সাম্প্রতিককালে
ঢাকার
লালবাগে
রাস্তার
পাশের
জরাজীর্ণ
সীমানা
প্রাচীর
ভেঙে
এক
মুহূর্তের
মধ্যে
প্রাণ
গেল
সাত
বছর
বয়সী
জিহাদের।
জিহাদ
তার
বাবার
হাত
ধরে
প্রতিদিনের
মতো
হেঁটে
স্কুলে
যাচ্ছিল।
জরাজীর্ণ
দেয়ালটি
যেন
ওত
পেতে
ছিল!
স্টাফ
কোয়ার্টারের
সীমানাপ্রাচীরের
প্রায়
১০
থেকে
১৫
ফুট
দেয়াল
চোখের
নিমেষে
ভেঙে
পড়ল,
যার
নিচে
চাপা
পড়ল
ছোট্ট
অবুঝ
জিহাদের
বড়
হওয়ার
স্বপ্ন!
অথচ
সবার
চোখের
সামনেই
এই
জরাজীর্ণ
দেয়াল
ঠায়
দাঁড়িয়ে
ছিল
দিনের
পর
দিন।
সংবাদমাধ্যমে
জানতে
পারলাম
দেয়ালটি
যে
ঝুঁকিপূর্ণ
তা
সিটি
করপোরেশন
ও
গণপূর্ত
অধিদপ্তর
জানত!
এমনকি
চিঠি
চালাচালি
হচ্ছিল।
তবে
কেউই
সংস্কারে
তাত্ক্ষণিকভাবে
এগিয়ে
আসেনি।
তবে
শিশুর
মৃত্যুর
পর
দেয়াল
ভাঙার
ও
মেরামতের
কাজ
চলছে।
হয়তো
অচিরেই
সংস্কার
হবে।
তবে
শিশু
জিহাদ
কি
আবার
স্কুল
থেকে
ফিরে
এসে
তার
মাকে
জড়িয়ে
ধরে
বলবে,
‘মা
আমার
পরিষ্কার
জামাগুলো
দাও
তো,
আমি
পরব!’
কিংবা
তার
মৃত্যু
কি
কোটি
টাকার
ক্ষতিপূরণ
দিয়ে
নিরূপণ
করা
যাবে?
আরেকটি দুর্ঘটনার
কথা
মনে
পড়ে
যায়।
সম্ভবত
এ
বছরের
ফেব্রুয়ারি
মাস।
সাভারের
আশুলিয়ায়
পুরনো
একটি
ভবনের
দেয়াল
ধসে
পঞ্চম
শ্রেণীর
হ্যাপি
আক্তার
মিনার
মৃত্যু
হয়।
সেই
ঘটনায়
আহত
হয়
আরো
তিনজন।
তার
কিছুদিন
পর
এপ্রিলে
আরেকটি
ঘটনার
কথা
উল্লেখ
করছি।
চট্টগ্রামে
দেয়ালচাপায়
মোহাম্মদ
নূরুল
ইসলাম
নামের
একজন
পথচারী
নিহত
হন
চৌমুহনী
এলাকায়।
এমন
দেয়াল
ভেঙে
পথচারী
মৃত্যুর
ঘটনা
অহরহ
ঘটছে
চোখের
সামনে
প্রতিনিয়ত
অথচ
দেখার
যেন
কেউ
নেই।
হয়তো
কোনো
দুর্ঘটনা
হওয়ার
পর
আমাদের
টনক
নড়ে।
তাত্ক্ষণিকভাবে
সংস্কার
হয়
কিন্তু
তার
আগ
পর্যন্ত
সবাই
থাকি
শীতনিদ্রায়!
এর
সঙ্গে
আমাদের
নগর
জীবনে
চলতে-ফিরতে
আরো
দুর্ঘটনার
শিকার
হতে
হয়
একটু
অসাবধান
হলেই।
যেমন
ঢাকনাবিহীন
ম্যানহোলে
পড়ে
মৃত্যু
হয়
পথচারীর,
খোলা
নলকূপে
পড়ে
যায়
শিশু!
