পিপিআরসির ওয়েবিনার পর্ব-২

উন্নয়ন সূচকের রাজনীতি

হোসেন জিল্লুর রহমান: ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন সম্পর্কিত অনেক সূচক আছে। এটি বাংলাদেশেও অন্যতম বিবেচ্য। প্রায়ই বলি যে আমাদের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ব্যক্তি খাত। কিন্তু ব্যক্তি খাত উন্নয়নে প্রচলিত সূচকগুলোর ক্ষেত্রে কোন কোন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে?

হোসেন জিল্লুর রহমান: ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন সম্পর্কিত অনেক সূচক আছে। এটি বাংলাদেশেও অন্যতম বিবেচ্য। প্রায়ই বলি যে আমাদের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ব্যক্তি খাত। কিন্তু ব্যক্তি খাত উন্নয়নে প্রচলিত সূচকগুলোর ক্ষেত্রে কোন কোন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে?

সৈয়দ আখতার মাহমুদ: উন্নয়ন সম্পর্কিত সূচকের রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক সূচকের মধ্যে একটির সঙ্গে আমি খুবই পরিচিত। এটি প্রণয়নের সময় এবং বিভিন্ন দেশে এ সূচকের আলোকে যে সংস্কারগুলো করা হয়, তার সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ আছে। ১৫ বছর আগে বিশ্বব্যাংক ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক উদ্ভাবন করে। এটি করার পেছনে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—আমাদের মতো দেশগুলোয় ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে একটি বড় অংশ সরকারের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (রেগুলেটরি রেজিম), যা নানা ধরনের হয়রানির বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এসব হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যেই ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইনডিকেটরস প্রণয়ন করা হয়। ব্যবসা আরো কীভাবে সহজ করা যায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এসব সূচক প্রণীত হয়েছে।

যেকোনো সরকারের অন্যতম কাজ কেন রেগুলেশন, তার একটি কারণ রয়েছে। সেটি হলো, ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করবেন, নাগরিকরা নিজের বিচার-বুদ্ধি অনুযায়ী কাজ করবেন। কিন্তু সামষ্টিক যে তত্ত্বাবধান দরকার, তার জন্যই পাবলিক পলিসি দরকার। পাবলিক পলিসির একটি  বৈশিষ্ট্য হলো রেগুলেশন। অতএব, প্রশ্ন আসতে পারে ব্যবসায়ীদের জন্য জীবনটা সহজ করার কথা কেন বলছি? পরিবেশসংক্রান্ত বিধিবিধান কি গুরুত্বপূর্ণ নয়? সেগুলো মানছেন কিনা, তার ইনডিকেটর কোথায়? এ ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। এখানে বিশ্বব্যাংকের জবাব হলো, আমরা অবশ্যই এ দিকটা নিয়েও চিন্তা করি। কিন্তু একটা সেট অব ইনডিকেটরস দিয়ে সব সমস্যাকে ধরা সম্ভব নয়। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইনডিকেটরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ব্যবসায়ীদের জন্য পরিবেশ যাতে সহজ হয়। এর মানে এই নয় যে রেগুলেশনের অন্য যে দিক আছে, সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে যে দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা অস্বীকার করছি। তার জন্য হয়তো সম্পূরক কিছু ইনডিকেটর নির্ধারণের প্রয়োজন আছে। তখন হয়তো দুটো ইনডিকেটর মিলিয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশকে মূল্যায়ন করা যাবে।

হোসেন জিল্লুর রহমান: আমরা জানি যে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইনডিকেটরস মূল্যায়নের কাজটি আপাতত স্থগিত আছে। এর কারণটা কী? 

সৈয়দ আখতার মাহমুদ: একটি সূচক ভালো উদ্দেশ্যে করা যেতে পারে, এর অপব্যবহারও হতে পারে। এ প্রশ্নের সূত্র ধরে আমি দুটো কথা বলব। একটি হতে পারে যেখানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ হয়, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে হয়তো মিথ্যা পরিসংখ্যান তৈরির একটা প্রবণতা থাকতে পারে। যেটিকে অবশ্যই কারচুপি বলা যায়। এবার বিশ্বব্যাংক ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ইনডিকেটরস রিপোর্টটি স্থগিত করেছে এ কারণে যে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এসেছিল। এটি একেবারে কারচুপির ব্যাপার। এখানে ১০ থেকে ১২টি সূচক আছে। প্রতিটি দেশই চাইছে সার্বিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান যেন আরো ওপরে ওঠে। এটি উন্নীত করার জন্য নানা কারচুপির আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে। ধরুন, একটি ইনডিকেটর আছে, যেখানে বাংলাদেশের ঠিক ওপরেই অনেক দেশ আছে। অতএব, একটু কষ্ট করলেই ওই এলাকায় উদ্যোগ নিলে কয়েক ধাপ এগোনো যাবে। এমনও হতে পারে আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছে সেই সূচকটি অত গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাদের জন্য হয়তো অন্য আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকার দেখল যে সেখানে উন্নতি করতে গেলে আমাদের অনেক বেশি কাজ করতে হবে। কারণ আমাদের ওপরে থাকা দেশটি অনেক ওপরে রয়েছে। এখানে ব্যবসায়ীদের জন্য যা ভালো তা না করে দেশের র্যাংকিংয়ের জন্য যা ভালো তা অনেকেই করে। এটিকে আমরা বলি গেমিং দ্য সিস্টেম।

