গ্রন্থ পর্যালোচনা

গ্রামীণ সমাজ ও কৃষি কাঠামো সাম্প্রতিক পরিবর্তন

গ্রাম বললে আমাদের মস্তিষ্কে যে ইমেজ (দৃশ্য) ভেসে ওঠে, তা গ্রাম সম্পর্কে একটা নিশ্চল সময়কে উপস্থাপন করে। কারণ গ্রাম বা গ্রামীণ সমাজ কাঠামো বিশ্বায়ন, অভিবাসন, কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির আগমন, সমসাময়িক বাজার ব্যবস্থার ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া অথবা নতুন কৃষিকেন্দ্রিক শিল্পায়িত ব্যবস্থাপনার সংমিশ্রণ দ্বারা প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থার চলমান ধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত

গ্রাম বললে আমাদের মস্তিষ্কে যে ইমেজ (দৃশ্য) ভেসে ওঠে, তা গ্রাম সম্পর্কে একটা নিশ্চল সময়কে উপস্থাপন করে। কারণ গ্রাম বা গ্রামীণ সমাজ কাঠামো বিশ্বায়ন, অভিবাসন, কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির আগমন, সমসাময়িক বাজার ব্যবস্থার ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া অথবা নতুন কৃষিকেন্দ্রিক শিল্পায়িত ব্যবস্থাপনার সংমিশ্রণ দ্বারা প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থার চলমান ধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে  পড়েছে। এই পরিবর্তনশীলতার মধ্যে কৃষকসমাজ বা কৃষি কাঠামোও নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলেছে। তাই কৃষকসমাজ বা গ্রামীণ কাঠামো কোনোভাবেই আর আগের শহর বনাম গ্রাম বৈপরীত্যের মাঝে না খুঁজে বরং গ্রাম, কৃষক, কৃষি ব্যবস্থাপনাকে নব্য ভোক্তা সংস্কৃতি বা কৃষিতে শিল্পায়িত ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত করে বোঝা অনেকাংশেই শ্রেয় হবে। আর তাতে নৃবিজ্ঞান বা নৃবিজ্ঞানীরা নতুনভাবে শহর গ্রামে সংমিশ্রণকে পাঠ করতে আগ্রহী হবেন। . রঞ্জন সাহা পার্থ তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত গ্রামীণ সমাজ কৃষি কাঠামো সাম্প্রতিক পরিবর্তন গ্রন্থে আমাদের গ্রামীণ সমাজ কৃষি কাঠামো সম্পর্কে নতুন ভাবনার খোরাক জুগিয়েছেন।