শাহজাহানপুরের
শিশু
জিহাদ
আর
শ্যামপুরের
নীরবের
করুণ
মৃত্যুর
কথা
হয়তো
আমাদের
আজও
গভীরভাবে
ভাবায়
কিংবা
অসংখ্য
ঘটনার
ভিড়ে
এসব
স্মৃতি
হারিয়ে
যায়।
আমরা
আবার
প্রস্তুত
হই
পরের
কোনো
দুর্ঘটনার
জন্য!
আমরা আরো
দেখেছি
খোলা
ড্রেনে
পড়ে
করুণ
মৃত্যুর
ঘটনা।
নিশ্চয়ই
মনে
আছে
কয়েক
দিন
আগে
চট্টগ্রাম
নগরীর
খোলা
ড্রেনে
পড়ে
নিখোঁজ
হওয়া
বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রী
সাদিয়ার
কথা!
যেগুলোর
উদাহরণ
দিয়ে
শেষ
করা
যাবে
না।
গত
জানুয়ারিতে
সিলেট
সিটি
করপোরেশনের
নির্মিতব্য
একটি
অরক্ষিত
ড্রেনে
পড়ে
প্রাণ
হারিয়েছিলেন
প্রবীণ
সাহিত্যিক
আবদুল
বাসিত
মোহাম্মদ।
উন্নয়ন
ও
নির্মাণকাজে
নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণের
বিষয়টি
এখানে
বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য,
যার
সঠিক
বাস্তবায়ন
আমরা
বেশির
ভাগ
ক্ষেত্রেই
দেখতে
পাই
না।
আমাদের
যেটি
প্রধান
সমস্যা,
কোনো
ঘটনা
ঘটামাত্র
আমরা
সজাগ
হই,
নড়েচড়ে
বসি।
সেটি
নিয়ে
কিছুদিন
উঠেপড়ে
লেগে
থাকি
কিন্তু
আরেকটি
নতুন
ঘটনা
ঘটামাত্র
আগের
করণীয়
বেমালুম
ভুলে
যাই।
একে
অন্যের
কাঁধে
দোষ
চাপাই।
স্বল্পমেয়াদি
নগরকেন্দ্রিক
প্রকল্পগুলো
হয়ে
ওঠে
দীর্ঘমেয়াদি।
কাজটি
আর
কখনই
শেষ
হয়
না।
আর
এজন্য
অনেক
কারণের
মধ্যে
অন্যতম
বড়
কারণ
সঠিক
আইনের
প্রয়োগ
এবং
তার
বাস্তবায়নের
অদূরদর্শিতা।
যদি
প্রশ্ন
করা
হয়,
একটি
শহর
নিরাপদ
হয়
কখন?
যে
যার
প্রেক্ষাপট
থেকে
প্রশ্নটির
উত্তর
দেবে।
যে
শহরটিতে
সমাজের
নিম্ন
শ্রেণী
থেকে
শুরু
করে
উচ্চপর্যায়ের
একজন
সাধারণ
নাগরিক
নিশ্চিন্তে
চলাফেরা
করতে
পারে,
নিজেকে
এবং
সবাইকে
সুরক্ষিত
রাখতে
পারে,
মোটাদাগে
সেই
শহরকেই
নিরাপদ
শহর
বলা
চলে।
আর
আমাদের
বর্তমানের
যে
টেকসই
উন্নয়নের
লক্ষ্যমাত্রা
আগামী
প্রজন্মের
জন্য,
সেখানে
কি
একটি
নিরাপদ
শহরের
নিশ্চয়তা
বিদ্যমান?