হোসেন জিল্লুর রহমান: সূচক হয়তো ঠিক উদ্দেশ্যেই নির্ণীত হয়েছিল যে ব্যবসার পরিবেশটা কীভাবে উন্নত করা যায় কিন্তু উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন বানানো পরিসংখ্যান দিয়ে তার অপব্যবহার হয়েছে। আরেকটি কথা বললেন যে টোকেনিজম। ছোটখাটো কিছু একটা দেখাতে পারলেই ওই ইনডিকেটরের র্যাংকিংয়ে ওপরে উঠে গেলেন কিন্তু আসলে ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি ঘটল না কেন, তা একটি বিবেচ্য বিষয়ই রয়ে গেল। আরেকটি বিষয় হলো, ব্যবসায়ীদের মধ্যেও কার দিকটি প্রাধান্য পাচ্ছে। একজন শিল্পপতিও ব্যক্তি খাতের অন্তর্ভুক্ত আবার রাস্তার পাশের একজন ছোট দোকানদারও ব্যক্তি খাতের আওতাভুক্ত। তাদের ক্ষেত্রে ইজ অব ডুয়িং সূচকের প্রয়োজনগুলো হয়তো ভিন্ন হতে পারে। আমরা হয়রানির কথা আগেই বলেছি। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতির মাধ্যমে হয়রানি কমানো যায় আবার এসএমইর হয়রানির জগত্টা হয়তো একটু ভিন্ন। সেগুলো হয়তো সূচক নির্মাণে সেভাবে প্রতিফলিত হয় না। এটিকে কি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আপনি মনে করেন?

সৈয়দ আখতার মাহমুদ: অবশ্যই। এখানে একটি কথা বলি, ইংরেজি শব্দের ভেতর কী অর্থ লুক্কায়িত আছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইনডিকেটর ইনডিকেট করে। অতএব, আপনাকে একটা ইশারা দিচ্ছে অমুক জায়গায় কিছু একটা গণ্ডগোল আছে। এখন ওই ইনডিকেটরে স্কোর বাড়ানোয় ব্যতিব্যস্ত না হয়ে এদিকটায় আমার মনে হচ্ছে উন্নতি করতে হবে। যেমন ধরুন, জমির নিবন্ধন। সেখানে আমাদের স্কোর খুব একটা ভালো নয়। এখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। তখন যদি আরেকটু গভীরভাবে তলিয়ে দেখেন এ প্রশ্নগুলো করতে পারবেন। আমি যদি একটু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, এটি কি তার জন্য সমস্যা? জবাব হয়তো আসবে যে এটি তার জন্য সমস্যা নয়। আবার উল্টোটা হতে পারে। তার জন্যই হয়তো সমস্যাটি সবচেয়ে প্রকট। সূচকের আলোচনা যদি আপনাকে সেদিকে নিয়ে যায়, তাহলে প্রাসঙ্গিকতা বা পুরো ব্যক্তি খাতকে এককভাবে দেখব না আলাদাভাবে, সেই আলোচনাটি শুরু হতে পারে। অতএব, ইনডিকেটর হয়তো সবার পরিবেশটি ক্যাপচার করতে পারল না কিন্তু ইনডিকেটর যদি আপনাকে সেসব আলোচনা-বিতর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে তাহলে সব প্রাইভেট সেক্টরকে এক করে দেখব না, ভাগ ভাগ করে দেখব—এ আলোচনা শুরু হতে পারে। তখন হয়তো এসব বিষয় চলে আসবে।

হোসেন জিল্লুর রহমান: বড় শিল্পগোষ্ঠী-ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা এসএমইদের প্রয়োজন-চাহিদাগুলো আলাদা করে ইজ অব ডুয়িংয়ে উন্নতির সুযোগ আছে কিনা।