গ্রন্থ মোট সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত। অধ্যায়গুলো এথনোগ্রাফিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে লিখিত। তবে সব অধ্যায়ের এথনোগ্রাফিক তথ্য একটি এলাকায় মাঠকর্মকৃত তথ্যের আলোকে লিখিত নয়; এমনকি গবেষণার সময়কালও ভিন্ন। প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামীণ সমাজ গবেষণার তথ্য এবং গ্রামীণ সমাজ কৃষকসমাজ নিয়ে অধ্যয়নের অভিজ্ঞতাগুলো গ্রন্থের লেখককে গ্রন্থের তাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে সহায়তা করেছে। ভূমিকার পর দ্বিতীয় অধ্যায়ে বাংলাদেশে গ্রাম গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তনশীলতার স্বরূপ শিরোনামে মূলত গ্রামের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যায়ের কেন্দ্রীয় যুক্তি হচ্ছে গ্রাম-কে কৃষিভিত্তিক সমাজ এবং শহরকে শিল্পায়িত সমাজ হিসেবে চিত্রায়িত করার প্রবণতা গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনশীলতার স্বরূপ বোঝার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এছাড়া অভিবাসন-কে যৌথ পরিবারের ভাঙন হিসেবে না বিবেচনা করে এটি পরিবারকে কীভাবে নতুন রূপে প্রতিস্থাপিত করে, সে বিষয় বিশ্লেষণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর যোগসূত্রতা গ্রামীণ রাজনৈতিক চরিত্রকে কীভাবে পাল্টে ফেলে তা এথনোগ্রাফিক উদাহরণের মাধ্যমে বিশ্লেষিত হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ে গ্রামীণ কৃষি কাঠামোয় আধুনিক প্রযুক্তির আগমন সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন শিরোনামে মূলত গ্রামীণ সনাতনী কৃষি ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির আগমন, সম্প্রসারণ এবং সমাজ কাঠামোয় তার প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের মূল যুক্তি হচ্ছে কৃষিতে ব্যবহূত আধুনিক প্রযুক্তি সমাজ বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং তা সমাজ, অর্থনীতি, গৃহস্থালি সম্পর্ক, প্যাট্রন ক্লায়েন্ট সম্পর্ক, রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার আধুনিক প্রযুক্তির কারণে গ্রামীণ কৃষক জনগোষ্ঠী তার সামাজিক সম্পর্ককে কীভাবে পুনর্নির্মাণ করছে, তা এথনোগ্রাফিক উদাহরণের মাধ্যমে বিশ্লেষিত হয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে কৃষক গৃহস্থালির স্বরূপ অধ্যয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে কেবল ভূমি বা সম্পদের মালিকানার ভিত্তিতে শ্রেণীকরণ কৃষক গৃহস্থালির চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করা হয়নি; বরং অধ্যায়ে একই শ্রেণীভুক্ত গৃহস্থালিতেও লিঙ্গীয় অসমতা, শ্রমবিভাজনবিষয়ক বিষয়াবলি যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে তা গ্রামীণ কৃষক নারীর অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রযুক্তির মালিকানা নিয়ন্ত্রণ যেহেতু পুরুষের হাতে থাকে, তাই প্রযুক্তি পরিচালনা কে করবে তার সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতাও থাকে পুরুষের হাতে। এক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা এবং অংশগ্রহণ প্রান্তিক হয়ে পড়ে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে সমাজ ব্যবস্থায় ঘর বাইরের শ্রমকে আলাদা করা হয়। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি চালনা বা পরিচালনায় জন্য যেহেতু মাঠ অর্থাৎ বাইরে যেতে হয়, তাতে নারীর অংশ নেয়া সমাজ দ্বারা স্বীকৃত হয় না। নারীর ধরনের অভিজ্ঞতা, নেগোসিয়েট বা প্রতিরোধের ধরনগুলোর বিশদ এথনোগ্রাফিক বিশ্লেষণ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়। পঞ্চম অধ্যায়ে কৃষিপণ্যের ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের ফলে সামাজিক সম্পর্কের কী রূপ পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, তার স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাত প্রক্রিয়াজাতসহ প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি শহরের জনগোষ্ঠীকেও নানাভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে, যাকে তাত্ত্বিকভাবে অনেকে নতুন কৃষি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। চিরায়ত কৃষি কাঠামোয় উৎপাদিত শস্য বিক্রির জন্য যেখানে হাট বা কাঁচাবাজারের মতো জায়গা মুখ্য ভূমিকা পালন করত, সময়ের পরিবর্তনে তা শহরাঞ্চলের সুপার মার্কেট পর্যন্ত স্থান দখল করে নিয়েছে। দেশী-বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান কৃষিজাত কাঁচা পণ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাই পণ্যের Use value Sign value এখানে উভয়েই গুরুত্ব পাচ্ছে। অবস্থায় নতুন কৃষি কাঠামোয় কোন প্রক্রিয়ায় কৃষিজাত দ্রব্য পণ্যকৃত করা হয়, কীভাবে ভোক্তা নির্মাণ করা হয়, কীভাবে খামারভিত্তিক ব্যবস্থায় প্যাট্রন-ক্লায়েন্টের নতুন সম্পর্ক নির্মাণ হয়, তা অধ্যায়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ষষ্ঠ অধ্যায় মূলত পঞ্চম অধ্যায়ের ধারাবাহিক আলোচনা। ১৯৯০-এর দশকের কৃষিজাত পণ্যের ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যে আলোচনা, তা মূলত কৃষি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়াবলি  (যেমন ব্যক্তি, বিজ্ঞাপন বা ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়াটি ছিল) স্থানিক এবং শারীরিক  আচরণের সঙ্গে যুক্ত, যাকে প্রযুক্তির ভাষায় সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনের বিপরীতে ফিজিক্যাল বা অফলাইন ম্যানেজমেন্ট আখ্যা দেয়া হয়। একুশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে শহরে উচ্চবিত্তীয় সমাজে কৃষিজ ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া অনেকটাই অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ কৃষিজ পণ্যের ভোক্তা নির্মাণ প্রক্রিয়ায় শুধু টিভি বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপনই নয়, বরং ধরনের মিডিয়ার পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। এছাড়া ভোক্তার আচরণ নির্মাণ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোন কোন ফ্যাক্টর ক্রিয়াশীল থাকে এবং এগুলো উৎপাদন সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা এই অধ্যায়ে মাঠ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খাবারে কি কেমিক্যাল আছে, না নেই, অর্গানিক খাবারগুলো কি আসলেই অর্গানিক, না অর্গানিক নয় বা কীভাবে ভেজালমুক্ত খাবার পাওয়া যায়?’— জিজ্ঞাসাগুলোকে কেন্দ্র করে অধ্যায়ের আলোচনা আবর্তিত না হয়ে বরং ধরনের চিন্তা বা জিজ্ঞাসা ভোক্তা সংস্কৃতি এবং ভোক্তার আচরণকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা অনুসন্ধানই অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু। সপ্তম অধ্যায়টি প্রচলিত এথনোগ্রাফিক কাজ থেকে অনেকটাই পৃথক, যাকে পদ্ধতিগতভাবে বলা যায় রিভিজিটিং এথনোগ্রাফি যেহেতু গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ কৃষি কাঠামোর পরিবর্তনশীলতার স্বরূপ উদঘাটন, তাই শেষ অধ্যায়টি সজ্জিত হয়েছে একটি এথনোগ্রাফিক কাজকে পুনরায় দেখার মাধ্যমে। এজন্য এমন একটি এথনোগ্রাফিকে বেছে নেয়া হয়েছে, যা অঞ্চলে সংগঠিত এথনোগ্রাফিক কাজগুলোর মধ্যে পুরনো। এথনোগ্রাফিটি হচ্ছে জাপানি নৃবিজ্ঞানী হারা গবেষিত Paribar and Kinship in a Moslem Rural Village in East Pakistan, যা ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের গহীরা নামের কৃষিভিত্তিক একটি গ্রামের বিশদ বিবরণ। পাঁচ-ছয় দশক পর কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠী কোন ধরনের পরিবর্তনশীলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে, তা ২০১৮ সালের রিভিজিটিং এথনোগ্রাফিক গবেষণামূলক তথ্যের আলোকে অধ্যায়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাঁচ দশক পর মাঠকর্ম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে দেখানো হয়েছে যে পরিবর্তিত আকারে হলেও ধর্মীয় মূল্যবোধ এখনো গ্রামের মানুষের সামাজিক আচরণের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। আর অভিবাসন শুধু আয়ের উৎস হিসেবেই নয়, সামাজিক সম্পর্ক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে, যা সামাজিক ধর্মীয় আচরণে প্রভাব ফেলছে।