প্রশ্ন
থেকে
যায়।
অন্যদিকে নির্মাণকাজে
নিয়োজিত
শ্রমিকের
মৃত্যু
নিয়ে
অনেক
কথাবার্তাই
হয়,
লেখালেখিও
কম
নয়।
তবু
প্রায়
প্রতিদিন
খবরের
কাগজে
কোনো
না
কোনো
খবর
থাকে,
যেখানে
নির্মাণকাজে
শ্রমিকের
মৃত্যুর
সংবাদ
ছাপা
হয়।
নির্মাণাধীন
কোনো
স্থাপনার
ছাদ
ধসে
পড়ে,
অনেক
উঁচুতে
ঝুলন্ত
অবস্থায়
কোনো
সেফটি
গার্ড
না
থাকার
কারণে
দড়ি
ছিঁড়ে
নিচে
পড়ে
যাওয়া
কিংবা
নিচ
থেকে
পণ্য
রশি
দিয়ে
বেঁধে
ওপরে
তুলতে
গিয়ে
দড়ি
ছিঁড়ে
নিচে
পড়ে
অনেকেই
প্রাণ
হারাচ্ছেন।
তাছাড়া
ফুটপাত
দিয়ে
হাঁটার
সময়
হঠাৎ
ওপর
থেকে
পাথর
কিংবা
ইটের
টুকরো
অথবা
লোহার
রড
মাথার
ওপর
পড়ে
প্রাণ
হারানোর
খবরাখবর
এখন
একটি
নিত্যনৈমিত্তিক
ব্যাপার।
এ
প্রসঙ্গে
শ্রম
আইনের
নিয়মনীতি
থেকে
থাকলেও
তার
প্রয়োগ
নেই
কিংবা
নির্মাণ
প্রতিষ্ঠানগুলো
এসব
বিষয়ে
সঠিকভাবে
এখনো
তাদের
কর্মপন্থা
তৈরি
করতে
পারেনি
এখন
পর্যন্ত।
বাংলাদেশ
ইনস্টিটিউট
অব
লেবার
স্টাডিজের
তথ্যমতে,
গত
১৫
বছরে
নির্মাণকাজে
দুর্ঘটনায়
শ্রমিক
নিহত
হওয়ার
সংখ্যা
১
হাজার
৩৭৭
জন।
প্রতি
বছরই
এ
সংখ্যা
বাড়ছে।
নির্মাণ
শ্রমিকদের
মধ্যে
স্থায়ীভাবে
পঙ্গু
হওয়ার
পরিসংখ্যানও
উদ্বেগজনক।
বিভিন্ন গবেষণায়
আরো
কিছু
তথ্য
উঠে
এসেছে।
আমাদের
বিশেষ
করে
ঢাকা
শহরের
জ্যামের
পরিমাণ
বৃদ্ধি
পাওয়ার
দরুন
একদিকে
যেমন
নাগরিকদের
কর্মঘণ্টার
ওপর
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়ছে,
ঠিক
তেমনি
অতি
উচ্চমাত্রার
জ্যাম
ও
শব্দদূষণের
কারণে
চিকিৎসা
ও
সেবাগ্রহীতাদের
অনেক
ধরনের
মানসিক
ও
শারীরিক
সমস্যার
সম্মুখীন
হতে
হচ্ছে
প্রতিনিয়ত।
বিশেষ
করে
গর্ভবতীদের
জন্য।
আমরা
একটু
ভালো
করে
খেয়াল
করলেই
দেখতে
পারি
শহরের
প্রত্যেকটি
বাসার
কিংবা
কোনো
স্থাপনার
সামনে
ফুটপাতে
হাঁটাচলার
জন্য
মোটেই
সমান্তরাল
নয়।
হাঁটতে
গিয়ে
হোঁচট
খেতে
হয়
বারে
বারে।
রাস্তা
পারাপারের
ক্ষেত্রেও
সচেতনতা
সাধারণ
নাগরিকদের
মধ্যে
এখনো
পৌঁছেনি।
শহর
আজ
ঢেকে
গেছে
ঝুলন্ত
বৈদ্যুতিক
তারে।
রাস্তার
পাশ
দিয়ে
ইলেকট্রিক
তারের
যেন
বিশাল
বহর!
