মার্কিন সংকটের প্রধান কারণ অলিগার্কি নয়, এটা উপসর্গ মাত্র

মার্কিন রাজনৈতিক সংকটের গভীরতর কারণ হলো, মানুষ এখন একই বাস্তবতা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ‘তথ্য’ বিশ্বাস করছে।

মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এমন ধারণা এখন অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। এর পেছনে আয়বৈষম্য ও ধনীদের রাজনৈতিক প্রভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হলেও আমি মনে করি, এ ব্যাখ্যা অতিরঞ্জিত। আয়বৈষম্য বেড়েছে এবং তা কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু এটিকে মার্কিন রাজনৈতিক অচলাবস্থার একমাত্র বা মৌলিক কারণ বলা যায় না।

আমি মনে করি, ধনী মানুষের সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব সব সময় ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বরং উচ্চ আয় ও শিক্ষার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে উদারপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের সম্পর্ক দেখা যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানও মূলত নির্বাচনী অনুদানের ফল ছিল না; গণমাধ্যমে পাওয়া ব্যাপক প্রচার তার জন্য বড় ভূমিকা রেখেছিল। তাই অর্থ দিয়ে সরাসরি নির্বাচন ‘কেনা’ যায়—এমন ধারণার পক্ষে শক্তিশালী পরিসংখ্যানগত প্রমাণ নেই।

মার্কিন রাজনৈতিক সংকটের গভীরতর কারণ হলো, মানুষ এখন একই বাস্তবতা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ‘তথ্য’ বিশ্বাস করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নিজের পছন্দের মতের মধ্যেই আটকে রাখছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক কনফার্মেশন বায়াস, অ্যাংকরিং ও সহজলভ্যতার মানসিক অনুমানের মতো কিছু বিষয়।

তাই সমাধানের শুরু হওয়া উচিত সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বাড়ানো থেকে। মানুষকে তথ্যের উৎস যাচাই করতে, প্রমাণ ও উদ্ধৃতি খুঁজতে, পারস্পরিক সম্পর্ককে কারণ হিসেবে ধরে না নিতে এবং নিজেদের ‘ইকো চেম্বার’-এর বাইরে যেতে শেখাতে হবে।

[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের এক নিবন্ধে]

জেফ্রি ফ্রাংকেল: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

আরও