সৈয়দ আখতার মাহমুদ: অবশ্যই করা যায় বিভিন্নভাবে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস মেথডোলজি ব্যবহার করে কয়েক বছর আগে আরেকটি ইনডিকেটর তৈরি করেছে, সেটিকে বলা হয় উইমেন বিজনেস অ্যান্ড ল। এ ইনডিকেটর স্বীকার করছে যে একজন পুরুষ ব্যবসায়ী এবং একজন নারী ব্যবসায়ীর সমস্যা এক রকম নয়। অতএব, ইনইকুয়ালিটির যে কথা আপনি বলছিলেন, সেটি আপনি সাইজের দিক থেকে বলেছিলেন, আমি বলেছি জেন্ডারের দিক থেকে। একজন নারী ব্যবসায়ীর হয়তো রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্টে বিশেষ বিশেষ সমস্যা থাকে। অনেক দেশে নারীর সম্পত্তির ওপর অধিকার নেই। কাজেই সেই সম্পত্তি বা জমিকে কোলারেটল হিসেবে দেখিয়ে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এখানে আলাদাভাবে ইনডিকেটর তৈরি করা হয়েছে। যাতে নারী ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো ধরা যায় এবং এর সমাধান করা যায়।

বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশে একটি কাজ করে, সেটি হলো এক বছর অন্তর এন্টারপ্রাইজ সার্ভে করা হয়। সেখানে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যবসায়িক সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করা হয়। সেখান থেকে যদি এটি চলে আসে যে ক্ষুদ্র বা ছোট ব্যবসায়ীদের বিশেষ বিশেষ সম্যস্যা কী, তাহলে বিভাজনটা আসলে করা যায়। সেখানে যদি আমরা দেখি যে ডুয়িং বিজনেস ইনডিকেটরগুলোয় যে ১০-১২টি দিক কাভার করা হচ্ছে, তার মধ্যে কিছু আছে যেগুলো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে তথ্য বের করতে পারলে প্রত্যেকটি সূচককে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সামগ্রিক ইজ অব ডুয়িং বিজনেস তৈরি সম্ভব। এতে বড় ও ছোট সব ব্যবসায়ীর সমস্যা যথাযথভাবে তুলে আনা সহজ হবে। কাজেই এ সমস্যা সমাধানে অনেকগুলো প্রক্রিয়া আছে।

হোসেন জিল্লুর রহমান: ফারাহ কবির, আপনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক পরিবর্তন, বিশেষ করে নারী উন্নয়নে কাজ করছেন। এসব ক্ষেত্রে সূচক নির্মাণ, ইনডিকেটর চয়েস, রাজনীতির বিষয় আছে কিনা, রাজনীতি বলতে কার স্বার্থ ও কোন বিষয় এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, এমনকি বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক আছে কিনা—এ বিষয়গুলো আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

ফারাহ্ কবির: ইনডিকেটরের কথা যখন বলা হয় তখন অসমতা আসে, লিঙ্গবৈষম্য আসে এবং আরো অনেক বিষয় আসতে পারে। ওয়েলবিইং বা ডেভেলপমেন্ট ইনডিকেটরে আমরা এখনো মনে করি যে লিঙ্গ সংবেদনশীলতার অভাব আছে বা অন্তর্ভুক্তির অভাব আছে। ক্ষমতায়নে কিছু অগ্রগতি আছে, এ জায়গায় আসতেও অনেক সময় লেগেছে। এখন আমরা এসডিজির লক্ষ্য পূরণে কাজ করছি। সবাই জানেন যে এসডিজির ৫ নং লক্ষ্যমাত্রা হলো নারী অধিকার। সেখানে মজুরিবিহীন গৃহকর্মও (আনপেইড কেয়ারওয়ার্ক) আছে। জাতিসংঘ এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এসডিজি লক্ষ্যেও এটি সংযোজিত হয়েছে। আমরা ২০১২-১৩ থেকেই মজুরিবিহীন গৃহশ্রমের স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন করছি।  আমাদের জাতীয় পর্যায়ে এটিকে স্বীকৃতি দেয়ার সময় এসেছে। নারী আন্দোলনের কর্মী বা উন্নয়ন কর্মীদের দিক থেকে একটি চাওয়া ছিল—এটিকে জিডিপিতে আনতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক দিন ধরে আমাদের যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তা হলো, আপনি স্বীকৃতি বলতে কী বোঝাচ্ছেন? আমাদের মা আমাদের খাওয়াচ্ছেন, যত্ন-আত্তি করছেন, সেটি কীভাবে জিডিপিতে আনব। গত ছয়-সাত বছর লড়াই করে একটি জায়গায় আনা গেছে যে এর ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হবে, এটি যদি বাজার থেকে নেয়া হয়। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, মার্কেট ভ্যালু থাকলে এটা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এটা যদি ডমেস্টিক বা ট্রানজেকশনটা পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে হয় তাহলে এটিকে আমরা কীভাবে নির্ণয় করব। এই যে ইনডিকেটর দরকার, তার জন্য আমাদের নন-ইকোনমিস্টদের অনেক লড়াই করতে হয়। আমরা অর্থনীতিবিদদের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছি এটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করব, কীভাবে জিডিপিতে আনব।

হোসেন জিল্লুর রহমান: কেন অর্থনীতিবিদদের পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? কারণ বিষয়টি তো শুধু অর্থনীতিবিদদের বিষয় নয়, গভীর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ও। নারী উন্নয়ন বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা কী হবে? মজুরিবিহীন গৃহকর্ম জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে মূল্যায়ন করার বিষয়টি সঠিক পথ কিনা?

ফারাহ্ কবির: এর কারণ আছে। সামাজিক যে পরিবর্তন, সেই কাজটি তো আমরা করছি। কিন্তু তার পাশাপাশি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা যখন কথা বলছি তখন সব পর্যায়ের নারীর কথা বলছি। তাদের প্রয়োজনটা যখন দেখতে চাইছি তখন দেখা যাচ্ছে তার ৭ ঘণ্টার চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয় পারিবারিক কাজগুলো করতে। সেজন্য প্রথম প্রয়োজন ছিল স্বীকৃতি। পরিবারের মধ্যে, সামাজিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে। কেন? এমনটি হলে জেন্ডার সেনসিটিভ সার্ভিসগুলো আসবে। অর্থনীতিবিদদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি বা ঘুরছি এজন্য যে আমাদের পলিটিক্যাল অ্যাক্টরসরা একটি কানেকশন দেখেন। আরেকটি বিষয় হলো, এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশেই চাই। বিষয়টি হলো, আমাদের এ চাওয়ার পেছনে একটা বণ্টনের ব্যাপার আছে, বাজেটের ব্যাপার আছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, বাজেট এগুলো কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার যখন দুটোকে সংযুক্ত করবে তখন নারীর জন্য তার বিনিয়োগটা বাড়াবে। সেজন্যই মূলত আমাদের প্রচেষ্টা।

হোসেন জিল্লুর রহমান: আনপেইড কেয়ারওয়ার্ক জিডিপিতে আনার পেছনে নিশ্চয়ই কিছু উদ্দেশ্যও আছে। সেটি নিয়ে যদি সংক্ষেপে কিছু বলেন।

ফারাহ্ কবির: আসলে কোনো পলিসি বা প্রোগ্রাম ইন্টারভেনশন যদি নিতে হয় তাহলে বুঝতে হবে নারীরা সারা দিন কত সময় ব্যয় করেন, কী কাজে ব্যয় করেন। তাদের প্রয়োজনগুলো কী। আমাদের মেয়েশিশুরা নিজেরা কেয়ারওয়ার্কে থাকে বলে লেখাপড়া করতে পারে না, মায়ের সঙ্গে পানি আনতে যেতে হয়, বাড়িতে কাজ করতে হয়—এ জায়গাগুলোয় সরকারি পর্যায়ে বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আমরা কী কী সাপোর্ট দিতে পারি, সেই দিকটায় দৃষ্টিটা দিতে হবে। সেজন্যই নারীরা (একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামেরও) বলছেন যে সন্তানকে ডে-কেয়ার সেন্টার বা কারো কাছে যদি রেখে যেতে পারি তাহলে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা আরো বেশি উৎপাদনশীল কাজ করতে পারবে। তারা তো বাড়িতে শাকসবজির চাষ করছেন, পোলট্রি করছেন। এগুলো করছেন সব কাজের মধ্য দিয়ে। ফলে তার ভালো থাকা, ওয়েলবিইং এগুলো কিন্তু হচ্ছে না। সেটি না হলে বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যার যে ওয়েলবিইং দরকার, তা থেকে বঞ্চিত হবে। সেজন্য আমরা মনে করি যে ডে-কেয়ার সেন্টার বা পানি যদি নারীদের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারি, তাহলে তার অনেক সময় বেঁচে যাবে। এ ধরনের কিছু বিষয় রয়েছে। (চলবে)

 

শ্রুতলিখন: হুমায়ুন কবির

আরও