ভয়াবহ
জট
পাকিয়ে
আছে
সব
ক্ষেত্রে।
যার
দরুন
যেকোনো
সময়
ভয়াবহ
দুর্ঘটনায়
যে
কেউ
পড়তে
পারে।
এসব
বৈদ্যুতিক
তার
থেকে
অগ্নিকাণ্ড
নতুন
কোনো
বিষয়
নয়।
অথচ
সিটি
করপোরেশন
একটু
সঠিক
কর্মপরিকল্পনা
আর
আইনের
সঠিক
বাস্তবায়ন
নিলে
ঢাকাবাসী
তারবিহীন
নিরাপদ
শহর
পেতে
পারে।
এ
সমস্যার
সমাধান
করা
কি
খুবই
কষ্টসাধ্য?
এবার আসা
যাক
আমাদের
শহরকেন্দ্রিক
পরিকল্পনার
দিকে।
ঢাকা
স্ট্রাকচার
প্ল্যানের
(২০১৬-৩৫)
মূল
ভাবনা
ও
বৈশিষ্ট্যগুলোর
মধ্যে
পুরো
ঢাকা
মেট্রোপলিটন
ছয়টি
অঞ্চলে
ভাগ
করা
হয়েছে।
প্রত্যেক
অঞ্চলকে
স্বয়ংসম্পূর্ণ
হিসেবে
প্রতিষ্ঠার
জন্য
মূল
ঢাকা
শহরকে
কেন্দ্র
করে
প্রতিটি
অঞ্চলে
বিভিন্ন
স্তরের
নগর
কেন্দ্র
প্রতিষ্ঠার
প্রস্তাবনা
এবং
সেসব
কেন্দ্রে
নাগরিকদের
সব
ধরনের
সুযোগ-সুবিধা
ও
কর্মসংস্থানের
বিকেন্দ্রীকরণের
কথা
বলা
হয়েছে।
তাছাড়া
ভূমিস্বল্পতাকে
বিবেচনা
করে
কম্প্যাক্ট
ডেভেলপমেন্টের
দিকে
জোর
দেয়া
হয়েছে।
নদী-নালা,
খাল-বিল
ও
জলাভূমি
সংরক্ষণসহ
জলাবদ্ধতা
নিষ্কাশন,
বর্জ্য
ব্যবস্থাপনা,
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
পরিবেশ
নিশ্চিতকরণ,
দুর্যোগ
প্রতিরোধ
ক্ষমতা
অর্জনের
বিভিন্ন
ভাবনা
এবং
বৈশিষ্ট্য
বাস্তবায়নের
কথা
বিশদভাবে
বর্ণনা
করা
হয়েছে।
তবে
একথা
অনস্বীকার্য
যে
একটি
শহরের
উন্নয়ন
শুধু
ভূমি
ব্যবস্থাপনার
উন্নয়নের
ওপর
নির্ভর
করে
না।
তার
সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে
জড়িয়ে
রয়েছে
নাগরিকদের
জীবনের
নিরাপত্তা।
যেখানে
অযাচিতভাবে
শিশু
জিহাদের
মতো
কেউই
মৃত্যুবরণ
করে
না
কিংবা
সেই
মানুষটি
যে
সঠিকভাবে
হাঁটতে-চলতে
পারে
না,
তার
শারীরিক
অসুস্থতার
কারণে
তারও
অধিকার
রয়েছে
একটি
শহরের
ফুটপাত
ধরে
নির্বিঘ্নে
হাঁটার।
এ
ভূমি
ব্যবস্থাপনার
সঙ্গে
নাগরিকদের
জীবনের
নিরাপত্তা
এবং
ভূমি
ব্যবস্থাপনা
সমন্বয়
করতে
পারলেই
সেই
শহরটির
সামগ্রিক
উন্নয়ন
টেকসই
উন্নয়নে
রূপান্তর
হবে,
যা
বর্তমানে
আমাদের
দেশের