গ্রন্থের তাত্ত্বিক সাহিত্য পর্যালোচনা অধ্যায়টি (মূলত ভূমিকা অধ্যায়) বেশ শক্তিশালী। এছাড়া অন্যান্য অধ্যায়ে মাঠকর্মের তথ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে বিভিন্ন তত্ত্ব তাত্ত্বিকদের কাজের সংমিশ্রণে লেখকের পারদর্শিতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা গ্রন্থটির অনন্য বৈশিষ্ট্য বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে গ্রন্থটির চতুর্থ (নতুন কৃষি বাংলাদেশের কৃষি কাঠামোর পরিবর্তন) পঞ্চম (ভোক্তা সংস্কৃতি: কৃষি খাদ্যপণ্য বাজারে ভোক্তা আচরণ) অধ্যায়ের আলোচনা বাংলাদেশের প্রথাগত কৃষিসমাজ কৃষক সম্পর্কিত জানাশোনাকে নাড়া দেয় এবং একই সঙ্গে কৃষক কৃষি ব্যবস্থাকে শিল্পায়িত কৃষি ব্যবস্থা, ভোক্তা সংস্কৃতি নির্মাণ, আধুনিক নগরায়ণ ব্যবস্থার সঙ্গে সহাবস্থানে রেখে বিশ্লেষণের পথ দেখায়, যা পাঠকদের চিন্তার পরিধিকে বিস্তৃত করবে।

তবে গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ের এথনোগ্রাফি আলোচনা সমগ্র বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো বা সব স্থানের শ্রেণী-পেশার মানুষের কৃষিপণ্যের ভোগবাদী আচরণকে বিশ্লেষণ করে না। পদ্ধতিগতভাবে গ্রন্থের আলোচনা এথনোগ্রাফিক তথ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। গ্রন্থে ব্যবহূত এথনোগ্রাফিক তথ্যাদি দুটি ভৌগোলিক পরিসরে চারটি গ্রামের জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত। প্রকৃতিগতভাবে নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট পরিসরে সংগঠিত হয়, সেহেতু এথনোগ্রাফির আলোকে এই ভিন্নতাকে বুঝতে হলে ক্ষুদ্র পরিসরে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা প্রয়োজন। কিন্তু গ্রন্থে গ্রামীণ সমাজ বা কৃষি কাঠামো নিয়ে উন্মোচিত ধারণায়নগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গবেষকদের নতুন ভাবনার দিকে ধাবিত করবে এবং গ্রামীণ সমাজ কৃষি কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

[গ্রন্থের নাম: গ্রামীণ সমাজ কৃষি কাঠামো সাম্প্রতিক পরিবর্তন; লেখক: রঞ্জন সাহা পার্থ

প্রকাশ: জানুয়ারি, ২০২১; প্রকাশক: সংবেদ]

 

মো. সাজ্জাদুল আলম: সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও