য কূটনৈতিক বিচক্ষণতা দেখাতে হবে। তিস্তা প্রসঙ্গে আমাদের পানি বণ্টন নিয়ে সমঝোতা জরুরি। এখানে চীন ও ভারতের মতো নদীশাসন প্রতিযোগিতা নয়। ভারতের ক্ষেত্রে কিছু নিরাপত্তা জটিলতা আছে। শিলিগুড়ি করিডোরসহ তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে তাদের সমস্যা বহুদিনের। তবে এক্ষেত্রে ভারতকে আশ্বস্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ তিস্তা মহাপরিকল্পনার মধ্যে চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সংযুক্ত করার চেষ্টা করবে। এটি এখন আর বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যার কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই।
আবার বাংলাদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পেই চীনের বিনিয়োগ আছে। সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ চুক্তি করার ক্ষেত্রে প্রথমে শর্তগুলো দেখা জরুরি। চুক্তিটি আমাদের জন্য কতটা উপকারী এবং এর মাধ্যমে আমরা কী কী সুবিধা পাব সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষেই আমাদের এগোতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গেও আমাদের নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে এ চুক্তিগুলো ভূরাজনৈতিক নয়, বরং বাণিজ্যিক। এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বাংলাদেশের কিছু কিছু সংযুক্তি রয়েছে। এ পরিকল্পনায় যে অর্থায়ন আসবে তা কিন্তু ঋণ আকারে আসবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর যদি আমাদের লাভ না হয় তাহলে ঋণের বোঝা বাড়ার ঝুঁকি আছে। তাই আমাদের অনেক হিসাব-নিকাশ করে এগোতে হবে। এজন্যই বহুপক্ষীয় আলোচনা দরকার। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারাজের ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয় এ আলোচনার সূচনা চীন সফর থেকে হতে পারে। কোনো পক্ষই যেন এখানে অসন্তুষ্ট না হয় সেটা লক্ষ রাখাও আমাদের কূটনীতির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
এখানে আমার আরেকটি প্রস্তাব আছে। আমরা দীর্ঘদিন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে শুধু নিরাপত্তার আঙ্গিকে বিচার করছি। এক্ষেত্রে একধরনের অনাস্থার পরিবেশ রয়ে গেছে। অর্থাৎ ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ, আবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ—একটা সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের উচিত ছিল এসব অঞ্চলকে যৌথ বাণিজ্যিক রূপ দেয়া। শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অংশীদারদেরও যুক্ত করা যায়। ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, পাকিস্তান—এসব দেশের সঙ্গে আমাদের ভূরাজনৈতিক সমঝোতার জায়গাটি বাড়াতে হবে। মিয়ানমার, ভারত, ভুটানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিরাপদ ও পারস্পরিক বাণিজ্যিক কিছু সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। যখন বাণিজ্যিক গতি আসবে তখন সেখানে তদারকির আলাদা মাত্রা যুক্ত হবে। সেটি এ অঞ্চলের পারস্পরিক সহযোগিতা আরো ভালো করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আলোচনা হয়নি। পদ্মা ব্যারাজের ক্ষেত্রে কথা ওই একটি, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক রেখে চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হবে। এটি আমাদের কূটনৈতিক চ্যানেলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশে বহু বড় প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ রয়েছে। আবার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কও আমাদের বাড়ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তবে এবার প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারকে ঋণ করতে হবে। এখন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে চীনা ঋণ আকর্ষণ কি কিছুটা হলেও সুবিধার?
ঋণ পাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার নিরিখে নির্ধারিত হবে। চীনের ঋণ ও বিনিয়োগ দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু ঋণ বা বিনিয়োগ পেলেই হবে না। ঋণের শর্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের দিকটি যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলকে সতর্ক থাকতে হবে। এমন অনেক বিনিয়োগ আসতে পারে যেগুলো আকর্ষণীয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থের জন্য উপকারী নয়। তাই চুক্তির সব দিক যাচাই-বাছাই করতে হবে। কোনো অংশ পছন্দ না হলে সেটিকে আলোচনার মাধ্যমে আরো সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। মূল কথা, কূটনৈতিকভাবে বিষয়টিকে সামলে নেয়া।
চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি নতুন নয়। এখন আমাদের অর্থনীতিও নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়? এক্ষেত্রে কূটনীতির ভূমিকা কী?
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা আরো ভালো বলতে পারবেন। বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি শুধু চীনের সঙ্গে নয়। আরো অনেক দেশের সঙ্গেই রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা একটি বিশ্বাসযোগ্য বাজার ব্যবস্থাপনা গড়তে পারছি না। আবার সময়ের সঙ্গে সংগতি রেখেও আমরা বড় শিল্পের দিকে যেতে পারছি না। চীন একটি বড় বাজার। এ বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। তবে বাংলাদেশ সচরাচর যে ক’টি খাতের ওপর নির্ভর করে সেগুলো দিয়ে বাণিজ্যের সম্প্রসারণ কঠিন। কারণ চীন এখন প্রযুক্তি খাতে মনোযোগ দিচ্ছে। মালয়েশিয়া, চীন, তাইওয়ান এখন সেমিকন্ডাক্টরের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানও সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান অল্প। আবার বড় পরিসরে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়লে সেখানে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের দিক থেকেও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।
চীন বাংলাদেশকে অনেক পণ্যেই শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। তবে এখানে কঠোর স্থানীয় মূল্য সংযোজন শর্ত থাকায় আমরা পূর্ণ সুবিধা পাই না। এ সফরে বিষয়টি আলোচনায় তোলা জরুরি। চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকা যেসব পণ্য আমরা উৎপাদন করি সেগুলোর রফতানি সহজ ও ধারাবাহিক করা দরকার।
শুধু পণ্য আমদানি করলেই হবে না। চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে। এখন সরকার বিনিয়োগ আনার কাজ করে না। তারা বিনিয়োগ আকর্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে। কূটনৈতিক চ্যানেল যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে যৌথ সমীক্ষা ও আলোচনা চলছে। এগুলোকে আমরা দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে পারি। চীনে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষা এবং লজিস্টিকস-সংক্রান্ত যেসব নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, তা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাউন্সিলের মাধ্যমে দূর করতে হবে। আবার আমদানি-রফতানিতে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টাকা ও ইউয়ানে সরাসরি এলসি খোলার পরিধি বাড়ালে ট্রানজেকশন খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার জন্য আমাদের প্রথমেই রফতানিমুখী ভাবনা থেকে বেরোতে হবে। বরং বাণিজ্যের পরিসরকে আরো বহুমুখী করতে হবে।