প্রধান
শহরগুলোয়
এখনো
অনুপস্থিত।
ঢাকাকে
নিয়ে
প্রথম
পরিকল্পনা
করেন
প্যাত্রিক
গেদেস
১৯১৭
সালে।
যদিও
পরবর্তী
সময়ে
ঢাকা
সিটি
করপোরেশন
গঠিত
হওয়ার
আজ
অবধি
ঢাকাকে
সুপরিকল্পিত
হিসেবে
গড়ে
তোলার
টেকসই
ও
সমন্বিত
পরিকল্পনা
এখন
পর্যন্ত
বাস্তবায়ন
করা
সম্ভব
হয়নি।
পরবর্তী
২০১১
সালে
ঢাকা
সিটি
করপোরেশনকে
উত্তর
ও
দক্ষিণ
এই
প্রধান
দুটি
অঞ্চলে
ভাগ
করা
হয়
এবং
তখন
আশা
করা
হয়েছিল
এই
নতুন
সিটি
করপোরেশন
ঢাকাকে
নতুন
করে
সুসজ্জিত
করবে।
বিশেষ
করে
নাগরিক
অধিকার
এবং
নাগরিকদের
স্বার্থ
সংরক্ষণ
করে
ঢাকাকে
একটি
বসবাসের
উপযোগী
নগরী
হিসেবে
গড়ে
তুলবে।
এখানে
আরো
উল্লেখ্য,
১৯৯৭
থেকে
২০১০
পর্যন্ত
শহরকেন্দ্রিক
পরিকল্পনা
তৈরি
করা
হয়েছিল।
তবে
এ
পরিকল্পনাগুলো
অতীতেও
দেখা
গিয়েছে
শুধু
লিখিত
আকারে
থেকে
গিয়েছে।
এর
পুরোপুরি
বাস্তবায়ন
সামগ্রিকভাবে
চোখে
পড়ার
মতো
নয়।
তাছাড়া
আরেকটি
বিষয়কে
প্রাধান্য
দিতে
হবে।
নগরকেন্দ্রিক
নাগরিক
জীবনের
নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণে।
যার
কারণে
যেকোনো
সময়
মারাত্মক
দুর্ঘটনা
ঘটতে
পারে।
এই
ঢাকা
শহরেই
অনেক
পুরনো
ভবন
রয়েছে,
যেগুলো
জরাজীর্ণ
অবস্থায়
বিদ্যমান।
কোথাও
কোথাও
এর
প্লাস্টার
খসে
পড়েছে।
লোহার
রড
বের
হয়ে
গিয়েছে।
দ্রুত
এগুলোকে
স্থানভেদে
চিহ্নিত
করতে
হবে
এবং
সংস্কারের
ব্যবস্থা
নিতে
হবে।
এমনকি
বিল্ডিং
কোডের
নিয়মবহির্ভূত
স্থাপনাগুলো
চিহ্নিত
করে
সেগুলোকে
কীভাবে
পুনঃসংস্কার
করা
যায়,
নাগরিক
নিরাপত্তাজনিত
কারণে
বিষয়গুলোর
দিকে
বিশেষ
নজর
দিতে
হবে।
বর্তমানে বিশ্বের
অন্যান্য
দেশের
শহরগুলোকে
নাগরিক
অধিকার
এবং
স্বাস্থ্যকে
সংরক্ষণ
করে
এমনভাবে
পরিকল্পনায়
নিয়ে
আসার
চিন্তা
করছে।
যেখানে
সেই
শহরগুলোর
মধ্যে
একজন
নাগরিক
১৫
থেকে
২০
মিনিটের
হাঁটা
পথের
মধ্যেই
তার
সব
সুযোগ-সুবিধা
পাবে—এমনভাবে
চিন্তা
করছে।
ঠিক
সে
সময়ে
আমাদের
দেশে
প্রতি
বছর
শুধু
নিরাপত্তাজনিত
ও
দূষণের
কারণে
অনেক
প্রাণহানি
ঘটছে
শহরগুলোয়।
যা
অত্যন্ত
হতাশাজনক।
এ-যাবত্কাল
আমরা
বহুবার
এই
ঢাকা
শহরকে
নাগরিকবান্ধব
করে
গড়ে
তোলার
আশ্বাস
পেয়েছি।
আগামী
৩০
বছরের
জন্য
মহাপরিকল্পনা
প্রণয়নও
হয়েছে।
তবে
দেখার
বিষয়
হচ্ছে,
রোডম্যাপ
অনুযায়ী
কর্মপরিকল্পনা
বাস্তবায়নের
সুফল
নাগরিক
জীবনে
কতটুকু
প্রভাব
বিস্তার
করছে।
আর
এজন্য
প্রয়োজন
সব
স্তরের
সম্পৃক্ততা
আর
আন্তরিক
প্রচেষ্টা।
আমরা
বিভিন্ন
সময়
দেখতে
পাই
উন্নত
বিশ্বের
কোনো
কোনো
দেশকে
উদাহরণ
হিসেবে
বলতে
ঢাকাকে
ঠিক
সেভাবে
গড়ে
তুলবে।
কিন্তু
দুর্ভাগ্য
আমাদের
ঢাকাকে
আমরা
আজও
ঢাকার
মতো
সাজাতে
পারিনি,
যার
আগের
একটি
ঐতিহ্যবাহী
ইতিহাস
রয়েছে।
যার
নিজস্ব
একটি
কাঠামো
রয়েছে।
সেই
সব
কাঠামো
গবেষণার
মাধ্যমে
বিশ্লেষণ
করে
আমরা
কিন্তু
আমাদের
প্রত্যেকটি
শহরকে
নিজেদের
ঐতিহ্যের
সঙ্গে
সম্পৃক্ত
করে
সাজাতে
পারতাম।
উদাহরণ
হিসেবে
অন্যদের
অনুকরণীয়
হতো।
অথচ
আমরা
বারবার
পাশ্চাত্যের
ধারণার
দিকে
ফিরে
যেতে
চাই!
নিজেদের
সংস্কৃতি,
মানুষের
জীবনযাত্রার
প্রবাহ
ভুলে।
আমরা
এখনো
এমন
ঢাকা
চাই,
যেখানে
হেঁটে
অনেক
দূর
যাওয়া
যাবে।
জীবনকে
হাতে
নিয়ে
নয়,
বরং
প্রাণচাঞ্চল্যে
অলিতে-গলিতে
হেঁটে
শিশুরা
মা-বাবার
হাত
ধরে
স্কুলে
যাবে।
সবুজ
মাঠে
খেলবে।
খোলা
আকাশের
নিচে
ঘুড়ি
ওড়াবে।
এসব
কি
সত্যিই
আমাদের
স্বপ্ন
থেকে
আরো
দূরে
সরে
যাচ্ছে
ক্রমাগত?
নাকি
এখনো
সময়
আছে
সমন্বিতভাবে
নগরকে
গড়ে
তোলার,
যেখানে
সবার
নাগরিক
অধিকার
ও
নিরাপত্তা
নিশ্চিত
হবে।
জননিরাপত্তার
ওপর
ভিত্তি
করে
শহরে
নকশা
(আরবান ডিজাইন
ও
স্থাপত্যিক
চিন্তাভাবনা)
প্রণয়নকে
প্রাধান্য
দিতে
হবে।
কারণ
শহরের
নিরাপত্তার
বিষয়টি
আরো
জটিল
ও
জরুরি
হয়ে
উঠেছে
একদিকে
বৈশ্বিক
পরিসরে,
অন্যদিকে
স্থানীয়
পরিসরে।
সেক্ষেত্রে
নাগরিকদের
মনস্তাত্ত্বিক
নিরাপত্তা
ও
ব্যবহারিক
নিরাপত্তা
এ
দুটি
বিষয়কেই
প্রাধান্য
দিতে
হবে।
সজল চৌধুরী: শিক্ষক,
স্থপতি
ও
স্থাপত্য-পরিবেশবিষয়ক
পিএইচডি
গবেষক,
মেলবোর্ন
বিশ্ববিদ্যালয়